| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ধারাবাহিক হরতাল কর্মসূচিতে বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
26
0
0 Print Friendly and PDF
Related Stories
এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়েছে
02 March 2013
মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার ফলাফলেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে হরতাল না দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলছেন, অবশ্যই আন্দোলনের ‘ভিন্ন পন্থা’ নির্ধারণ করতে হবে।
হরতালে চলমান এসএসসি ও সমমানের পাঁচটি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে দাখিল ভোকেশনাল ও এসএসসি ভোকেশনালের ৩৭টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এসএসসি ও সমানের পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মধ্যে ৫ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জামায়াতে ইসলামী; ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ও সমমনা কয়েকটি দল এবং ৫ মার্চের বিএনপির হরতালে পিছিয়ে দেয়া হয় এসএসসি পরীক্ষা।
বারবার পরীক্ষা পেছানোর ফলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুআরা বেগম।
রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “একের পর এক পরীক্ষা পেছানোয় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খাতা দেখায় দেরি হবে, রেজাল্ট পিছিয়ে যাবে। ফলাফলেও এর প্রভাব পড়বে।”
“একটি বিষয়ের প্রস্তুতি নিয়ে সে পরীক্ষা দিতে না পারলে অন্য পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিঘ্ন ঘটে। এতে ফলাফল বিপর্যয় হতে পারে।”
শুধু এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নয়, ধারাবাহিক হরতালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ক্যালেন্ডারও মেনে চলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে এই অধ্যক্ষ বলেন, “এভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হলে সময়মত সিলেবাসও শেষ করা যাবে না।”
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহার আরা বেগম বলেন, হরতালে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্ক্রম পরিচালনা করা যায় না। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কয়েক দফা এসএসসি পরীক্ষা পেছানোয় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “পরীক্ষার আগে যেমন বন্ধ থাকা দরকার। ঠিক তেমনি পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত বন্ধও খারাপ। সিডিউল ঠিক না থাকলে অনেকের ভুল করার সম্ভাবনা থাকে।”
হরতালে এসএসসির পাঁচটি পরীক্ষা পেছানোয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও চরম উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন ‘ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠন’র সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রাজনীতিবীদদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। এ থেকে উত্তরণে পথ বের করতে হবে।
বিরোধীদলের সঙ্গে সরকারের বৈঠক করে হরতাল বাদে রাজনৈতিক আন্দোলনের নতুন পন্থা অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে- মত দিয়ে দুলু বন্ধের দিনে বিনমূল্যে বিশেষ ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
আর এসএসসি পরীক্ষার্থী নওরীন সুলতানা বললেন, “পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে সব কিছু উল্টাপাল্টা লাগে।”
রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরীক্ষার আগে নেয়া আমার সব ছক ভেঙ্গে গেছে। ভালো প্রস্তুতি নিয়েও মনের মত পরীক্ষা দেয়া যাচ্ছে না। আমরা হরতাল চাই না।”
এসএসসি পরীক্ষার্থী কৌশিক আহমেদ এবং জায়েদ মাহদিন ফাহিমও হরতাল না দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান।
নিজের ছেলে পরীক্ষা দিচ্ছে জানিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান তমাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “শিক্ষার্থীদের কথা কেউই চিন্তা করে না।”
“বাড়িতে পরীক্ষার্থী থাকায় হরতাল এখন আমাদের কাছে চরম আতঙ্কের নাম। প্রতিক্ষণেই ভয়ে থাকি কখন হরতালের কর্মসূচি আসে।”
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের গতি নষ্ট হয়ে যায়। তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
এসএসসি পরীক্ষা কয়েক দফা পেছানোয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হরতালের কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।”
হরতালে পরীক্ষার্থীদের ‘সাংঘাতিক’ ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন।
পেছাল যেসব পরীক্ষা
জামায়াতের হরতালের কারণে গত ৫ ফেব্রুয়ারির এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নেয়া হয়।
ওই দিন এসএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, সহজ বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। আর মাদাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবীদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ ও তাজবীদ (২) সৃজনশীল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
এরপর ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের গত ২৪ ফেব্রুয়ারির হরতালে ওই দিনের এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে ১ মার্চ নেয় সরকার।
ওইদিন এসএসসিতে রসায়ন, পৌরনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ; দাখিলে সাধারণ গণিত, তাজবীদ নসর ও নযম (মুজ্জাব্বিদ গ্রুপ), তাজবীদ (হিফযুল কুরআন গ্রুপ) এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে দাখিলে (ভোকেশনাল) পদার্থ বিজ্ঞান-২ ও এসএসসি ভোকেশনালে পদার্থ বিজ্ঞান-২ (সৃজনশীল/সাধারণ) পরীক্ষা ছিল।
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ের দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারির জামায়াতের হরতালের কারণে এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে ৮ মার্চ নেয়া হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি এসএসসিতে সাধারণ বিজ্ঞান ও সমাজিক বিজ্ঞান এবং দাখিলে সামাজিক বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা ছিল।
৩ মার্চ জামায়াতের হরতালে এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ মার্চ করা হয়। ওই দিন এসএসসিতে উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়), দাখিলে পদার্থ বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে উচ্চতর গণিত-২, হিসাব বিজ্ঞান-২ (সৃজনশীল), বাণিজ্যিক ভূগোল-২ (সৃজনশীল) এবং কৃষিশিক্ষা-২ (সৃজনশীল) বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
এছাড়া বিএনপির আগামী ৫ মার্চের হরতালের কারণে ওইদিনে এসএসসি পরীক্ষা একদিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
৫ মার্চ এসএসসিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, গার্হস্থ্য অর্থনীতি (তত্ত্বীয়), কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়), সঙ্গীত (তত্ত্বীয়), আরবি, সংস্কৃত, পালি, কর্মমুখী শিক্ষা (তত্ত্বীয়), কম্পিউটার শিক্ষা (তত্ত্বীয়), শারীরিক শিক্ষা (তত্ত্বীয়), বেসিক ট্রেড (তত্ত্বীয়) ও চারু ও কারুকলা (তত্ত্বীয়); দাখিলের রসায়ন বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং দাখিল ভোকেশনালের আরবী-২ পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল।
©somewhere in net ltd.