| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এনসিপি এখনো রাজনৈতিক পরিপক্বতা অর্জন করতে পারেনি- এটা তাদের প্রতিটি বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডেই স্পষ্ট। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই তদন্ত ছাড়াই বিএনপি ও আওয়ামীলীগ এর ওপর দোষ চাপানো, পরে সত্য প্রকাশ হলে অবস্থান বদলে ফেলা- এসবই তাদের রাজনৈতিক অপরিণততা, দায়িত্বহীনতা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার প্রমাণ। নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর ঘটনায় প্রথমে “বিএনপির হামলা” বলে দেশজুড়ে প্রচার চালানো হলো, কিন্তু যখন বেরিয়ে এলো অস্ত্রধারীরা নিজেদের বলয়ের লোক, তখন আবার বলা শুরু হলো “ওটা পিস্তল না, আত্মরক্ষার সরঞ্জাম”। এই দ্বিচারিতা মানুষ এখন পরিষ্কার বুঝে গেছে।
ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এলাকার নৃশংস হত্যাকাণ্ডেও তারা একই কাজ করেছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিএনপিকে দায়ী করেছে, ইসহাক সরকারকে বড় চাঁদাবাজ বলেছে। অথচ পরে সেই ব্যক্তিকেই নিজেদের দলে টানতে দ্বিধা করেনি। তাহলে প্রশ্ন হলো- নৈতিকতা কোথায়? আদর্শ কোথায়? এটাই প্রমাণ করে এনসিপির রাজনীতি মূলত সুবিধাবাদ আর ক্ষমতার লোভে গড়া।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো- এরা এখন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করছে যেখানে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানকে তুচ্ছ করা হচ্ছে। যারা ৭১- এর ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, যারা স্বাধীনতার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করতে চায়, তাদের সাথেই এনসিপির সখ্যতা বাড়ছে। এ কারণেই আজ অনেক মানুষ মনে করেন, এনসিপি ধীরে ধীরে এমন একটি গোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে যারা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং বিভাজন, উসকানি ও অস্থিতিশীলতার রাজনীতি করছে।
কিছুদিন আগেও যাদের সাধারণ জীবনযাপন ছিল, তারা হঠাৎ বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে গেছে—দামী গাড়ি, বিলাসী জীবন, হাতে সর্বাধুনিক ফোন। জনগণ প্রশ্ন করছে, এত টাকা কোথা থেকে এলো? রাজনীতিকে কি আদর্শের জায়গা থেকে সরিয়ে ব্যবসায় পরিণত করা হচ্ছে? জনগণের আবেগ ব্যবহার করে ক্ষমতার শর্টকাট খোঁজার এই রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না।
সবচেয়ে বড় ভুল তারা করেছে জনগণকে অবমূল্যায়ন করে। তারা ভেবেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে, উত্তেজনা ছড়িয়ে, ইতিহাস বিকৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। এই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে যায়নি, সংবিধানের মর্যাদা ভুলে যায়নি। যারা এদেশের ইতিহাস মুছে ফেলতে চাইবে, জনগণই তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
এনসিপি নেতাদের বুঝতে হবে- রাজনীতি শুধু স্লোগান না, শুধু লাইভে এসে উসকানি দেওয়াও না। রাজনীতি মানে দায়িত্ববোধ, পরিপক্বতা, আদর্শ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। হাত-পা বড় হলেই মানুষ বড় হয় না; রাজনৈতিকভাবে বড় হতে হলে ইতিহাস জানতে হয়, গণমানুষকে বুঝতে হয়, আর নিজের কথার দায় নিতে হয়। তা না হলে মানুষ একসময় তাদেরকেই প্রত্যাখ্যান করবে।
©somewhere in net ltd.