| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাবা গতকাল বলছেন,"শেখ হাসিনার উপরে কথা বলবা ? তাইলেই হইছে !"
মনে মনে বলি গণতন্ত্র শব্দটা যখন ফ্লাইং সসারের মত মাথার উপর দিয়ে যায় তখন সব সরকার প্রধানই নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবে ! এটা তো আর "অসাম্প্রদায়িক" দেশ না যে সরকার প্রধানকে জুতো মারা হবে এবং তিনি তোমাকে ধরে আবার ছেড়ে দেবেন !!! এ হল নব্য "গণতন্ত্র"(যা শুধু কণ্ঠে আর টকশোতে সীমাবদ্ধ) ।
আচ্ছা আপনি কি জানেন যে দেলোয়ার হোসেন সাইদী প্রথম কোন অপরাধে বন্দী হয়েছিলেন ? না ভাই,আমি জ্ঞান দিচ্ছি না । ইচ্ছে করলেই আপনি জেনে নিতে পারেন । যদি সে চেষ্টাও করতে মন না চায় তবে বলি বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলায় সাঈদীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার করা হয়।
ওটা কোন মানবতাবিরোধী অভিযোগ ছিল না !!! কি বুঝলেন ?
ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় ।
এই ব্যাপারটা এখন হরহামেশাই ঘটছে । এক মামলা থেকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো ।
এবার আসুন কি কি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হল এরপর,সেদিকে দৃষ্টি দেই ।
মোট ২০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং এর মধ্যে ৮টি "সন্দেহাতীতভাবে"(!) প্রমাণ হয়েছে । ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে ২টি অভিযোগের ভিত্তিতে । কোন ২টা অভিযোগ ? আপনি জানেন বোধহয়,৮ নং অভিযোগ "ইব্রাহিম কুট্টি হত্যাকাণ্ড" (এটাই আসল অভিযোগ তবে এর সাথে আরও কিছু আছে) । সরাসরি নয়,ইন্ধনে । সেটা ১৯৭১ সালের ৮ মে । ১৯৭২ সালে ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী সেতারা বেগম অভিযোগ দাখিল করেন । সেখানে দেলোয়ার হোসেন সাইদীর নাম ছিল না !!! কি বুঝছেন ? আদালত এই মামলা আমলে না নিয়ে অন্য আর একটি মামলা নিয়ে বিচার করতে থাকেন !!! আচ্ছা আমাকে দয়া করে বোঝান একজন মৃত মানুষের স্ত্রীর কথা গুরুত্ব পাবে যিনি কিনা ১৯৭২ সালেই মামলা করেছেন নাকি অন্য মানুষের মামলা যেটা অনেক পরে দায়ের করা হয়েছে ???
আপনি একটা কথা বলতে পারেন,উনি তো দেলোয়ার হোসেন সাইদীকে নাও চিনতে পারেন !!! পরে হয়ত ওনাকে চেনেন এমন কেউ মামলা করেছেন ? ভালো প্রশ্ন ! উত্তর হল যারা মামলা করেছেন তারা ঘটনাস্থল থেকে বেশ দূরেই ছিলেন বলে জানা যায় এবং তারা জঙ্গল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে উল্লেখ আছে ! তারা দূর থেকেই পরিষ্কার বুঝে ফেললেন "ওটা দেলোয়ার হোসেন সাইদী" না হয়ে পারেই না !
একটা কথা অনেকেই বলছেন যে ইব্রাহিম কুট্টিকে কতিপয় বিহারীরা ধরে নিয়ে যান পাকিস্তানি ক্যাম্পে এবং সেখানে তাকে মেরে ফেলা ফেলা হয় ।
১০নং অভিযোগ "বিসা বালী" নামের একজনকে গাছে বেঁধে হত্যা করা হয় এবং সেটা দেলোয়ার হোসেন সাইদির ইন্ধনে । ভালো কথা ! তার ভাই সুখরঞ্জন বালি ঘটনাস্থলে ছিলেন না কিন্তু তিনি শুনেছিলেন (!) যে দেলোয়ার হোসেন সাইদী তার ভাই এর হত্যার সাথে জড়িত !!! এই মামলার অন্যতম সাক্ষী,অন্যতম বলছি একারণে যে তার সাক্ষ্যতে এই মামলার সুরাহা হয়ে যেতে পারত সেই মধুসূদন ঘরামি যখন দেলোয়ার হোসেন সাইদীর পক্ষে সাক্ষী দিতে যান তখন তিনি "কে/কারা' দ্বারা গুম হয়ে পড়েন !!!
এটা বাস্তবতা । আরও কিছু কথা উঠেছে যে ১৯৭১ সালে "দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেইল্লা রাজাকার" নামে একজন রাজাকার সত্যিই ছিলেন তবে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মৃত্যুবরণ করেন বলে জানা যায় ।
এইবার আপনার মাথায় যে প্রশ্নটা আসতে পারে সেটা হল আপনি শুরু করলেন এক বিষয় নিয়ে কিন্তু পরে বললেন আরেক বিষয় ! ঘটনা কি ? ঘটনার কিছু নাই,আলাপচারিতার এক পর্যায়ে আলোচনা শুনছি আর বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত শুরু হয়ে গেলো,এই আর কি ।
যে ২টা অভিযোগের ভিত্তিতে রায় দেয়া হয়েছে,কে জানে সে বিষয়ে "আপিল" করলে রায় দেলোয়ার হোসেন সাইদীর পক্ষেও যেতে পারে ! তখন কি হবে ??? এই বিচার প্রক্রিয়াটা কি প্রহসন হয়ে যাবে না নাকি "আমরা তো রায় শুনেছি" এই ভেবেই আমরা খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করা শুরু করে দেব ???
উনি "বেকসুর খালাস" পেয়ে যাবেন এমন ধারণা আমার কেন হল,প্রশ্ন উঠছে তাই তো ??? বিচারের পেছনের কথা গুলো তো বললাম,এগুলো যদি আমলে নেয়া হয় আর "গায়েবি চাপ" যদি মহামান্য আদালতকে না দেয়া হয় তবে তিনি "বেকসুর খালাস" পেয়ে যেতেও পারেন !
এবার মোক্ষম প্রশ্ন ! আপনি কি জাতিয়তাবাদী নাকি জামায়াতি ??? আমি কোন পক্ষই না,আমার মনে হল এই ব্যাপারগুলো আপনি জানেন তো ? যদি না জানেন তাই আপনাকে জানালাম । আপনার পছন্দ না লাগলে আপনি IGNORE করবেন POST টি দয়া করে ।
ধন্যবাদ । আর কোন তত্থ্যে বিকৃতি থাকলে দয়া করে জানাবেন ।
©somewhere in net ltd.