| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
ইরানে চলমান যেকোনো গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের হুমকি আন্দোলনকারীদের জন্য সহায়ক নয়; বরং তা তাদের সংগ্রামকে দুর্বল করে দিতে পারে। কারণ ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একটি গভীর ও ঐতিহাসিক সেন্টিমেন্ট বিদ্যমান। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে দেওয়া যেকোনো মার্কিন হুমকি আন্দোলনের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে এবং সরকারকে একটি শক্তিশালী পাল্টা বয়ান নির্মাণের সুযোগ দেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারণা দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য হুমকি বা হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত সেই বয়ানকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। ফলাফল হিসেবে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ—যারা হয়তো ন্যায্য দাবির কারণে আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল—রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে সরকারের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। আন্দোলন তখন আর কেবল ন্যায়বিচার বা অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থাকে না; সেটি পরিণত হয় “দেশ বনাম বিদেশি শক্তি”—এই দ্বন্দ্বে।
অন্যদিকে, আন্দোলনের শক্তি আসে তার অভ্যন্তরীণ বৈধতা, জনসমর্থন ও স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে। যখন আন্দোলনকারীরা নিজেদের কণ্ঠে নিজেদের দাবি উত্থাপন করতে পারেন, তখন সেই সংগ্রাম ধীরে ধীরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত হয়—শ্রমিক, ছাত্র, নারী, সংখ্যালঘু সবাই সেখানে নিজেদের জায়গা খুঁজে পান। কিন্তু বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হলে এই স্বতঃস্ফূর্ততা ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ভয়ের পরিবেশে অনেকেই দূরে সরে যান।
এখানেই অযাচিত হস্তক্ষেপের সবচেয়ে বড় ক্ষতি। যুক্তরাষ্ট্র যদি নীরব থাকে, হুমকি না দেয়, কিংবা সরাসরি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ না করে—তাহলে আন্দোলনকারীরা নিজেদের সংগ্রামকে দেশীয় বাস্তবতার ভেতরেই আরও বিস্তৃত ও গভীর করতে পারেন। তখন আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং ন্যায়, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে একটি সর্বজনীন দাবিতে রূপ নেয়।
সুতরাং, ইরানের বর্তমান আন্দোলনের সাফল্য নির্ভর করছে তার নিজস্ব শক্তির ওপর, বাইরের কোনো হুমকি বা সমর্থনের ওপর নয়। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে—যে আন্দোলন নিজের জনগণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেটিই টিকে থাকে। আর যে আন্দোলনকে বিদেশি হস্তক্ষেপের ছায়ায় ঠেলে দেওয়া হয়, তা শেষ পর্যন্ত নিজের পথ হারায়।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
পুরোপুরি বুঝিয়ে বলি নাই। আরও অনেক কিছুই লেখা যেতো।
ধন্যবাদ নিরন্তর।
২|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১
রাজীব নুর বলেছেন: আমি আপনার সাথে একমত।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
এটা আসলে আমার নিজের ধারণা।
ধন্যবাদ নিরন্তর।
৩|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আমেরিকার হস্তক্ষেপ ছাড়া কোথাও কি কিছু হয়েছে?
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩২
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
সব দোষ নন্দ ঘোষ?
ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি না বুঝিয়ে বললে এসব মাথার উপর দিয়ে যেত ।