নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দেশে জীবন্ত কোন মানুষের পহ্মে দূর্ণীতি দমন অসম্ভব।

আহমেদ ফারুক শুভ্র

আহমেদ ফারুক শুভ্র, ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার

আহমেদ ফারুক শুভ্র › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন আজমত সাহেব ও অতিত কিছু অস্তীত্ব।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:০৪

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজমত সাহেব এক কাপ চা খাবেন। এইটা তার গতো ছাব্বিশ বছরের অভ্যেস। এই নিয়ে তাকে কম কথা শুনতে হয়নি গিন্নীর কাছে। কিন্তু আজ এইটার ব্যাতিক্রম হল। ঘরের গিন্নি পরের কথা শুনে চা বন্ধ করে দিলো। অনেক লোক আছে সকালে চা পান না করলে তাদের প্রাতকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়না। আজমত সাহেব আধাঘন্টা ঝুকেও যখন টয়লেটের বিশেষ কার্য সম্পন্ন করতে পারলেন না, তখন মেজাজ টা স্বাভাবিক থেকে উড়নচন্ডী আকার ধারণ করলো। চোখ দুটো লাল করে গিন্নীর সামনে দাঁড়িয়ে খিচির মিচির করা শুরু করলেন। ভাবখানা এমন যে এই মূহুর্তে টাইফুন আঘাত হানবে তার হাত ধরে। তার গিন্নীও কম যায় না। শারিরীক কসরতের দিক থেকে আজমত সাহেবের থেকে দুই ইঞ্চি লম্বা আর পনেরো কেজি বেশী ওজনের এই মহীলা নিজেকে স্বামীর সেবক বলতে দ্বিধা করেন বরাবর। তার মতে, স্বামীরাই স্ত্রীদের সেবক।
টাইফুন এলোনা। আজমত সাহেব স্বাভাবিক ভাবে বাসা থেকে বেড় হয়ে গলীর দোকান থেকে কড়া লীকারের লাল চা খেয়ে নিলেন। মনের ভিতর একটা বিদ্রোহী ভাব। আজ তিনি বাসায় যাবেন না। সোজা অফিসে যাবেন, রাত্রে হোটেলে থাকবেন। দু একটা দিন শাস্তী না দিলে মেয়ে মানুষ মাথায় উঠে আম পারতে চায়।মনে মনে একশো সাতবার নিজের বাবাকে অপকর্ম করতে চাইলেন। সারা দুনিয়ায় এতো মেয়ে থাকতে এই মেয়েটাকেই তার বাবার চোখে পরেছে।
অফিসের দিকে হাটতে শুরু করলেন তিনি। পিছন থেকে কে একজন বলে উঠলো, এই আজম না!?
আজমত সাহেবের দিলের মধ্যে ঠাস করে একটা আওয়াজ হলো। এই নামে তাকে একজনই ডাকতো। কলেজে থাকাকালীন একটা মেয়ের সাথে তার খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিলো। রীতা। পিছনে তাকালেন আজমত সাহেব। হ্যা রীতাই।
রীতা হাসতে হাসতে এগিয়ে আসলো আজমত সাহেবের দিকে। আহা, হাসিটা সেই আগের মতোই সুন্দর আছে। আজমত সাহেবের মনে আছে, এই মেয়েটা তার খুব ভালো বন্ধু হলেও মনের ভিতর আলাদা একটা জায়গা ছিল এর জন্য। এএকদিন হাত কেটে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। এই মেয়েটার জন্যই। তাতে বিশেষ কোন লাভ হয়নি। চিঠির উত্তর দেয়ার আগেই রীতার বিয়ে হয়ে গেছিল দুদিন পরেই। আহা, সেই বিরহ সহ্য করতে না পেরে লজ্জা শরম ভুলে আজমত সাহেব তার বাবাকে চেপে ধরেছিলেন বিয়ে করার জন্য।
আর আজমত সাহবের বাবাও দেরি কপ্রেন নি। সোজা একটা ধুমসী মার্কা মেয়েকে এনে আজমত সাহেবের গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে এক বছরের মাথায় পরপারে জায়গা করে নিয়েছেন। এখন যা যন্ত্রণা সব আজমত সাহেবের।
রীতা হেসে বললো" কেমন আছো, অনেক শুকাইয়া গেছো তুমি!"
আজমত সাহেব রীতার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বললেন" ভালো না, উষ্ঠা খেয়ে খেয়ে ছাব্বিস বছর কাটলো।"
রীতা আজমত সাহেবের খুব কাছে এসে বললো" এই ছাবিশ বছরে আমাকে একবার ও মনে পরে নাই তাই না!
আজমত সাহেব একটু বিব্রত বোধ করলেন সত্যি , তবে তার এখন ভাল লাগছে। কোথা থেকে একটা ভালো লাগা মনের ভিতর হামাগুড়ী দিয়ে আসলো সেইটা টেরই পেলেন না।
রীতা বলেই যাচ্ছে" তুমি বিয়ে করেছো, আমাকে একবার জানানোর প্র্যোজন মনে করো নাই, আমি কি তোমার খুব পর ছিলাম!?"
আজমত সাহেব বললেন" তোমার বিয়ে হয়েছে শুনে মাথা ঠিক ছিলোনা, হুঠাট করে বিয়ে করে ফেলেছি, তোমাকে দেখানোর জন্য, যে আমার জন্যেও একটা মেয়ে দুনিয়াতে আল্লাহ পাঠিয়েছেন।"
রীতা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বের করে আজমত সাহেবের সামনে ধরলো।
এই চিঠিটা কি তুমি চেনো?
আজমত সাহেব চিঠিটা হাতে নিয়েই বুঝলেন, এইটা সেই রক্তে লেখা চিঠি। তার ভালবাসার প্রথম ও শেষ চিঠি।
এইটা এখনো তোমার কাছেই আছে?

হুম, গতো ছাবিশ বছরে এইটাই আমার একমাত্র সম্বল ছিলো। এই চিঠিটাই আমাকে বিয়ে করতে দেয়নি। তাই আজো আমি বিয়ে করিনি!।
মানে!?
মানে আমি বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গেছিলাম। ভেবেছিলাম কিছুদিন পর ত্যোমার কাছে ফিরে আসবো, কিন্তু যখন ফিরলাম তখন তুমি বিয়ে করেই ফেলেছো। তাই তোমার মাঝে আর আসিনি। আছি বেঁচে একা একা। ভালো আছি।

আজমত সাহেব মাটিতে বসে পরলেন। তার মনের ভিতর সত্যি এইবার টাইফুন আসলো। চোখের কোণে পানি আসলো। মাথার উপর কাঁচাপাকা চুলগুলো ঘামের স্রোতে ভিজতে লাগলো। .।.।।।(সংহ্মেপ)।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:১১

বিজন রয় বলেছেন: ভাল লিখেছেন। ভাল লাগল।
++++++

২| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৩০

আহমেদ ফারুক শুভ্র বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি পড়ার জন্য।

৩| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৫২

আমি মিন্টু বলেছেন: ধন্যবাদ ভালো লেখছেন :)

৪| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৪২

আহমেদ ফারুক শুভ্র বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি পড়ার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.