| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এস এম ইসমাঈল
মুক্তমনা, সকল রকমের সংস্কার মুক্ত, আমি ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধতা আমাকে কখনো গ্রাস করে নিতে পারেনি।আমি সুস্থ্য চিন্তা আর মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আমার শক্তি আমার আবেগ আবার সে আবেগ-ই আমার বিশেষ দুর্বলতা। নেহায়েত সখের বশে এক আধটু কাব্য চর্চা করি, এই আর কি। প্রিয় বিষয় সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, সংগীত, দর্শন, দেশ ভ্রমন আর গোয়েন্দা সিরিজের বই পড়া।ভীষণ ভোজন রসিক আমি। জন্ম যদিও চট্টগ্রামে কিন্তু ঢাকা শহরেই লেখা পড়া আর বেড়ে উঠা। আমার জীবনের গল্প তাই আর দশ জনের মতো খুবই সাদামাটা।
'যবন' কথাটি বাংলাভাষী উচ্চ বর্ণের হিন্দু সমাজের কাছে একটা বহুল প্রচলিত শব্দ।
মুসলমানদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করার জন্য তারা এ শব্দ ব্যবহার করে থাকে।
কারন বিদেশ থেকে আগত মুসলমানদেরকে হিন্দুরা কখনোই শাসক বা প্রতিবেশী হিসেবে মন থেকে গ্রহন করে নিতে পারে নাই। বাংলা-ভারতের অভিজাত হিন্দু শ্রেণী বরাবরই ছিল বর্ণবাদী। হিন্দু সমাজের শীর্ষে অবস্থানরত এ সকল উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজপতিরা সব সময় নিম্ন বর্ণের হিন্দুদেরকে আর্থিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যপারে নানাভাবে শোষন-বঞ্চনা-নির্যাতন করতো। নিরীহ বৌদ্ধরাও এদের হাতে কখনো নিরাপদে ছিল না।তাই হিন্দু ভূস্বামী ও ব্রাক্ষণদের এ সকল অত্যাচার-অনাচার, শোষন-বঞ্চনা-নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় এ সকল নিম্ন বর্ণের হিন্দু জনগণ এবং বৌদ্ধরা দলে-দলে মুসলিম ধর্মপ্রচারকদের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে লাগলো।তখন ব্রাক্ষণ্যবাদী হিন্দু সমাজপতিদের সব রাগ-ঘৃণা-ক্ষোভ-বিদ্বেষ গিয়ে পড়লো মুসলিম বিজেতা ও ধর্মপ্রচারকদের উপর। তখন থেকেই এসকল ভারতীয় অভিজাত ও উচ্চবর্ণের হিন্দুরা পরম ঘৃণা ও সুতীব্র বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে ভারতে বসবাসকারী সকল মুসলমানদরকেই যবন ও ম্লেচ্ছ নামে অভিহিত করতে থাকে।
মুসলমানদের যবন বলার প্রবণতা ১৮৩০ খৃষ্টাব্দের দিকেই বিশেষভাবে দেখা দিয়েছিল।
ঈশ্বরগুপ্তের মতো মধ্যপন্থী হিন্দু থেকে আরম্ভ করে অক্ষয় দত্তের মতো নাস্তিক পর্যন্ত সবাই তখন 'যবন' নামেই মুসলমানদের চিহ্নিত করেছেন।
বাংলায় যাদের জন্ম এবং চৌদ্দ পূরুষ ধরে যারা বাংলায় কথা বলে আসছিলেন, তাদের 'যবন' বলা কতটা সঙ্গত? আগের আমলের শাসকদেরকে "যবন" বলে গালমন্দ করার মনোভাব কতটা সভ্যতার পরিচায়ক?
বিশিষ্ট লেখক গোপাল হালদার লিখেছেন, "বৌদ্ধদের প্রতি ব্রাক্ষণেরা অত্যাচার করাতে নিরঞ্জন রুষ্ট হয়ে ব্রাক্ষণদের বিরুদ্ধে দেবতাদের নি্যোজিত করলেন; দেবতারা এলেন ব্রাক্ষণরুপে, দেবতারা এলেন মুসলমানরুপে"।
'শুন্য পূরাণ' রচয়িতা বৌদ্ধ কবি লিখেছেন:
"হইলা যবনরুপী, মাথায়ত কালটুপী
হাতে শোভে ত্রিকট কামান।
চাপিয়া উত্তম হএ, ত্রিভূবনে লাগে ভএ,
খোদায় বলিয়া এক নাম।।
নিরঞ্জন নিরাকার, হৈলা ভেস্ত অবতার,
মুখেতে বলএ দম্বদার।
যথেক দেবতাগণ, সভে হয়্যা একমন,
আনন্দেতে পরিলা ইজার ।।
বক্ষ হৈলা মহামদ, বিষ্ঞু হৈলা পেকাম্বর,
আদম্ফ হইলা শূলপাণি।।
গণেশ হৈলা গাজী, কার্তিক হৈলা কাজি,
ফকির হৈলা জথমুনি ।।
তেজিয়া আপন ভেক, নারদ হৈলা শেক,
পুরন্দর হৈলা মলনা।
চন্দ্র সূর্য আদি দেবে, পদাতি হইয়া সেবে,
সভে মিলি বাজাএ বাজনা।।
আপনি চন্ডিকাদেবী, তিহ হৈলা হাওআ বিবি,
পদ্মাবতী হৈলা বিবি নুর।
জথেক দেবতাগণ, সভে হইআ একমন,
প্রবেশ করিলা জাজপুর।।" *গোপাল হালদার : 'সংস্কৃতির রুপান্তর' পৃষ্টা নং ১৯২।
আধুনিক নাটকে 'যবন' শব্দের ব্যবহার ্ঃ
"রক্তাক্ত প্রান্তর''[/sb
"রক্তাক্ত প্রান্তর'' বিশিষ্ট নাট্যকার শহীদ বুদ্ধিজীবি মুনীর চৌধুরী, (১৯২৫ খৃঃ-১৯৭১ খৃঃ) রচিত ও ১৯৬২ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত।এটি ১৯৬২ খৃষ্টাব্দে 'বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার' প্রাপ্ত। তাঁর বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক "রক্তাক্ত প্রান্তর''-এ 'যবন' শব্দটি ১৫ বার ব্যবহার করেছেন। ট্রাজেডী ধর্মী এ নাটকটির অনুপ্রেরণা ও কাহিনীর সার সংক্ষেপ তিনি মহাকবি কায়কোবাদ (১৮৫৭খৃঃ-১৯৫১খৃঃ) রচিত 'মহাশশ্মান' (১৯০৪ খৃষ্টাব্দ) কাব্য গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। এ নাটকটি ১৭৬১ খৃষ্টাব্দে সংঘটিত পানিপথের ৩য় যুদ্ধের কাহিনী নিয়ে রচিত।একদিকে ভারতের সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী যার নেতৃত্বে ছিলেন কাবুলাধিপতি আহমদ শাহ্ আবদালী দুররানী। আর সর্বভারতীয় সমন্বিত হিন্দু শক্তির প্রতিভূ মরাঠাধিপতি বালাজী রাও পেশোয়া।
হি
ম্লেচ্ছ শব্দের ব্যবহার:
''ম্লেচ্ছ'' শব্দটি বাংলা সাহিত্যে এসেছে হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রীয় গ্রন্থগুলো থেকে। যেমন- 'ভবিষ্য পূরাণ' এ আছে,
"এতস্লিন্নন্তার ম্লেচ্ছ আর্চার্যেন সবন্বিত।
মহামদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্য শাখা সমন্বিত।। শ্লোক নং-৫
...........................শ্লোক নং-৬
...........................শ্লোক নং-৭
ভোজরাজ উবাচ -
ম্লেচ্ছৈর্গুপ্তায় শুদ্ধায় সচ্চিদানন্দরুপিনে।
...........................শ্লোক নং-৮
শব্দের ব্যবহার:
সমাজের বিজাতীয়
©somewhere in net ltd.