নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভবিষ্যৎ কি অবশ্যম্ভাবী? নাকি আমরা এখনো যুদ্ধ ঠেকিয়ে দিতে পারি?

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৮



বাবা ভাঙ্গার নাম উঠলেই মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়—একদল বিস্ময়ে নীরব, আরেকদল সংশয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হোক বা না হোক, ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা আজ আর কেবল ভবিষ্যৎকথা নয়; এটি ক্রমশ রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছাকাছি চলে আসছে। প্রশ্ন হলো—এই যুদ্ধ কি সত্যিই অনিবার্য, নাকি এটি মানুষের তৈরি একটি সম্ভাবনা, যা মানুষই থামাতে পারে?

ইতিহাস আমাদের শেখায়, যুদ্ধ কখনোই হঠাৎ শুরু হয় না। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়—ক্ষমতার লড়াই, অস্ত্র প্রতিযোগিতা, জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা এবং ভয়কে পুঁজি করে। আজকের বড় শক্তিগুলো—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন কিংবা ইউরোপীয় জোট—প্রকাশ্যে শান্তির কথা বললেও, বাস্তবে তারা সংঘাতের মঞ্চ প্রস্তুত করেই চলছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংঘাতের প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তরুণদের শক্তি ও আবেগ।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যায়, তরুণদের দেশপ্রেম ও বীরত্বের গল্প শুনিয়ে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়েছিল। আজ সেই একই কৌশল চলছে আরও আধুনিকভাবে—সোশ্যাল মিডিয়া, প্রোপাগান্ডা ভিডিও এবং “আমরা বনাম তারা” বয়ানের মাধ্যমে। তরুণরা না বুঝেই হয়ে উঠছে যুদ্ধের হাতিয়ার।

কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে আশার জায়গা। যদি তরুণদের শক্তি দিয়ে যুদ্ধ বাধানো যায়, তবে সেই শক্তি দিয়েই যুদ্ধ ঠেকানোও সম্ভব। ইতিহাসে এর উদাহরণ আছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু আন্দোলন দেখিয়েছে—নৈতিক দাবি যদি শক্তিশালী হয়, রাষ্ট্রগুলোও তা উপেক্ষা করতে পারে না।

এই প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় নৈতিকতার ভূমিকা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রায় সব ধর্মই যুদ্ধকে শেষ বিকল্প হিসেবে দেখেছে এবং নিরপরাধ মানুষের ক্ষতিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, বৌদ্ধধর্ম—সবখানেই শান্তি ও মানবিকতার বার্তা স্পষ্ট। অথচ আজ ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে যুদ্ধ বৈধ করার হাতিয়ার হিসেবে। এই বিকৃতি ঠেকাতে পারলে যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করা কঠিন হয়ে যাবে।

যুদ্ধের আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো এর অর্থনৈতিক পরিণতি। যুদ্ধ মানেই খাদ্য সংকট, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি সাধারণ মানুষের। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কোনো সরকার নয়, বরং কোটি কোটি অসামরিক মানুষ।

তাই প্রশ্নটা ভবিষ্যদ্বাণীর সত্য-মিথ্যা নয়। আসল প্রশ্ন হলো—আমরা কী করতে চাই? আমরা কি তরুণদের যুদ্ধের জ্বালানি হতে দেব, নাকি শান্তির নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলব? আমরা কি ধর্মকে ঘৃণার অস্ত্র বানাব, নাকি মানবিকতার নৈতিক ভিত্তি হিসেবে ফিরিয়ে আনব?

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যিও হয়, তবু ভবিষ্যৎ এখনো পাথরে খোদাই করা নয়। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—মানুষ চাইলে ভবিষ্যতের গতিপথ বদলাতে পারে। যুদ্ধ অনিবার্য নয়; অনিবার্য হয় কেবল আমাদের নীরবতা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.