নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন ব্লগার

জানা আর অজানার মাঝে...এ এক নতুন অজানা

এস , এম , নিঝুম

সাধারন ভাবেই অসাধারণ হউয়ার চেষ্টা। যদি ক্লান্ত হয়ে যাই তবে কোন দুঃখ থাকবে না । কারন আমি কোন অনন্য মানুষ নয়ই বরং একজন সাধারন মানুষ

এস , এম , নিঝুম › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছয়টি অভিযোগ ও বিচারের সার-সংক্ষেপ

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:২৮

জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, ছাত্র ও আইনজীবীসহ আরো অনেককে হত্যার মোট ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সব অপরাধের দুইটিতে তাকে যাবজ্জীবন কারদণ্ড ও তিনটি অপরাধে ১৫ বছরের সাজা দেওয়া হলো বলে মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে বলা হয়, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড; এক, দুই ও তিন নম্বর অভিযোগের জন্য ১৫ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ এবং চার নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে ২০০৭ সালে কেরাণীগঞ্চ থানায় কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ২০০৮ সালে পল্লবী থানায় আরো একটি মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ওই মামলায় ২০১০ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মানবতবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়। প্রায় নয় মাস বিচার কাজ শেষে ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে মঙ্গলবার দেয়া হবে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়।

মঙ্গলবার সকালে ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালত বসে ট্রাইব্যুনাল-১ এ। জনাকীর্ণ এই আদালতে কাদের মোল্লার মামলার রায় তিনটি অংশে ভাগ করে পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মজিবুর রহমান মিঞা ও বিচারক শাহীনুর ইসলাম।

১৩২ পৃষ্ঠায় ৪২৯ টি অনুচ্ছেদের রায় তিন ভাগে ভাগ করে সংক্ষেপে পাঠ করা হয়।

আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ:

১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল মিরপুর বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী পল্লবসহ সাত জনকে হত্যা, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ কবি মেহেরুন্নেসা সহ তার বৃদ্ধা মা ও দুই ভাইকে জবাই করে হত্যা, ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ আইনজীবী ও সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে হত্যা, ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর শহীদ নগর এলাকার ৬৭ নিরস্ত্র বাঙালীকে হত্যা, ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল পল্লবীর আলোকদী গ্রামে ৩৬০-৩৭০ জন লোক হত্যা, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হযরত আলী লস্কর, তার স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা এবং তার মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই মামলা প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তার সবোর্চ্চ শাস্তি দাবি করা হয় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার মধ্যে এই মামলার রায় হবে দ্বিতীয় মামলার রায়।

আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলার বিচারের সার-সংক্ষেপ:

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ২১ জুলাই তদন্ত শুরু হয়, ২০১১ সালে ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়, ২৮ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল, ২০১২ সালের ২৮ মে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২,

১৬ এপ্রিল মামলা ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ২ এ স্থানান্তর করা হয়, ২০ জুন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউশন, ৩ জুলাই থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দেন ১২ জন, ১৫ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাদের মোল্লা সহ ৬ জন সাফাই সাক্ষ্য দেন, ১৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন হয়, ৭ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন হয়, ৭ জানুয়ারি কাদের মোল্লার মামলা পুনঃবিচারের আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল, ১৭ জানুয়ারি মামলার কার্যক্রম শেষ ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের জন্য মামলা অপেক্ষমান রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ সহ মানবতাবিরোধী ছয়টি অভিযোগ রয়েছে কাদের মোল্লার বিপক্ষে।

এদিকে, কাদের মোল্লার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীজুড়ে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আজকের হরতাল এবং এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীবাসীকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণের পরপরই ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের সবগুলো প্রবেশ পথে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য। রাস্তায় নামানো হয় আর্মার্ড পার্সনাল ক্যারিয়ান- এপিসি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। এরই মধ্যে রাজধানীর স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কারো শান্তিপূর্ন কর্মসূচীতে বাধা দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৩০

সঞ্জয় নিপু বলেছেন: এটা আমার প্রতিবাদ -

রাজাকারদের আস্ফালনের রাজত্ব থেকে মুক্তি চাই

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৩২

এস , এম , নিঝুম বলেছেন: আমাদের সকলের দাবি এখন একটাই... ধন্যবাদ ভাই

২| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৩৬

ভাবছি বসে একা বলেছেন: আওয়ামী লীগ আর পোষ্য ট্রাইবুনাল থেকে আর কি আশা করবে জনগন। সব শালা ভূয়া।

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৪৪

এস , এম , নিঝুম বলেছেন: বলার মত কোন ভাষা খুজে পাচ্ছি না ভাই... :(

৩| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৩৮

পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: এত অভিযোগ আর রায় মাত্র লাল দালান
তবুও রায়
জাতী আরও দায় মুক্তি চায় ?

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৪৬

এস , এম , নিঝুম বলেছেন: কোন রায়েই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল না :(

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.