| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শুক্রবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের জনসমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল যারা বিভিন্নভাবে যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন দিয়ে আসছিল, তারা মঙ্গলবার হরতাল দিয়েছে। এছাড়া জামায়াত শিবির রোববার ও সোমবার হরতাল দিয়েছে।”
“আমরা আগেই বলেছি, বাংলাদেশের রাজপথে আর যুদ্ধাপরাধীদের আচড় পড়তে দেয়া হবে না। তাই যুদ্ধাপরাধীদের এ হরতাল আমরা রাজপথে থেকেই প্রতিহত করবো,” বলেন ইমরান।
একইসঙ্গে তিনি দেশের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমরান বলেন, গতকাল [বৃহস্পতিবার] জামায়াত-শিবিরের ‘হায়েনারা’ যে তান্ডব চালিয়েছে তা নজীরবিহীন। সাধারণ জনতা এ ‘হায়েনাদের’ প্রতিরোধ করতে শুরু করেছে।
“আমি সারাদেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা এসব হায়েনার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন ও দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”
দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনার উল্লেখ করে ইমরান বলেন, “জামায়াত শিবিরের হায়েনারা হিন্দু ভাইদের ঘড়বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি মুসলিম ভাইদের অনুরোধ জানাবো, আপনারা হিন্দু ভাইদের পাঁশে দাঁড়িয়ে জামায়াত-শিবির বিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”
তিনি সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের তান্ডব প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
“আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তিশালী করে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করুক।”
এছাড়া শনিবারের পতাকা উত্তোলন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কমর্সূচি সফল করারও আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রজন্ম চত্বরের সমাবেশ শুরু হয়। এতে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা অংশ নেয়।
সমাবেশে মঞ্চ করা হয় শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসি মুখি। চারুকলা অনুষদ পর্ন্ত মানুষে ভরে ওঠে। সমাবেশের শুরুতেই বক্তব্য দেন প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
বিএনপির ডাকা ৫ মার্চের হরতাল প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাদ দলটির উদ্দেশে বলেন, আপনারা [বিএনপি] যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য মঙ্গলবার হরতাল ডেকেছেন। জনগণ আপনাদের হরতাল প্রতিহত করে দেবে।
বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, জামায়াত শিবির নানা ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। সবাইকে সতর্ক থেকে এদেরকে সমুচিত জবাব দিতে হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ২৫ দিনের মতো আন্দোলন চলছে শাহবাগেরে প্রজন্ম চত্বরে। শুক্রবার বেলা সোয়া তিনটা থেকে শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গণজাগরণের এই কেন্দ্রস্থল।
বৃহস্পতিবার রাতে গণজাগরণ মঞ্চের নতুন কর্সূচি ঘোষণার পরপরই প্রজন্ম চত্বরের অবস্থান ওইদিনের মতো সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এতে শনিবার দেশের সব সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, নৌকা, মোটর সাইকেলসহ সব যানবাহনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানানো হয়।
একই দিন সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করারও আহ্বান জানায় গণজাগরণ মঞ্চ।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ করে তরুণ প্রজন্ম। এরপর তা সারাদেশে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে শাগবাগের প্রজন্ম চত্বরের বাইরে রায়েরবাজার, মিরপুর ও মতিঝিলে তিনটি সমাবেশ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের দিন জামায়াত-শিবিরের হরতালের মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে হরতাল প্রতিরোধ মিছিল বের করা হয়, যাতে সামিল হন হাজার হাজার ছাত্র-জনতা।
দুপুরে সাঈদীর রায় ঘোষণার পরপরই বিজয় মিছিল করে গণজাগরন মঞ্চ। সাঈদীর রায়কে ‘জনতায় বিজয়’ বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
©somewhere in net ltd.