| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাল পুরুষ কোরাস
আপাতত কিছু বলার নেই। আমি মানুষ, আমি মানবতায় বিশ্বাসী
আকাশের বুকে লাখ লাখ তারা মিটিমিটি জ্বলে। আর প্রাণ জুড়াতে যেন অন্য ভুবন থেকে আসে এক ঝাপটা ঠাণ্ডা বাতাস। দিগন্তের দিকে তাকিয়ে তুমি হারিয়ে যাও স্বপ্নের রাজ্যে। তখনও ঠিক আর একলাটি নও। তুমি হারিয়ে যাও সে স্বপ্নরাজ্যেই। তারপর ঘুম ভাঙা, এবার নাগরিকতার যান্ত্রিক হাওয়া। জীবন এগিয়ে যায় স্বপ্নের পরম্পরার মত। একে পাল্টাতে থাকে সময়ের পাতাও। ঠিক এ সময়েই তুমি তারুণ্যের দিকচিহ্নহীন সাগরের মাঝি। তবে পৃষ্ঠার পাতাটির মতো অত সহজে ফুরোবার নয় এই বয়স। হয়তো মাঝে মাঝে অসময়ে হারিয়ে গেলেও রেশ থেকে যায় বহুদিন। আমি যাকে বলি কুড়ির বৃত্তে নতুন স্বপ্নের দাপাদাপি।
সমগ্র জীবনটাকে সময়ের স্কেলে মাপলে যাকে বলে সবচেয়ে আলোকিত অংশ এই তারুণ্য, ট্রেডমার্ক হিসেবে কুড়িকেই। তাই আমি বেছে নেই বারবার। যা কিছু পাওয়ার, অর্জনের, যা কিছু তা যেন জোয়ারের মতো এসে উপস্থিত হয় যৌবন দুয়ারে। তুমি সেখান থেকে কি নেবে কিংবা ফেলে দেওয়ার যা কিছু তার সবটুকু নির্বাচনের ভার যেন একান্তই তোমার। মূলত শারীরিক কিংবা মানসিক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে যে মনোদৈহিক রাক্ষসটি ভৃত্য হতে লুটিয়ে পড়ে পায়ের তলায়, তাকে বাগ মানানোর দায়িত্বও একমাত্র তোমার উপরই বর্তায়। আর সবকিছু একসঙ্গে মিলিয়ে যখন লক্ষ্যের দিকে এগোতে পার, তখনই বোধ হয় তোমাকে দেওয়া যায় স্বপ্নের সঙ্গে বাঁচার টিকেট। নচেৎ ঘুমের ঘোরেই শুধু দেখা পাবে সেই দেশের, বাস্তব তৈরি রুক্ষ ভূমি দিয়ে। বলছিলাম মনোজগতে আয়োজনের কথা। এত বেশি রহস্যময়। এই বয়সের মন যেন মাঝে মাঝে নিজেকেই তালাশ করতে হয় মনের খবরের। ভেসে যেতে ইচ্ছে করে অনাহূত বাতাসেও। শুধু কি তাই! চোখের সামনে কত আলো-লাল,নীল,হলুদে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে পারলেই যেন সার্থক জীবন। নিজের অজান্তেই তৈরি হয়ে যায় কাদাময় পথ মাড়িয়ে চলার অভ্যেস। যতই পারদর্শী হও, অভ্যস্ত পা’ও একেক দিন করতে পারে বিশ্বাস ভঙ্গ। মুখ থুবড়ে পড়তে পার। রঙিন পাখির মতো উড়তে থাকা তোমার মূল পরীক্ষার শুরু তো তখন থেকে। অনেক সময় হাত বাড়িয়ে দেওয়ারও থাকে না কেউ। দুঃসময়ের সঙ্গে লড়তে তাই নিজের ছায়া অবলম্বন করেই আবার শুরু করতে হয় নতুন পথচলা।
মূলত ক্ষণিকের উচ্ছলতা যখন বয়সের দায়বদ্ধতাকে একেবারে ঢেকে দিতে উদ্ধত, তখন তোমাকেই করতে হবে লড়াই। ঠুনকো আলো এসে চোখ ধাধিয়ে যেতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত কিন্তু বাস্তবতার রুক্ষ ভূমিতে পা রেখেই তোমাকে চলতে হবে পৃথিবীর পথে। একবার চারপাশে তাকিয়ে দেখে নিতে পারো। হতে হবে না বৃদ্ধ, চারপাশের জরা, ব্যাধি, ক্ষুধার জন্য নিজ মনে প্রশ্ন রেখে জঙ্গলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং স্বপ্নের মেয়েটাকে একটু ঘুরিয়ে দিলেই তুমি তোমার সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়টিকে করে নিতে পারো আর উজ্জ্বল। তোমার চেনা জীবন থেকে দূরে যাওয়ার কোন দরকার নেই বরং একে ঘিরেই তৈরি হোক তোমার স্বপ্নের নতুন জগৎ।
একজন দুঃখী মানুষের গল্প বলি, যার রঙের ছটায় আলোকিত চিত্রশিল্পের আকাশ।
উইলিয়াম ভিনসেন্ট ভ্যানগগ। জন্মে ছিলেন ১৮৫৩ সালে। খুব বেশিদিন বাঁচেননি তিনি। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে মারা যান। ভীষণ দুঃখী ছিলেন ভ্যানগগ। নিজের শৈশব সম্পর্কে এই শিল্পী তিনটি শব্দ বলেছিলেন- অস্পষ্ট, নিস্তেত ও শীতল। তার তারুণ্যেও সেই চিত্র বদলায়নি। বরং কঠিন দারিদ্র্য ও বিভিন্ন আঘাত এক সময় জীবন থেকেই বিতাড়িত করে তাকে; কিন্তু হার মানার নন ভ্যানগগ। তার আঁকা সানফ্লাওয়ার মতো ছবিগুলোর দিকে এখনও অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে সারা পৃথিবীর মানুষ। ঘুরে দেখতে দোষ কি। তোমার ভেতরেও লুকিয়ে থাকতে পারে এমন শিল্পসত্ত্বা। এর সন্ধান করতে হবে একমাত্র তোমাকেই। যদি পাওতবে হারিয়ে যেতে দিও না। বয়সটাই এমন যে, শুধু চায় আবারিত আলো আর বাতাস।
এ প্রবাহ তাই কিছু ময়লার অনুপ্রবেশ খুবই স্বাভাবিক; কিন্তু তারপরও চাই আলো আর বাতাস। চাই বন্ধুতা, হৈ-হুল্লোড় আর ভবিষ্যতের স্বপ্নময়তা। বাঁচার গল্পগুলো তৈরি হয় এভাবেই। আশঙ্কার কথা সরিয়ে রাখ একপাশে। নতুন ভোরে শুরু হবে পথচলা তা আমি জানি। পুরনো যুগ শেষ। নিজেরা অনুজ্জ্বল থেকে শুধু সৃষ্টিকেই সামনে আনলে চলবে না, ছড়াতে হবে নিজের আলোও। যুগ বদলের হাওয়া মেখে বসে থেকো না, নিজের আলোয় বিশ্বাস বাড়াও।
©somewhere in net ltd.