নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দেশে জীবন্ত কোন মানুষের পহ্মে দূর্ণীতি দমন অসম্ভব।

আহমেদ ফারুক শুভ্র

আহমেদ ফারুক শুভ্র, ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার

আহমেদ ফারুক শুভ্র › বিস্তারিত পোস্টঃ

পেরেক-১

২২ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৬

আমার খুব পরিচিত একজন। ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন দেখতো একজন অভিনেতা হওয়ার । সেই অনু্যায়ী ছোটবেলা থেকেই তার প্রস্তুতী চলছে। নিয়মিত পাড়ার মঞ্চ নাটকে পারফর্ম করা থেকে জীম করে নিজের ফিটনেস ঠিক রাখা , সব কাজি করছে অনায়াসে। শুধু একজন অভিনেতা হওয়ার আশায়।
কিছুদিন আগে সে ঢাকায় এসেছে। নিজের পোর্টোফোলীও তৈরি করে ভালো একজন ফটোগ্রাফের কাছে ফটোশ্যুট সম্পন্ন করেছে। এখন কাজ বিজ্ঞাপণী সংস্থায় নিজের পোর্টোফোলীও সো করা।

যাক, সেই অনু্যায়ী কাজ করেই গেলো। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের নামকরা একটা বিজ্ঞাপণি সংস্থা থেকে তার ডাক এলো।আহ্লাদে আটখানা হয়ে বেচারা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছে, ভাই আমি মনে হয় স্বপ্ন টাকে ধরতে পারবো। আজ আমার ডাক এসেছে।
আমিও মনে মনে খুশী। যাক, ভালোই হবে। কাছের একজন লোক সেলিব্রেটি হলে, তাকে টেলিভিশনে দেখবো। আর গর্ব করে বলতে পারবো সবকিছু।

বিজ্ঞাপণ সংস্থা ঢাকা বাড্ডায় কোথাও হবে হয়তো(সিক্রেট এর জন্য বলতে পারলাম না হাহাহহাহাহ)। সেদিন ওকে নিয়ে আমিও গেলাম। যেহেতু ও ঢাকা শহরের তেমন কিছু চেনেনা তাই। একজন ডিরেক্টারের সাথে আমার সাহ্মাত হলো কপালক্রমে। পরিচালক মহাদয় সরাসরি প্রস্তাব দিলেন কোনো প্রকার লুকোচুরী ছাড়াই।

"তিনি একটা বিজ্ঞাপণ নির্মান করতে যাচ্ছেন, এই বিজ্ঞাপণে কাজ করতে হলে চল্লিশ হাজার টাকা ডোনেশান করতে হবে।"
কথাটা খুবি ইন্টারেস্টিং লাগলো আমার কাছে। তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর কি কি করতে হবে ভাইয়া।আমার সাথের ছেলেটা আমার হাত শক্ত করে ধরে আমাকে বোঝাতে চাইলো"যতো টাকাই লাগুক আমি সুযোগ হাতছাড়া করতে পারবোনা। আমি রাজী'

পরিচালক মহোদয় খুব উল্লাশের সাথে আমার কথার উত্তর দিয়ে গেলেন" আর কিছু লাগবেনা, সিডিউল মোতাবেক আসলেই হয়ে যাবে। আসার আগে ফেসিয়াল টেসিয়াল কিছু করে আসতে হবে। যাতে গ্লামারটা ঠিক থাকে।
পরিচালকের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বললাম, আপনার মতো গ্লামার হলে চলবেতো নাকি আর একটু গ্লামারিয়াস আনতে হবে।

ভদ্রলক মনে হয় অবাক হলেন। পরিচালক ক্যামেরার পিছনের লোক, তাদের গ্লামার লাগেনা।

হুম একদম মহাসত্য কথা। তো সাহেব, একটা বিজ্ঞাপণ করতেই তো চল্লীশ হাজার টাকা লাগেনা, তাহলে আপনি এতোগুলো চাইছেন কেনো?

আরে মিয়া, বোঝেন না ক্যান, আমি তাকে স্টার বানিয়ে দিচ্ছি, কিছুদিন পরে তো আমাকেই ওর পিছনে লাইন দিয়ে সিডিউল নিতে হবে।


তাহলে এই লাইনে যারা নতুন আসে, তাদের সবাই এইরকম টাকা দিয়ে আসে।


মোটামুটি এইটাই।

আমি উঠে দাড়ালাম। সাথে আমার সাথের ছেলেটিও। বুঝলাম এই লাইনে ভালো কিছু করতে হলে অনন্ত জলিলের মতো হতে হবে , তা না হলে মামা খালু চার প্রকোপ থাকতে হবে। ভালো এবং জিনিয়াস পোলাপান এই লাইনে আসতে পারেনা।




বলা বাহুল্য মিডিয়ার চাকচিক্যময় চেহারা আমরা যতোই বাইরে থেকে দেখে মুগ্ধ হয়ে বলি, বাহ, বেশতো। এর ভিতরে থাকা কুলাঙ্গারের বাচ্চারা নিজেদের অন্য গ্রহের মানুষ মনে করে। কিছু কিছু অপদার্থের বিচরণ মিডিয়াকে করএছে জঘন্যরকম ঘৃণার একটি জায়গা।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প মূলত এই কারণেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। খেয়াল করলে দেখবেন , কি হচ্ছে মিডিয়ায়। অনন্ত জলিলকে সবাই গালাগালী করেছেন। তার অভিনয়ের পারফর্মেন্স দেখে। কিন্তু নায়ক রাজ রাজ্জাক কে তো কেউ গালী দেননি!!!!!?

এখন বলবেন তার দোষ কোথায়!!!!!!?


আমার চোখে তার দোষ ধরা পরেছে। আপনাদের চোখে তার দোষ ধরা নাও পড়তে পারে। তার নিজের ছেলেকে মিডিয়ায় ভালো কোনো পজশান ধরিয়ে দেয়ার জন্য তিনি পরিচালকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সম্রাটকে ছবিতে নিলে আমি পারিশ্রমিকের অর্ধেক নিবো। আহা, কি মধুর কথা।
তাহলে রাজ্জাক সাহেব এবং অনন্ত জলিলের মধ্যে পার্থক্য কোথায়।
একজন সিনেমা স্ক্রীপ্ট রাইটার ভালো কোনো সিনেমার স্ক্রীপ্ট তৈরি করে পরিচালকের কাছে কিংবা প্রযোজকের কাছে গেলে তার দরদাম বিশ হাজারের বেশি হয়না। যেখানে নায়ক শাকিব খানের পারিশ্রমিক চল্লীশ লহ্ম টাকা। আর চরিত্র রচয়ীতার দাম বিশ হাজার!!!!!!!/

তাহলে স্ক্রীপ্ট রাইটারেরা ভালো স্ক্রিপ্ট কেন তৈরি করবে!!!!!?????





(জনৈক সিনেমা পরিচালকের নিকট লেখা আমার একটি প্রেমপত্রের সংহ্মেপিত রুপ। সময়ের অভাবে আপনাদের সামনে মিডিয়াকে আরো কিছু অপমান করে শোনাতে পারলাম না।আর একদিন সব বলেই দিবো!!!) হাহাহাহাহাহহা

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.