| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
[[ বিভিষনের প্রতি মেঘনাথ' কবিতার সহজ রূপ। শুধুই ইন্টারের স্টুডেন্ট দের সুবিধার জন্য লেখা। মধুসুদন দত্তের ভুল ধরা বা, নিজেকে তার সমকক্ষ মনে করার কোন ইচ্ছা বা, যোগ্যতা কোনটাই আমার নেই । ]]
বিড়ালতপস্বী
-কায়েস মাহমুদ স্নিগ্ধ
‘‘অবশেষে’’ বিষাদ ভরে বলে মেঘনাথ
‘‘অবশেষে জানলাম কি করে-
লক্ষন আসি ঢুকলো রক্ষপূরে ।
কিন্তু ! কিন্তু একাজ কি করে সাজে তোমাতে?
তোমার মাতা নিকষা ,
সে তো সতী নারী!
ভাই তোমার রাক্ষশ্রেষ্ঠ রাবন, কুম্ভকর্ণ।
ভ্রাতৃপূত্র মেঘনাথ! সেতো ঈন্দ্রজয়ী !
তবে কি করে?
কি করে তুমি গৃহপথ দেখাও
নিজেরই শত্রুরে ?
কি করে তুমি রাজসম্মান দিলে
অধম চন্ডালে ?
কিন্তু না! দোষ দিব না !
গুরুজন যে তুমি ,
পিতৃতুল্য মোর!
একবার শুধু ছেড়ে দাও ঐ দ্বার , ( অস্ত্রাগারের )
তারপর দেখ –
লঙ্কার কলঙ্ক ভেঙ্গে
যমদুয়ারে কড়া নাড়তে পাঠাই তাকে” ( লক্ষনকে)
বলে এবার বিভিষন –
“রামের যে আমি দাস
তোমার অনুরোধ রাখতে
তার বিপক্ষ কাজ কি করি করি বল ?”
এ বাক্য শুনে কাতর কন্ঠে
বলে উঠে মেঘনাথ –
“ মরলাম না যে কেন আমি
এ কথাটি শোনার আগে !
নিজেকে তুমি কি করে বল রামদাস ?
আকাশের মাঝে স্থির চাঁদ কি কখনো
ধুলায় গড়ায়?
কি করে ভুলে গেলে নিজ পরিচয়?
নিজ জন্ম ?
আর ঐ অধম রাম,
সে কি করে তোমার বন্ধু হতে পারে?
শেয়াল কি কখনো সিংহের বন্ধু হয়?
বিজ্ঞ তুমি,
অজানা তো কিছু নয় তোমার।
ক্ষুদ্র নর ঐ লক্ষন
নইলে কি আর অস্ত্রহীনকে যুদ্ধে ডাকে!
বল হে মহারথী,
একি মহারথী প্রথা হতে পারে?
লোকে তো হাসবে পরে !
পথ ছাড়ো, ফিরে আসবো এখনি,
দেখবো কোন দেববলে আমায় হারায় সৌমিত্রি । ( লক্ষন )
আমার পরাক্রম!
সে তো নিজেই দেখেছো !
বল কি দেখে?
কি দেখে আমি ভয় পাব ঐ মানবে?
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে , এমন নির্ভীক দম্ভে ঢুকল
অনুমতি দাও , এখনি তাকে দন্ড প্রদান করি !
আমার জন্মস্থানে ঢুকল এ বনবাসি!
এযে,
স্বর্গবাগানে দানব
কিংবা , পূষ্পের মাঝে কীটের প্রবেশের ন্যায়!
আমি কি করে মানি এ অপমান বল?”
মন্ত্রপূত সাপের মত মাথা নুইয়ে ,
উত্তর দিল বিভিষন-
“দোষী নই আমি! দোষ দিও না আমায়!
নিজ দোষেই যে ধ্বংশ হবে লঙ্কারাজ,
সাথে এ নগরী!
নিষ্কুলুস দেবকুলের সাথে যুদ্ধে,
এই পাপদূষিত লঙ্কাপুরী
যে অবশ্যই হারবে!
পরদোষে কেন মরতে যাব বল?
কেন রামের আশ্রয় নিব না আমি?”
বাসবত্রাস মেঘনাথ মেঘের মত গর্জে বলে,
“হে ধর্মপথগামী রাক্ষসরাজানুজ-
বিখ্যাত তুমি এ জগতে।
কোন ধর্ম মতে,
নিজ জ্ঞান , নিজ পরিবার
নিজ জাতি ছাড়লে তুমি?
কোথায় পেলে এ শিক্ষা?
শাস্ত্র যে বলে
গুনবান পরের চাইতে,
গুনহীন স্বজনই ভাল।
পর যে সর্বদা পরই থেকে যায়।
নাহ! বৃথাই বলছি তোমাকে!
নিকৃষ্ট যে জন,
তার বিচার-
সে তো নিকৃষ্টই হবে!”
©somewhere in net ltd.