নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ছায়াসংহিতা http://paatgorgooglemail.blogspot.com/

শাহনাজ সুলতানা

চেরী বাগান আজ কুমারী তারায় পরিপূর্ণঈশ্বরের ধ্যানে সেজদারত ভূমণ্ডল ক্ষমাপ্রার্থী তাবৎ জাহান এমন পূর্ণ্যবান সময়ে দেহত্বক ফেটে; এ কোন কাঙ্ক্ষা জাগে রাধাপুকুরেআগুনের তীব্র আঁচ ঝরে পড়ে অসংখ্য লোমকূপ[email protected]জন্ম- ২২শে সেপ্টেম্বর

শাহনাজ সুলতানা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের কবিতা

০৭ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৩২

‘দীন কাব্যভাষা নিয়ে অন্তহীন নিরীক্ষায় বিশ্বাসী অর্থাৎ কোনো স্থিরবিন্দুতে প্রত্যয় নেই তাঁর। কখনো কাব্যিকতার প্রচলিত ধরনকে আপাত-ভাবে মান্যতা দিয়েছেন কখনো বা তাকে বিনির্মাণ করছেন। এই বিনির্মাণও কোনো নির্দিষ্ট আকল্পের আভাস দেয় না। এছাড়া রয়েছে গদ্যভাষার স্বাধীন প্রয়োগ, ছন্দ-নির্মিতির অরৈখিকতা। এভাবে দীন সময় ও পরিসরের উচ্চাবচতাকে কবিতার নিজস্ব বাচনে ব্যক্ত করতে চেয়েছেন। কিছু কিছু বিশেষ পঙক্তির প্রতি পাঠকের পক্ষপাতিত্ব অনিবার্যভাবে তৈরি হয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু এদেরও বুঝতে হয় অনস্বীকার্য সামগ্রিকতার নিরিখে।’



‘...মোস্তাকের প্রবণতা নয় শব্দক্রীড়া। তবু কখনো কখনো আপাতসাধারণ কোনো শব্দকেও তিনি বিশেষ অনুরণনময় অনুভব পরম্পরার উৎসে রূপান্তরিত করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় সমস্ত পূর্বধার্য আকরণ ধ্বস্ত করে দিতে চান তিনি। ফলে অভ্যস্ত শব্দসম্বন্ধ চৌচির হয়ে গিয়ে কবির বিপুল চারণভূমি জেগে ওঠে।’



...‘নৈশব্দ্য মন্থন করতে-করতে যে-কবি নিয়ত শব্দকাঙাল হয়ে প্রতীক্ষারত, তাঁর চেতনায়-অধিচেতনায় আলোছায়ার সঞ্চরণ এভাবেই কবিতার নিজস্ব বাচনে ব্যক্ত হয়। লক্ষ করি, যৌথনিশ্চেতনার কত গহনে প্রচ্ছন্ন প্রতিষ্ঠিত থাকে আদিকল্প কিংবা কবিপ্রসিদ্ধি। সেইসব কত সাবলীলভাবে বিনির্মিত হয়ে যায়। আমাদের স্মৃতিসত্তার সামাজিক স্বভাব স্বীকৃত হয় এভাবে।’



তপোধীর ভট্টাচার্য, কবিতার বহুস্বর, (সংকেতের লিপিমালা যখন অফুরান ঝরনা), প্রতিভাস, কলকাতা, জানুয়ারি, ২০০৯, পৃ. ২০০, ২০৩, ২০৬।

_____________________________________________



হ্যাঁ, মোস্তাক আহমাদ দীন আমার প্রথম পছন্দের কবি, প্রিয়কবিও। তাঁর প্রতিটি কবিতাই আমার ভালোলাগে, নতুন করে ঘোর-ভাবনায়, ভাবাতে প্ররোচিত করে, চমৎকার তাঁর ভাষাশৈলী, শব্দবুনন ও নির্মাণ। প্রিয়কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের অপকাশিত কাব্যগ্রন্থ থেকে আমার ভালো লাগা কিছু কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পেরে ভালো লাগছে।

(@ লেখক সংরক্ষিত)



কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের কবিতা

রাধা

১.

কখনো রাধিকা নই, তবু কৃষ্ণ-আয়নার সামনে দাঁড়ালে খোলা রূপ ফেটে যায়, আর সেই ভাঙাচোরা পরিবেশে, অতি ব্যক্তিগত হাওয়া এসে পড়ে



আপাতত ঠোঁটেই পড়ায়, জানি ধীরে ধীরে স্তনেও পড়াবে; এইবার, বেআক্কেল দাঁতে ছুঁতে পেয়ে মশক করি জিভে-আলজিভে, হৃদয়ের চারপাশ অন্ধকারে গাঢ় করে নিয়ে

২.

প্রাণের অধিক তুমি ভালোবাসো নিদারুণ শ্যাম; বংশী বাজায় ঠিকই, চক্ষে যার ডাকাইতি লহু, হৃদয় ছুঁবার নামে যার সুর নখে ছিঁড়ে ঘাগড়া ও চোলি



গাথার কাছিম যেমন শখবশে নৃত্য করে ধুলোর ডাঙায় সেইরূপ তির তির করে দেখি তীরবর্তী শরীর তোমার; ‘জলে নামিও না’, তোমাকেই লক্ষ্য করে কথা বলে অথির বাতাস; জারুলের ছন্দ নিয়ে কাগজের নৌকা ভাসে আর কৃষ্ণ কৃষ্ণ ডাকে ভারী হয় রাতের আকাশ



‘জলে নামিও না', বলছে বন্ধু, বলছে, ‘জলে চুপে ডুবে আছে নিথর কুমির’



একতারা



একটাই তার, তা-ও ছিঁড়ে গেছে রাত পোহাবার আগে, এখন কী রূপে তার মন যে যোগাই



ঘূণে যে ধরেছে দেহ, সেই কথা জেনেছিল আগে, সেই তত্ত্ব পড়শিরাও জেনে গেছে আজ, এবার কলঙ্কবার্তা দেখো ধীরে ধীরে নগরেও যাবে



যেখানে রটনা-ভয়, পুর্বপুরুষেরা সেই দেশে কী কারণে পুঁতে যায় বীজ, তেমন ধুলার দেশে কেনই বা ঘুরতে আসে রসের নিমাই-আমি তা বুঝি না; কেবল জেনেছি. ভোর আসে না তো ছেঁড়াতার-দেহখানি বেয়ে, রাত্রি সুদূর হলে বে-তারেতে তনুমন কোনোদিনই যায় নাই বাঁধা



বাঘ

কারও ছাপ খুঁজতে গিয়েছি আমি নালিতা বাগানে, ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি বহুরোম ছায়া, তারও নিচে, কত মৃত্যু ছাপা হতে দেখি আমি ছাইরঙা গাছের পাতায়



মধ্যাহ্ন যাপন করতে এইখানে এসেছিল লালডোরা বাঘ, রক্ত-বিরচনের গুপ্ত ইচ্ছা রাতে সম্পাদিত হওয়ার খবর আমরা জেনেছি সেই কিশোরবেলায়, যখন নিবেদনে এসেছিল সহজ আর হলুদিয়া পাতা, রক্ত ও চন্দনে মিশে একাকার হয়েছিল প্রিয় থানমাটি



জন্ম

ঠোঁট দেখে মনে হয়, কথা বলছে এক মুক্ত বনহাঁস, চুল আর বাহু দেখে যে-কোনো দরবেশেরও মনে হবে-শহরের শেষপ্রান্তে উড়ে যেতে পুরোটা প্রস্তুত, যেখানে পাখিও নীরব আর ধোঁয়া-মেশা ওরসের ধ্বনিও যাবে না



অথচ তোমার অনুগমনের আগেই দেখো ভেঙে গেছে শরীরের দশখানা ডাল, ধীরে ধীরে পাতা ও বাকল; তথাপি ইচ্ছে জাগে, প্রান্তে ও প্রান্তরে গিয়ে সবার অলক্ষে গিয়ে গ্রহণ করি পথে-পড়া সবুজ পালক



তরী

এমন সাহস তোমার, শেষপর্যন্ত তুমি ছেড়ে দিলে তরী



আমার আঙুল দেখো ক্ষয়ে গেছে সেই তিরিশেরও আগে, ভাটির সন্তান আমি, যে-কোনো বাইচে গেলে কাড়াল ধরেছি আর জিত ও হারের মর্ম না-বুঝেই গলা ছেড়ে গেয়ে গেছি শা’নূরের সারি; নৌকা দূরের কথা, এখন জলেতেও দেখি দূর-অন্ত ভয়; উড়াল-জালের মোহ এসে গিয়েছিল জাল-ফেলা-বয়সেরও আগে, এখন উড়াল নয়, টানা-জালেতেও দেখে ফেলি নিষাধ কুম্ভির



শেষপর্যন্ত তুমি ছেড়ে দিলে তরী, বৈঠা ছুঁবার আগেই আজ ঝরো-ঝরো কব্জি-কনুই



নীরব

লালজামা-পরা কৃষ্ণ নৌকার নিকটে গিয়েছি, সঙ্গে শত দাসী, গহনা আর জাহাজপীড়িত কেরোসিন গাছের গন্ধে বাহু নৃত্যময়, জানি না এই পরাকাহিনীতে কয় জোড়া কবুতর কাঁপে



লোকপরিবাদে যারা ছায়াময়, তাদের নিকট থেকে আমি নানাবিধ ব্যথা নিয়ে সরে এসে বাজপাখির চঞ্চুলাগা টুপি পড়ে আছি



তাঁদের ঘরের রঙ সাদা, লোককলাভেদে নজিরবিহীন, ধুলো ও রহস্যে একাকার, কণ্ঠ মুক্ত তবু তারা ভেতরে ভেতরে নীরব



নিদান

কিছু না পেলেও আমি ভুখা নই তোমার হাওরে, এখানে যে বাতাস তার সব আকুলতাসহ হয়েছে হাজির, তবু আমি পানার্থী নই এই মজলিসে, দেখেছি ভুখার রাজ্যে কী নির্বিরোধে লাল পায়জামা ওড়ে



এ-খেলায় কোন শক্তি তার সহস্র হাত নিয়ে ভীষণ দাপায়, তা না জেনেও আমি তামাশায় লিপ্ত হই বেশ; জলে ও ডাঙায় কারা দাঁত দিয়ে হাসে; আমি মত্ত, জলপাখির অস্বচ্ছ মুদ্রায়



সুতো ছিঁড়ছে, এমন নিদানেও কামরূপ হাওয়া উড়ে যায়



বৃষ্টিস্মৃতি

দূর-থেকে-আসা (ঝলোমলো বৃষ্টির রাতে) ধ্বস্ত পাহাড়ের মৃত্যুগানে কেঁপে ওঠে ক্ষেত; জানি না, চাষ ও বাসের মর্মে আদি গন্দমের স্মৃতিশ্রুতি গাঢ় হলো কি না; আখরোট ও তরমুজ. সে-তো দূরবর্তী বেশ, বেগুন ও টমেটোর তাৎপর্যে এই মাটি ক্রমে নিকট বেদনা গিয়ে ঘন, তার অস্তে-অস্তে গোধূলি-ঝড়ের বিগার



দেখতে-দেখতে আমি ম্রিয়মান, লালে-লালে মৃতপায়।



আদর, অনাদর



নাচ দেখে অনেকেই বলছে করতাল, কেউ কেউ সর্বজয়া রণপাবিশেষ, কেউ কেউ একটুকরো ডানাভাঙা তৃণ, জিকিরে ডুবেও যার এতটুকু মুজেযা ফোটে না



ভরসা একটাই-অনাদরে-জাগা এক উজ্জ্বলন্ত লাউডগার স্পর্শস্মৃতি নিয়ে হয়েছিল আগন-ফকির



আমি তার গোপন লাভাস্রোত কখনো দেখিনি যদিও, তবু, কেন যে জানি না, পাতাল সাঁতরাতে এসে, দশাগ্রস্ত মনে তার পাত্র ছুঁতে যাই

মন্তব্য ১৯ টি রেটিং +১৪/-১

মন্তব্য (১৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫২

আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: সুন্দর বিশ্লেষণ এবং কবিতাগুলো শেয়ারের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ..

০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৩১

শাহনাজ সুলতানা বলেছেন: পাঠের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

ভালো থাকুন।

২| ০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০৬

বাবুল হোসেইন বলেছেন: কবিতাগুলো অনেক ভালো লাগলো আপু।

০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৩২

শাহনাজ সুলতানা বলেছেন: কবি মোস্তাক আহমাদ দীন আমার একজন প্রিয় কবি। আপনাদের সাথে তার কবিতাগুলো শেয়ার করতে পেরে ভালো লাগছে।

পাঠের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।

৩| ০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:১৬

সৈয়দ আফসার__১৯৭৯ বলেছেন:











শাহনাজ আপা,
তপোধীর ভট্টাচার্য দীনে’র কবিতা প্রসঙ্গে ‘কবিতার বহুস্বর, (সংকেতের লিপিমালা যখন অফুরান ঝরনা)’য়, যে আলোকপাত করেছেন তা দীনের কবিতার প্রাপ্তিছিল, তপোধীর’দা দীনের সমসাময়িক কাউকে নিয়ে এতোদীর্ঘ গদ্য লিখেছেন বলে আমার জানা নেই, গদ্যের ভেতর দীনের কবিতার বুনন প্রসঙ্গে তাঁর আলোকপাত পাঠক হিসাবে আমার ঈর্ষণীয়… আমাদের মতো পাঠককে দীনে’র কবিতার প্রতি আরো আগ্রহ বাড়াবে নিঃসন্দেহে…।

কারণ তপোধীর এমন এক সিরিয়াস সাহিত্যচার্য, যিনি চায়ের টেবিলে বসেই বাংলাসাহিত্যের ভূতভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমত সন্দর্ভসুলব বয়ান পেশ করতে পারেন। মতামত প্রকাশে তিনি অকপট; প্রবন্ধের ভাষায় কথা বলেন।

‘একবিংশ’ ২৪-এ খোন্দকার আশরাফ হোসেন তাঁর সম্পাদকীয়তে তপোধীর ভট্টাচার্য প্রসঙ্গে লিখেন— ‘প্রতীচ্যের সাহিত্যতত্ত্বের গভীরে তাঁর পূর্ণাবগাহন তাঁকে নবীন স্নাতকে রূপান্তরিত করেছে মনে হয়। একের পর গ্রন্থ বেরিয়েছে তাঁর পশ্চিমের নানা তত্বান্দোলন নিয়ে : রুশ প্রকরণবাদ, আকরণবাদ, উত্তর-আকরণবাদ, পোস্টমডার্নিজম, উত্তর-ঔপনিবেশিকতা, বাখতিন-তত্ত্ব, রোলাঁ বার্ত, দেরিদা, ফুকো, জঁ বদ্রিয়ার, টেরি ঈগলটন— কী নিয়ে কাকে নিয়ে তিনি লিখেননি তা-ই প্রশ্ন।’ তপোধীর ভট্টাচার্যকে অনেকেই ‘তত্ত্বাচার্য’ বলে মানেন। একথাগুলো বললাম এর গদ্য আমাকে আচ্ছন্ন করে না শুধু এক অজানা পথে ঘুরায়।

আর আপনি আমার প্রিয়কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের কবিতা পোষ্ট করেছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে।
ভালো থাকুন।

০৭ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:০৩

শাহনাজ সুলতানা বলেছেন: আফসার!
তেমন ধুলার দেশে কেনই বা ঘুরতে আসে রসের নিমাই-আমি তা বুঝি না;
তেমন ধুলার দেশে কেনই বা ঘুরতে আসে রসের নিমাই-আমি তা বুঝি না;

ভালো থেকো।

৪| ০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:১৯

চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: কথা ও হাড়ের বেদনা--মোস্তাক আহমাদ দীন বইটি পড়তে পড়তে দীনের প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। দীনের কবিতা পড়তে গেলে কবিতার সত্যিকারের রস আস্বাদন করা যায়। তবে এই কবিতাগুলো নতুন যা আপনার সুবাদে পড়ার সুযোগ হলো। আপনাকে ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

কবির প্রতি শুভেচ্ছা থাকলো।

০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৩৭

শাহনাজ সুলতানা বলেছেন: সত্যিই বলেছেন আপু, কবি সৈয়দ আফসার গত বছর লন্ডনে কবিতা উৎসবে দেখা হবার পর কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের কথা ও হাড়ের বেদনাসহ-- বইটি উপহার দিয়েছিলেন। তারপর উনার অনেক কবিতা আমি পড়েছি। সত্যি বলতে কি উনার কবিতার মানই আলাদা।
যাক, পাঠের জন্য ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।

৫| ০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৫৭

চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: বইটি আমি গত বইমেলা থেকে কিনেছিলাম দেশে। অসাধারণ!

০৭ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৩০

শাহনাজ সুলতানা বলেছেন: কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের আরো কয়েকটি কবিতা পড়েছি, সবগুলোই অপূর্ব।

কথা ও হাড়ের বেদনা বইটি সত্যিই অসাধারণ। গত বছর বইমেলাতে আপনি বাংলাদেশে ছিলেন এবং জালালের শহর সিলেটে ও আপনি গিয়েছিলেন এবং অনেক মজা করেছেন। সব খবরই রাখি আপু।


কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের দু লাইন কবিতা আপনার এবং আমার জন্য-

প্রাণের অধিক তুমি ভালোবাসো নিদারুণ শ্যাম; বংশী বাজায় ঠিকই, চক্ষে যার ডাকাইতি লহু, হৃদয় ছুঁবার নামে যার সুর নখে ছিঁড়ে ঘাগড়া ও চোলি

৬| ০৭ ই জুন, ২০১০ সকাল ৭:৩২

ফিরোজ খাঁন তুষার বলেছেন: ধর্মের উথ্থান আর ধর্মান্ধতা - মুভি রিভিউ - Agora

০৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:৫২

শাহনাজ সুলতানা বলেছেন: পাঠের জন্য ধন্যবাদ।

৭| ০৭ ই জুন, ২০১০ সকাল ৮:০৮

সাফির বলেছেন: কবিতাগুলো শেয়ারের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

০৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:৫২

শাহনাজ সুলতানা বলেছেন: পাঠের জন্য ধন্যবাদ।

ভালো থাকুন।

৮| ০৭ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৫৩

কাইয়ুম আবদুল্লাহ বলেছেন:
মোস্তাক আহমদ দীন নিঃসন্দেহে একজন বড় মাপের কবি। তার কবিতায় মানব মনের গভীর মর্মকথার উৎসারণ রয়েছে। তবে উপস্থাপকের অতিকথন দীনের কবি সত্ত্বাকে সামন্যতম হলেও লজ্জাবিনম্রানন করেছে । যা কখনো কাম্য নয়। হতে পারে অগ্রজ কবির প্রতি অনুজ কবির অতিউৎসাহ। তবু বলবো প্রগলভতার লাগাম ধরে রাখা ভালো। নির্মোহ, মিতভাষ যেকোন ব্যক্তিসত্ত্বার লাবণ্য বাড়ায়

একজন ভালো, নির্মোহ কবির কিছু ভালো কবিতা উপহার দেয়ার জন্যে অবশ্যই উপস্থাপককে অশেষ ধন্যবাদ।
কবি ও কবিভক্তদের সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করছি।

ভুলবচন ক্ষমার্হ।

৯| ০৯ ই জুন, ২০১০ ভোর ৫:২১

আবু মকসুদ বলেছেন:
দীন আমার প্রিয় কবি। ভালো লাগলো কবিতাগুলো পড়ে। ধন্যবাদ শাহনাজ।

১০| ০৯ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৫৮

কাজল রশীদ বলেছেন:
কবিতাগুলো শেয়ারের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন কবি।

১১| ১০ ই জুন, ২০১০ সকাল ৭:০৭

সৈয়দ আফসার__১৯৭৯ বলেছেন:













@____আহমদ ময়েজ ভাই বলেছেন—
তবে কবিতাগুলো যথিচিহ্ন সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিৎ।

এ এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা যে প্রিয় আহমদ ময়েজ ভাই কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের কবিতার সৌন্দর্যসৈষ্টব নিয়ে নয় বরং মন্তব্য করলেন, তাঁর যতিচিহ্ন প্রয়োগের ব্যর্থতা নিয়ে। বাংলা কবিতা তো বটেই সমকালীন বিশ্বকবিতায় বিরাম চিহ্নের প্রয়োগ লক্ষ্য লক্ষ্যণীয় ভাবে বিরল, গৌণ; সচেতন ভাবে কোথাও কোথাও রহিত বা বিলুপ্ত। এর পেছনে কেবল কবিতার আধেয়গত বিবেচনাই নয়; দার্শনিক কারণ তো রয়েছে বটেই।

নিরেট গদ্যের মুক্তি গদ্যের পারস্পরিক শৃঙ্খল থেকে আকরিক অর্থে মুক্তি দেয়াই নয়; কবিতা যেহেতু ধারণ করে কল্পনার বিপুল স্বাধীনতা, পয়গাম্বর সুলভ বাচনিক স্পর্ধা এবং অপরদিকে বিরামচিহ্ন যেহেতু সেই স্পর্ধা বা স্বাধীনতাকে শিকলবন্দি করে রাখতে চায়, ফলে আধুনিক বিশ্বকবিতায়(বাংলা সাহিত্যে তো বটেই)বিরাম চিহ্নের প্রয়োগ বলতে গেলে প্রায় বিরল এলিয়ট, পাউন্ড, অডেন বা হীনি তাঁদের নতুন কাব্য ভাষায় বিরাম চিহ্নের উপযোগকে রীতিমত সীমিত করে তুলেন।বাক্যের সম্পূর্ণতা, শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গতি ইত্যাকার নানাবিধ বন্দিত্ব থেকে মুক্তি ছাড়াও কবিতার স্তবক ও পঙক্তিগুলোকে দিগন্ত বিস্তারি স্বাধীনতা দেন, এতে আধুনিক মানুষের মনন ও চিন্তা কাঠামোই বস্ততঃ প্রতিফলিত হলো, পাঠকের অভ্যস্ত পঠন প্রক্রিয়ায় পরির্বতন নিয়ে আসাই এর প্রধান উদ্দেশ্য হলেও; অন্তরালে রয়েছে কল্পনার স্বাধীনতা, অস্থিত্বচিন্তা ও চেতনার কার্যকর অনুশীলন— এরকম কিছু দার্শনিক ও মনোস্তাত্ত্বিক উপযোগ

বাংলা কবিতায় বিরামচিহ্ন কখনোই তেমন কোন তাৎপর্য বহন করেনি মধ্যযুগের বাংলা কবিতায় পয়ার ছন্দে দাড়ি’র ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্যণীয় ভাবে পরিলক্ষিত হলেও পরবর্তীতে মধুসুদন এই অপ্রয়োজনীয় নিগড় থেকে কবিতাকে মুক্তি দেন। ইংরেজী কবিতার আদলে বিরাম চিহ্নের প্রয়োগকে নতুন ভাবে সঙ্গায়িত করেন। তিরিশে পঞ্চপাণ্ডবদের কবিতায় বিরাম চিহ্নের প্রয়োগ রীতিমত চমকপ্রদ কিন্তু লক্ষ্যণীয়ভাবে গৌণ হয়ে ওঠে। চল্লিশের সৈয়দ আলী আহসান বিরাম চিহ্নের প্রয়োগ প্রায় বর্জন করে আধুনিক বাংলা কবিতার ভাষায় এক নতুন গতি সঞ্চার করেন, জেমস্ জয়েসের ইউলিসিসে’র আদলে বাংলা গদ্যের প্রবাদপুরুষ কমল কুমার মজুমদার ‘সুহাসিনীর প্রমেটম’ নামে সম্পূর্ণত বিরামচিহ্নহীন আশ্চর্য উপন্যাস রচনা করেন।

আমার ধারণা, আহমদ ময়েজ ভাই নিশ্চিতই বিরাম চিহ্নের মতো অনাবশ্যক উপাদান নিয়ে মনোযোগী হওয়ার চেয়ে কবিতার আভ্যন্তরীন সৌন্দর্য অবগাহণের যথেষ্ট ক্ষমতা রাখেন, ময়েজ ভাইয়ের মনোযোগী পঠন প্রতিফলন আমরা পররর্তী মন্তব্যগুলোতে দেখতে চাই।

কবিতা তো হলো ‘শুদ্ধতম শব্দের শুদ্ধতম প্রয়োগ’,
ওয়ার্ডসওয়ার্থ যেমন বলেছিলেন
____________________________________

কবি মোস্তাক আহমাদ দীনের ভিন্নধর্মী কিছু কবিতা পাঠের সুযোগ করে দেয়ার জন্য শাজনাজ আপা, আপনাকে আবারও অসংখ্য ধন্যবাদ।

১২| ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:৩৫

আহমদ ময়েজ বলেছেন:
@ সৈয়দ আফসার -
আমি মোস্তাক আহমাদ দীনের কবিতা প্রসঙ্গে কিছুই বলিনি। কেবল বলেছি, পাঠ হোক নিরন্তর।

প্রথমত : ভুল বানান প্রয়োগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি নিজ থেকে - যথি নয় যতি হবে।
দ্বিতীয়ত : কথাটা দীনের কবিতার ক্ষেত্রে বলিনি বলেছিলাম সুতন্বী থেকে যখন অভ্রতে বদলানো হয় তখন অনেক কিছু বদলে যায় যা পরে ঠিক করে নিতে হয়। আমরা অনেক সময় করি না। এমনকি তুমি নিজেও করো না। এটি আমার ক্ষেত্রে অলসতা। তাছাড়া ভাবি যে এটা তো যেকোনো সময় ঠিক করা যাবে। এটি তো আর প্রিন্ট মিডিয়া নয়।

এই প্রসঙ্গকে দীনের কবিতার প্রসঙ্গ বানানো ঠিক হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.