নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মৃনাল হাসান

মৃনাল হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কথা বলছি।

২৩ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১০:৪৯



গ্রামের নাম চড়গড়গড়ি, ডাকঘর বাশেরবাদা, থানা ঈশ্বরদী জেলা পাবনা। এই গ্রামে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর আছে। নাম আব্দুল হামিদ, পাবনা শহরের উপকন্ঠে লাইব্রেরী বাজার নামক এলাকায় তার পৈত্রিক বাড়ি। ১৯৭১ সালে ( মাসের নামটা বলতে পারছিনা) তিনি পাবনা সদর থানার সানিরদিয়ার নামক গ্রামে স্বাধীনতাবিরোধী নকশালদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় আহত হন। তারপরে তার সহযোদ্ধারা তাকে পার্শ্ববতি চড়গড়গড়ি গ্রামে নিয়ে আসে এবং মোহন নামক এক ব্যাক্তির বাড়িতে তিনি আশ্রয় নেন। পরের দিন নকশাল, বামনেতা টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্বে নকশাল বাহিনী ও পাকিস্তানী বাহিনী চড়গড়গড়ী গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। এবং ঐ দিনই আব্দুল হামিদ মোহনের বাড়িতে মারা যায়। মোহনের বাড়ির পেছনে তাকে কবর দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার ৪২ বছর হয়ে গেছ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের কবরটি সংরক্ষন করা হইনি। আমি ছোটকালে দেখেছি শহীদ আব্দুল হামিদের পরিবারের লোকজন তার মৃত্যু বার্ষিকীতে পাবনা থেকে এসে কবর জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল করে যেত। এখন আর দেখিনা।শহীদের কবরটিও প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।মোহন মিয়া আর গ্রামের বয়স্ক মুরুব্বি ছাড়া কেউ ঐ কবর সনাক্ত করতে পারবেনা।এভাবে অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে একজন শহীদের স্মৃতিচিহ্ন। জানিনা ওই যায়গাতে খুটি গেড়ে মোহন মিয়া গরু ,ছাগল বাধে কিনা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী, স্বাধীনতার কথিত স্বপক্ষের শক্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ দুই দুই বার ক্ষমতায় এসেছে, পরপর তিনবার আওয়ামীলীগের প্রার্থী এম পি হয়েছে ঈশ্বরদী থেকে, কিন্তু চড়গড়গড়ী গ্রামের ওই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে তারা স্মরন করেছে বলে মনে হয়না।স্থানীয় এম পি একজন মুক্তিযোদ্ধা, নিজেকে ভাষাসৈনিক বলেও দাবি করেন। নিশ্চয় তার শহীদ আব্দুল হামিদের ব্যাপারে জানা থাকার কথা, তিনি ঐ গ্রামে অনেকবার গিয়েছেন, একটি দিনের জন্যও তিনি শহীদ আব্দুল হামিদ কে স্মরন করেছেন বলে আমরা জানিনা। আর তার কবর সংরক্ষণের কথা তিনি চিন্তা করেছেন,এটা আমরা ভাবতেও পারিনা। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা, যারা টুপি দাড়িওয়ালা মানুষ দেখলে নাক ছিটকান, রাজাকার বলে তেড়ে আসেন, তারা নিজেদের আখের গোছাতে নানা ব্যাপারে এম পি সাহেবের কাছে গিয়ে ধরনা দেন, সেই চেতনাসমৃদ্ধ নেতারা কোনদিন নিজ গ্রামে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি রক্ষার আবেদন এম পি সাহেবের কাছে করেননি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং বি এন পি নেতাকর্মীদের ভুমিকাও একইরকম। আর রাজনৈতিক দলকে বা এতো দোষ দেব কেন! প্রত্যেক জেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল রয়েছে। তাদের কাছে নিশ্চয় শহীদ আব্দুল হামিদের তথ্য আছে, তারাও কিছু করেনাই।

মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পার হয়ে গেছে। দিনে দিনে চেতনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, চেতনার ব্যাবসাও রমরমা। সভা সেমিনার, টিভি টকশোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক কথা হয়, কে কত বড় মুক্তিযোদ্ধা তাই নিয়ে হয় বাহাস। নিজেকে প্রমাণ করতে কেউ কম যাননা। কিন্তু যে আব্দুল হামিদের রক্তের বিনিময়ে এদেশে স্বাধীনতা এসেছে, তার স্মৃতি যখন অবহেলায় হারিয়ে যায়, নতুন প্রজন্ম যখন আব্দুল হামিদকে চেনেনা, তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শব্দটি আমাদের কাছে হাস্যকর ঠেকে।যখন শহীদ আব্দুল হামিদের কবরের উপর খুটি গেড়ে গরু ছাগল বাধা হয়, তখন ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে------“ গানটি গরু ছাগলের চিতকার বলেই মনে হয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.