নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাতের যাত্রী

রাতের যাত্রী › বিস্তারিত পোস্টঃ

জার্নি টু সিলেট (শেষ পর্ব)

১৮ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ৩:৪১

বহু চড়াই উতরাই পার হয়ে অবশেষে যখন জাফলং পৌঁছলাম তখন সকাল ১০ টা। সবাইকে স্বাধীনভাবে ঘোরার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হল কিন্তু ছোট ছোট গ্রুপে গ্রুপে। নিজেরা খুব দ্রুত গ্রুপ ভাগ করে নিলাম এবং স্যার প্রতি গ্রুপের একজনের মোবাইল নম্বর নিল। কমিটির হতভাগ্য সদস্যরা একত্রে ঘোরার সিদ্ধান্ত নিলাম।

.

জাফলং বোধহয় বর্ষাকালে দেখার জন্য ভাল। বাস থেকে নেমে প্রথম যে জায়গা দেখলাম তাতে একটু আশাহতই হলাম। পাথর তোলার কাছ হচ্ছিল, কোলাহল ইত্যাদি মিলে ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে খুব সুবিধার লাগল না। হাঁটতে থাকলাম। পথিমধ্যে লোকজনের সাথে আলাপ করে দ্রুত ঘোরার মত জায়গাগুলো জেনে রাখলাম। চা বাগান, কমলা বাগান আর জমিদার বাড়ি ছিল একদিকে আর জাফলং এর মূল আকর্ষন নদী ছিল একটু ভিন্ন দিকে। বাগান গুলোই আগে দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম।

.

প্রথম দিকে একেক গ্রুপ একেক দিকে যাওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু ঘোরার মত স্পট গুলো জানার পর সবার লক্ষ্য সেদিকেই হল এবং অনেকটা হঠাত্‍ করেই অনেকেই একত্রিত হয়ে গেলাম। প্রায় ১৫-২০ জনের এক গ্রুপ মিলে রওনা হলাম চা বাগানের উদ্দেশ্যে। উঠলাম স্থানীয় ভাষায় "ভটভটি" নামক এক যানবাহনে। তিক্ত এক অভিজ্ঞতার স্বাদ অনুভব করলাম তখনই।

.

জাফলং এলাকাটা পাহাড়ী এলাকার ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়। ভারতের বর্ডারের একদম কাছে। ঐ এলাকার স্থানীয় অধিবাসীরা মূলত উপজাতি। আর উপজাতিদের মধ্যে খাসিয়ারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর উপজাতিদের চোখে বাঙ্গালিদের অবস্থান খুব একটা ভালো অবস্থানে না। যেতে যেতে উপজাতিদের এবং আশপাশের দৃশ্য দেখতে থাকলাম। ভটভটির চালকের মতে আশেপাশের গাছগুলোই কমলা গাছ এবং এটাই কমলা বাগান। কিঞ্জিত আশাহত হলাম। তবে চা বাগান দেখার জন্য উদগ্রীব ছিলাম।

.

চা বাগান আশাহত করেনি। আমার বাস্তবে দেখা প্রথম চা বাগান। শীতকালের শেষের দিক ছিল বলে একটু বোধহয় অন্যরকম ছিল, তবে খারাপ না। চা বাগানে অল্প সময় ব্যায় করে রওনা ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। এবারের টার্গেট নদী। কিন্তু ফেরার পথেই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি।

.

বন্ধুরা মিলে কথাও গেলে যায়গা যেমনই হোক না কেন সেখানেই মজা লাগে। আর জাফলং এর মত জায়গায় "ভটভটির" দিয়ে যাওয়ার সময় মজা না লাগার কোনই কারণ নাই। আর মজা হলে হৈহুল্লোর হবেই।

.

যান টি আমরা রিজার্ব করে নিয়েছিলাম। কিন্তু পথিমধ্যে এক লোক থামালো যানটি, বোধহয় লিফট পাওয়ার উদ্দেশ্যে। চালকের পরিচিত ছিল, তাই লিফট দিয়ে দিল। উনি বসলেন চালকের পাশে। ঘটনা খুব স্বাভাবিক, আমরা এদিকে খেয়াল না করে চলতে থাকলাম আমাদের মত।

.

হৈচৈ চলছিলই। এমন সময় পাশে দিয়ে দেখলাম স্যার আর এক বড় ভাই যাচ্ছেন চা বাগান দেখতে। সবাই মিলিত ভাবে একটা চিত্‍কার দিয়ে উঠলাম। খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু রাস্তার অপর পাশে যে কয়েকজন মহিলা ছিল তা আমাদের চোখে আসেনি। কাহিনীর জটিলতা শুরু এখানেই।

.

উপজাতিরা বাঙ্গালীদের সাথে কথা বলাটা ভাল চোখে দেখেনা। আর মেয়ে হলে তো কথাই নাই। চালকের পাশের লোকটার ধারণা হল আমাদের চিত্‍কারের কারণ ছিল মহিলারা!! রাগের হলকা দেখতে পারলাম লোকটার মুখে, চেহারা হয়ে গেল একজন "খুনির" মত।

.

শুরু করল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং একই সাথে হুমকি ধামকি। অপরিচিত এলাকা এবং সাথে উপজাতীদের সাথে বাঙ্গালিদের সম্পর্কের বৈরীতার কথা জানা ছিল বলেই বোধহয় সবাই একটু বেশীই ভয় পেয়ে গেলাম।



পরবর্তীতে যখন কেউ দাবি করল যে সে ভয় পায় নাই তাকে "থাবরা" না দিয়ে উপায় ছিল না! কারণ সবার চেহারাই আমার স্পষ্ট খেয়াল আছে। ছবি তুলে রাখলে হয়তো স্মৃতি হিসাবে থাকতো। কিন্তু আমার হার্ট "প্রতি সেকেন্ডে ৩ বার" করে বিট দিচ্ছিল বলে সে সাহস হয়নি। আশার কথা ছিল যে চালক ছিল বাঙ্গালি এবং আমাদের পক্ষেই কথা বলছিল।

.

কোন দূর্ঘটনা ছাড়াই ভাল ভাবেই ফিরতে পারলাম। তখন চালক বলল যে লোকটা আগে বাঙ্গালি ছিল, খাসিয়া মেয়ে বিয়ে করে খাসিয়া হয়ে গেছে এবং এখন উনার দিন চলে "মদের" উপর দিয়ে। টেনশনের পর স্বস্থি সর্বদাই অধিকতর আনন্দদায়ক। রওনা দিলাম নদীর দিকে।

.

শীতের শেষের দিকে হলেও রোদের তেজ ভালই ছিল। পানি দেখেই সবার মন আকু পাকু করতে থাকল। আশে পাশে প্রচুর মানুষ ছিল। কেউ পানিতে কেউ দাড়িয়ে। আমাদের মাঝে পানিতে নামল অনেকেই। অতিব উত্তেজিত একজন পানিতে নামার পর অনুভব করল যে তাহার মোবাইল প্যান্টের পকেটেই ছিল। বাজল মোবাইলের স্পিকারের অবস্থা ১২ টা! এদিকে পানি অত্যাধিক ঠান্ডা বিধায় নামার জন্য আমার সাহসে কুলাল না। পা ডুবিয়ে বসে ছিলাম কিন্তু তাতেই শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঠান্ডা হয়ে গেল!

.

লুঙ্গি সর্বদাই আনাড়িদের জন্য বিপদজনক বস্ত্র। একাধিক ব্যক্তি এই বিপদজনক বস্ত্র কর্তৃক দূর্ঘটনার শিকার হল। পাবলিক প্লেসে দূর্ঘটনা বোধহয় একটু বেশীই মজা লাগল। দূর্ঘটনা কবলিত বন্ধুগুলোর ঐ মুহুর্তের অনুভূতির বর্ণনায় গেলাম না। দূর্ঘটনার বর্ণনায় তো যাওয়া সম্ভবই নয়! তবে দূর্ঘটনা থেকে যদি আনন্দ পাওয়া যায় তবে সে দূর্ঘটনা মন্দ নয়!!

.

বিকালে হালকা পাতলা অনুষ্ঠান আর রাতে স্যারের স্পেশাল ট্রিট। পরবর্তীতে আবারও বাসার উদ্দেশ্যে রওনা। বাসে উঠে কারই জেগে থাকার মত অবস্থা ছিল না। সবাই ঘুম। এক ঘুমেই বাসায়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.