| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রমবর্ধমান হারে ভিক্ষুকের সংখ্যাও বৃদ্ধিও লক্ষনীয়। এই ভিক্ষার কাজে নিয়োজিত মানুষদের ভিক্ষা করাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কিছু কারণ ও ভিতরের কিছু বলা যাক।
.
রাস্তার ধারে বসে থাকা খোঁড়া অথবা হাতবিহীন যে ভিক্ষুকটি বসে থাকে তাকে যদি তার অঙ্গহানির কারণ জিজ্ঞাসা করা হয় তবে বেশীরভাগ সময় উত্তর আসে দূর্ঘটনা। কিন্তু আসলেই কি সেটা দূর্ঘটনা ? অনেক ক্ষেত্রে এটা সত্য হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সত্য নয় !
.
সংগঠিত অপরাধী চক্রের কাছে একটি শহর বিভিন্ন অংশে ভাগ করা থাকে। প্রতিটি অংশ ভাগ করা থাকে কিছু মানুষের অধীনে এবং তার অধীনেই অপরাধ কর্ম সংঘটিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন পড়ে এবং কিছু প্রামাণ্য চিত্র দেখে জানতে পারলাম ভিক্ষাবৃতি অনেকটা সংগঠিত অপরাধি চক্রের মতই একটি চক্রের নিয়ন্ত্রনে। একটি শহরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা থাকে এবং প্রতিটি অঞ্চল থাকে কিছু মানুষের তত্ত্বাবধানে যাদের অধীনে কাজ করে ঐ এলাকার ভিক্ষুক।
.
সারাদিনের ভিক্ষার টাকার একটি বড় অংশ দিতে হয় এলাকার কথিত কর্তার হাতে। এই টাকা এলাকার লিডারের হাত ঘুরে যায় মূল লিডারের হাতে। আর এ কাজে উপরের দিকের রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের সংশ্লিষ্টতারও সম্ভাবনাও অসম্ভব নয়।
.
এই ব্যাবসা চালানোর জন্য প্রয়োজন জনশক্তি তথা ভিক্ষুক। এই অপরাধী চক্র জনশক্তিকে ভিক্ষুক সমাজের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য পাঁচার, অপহরনের কাজেও জড়িত। মানুষকে অপহরন করে অপারেশনের মাধ্যমে অঙ্গহানি করে লাগিয়ে দেওয়া হয় ভিক্ষার কাজে ! শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ভিক্ষার সময় মানুষের সহানুভূতি অর্জনের জন্য অনেক সময় যে শিশুটি পাশে দেখা যায় সেটা পাওয়া যায় ভাড়াতে ! পাঁচার করে আনা বা এতিম শিশুকে কাজে লাগানো হয় এ কাজে !
.
এক শ্রেণীর মানুষ অবশ্য ইচ্ছাকৃত ভাবেই এ পেশার সাথে জড়িত হয়ে যায়। এর কারণ হিসেবে চিন্হিত করা যায় কম পরিশ্রমে বেশী টাকা উপার্জনের মানসিকতাকে। ব্যাস্ত রাস্তার পাশের ভিক্ষারত একটি ভিক্ষুকের উপর জড়িপ চালালে দেখা যাবে দিনে ৫০০ টাকার কাছাকাছি অনায়াসে উপার্জিত হয়। মাসে হয় প্রায় ১৫০০০ এর কাছাকাছি এবং যা কিনা একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতনের সমতুল্য !
.
হয়ত অনেক সময়ই আমাদের কাছে কর্মক্ষম লোক ভিক্ষা চাইতে আসে। এ ধরনের কর্মক্ষম ব্যাক্তিদের ভিক্ষা দিলে ভিক্ষা করার প্রতি উত্সাহিত করা হয় না কি ???
.
ইচ্ছাকৃতভাবে ভিক্ষুকের পেশায় নিয়োজিতদের এ পেশায় আসা থেকে বিরত রাখার জন্য ব্যাক্তিগত সহ সামাজিক উদ্দ্যোগ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়ে বাধ্যতামূলকভাবে যারা এ পেশায় নিয়োজিত তাদের ক্ষেত্রে সবচাইতে প্রয়োজন প্রশাসনের উদ্দ্যোগ।
©somewhere in net ltd.