| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্পেলবাইন্ডার
সে আমারে ঠারে ঠারে ইশারায় কয়, এই চান্দের রাইতে তোমার হইছে গো সময়... ঘর ছাড়িয়া বাইর হও, ধর আমার হাত- তোমার জন্য আনছি গো আইজ চান্দেরও দাওয়াত...
![]()
বাবার কর্মসূত্রে আমরা সেই ১৯৮৬ থেকে ঢাকার মীরপুরে থাকি। সেই সময়টাতে ঢাকায় যথেষ্ট খোলা জায়গা ছিল। খাওয়া-গোসল এবং স্কুলের সময়টুকু বাদ দিলে সারাটা দিনই আমরা বাইরে খেলে বেড়াতাম। এখন অনেকে বিশ্বাস করবে না- আমরা সেই ৭-৮ বছরের শিশুরা কখনও মীরপুর ১ নম্বরের বেঙ্গলী মিডিয়াম স্কুলের মাঠ, কখনও ঈদগাহ মাঠ, কখনও জার্মান টেকনিক্যালের ভিতরের মাঠ, কখনও গ্রামীণ ব্যাংকের পাশের খোলা জায়গা যেটাকে আমরা বিকল্প মাঠ বলতাম, কখনও মীরপুর ২ নম্বর ন্যাশনাল স্কুলের মাঠ- এমনকি আউটার স্টেডিয়ামের মাঠে খেলতে যেতাম। প্রায় প্রতি সপ্তাহে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যেতাম আমরা ক্ষুদে ছেলেমেয়েরা। তখন ছিনতাই, অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজির মত অপরাধ খুব কম ছিল। মনে আছে- আমরা মীরপুর ১ নম্বর ডি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের যে বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকতাম সেই বাসার রাস্তার দিকে ছিল বসার ঘর। রাত দশটা পর্যন্ত সেই ঘরের বাইরের দরজা খোলা থাকত- কেননা আশেপাশের দরিদ্র পরিবারের মানুষ যাদের বাসায় টিভি নেই তারা দরজার কাছে বসে টিভি দেখত। আর টিভিটাও ঘোরানো ছিল দরজার দিকে মুখ করে।
দিনে দিনে আমরা বড় হয়েছি। সেই সাথে ঢাকার পরিবেশ পাল্টেছে। জনসংখ্যা বেড়েছে। বাড়িঘর, অফিস-ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, দোকান-মার্কেট বেড়েছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সামাজিক অপরাধ। এখন বাড়ির বাইরের দিকে দরজা খোলা রাখা তো দূরের কথা- কলাপসিবল গেটে সারক্ষণ তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। আল্লাহই জানেন- এই শহরে যদি বড় রকম ভূমিকম্প হয়- তাহলে কত হাজার মানুষ কলাপসিবল গেটের কাছে এসে মরে পড়ে থাকবে!
ঢাকা শহরে এখন জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এই শহরটি হয়ত আয়তনে বেড়েছে- আরও বাড়বে। কিন্তু মানুষের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার স্থানগুলোর আয়তন কমে আসছে। আগে ৩/৪ কাঠা প্লটের বাড়িতে প্রতি তলায় দুইটি ফ্ল্যাট তৈরি হত- সেখানে এখন কমপক্ষে চারটি ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। ৫০০ থেকে ১০০০ বর্গফুটের একটি বাড়িতে বাস করছে ২ থেকে ১০ সদস্যের একেকটি পরিবার। আমরা সবাই এখন কার্যত চার দেয়ালে বন্দী- কখনও ঘরে, কখনও কর্মক্ষেত্রে, কখনও বদ্ধ শপিং মলে।
আমার দুই বছর বয়েসী ছেলেটি চতুর্থ তলায় ১০০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে বড় হচ্ছে। যতক্ষণ জেগে থাকে ততক্ষণ শুধু এ ঘর থেকে অন্য ঘরে ছোটাছুটি। আমি সকালে বের হই, ফিরি অনেক রাতে। ছেলেটি কলিংবেলের শব্দ পেলে ছুটে যায় গেটের দিকে। সে সবচেয়ে খুশি হয় কেউ যদি এসে তাকে একটু নিচে বেড়াতে নিয়ে যায়। ছুটির দিনে যদি বাইরে কোথাও বেড়াতে যাই- সেদিন বাসায় ফেরার সময় নিচের মেইন গেটের কাছে এলেই সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। সে বাসায় ঢুকবে না- আরও বেড়াবে। কয়েকদিন আগে চারদিনের জন্য রংপুরে ওর নানাবাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। ভোরে যখন বাস থেকে নেমে বাসার মেইন গেটের কাছে এসেছি- তার সে কি কান্না! সে কিছুতেই বাসায় ঢুকবে না! সে আবার নানুবাড়ি যাবে! সাতসকালে সেই কান্না শুনে আশেপাশের ফ্ল্যাটের অনেকের ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল!
আমার অবুঝ শিশুটি এখনই এই ঢাকাকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। এখানে সে উঠোনে মুগ্গি (মুরগী), বিল্লি (বিড়াল) দেখতে পায় না। এখানে সে ইচ্ছে হলেই বাইরে গিয়ে পাড়ার শিশুদের সাথে খেলতে পারে না।
কল্পনা করি, আমার যদি কখনও সামর্থ্য হয় তবে ঢাকার এই চার দেয়ালের বন্দী জীবন ছেড়ে চলে যাব আশেপাশের কোন সবুজে ঢাকা পরিবেশে। যেখানে আমার শৈশবের মত থাকবে খোলা মাঠ- আমার শিশুটি সেখানে ইচ্ছেমত ছুটোছুটি করে বেড়াবে! থাকবে পাখির ডাক- উঠোন জুড়ে রোদ। রাতে দেখব তারা- কখনও জোছনায় করব স্নান! কিন্তু ছেলেটি আমার ততদিন বড় হয়ে যাবে না?
আমার সাধ থাকলেও সাধ্য নেই- কিন্তু আমার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদের সেই সাধ্য ছিল। তাই তিনি অনেক যত্নে গড়ে তুলেছেন ৪০ বিঘা জায়গার উপর নুহাশ পল্লী। নিজ হাতে লাগিয়েছেন কত গাছ- ছবির মত সাজিয়েছেন সবকিছু। আমি অফিসের কাজে গাজীপুরের হোতাপাড়ার দিকে প্রায়ই যাই। কখনও নুহাশ পল্লীতে ঢুকিনি- তবে জানি, গাজীপুরের শালবনের সবুজে ঘেরা ঐ জায়গাটিতে আলাদা একটা প্রশান্তি আছে। ঢাকার কোলাহল ছেড়ে কেউ যদি একবার কাঠালের রাজধানী গাজীপুরের ছায়াঘেরা শালবনে একটু সময় কাটান, আমি নিশ্চিত- ঢাকায় ফিরতে ইচ্ছে হবে না।
হুমায়ূন আহমেদ চাইলে ঢাকায় বা বড় কোন শহরে একটি শপিং মল করতে পারতেন। পারতেন বহুতল অট্টালিকার মালিক হতে। কিন্তু তিনি তা না করে গড়েছেন এক স্বপ্নপুরী। সেই পাখি-ডাকা, ছায়াঘেরা, শান্ত দীঘির নুহাশ পল্লীতে আমাদের প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের শেষ সমাধি হলে সমস্যা কোথায় তা আমি নগণ্য এক মানুষ এখনও বুঝতে পারছি না। ঢাকার ভিতরের কবরস্থানগুলোতে অজস্র মানুষ শুয়ে আছেন- কোন জায়গায় ঠাঁই নেই। অথচ ওদিকে পড়ে আছে বিশাল এক প্রান্তর। যা হুমায়ূন আহমেদের একান্তই নিজের সৃষ্টি। আমরা যারা তাঁর অনুরক্ত, ভক্ত- আমরা হয়ত সময় পেলেই ছুটে যাব প্রিয় লেখকের শান্ত, সুনিবিড় শেষ আবাসে। কিছুক্ষণ কাটিয়ে আসব স্যারের একান্ত সান্নিধ্যে। তবে যদি এর ভিতর কোন পারিবারিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকে সেটা ভিন্ন কথা।
আমার মত একজন ক্ষুদ্র হুমায়ূনমুগ্ধ মানুষের আর্তি হয়ত কারো কানেই পৌঁছবে না।
ছবি কৃতজ্ঞতা- সুডোল্যাব
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৩৪
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: সহমত। ধন্যবাদ।
২|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:০৬
সাইফুল আলী বলেছেন: ৮৬ থেকে ঢাকায় থাকেন কিন্তু ঢাকাকে করেন ঘৃণা।খাইলেন,লেখাপড়া করলেন,বড় হইয়া ইন্টারনেট চালাইতাছেন এই ঢাকাতে।ভাল ভাল ভাল
কিন্তু আমি তো মনে করি দোষ ঢাকার না।দোষ মানুষের।এই মানুষরা তো ঢাকার এই অবস্থা করছে।ঢাকার বেশীরভাগ মানুষ তো অন্য জেলাগুলো থেকে আসছে তাই তো কোন দরদ নাই।আর ঢাকায় কবর দেওয়ার সিধান্তটা তো তার পরিবারের ভাই
।এখানে ঢাকার কি দোষ
বাই দা অয়ে আমিও কিন্তু বেঙ্গলি মাঠ,জার্মান টেকনিক্যাল মাঠ,ন্যাশনাল বাংলা মাঠ,গ্রামীণ ব্যাংক এর পাশের মাঠে খেলছি বহুত
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৪২
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: তাইলে এক কাজ করেন- ঢাকায় মানুষ আসা বন্ধ করে দেন।
ঢাকার কোন দোষ নাই।
৩|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:০৮
স্বপ্নরাজ বলেছেন:
হুমায়ুনকে কবর দেয়া নিয়ে সম্ভবত ভাগ হয়ে গেছে পরিবার। আচ্ছা নূহাশ পল্লীর মালিক কে? এটা কার নামে দিয়ে গেছেন হুমায়ুন? সবার জন্য উন্মুক্ত না হলে কিভাবে শ্রদ্ধা জানাবে অন্যরা?
মেয়েরা চাচ্ছে ঢাকার ভিতরে , শাওন চাচ্ছে নূহাশে। শাওন শীলার বান্ধবী হওয়ায় ক্যাচালটা ঘোরাল।
মিরপুরের একটা ব্যাংকে বসি আমি , বাসা কোথায় স্পেল?
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৫১
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদের কবর নুহাশ পল্লীতে হলে তখন অবশ্যই সেখানে সকলের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থাকবে।
আমি থাকি মনিপুরে।
৪|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:১১
কালা_পিচ্চি বলেছেন: লেখক, আমরা যারা তাঁর অনুরক্ত, ভক্ত- আমরা হয়ত সময় পেলেই ছুটে যাব ঠিক আছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখছেন নুহাস পল্লীতে চাইলেই ঢোকা যায় কিনা?
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:০০
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় যে কেউ ইচ্ছে করলে নুহাশ পল্লীতে বুকিং দিতে পারেন। তবে হুমায়ূন আহমেদের কবর নুহাশ পল্লীতে হলে হয়ত এর বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে এবং সেটাই হওয়া উচিত।
ধন্যবাদ আপনাকে।
৫|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:১৭
স্বাধীন শোয়েব বলেছেন: আম্র শিশুকাল, কৈশোর কাল গেছে সেনানিবাসের খোলামেলা পরিবেশে। এইচএসসি দিয়ে যখন অখান থেকে বের হলাম তখন মনে হল জান্নাতে ছিলাম (বাহিরের পরিবেশের তুলনায়)। একটু পরিকল্পনা করে ঢাকাকে গড়ে তুললে গোটা ঢাকা শহরকে এইরকম করা সম্ভব।
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৩০
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: এখন মনে হয় আর সম্ভব নয়।
৬|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৩৪
নক্শী কাঁথার মাঠ বলেছেন: সহমত। প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মৃত্যু নিয়ে ভাবে, নিজের কবরের জন্য মনে মনে একটা পছন্দের জায়গা তৈরি করে। যদিও জানে মারা যাবার পর সেসবের কিছুই সে দেখতে পাবেনা, কিছুই যাবে-আসবেনা তার কবর কোথায় হলো তাতে। হুমায়ূন আহমেদও ব্যাতিক্রম না। সামর্থ্য অনুযায়ি নিজের একটা ভূবন তৈরি করেছেন তিনি, আপনজনকে বলেও গেছেন মারা গেলে কোথায় তাকে কবর দিলে ভালো হয়। সেসবের তোয়াক্কা না করে তার ভাইদের তাকে ঢাকায় কবর দেবার চেস্টা আমার মনে হয় শাওনের সাথে তার অসম বিয়ের জন্য একটা রাগের বহি্রপ্রকাশ। শ্রদ্ধা মানুষ নুহাশ পল্লি গিয়েও জানাতে পারবে, সেই সাথে তার জীবন-যাপন পদ্বতি, তার রুচি সম্পর্কে আরো ভালো করে জানার সুযোগ দর্শনার্থীদের হবে। ঢাকায় কি আছে এই জনারন্যে? ভাবতেওতো খারাপ লাগে যদি চিন্তা করি নিজের খবর এই জায়গায় হবে। কোথায় একটা ছায়া-সুনিবিড় পাখি ডাকা গ্রাম, আর কোথায় ইট-কাঠ-পাথরের এই উত্তপ্ত জনারন্য আর গাড়ির শব্দ!
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৩৪
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনার গোছানো মন্তব্যের সাথে সহমত ভাই।
৭|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৫০
তানভীর আহমেদ সজীব বলেছেন: আমি মনে করি হুমায়ুন আহমেদকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানেই সমাধিস্থ্য করা উচিত।
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৪১
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ধন্যবাদ সজীব ভাই।
৮|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৫০
তানভীর আহমেদ সজীব বলেছেন: নূহাশ পল্লী কবর স্থান নয়।
২৪ শে জুলাই, ২০১২ ভোর ৪:০৩
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: সেটা ঠিক।
৯|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৫২
পাতিকাক বলেছেন: আমরা যারা ঢাকাই বড় হয়েছি তাদের কাছে ঢাকার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু নেই ভাই। আমি নিজেই দীর্ঘদিন স্টকহোম, হেলসিঙ্কি, বার্সেলোনা তে ছিলাম এবং আছি, কিন্তু আমার ঢাকার যে মজা টা পেয়েছি তার কোন তুলনা হবেনা ভাই। জ্যাম, বাসে ঝুলে যাওয়া, ধুলাবালি, গণ্ডগোল তাও লক্ষ গুন ভাল ভাই। ঢাকার তুলনা ঢাকায়।
২৪ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:০৪
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: দীর্ঘদিন স্টকহোম, হেলসিঙ্কি, বার্সেলোনা তে ছিলেন বলেই ঢাকা ভাল লাগে। আমাদের মত এক নাগাড়ে থাকলে আর ভাল লাগত না।
ধন্যবাদ।
১০|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৫২
গ্রীন বলেছেন: মমি বানায়ে রাখা হোক
২৪ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:০৭
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনি মনে হয় খুব মজা পাচ্ছেন! সুস্থ আছেন তো!
১১|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৫৪
নিমচাঁদ বলেছেন: এই বিতর্কে একটু নাক গলাই।
স্পেল আপনার মতামতের আমি চরম বিরুদ্ধ মত ।কারণ হইলো
আজিম্পুরের মত জায়গায় কবর হওয়া দরকার । এবং পরিবর্তনশীল অস্থায়ী কবর।দুনিয়ার লোক আইবো , একজনের জন্য দোয়া করলে সবার উপরে সেই দোয়া খায়ের বর্ষিত হইবো।মরার পরে উচু নীচু , ধনী গরীব সেই বিভেদ রাইখা লাভ কি ??কবর যেন তীর্থস্থান না হয় , এইটা হুমায়ুন আহমেদ চিন্তা করে গেছেন ।আমার মতন নাদান ও এইটা চিন্তা করি ।মিরপুর কিনবা আজিমপুর কিনবা বনানী তে কবর হইলে , অনেকেই বিভিন্ন উসিলায় , নিজের আত্মীয় স্বজন দের জন্য প্রায় দোয়া খায়ের করতে যান , সেই উসিলায় সকল কবর বাসী ও সেই দোয়া পাবেন ।শান্ত সুনিবিড় স্থান এ টিকিট কইরা কবর জিয়ারাত করতে হইলে তো মুশকিল । অইখানে মাজার হইবো , ব্যবসায়ী ফটকা বাজারীর আগমন ঘটবো, হইবো জমির ভাগাভাগি লইয়া চর দখলের মতন অবস্থা । ঢাকা যত খারাপ হোক , এই কবর স্থান গুলাতে এই গুলার আশঙ্কা নাই ।
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৫৭
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যের পর এবং টিভিতে হুমায়ূন কন্যা নোভার কথা শুনে যা বুঝলাম- আশঙ্কার বিষয়টি হচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদের সমাধিকে ঘিরে কোন তীর্থস্থান বা মাজার যদি তৈরি হয় এবং সেখানে যদি ইসলামবিরোধী কর্মকান্ড যেমন চলে যেমনটি ঘটে লালনের বা এস এম সুলতানের সমাধিস্থলে- সেক্ষেত্রে তাঁর আত্মা শান্তি তো পাবেই না বরং সেটা হবে অশান্তির কারণ। তবে যদি শাওন এই জায়গাটি পবিত্র রাখারা অঙ্গিকার করেন- তবেই সেখানে হুমায়ূন আহমেদকে দাফন করা উচিত।
আমাদের এইসব বিতর্কে অবশ্য কারো কিছু আসে যাবে না।
সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নিমচাঁদ ভাই।
১২|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৫৯
নিমচাঁদ বলেছেন: বাই দ্যা ওয়ে , ঢাকারে খারাপ কইয়েন না , বুকে কষ্ট লাগে ।আমাগো মতন সেকেন্ড জেনারেশন প্রজন্ম যাদের বাবা মা , এসেছে নিপাট গ্রাম থেকে আর আমাদের জন্ম দিয়েছেন এই কথিত পাষাণ শহরে , তাদের কাছে এই ঢাকা কিন্তু প্রিয় মাতৃভূমি। জিনিশটা বুঝেন ভাই , আমাগো পোলাপাইন ও কিন্তু এই শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক হাস্পাতালে জন্ম নিছে , তাগো হাত পা বান্ধা দিয়া গ্রামে পাঠাইলে তারা দুই দিনের জন্য যাইবো , কিন্তু তিন দিনের দিন এই পোড়া শহরে ফিররা আইবো ।
২৪ শে জুলাই, ২০১২ সকাল ৯:৪০
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: এই পোড়া শহরে থাকি জীবিকার তাগিদে। নয়ত ঢাকার চেয়ে অন্য যে কোন জেলা শহর থাকা অনেক বেশি শান্তির।
ধন্যবাদ ভাই।
১৩|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:০১
লিন্কিন পার্ক বলেছেন:
নুহাশে হলেই ভাল হয়
২৪ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪১
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।
১৪|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:০৩
তামিম ইবনে আমান বলেছেন: যেখানেই দিক। আমার কি?
২৪ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৪
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনাকে এই পোস্টে ঢুকতে বলছে কে?
১৫|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:২৯
কাজলভোমোরা বলেছেন: শাওন নুহাসে হবে বলতেই একটি বিরুদ্ধ প্রস্তাব এল, অন্য কোথাও। এটা নিশ্চিত ইগোর সংঘাত। মাঝখানে হুমায়ুন আহমেদ।
শাওন যেহেতু লেখকের একমাএ আইনসিদ্ধ স্ত্রী এবং শেষ পর্যন্ত লেখকের পাশেই ছিলেন, কাজেই উনার কথামতোই দাফন হওয়া উচিত বলে মনে করি।
২৪ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৭
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।
১৬|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৪৩
বড় ঠাকুড় বলেছেন:
শাওন যেহেতু লেখকের একমাএ আইনসিদ্ধ স্ত্রী এবং শেষ পর্যন্ত লেখকের পাশেই ছিলেন, কাজেই উনার কথামতোই দাফন হওয়া উচিত বলে মনে করি।
২৪ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫০
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৭|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৪৮
সমানুপাতিক বলেছেন: নিমচাদের সাথে একমত । হুমায়ুন আহমেদ নিজেও মানা করে গেছেন নুহাশ পল্লীকে কবরস্থান না বানাতে । আর কোথায় যেন দেখলাম নুহাশ পল্লী শাওনের নামে লিখে গেছেন তিনি । সেক্ষেত্রে তাঁকে নুহাশ পল্লীতে দাফনের প্রশ্নই আসা উচিত না । হুমায়ুন শাওনের ব্যাক্তিগত সম্পত্তি না । তাঁর ছেলে মেয়ে, প্রথম স্ত্রী , পুরো পরিবার- শাওনের কারণে ভুক্তভোগী । মনে রাখা দরকার হুমায়ূন সবার - পুরো বাংলাদেশের । সবার জন্য accessible কোথাও তাঁকে দাফন করাকে আমি সমর্থন করি ।
২৯ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:৩০
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।
১৮|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৫৮
মামুinসামু বলেছেন: DHAKA’r alo batashe boro hoia DHAKA re gali deoa thik na.
১৯|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:৫০
ভারসাম্য বলেছেন: আপনার লেখায় উল্লেখিত "পারিবারিক স্বার্থের দ্বন্দই" এক্ষেত্রে মুখ্য।
আর এ ব্যাপারে সাধারণ হুমায়ুনভক্তদেরও অধিকাংশের মনোভাব খোদ শাওনের বিপক্ষে ( শাওনের কথা বিপক্ষে নাও হতে পারে)।
আর একটা ছায়াঘেরা পরিবেশে দাফন হলেই যে মৃত্যু পরবর্তী জীবনে কেউ সুখী থাকবে এটাতো লেখকও বিশ্বাস করতেন না। তাছাড়া তিনি নিজেও "নুহাশ পল্লী" একটা কবরস্থান বা তাঁর স্মরণে এক ধরণের তীর্থস্থানে পরিণত হোক এটা চাইতেন না। লেখক কর্তৃক নুহাশপল্লীতেই সমাধিস্থ হতে চাওয়ার ইচ্ছার কথা আমরা কেবল শাওনের মুখ থেকেই শুনছি।অন্যকোন বিশ্বাসযোগ্য উইটনেস নেই এখানে।
যেহেতু এখানে হুমায়ুন আহমেদের শেষ ইচ্ছার পাশাপাশি পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে বৈষয়িক স্বার্থের ব্যাপারও জড়িত এবং এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারিবারিক সদস্য হিসেবে শাওনের পাশাপাশি হুমায়ুন আহমেদের মা, সন্তান এবং ভাইবোনদেরও অধিকার জড়িত, তাই নুহাশপল্লী ব্যাতীত অন্যকোথাও তাঁর সমাধি হওয়া উচিৎ বলেই আমার কাছে মনে হয়।
আর একজন হুমায়ুন আহমেদের একজন সাধারণ ভক্ত পাঠক হিসেবে আমি চাইব একটা নিরপেক্ষ ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কোথাও তার কবর হোক। অনেকে ঢাবিতে কাজী নজরুল ইসলামের পাশে তাঁকে সমাহিত করার ব্যাপারে বললেও আমার মনে হয় সেটা আরেক ধরণের বিতর্ক তৈরী করবে।
মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানই আমার কাছে তাঁর সমাধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী মনে হয়।
২০|
২৪ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১:০৩
তুষার কাব্য বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদকে নুহাশ পল্লীতে সমাহিত করা হউক...
সময় পেলে নূহাশ পল্লী নিয়ে আমার ফটোব্লগ ঘুরে আসেন।
Click This Link
২১|
২৪ শে জুলাই, ২০১২ সকাল ১১:২৬
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: নিমচাদের সাথে একমত ।
২২|
২৪ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:২১
সাইফুল আলী বলেছেন: ভাই আপনার ইচ্ছাই পূরণ হইছে।হুমায়ূন আহমেদকে নুহাস পল্লিতেই কবর দেওয়া হয়েছে।
ভাই ঢাকারে ভালোবাসি বইল্লা কথাগুলা আগের বলেছিলাম।আমার বাপ মা গ্রাম থেকে আসলেও আমার জন্ম ঢাকায় হইছে তাই এই শহরডারে খুব ভালোবাসি।কেউ যদি খারাপ কোন কথা বলে তাহলে কস্ট পাই।আর বাংলাদেশের একজন মানুষ দেশের যে কোন জায়গায় যাওয়ার অধিকার রাখে।একজন নাগরিক হিসেবে এইটা তার অধিকার।কিন্তু সত্যই খারাপ লাগে যখন দেখি বাংলাদেশের সবাই পাগলের মত ঢাকায় আসা শুরু করছে।মনে হয় যেন ১৫ কোটি মানুষ ই ঢাকায় থাকব।এভাবে তারা যেমন তাদের নিজেরদের গ্রামকে অসম্মানিত করছে তেমনি ঢাকারও বারটা বাজাইতাছে।আপনার মত যারা ঢাকারে ঘৃণা করেন তারা কি জীবনেও এই শহরের ভাল চান।আফটার অল এখানে জন্ম নিয়া,বড় হইয়া বেইমান হতে পারি না।
২৩|
২৫ শে জুলাই, ২০১২ সকাল ৯:৪৫
ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন বলেছেন: আর্তিটি আমারও ছিল কিন্তু এটাকে নোংরা রূপ দিয়ে দিল শাওন
২৪|
১৯ শে আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১:৩৬
মোঃমোজাম হক বলেছেন: আল্লার অসীম করুণায় আপনার জীবন ভরে উঠুক এবং সর্বদাই খুলে যাক সাফল্যের দরজা।
ঈদ মোবারক
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৮
বোকা০০৭ বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদকে নুহাশ পল্লীতে সমাহিত করা হউক