| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রকৃতি জগতে যেকোনো বিষাক্ত প্রাণী মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসাবে আশেপাশের প্রণীকুল বা পরিবেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। মনুষ্য জগতেও এর ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে। ১৯৭১' সালে পাকিস্তানী বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে মরণ কামড় দিয়ে আরো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালিয়েছিলো নিরস্ত্র মানুষের ওপর। তারা তাদের পরাজয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে ১৯৭১-এর ১৪' ডিসেম্বর পাকিস্তানী সোনবাহিনীর সাথে জামায়াতে ইসলামীর আধা-সামরিক বাহিনী রাজাকার-আলবদর'দের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এদেশের বুদ্ধীজীবীদের হত্যা করেছিল।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সময়ে ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় যখন ঘোষণা করা হচ্ছে তখন গো.আযম গং দের বাঁচাতে এবং ৭১'র মানবতাবিরোধী অপরাধে নেতৃত্বদানকারী দল জামায়াতে ইসলামীকে বাঁচাতে মরণ কামড় দিতে উদ্যত সেই পুরোনো শকুন আর মগজধোলাইকৃত ছাত্রশিবির নামধারী নব্যরাজাকার ফ্যাসিস্ট শক্তি।
সন্ত্রাস সৃষ্টি করে জনমনে ভীতি সঞ্চার করে, অঢেল টাকা-পয়সা দিয়ে দেশী-বিদেশী নানা স্তরের দালাল লোকজনকে বা প্রতিষ্ঠানকে ক্রয় করে বা ষড়যন্ত্র করে, রাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর হামলা করে, হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে, মিথ্যা গুজব সৃষ্টি করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের তাণ্ডবে উৎসাহিত করে, আত্মাহুতির দিকে প্ররোচিত করে, শাহবাগের প্রজন্মের আন্দোলনের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা ছড়িয়ে, প্রতিবাদী ব্লগার রাজীবকে হত্যা করে আবার সেই নিহত রাজীবকে লক্ষ্যবস্তু করে শাহবাগ আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন হিসাবে অন্যান্য মুসল্লীদেরকে মাঠে নামানোর ষড়যন্ত্র করে, ফ্যাসিস্ট তত্ত্ব মওদুদীবাদ'বিরোধী ও জামায়াত-বিরোধী আলেমদের হত্যার নীল-নকশা'সহ আরো জ্ঞাত-অজ্ঞাত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে জামাত-শিবির তাদের মৃত্যুকে আর ঠেকাতে পারবে বলে মনে হয়না। বরং তাদের এই হিংস্র আচরণ তাদের মরণঘন্টাকেই ত্বরান্বিত করছে।
যে সকল কারণে জামায়াত-শিবিরের মরণ ঘন্টা বাজতে চলেছে:
১. ১৯৭১- এর ভয়ংকর মানবতাবিরোধী অপরাধ এই দেশের মানুষ কখনোই ক্ষমা করেনি এই নরাধমদরে এবং কোনোকালে করবেনা।
২. জামায়াত-শিবির এর তাত্ত্বিক গুরু মওদুদীর তত্ত্ব এদেশের মূলধারার ইসলামী চিন্তাবিদ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। সুতরাং সাধারণ মুসলমানগণ এটা কখনোই গ্রহণ করবে না।
৩. আ.লীগ জামায়াত এর ভোটব্যাংক বিবেচনায় নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে আর চাইলেও জামায়াত নিয়ে ভাবতে পারবে না। যদিও ভাবে, জবাব দেবে নতুন প্রজন্ম।
৪. বিএনপি এখন যতই জামায়াতকে তাদের আস্তিনের তলায় রেখে এগুতে চাউক, তার মূল সমর্থকদের ভোট হারাতে না চাইলে জামাত-সঙ্গ ছাড়তেই হবে। বিএনপি এই বাস্তবতা আরেকটু মূল্য দিয়ে বুঝতে পারবে। কাজেই এখন জামায়াত যতই বিএনপি'র ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করতে সচেষ্ট হোক না কেন, একসময় তাদের এই মধুর মিলনের আনন্দ বিষাদে পরিণত হবে। আর যদি বিএনপি জামাত-সঙ্গ না ছাড়ে তাহলে বিএনপি'র মূল অংশ জামাতীকরণ হয়ে যাবে। রাজাকারের সহযোগী হিসাবে তখন এদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবী উঠবে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি ভেঙ্গে যাবে।
৫. শাহবাগ আন্দোলনের দাবী অনুযায়ী জামায়াত-শিবির চক্রের অর্থের উৎস বন্ধ করার উদ্যোগ দ্রুত না নিলে এরা আরো দীর্ঘস্থায়ী নাশকতা চালাতে পারে। এই দাবী জোরালো করাটা জরুরী। ইসলামী ব্যাংক সহ অন্যান্য শিক্ষা ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে রাজাকারমুক্ত করে জাতীয়করণ করা জরুরী।
৬. শাহবাগ আন্দোলন ইতোমধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা কার্যকরভাবে করতে হবে। সারাদেশে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে এই চক্রের সকল অপ-তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাই বলে অতি উৎসাহী হয়ে হঠকারী কিছু করা যাবেনা।
৭. শাহবাগ আন্দোলন একটি সুনির্দিষ্ট ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলন। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবী আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু করতে হবে দীর্ঘস্থায়ী এক সাংষ্কৃতিক সংগ্রাম। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের ৪২ বছরের নানা শোষণ-নিপীড়ন, বঞ্চনা, আশাহতের বেদনার তীব্র ক্ষোভের বহি:প্রকাশ হচ্ছে শাহবাগ আন্দোলন।
৮. শাহবাগ আন্দোলন সারাদেশের মানুষকে ১৯৭১-এর আয়নায় নিজেদেরকে দেখতে শেখাচ্ছে। ৭১'-এর আয়নায় এখন রাজনৈতিক দল, নানা সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি-কে দেখার সুযোগ করে দিয়ছে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন। নতুন প্রজন্ম ইতিহাসের দায় শোধ করার জন্য পথে নেমেছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে চিহ্নিত হবে কারা দেশপ্রেমিক আর কারা দেশদ্রোহী।
৯. শাহবাগ আন্দোলনের অনেক অভূতপূর্ব সাফল্যের মধ্যে আমার কাছে সবচাইতে বড় মনে হয়- এই আন্দোলন একেবারে নবীণ প্রজন্মকে টানতে পেরেছে সুনির্দিষ্ট দাবী আদায়ের সংগ্রামে। এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ফলাফল দেখবে বাংলাদেশ।
১০. এই সময়ের সকল ঘটনাবলী এবং ভবিষ্যত ঘটনার ইঙ্গিতসমূহ জনতার বিজয়পতাকা উড়ানোর দিকেই ধাবমান। এটা ইতিহাসের দাবী।
©somewhere in net ltd.