নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...

কাপুরুষের শেষ আশ্রয় হল দেশপ্রেম

স্পেলবাইন্ডার

সে আমারে ঠারে ঠারে ইশারায় কয়, এই চান্দের রাইতে তোমার হইছে গো সময়... ঘর ছাড়িয়া বাইর হও, ধর আমার হাত- তোমার জন্য আনছি গো আইজ চান্দেরও দাওয়াত...

স্পেলবাইন্ডার › বিস্তারিত পোস্টঃ

গরু হারালে এমনই হয়, মা!

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৫৬





গোপাল ভাঁড়ের ঐ গল্পটাতো সবাই জানেন। একবার গোপালের অতিপ্রিয় একটি গরু হারিয়ে যায়। গোপাল সারাদিন সারা গাঁয়ে 'গরুখোঁজা' করে হয়রান হয়ে নিজের বাড়ির উঠোনে বউকে দেখে বলে, এক গ্লাস জল হবে দিদি? রেগেমেগে বউ বলে, মিনসে কি চোখের মাথা খেলো! বউকে বলে দিদি! তখন ক্লান্ত গোপাল উঠোনে ধপাস করে বসে বলে, গরু হারালে এমনই হয়, মা!



আওয়ামীলীগ সরকারের অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের অবস্থা হয়েছে সেরকমই। ঈদের পর থেকেই গুঞ্জন শুরু হয় পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ পেতে হলে শর্ত অনুযায়ী ড. মসিউর রহমানকে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। গড়পড়তা কান্ডজ্ঞান ও দেশপ্রেম আছে এমন যে কোন বাংলাদেশের নাগরিককে যদি বলা হয় তাকে দেশের স্বার্থে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে- তবে সবাই সেটা করতে প্রস্তুত বলেই আমার ধারণা। কিন্তু ড. মসিউরদের পদের ওজন অনেক- রাবণ সরকারের কোন মাথাই 'চ্যুত' হতে রাজি নয়। ভাবখানা এমন, মন্ত্রীত্ব বা উপদেষ্টার পদ ছাড়লে মানসম্মান ধূলায় লুটাবে, পুরো পরিবার পথে বসবে- আর ওদিকে পুরো দেশের মানুষ যে প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় আর টিভির পর্দায় এতসব 'তামাশা' দেখে নিজেরাই লজ্জা পায় সেটা ওঁদের বুঝে আসে না নিশ্চিত!



এই সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, দুদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে যত ঠাট্টাবিদ্রুপ, হাস্যরস হয়েছে এবং হচ্ছে- তা বাংলাদেশের ইতিহাসে তো বটেই- বিশ্বের ইতিহাসে বিরল হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই! ২ থেকে শুরু করে ২০০ টাকার পত্রিকা, ২৫ থেকে ৩০ টি চ্যানেল অনবরত সেই 'খবর' প্রচার করেও শেষ করতে পারছে না!



এই সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা আজ যা বলেন, পরেরদিন পুরো ইউটার্ন নিয়ে বিপরীত কথা বলেন- এটা এখন একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই ঐতিহ্য বহাল রেখে ড. মসিউর রহমান গতকাল ছুটির বিষয়টি পিএস মারফত পুরোপুরি অস্বীকার করলেও আজ তিনি বললেন, তার ছুটির বিষয়টি গৌণ। আবার পরক্ষণেই বলছেন, তাকে ছুটিতে যেতে বা পদত্যাগ করতে যে চাপ দেয়া হচ্ছে তাকে তিনি হার্টফেল বা স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। বিষয়টা যদি এমন হত- এই উপদেষ্টার চাকরিই তাঁর একমাত্র জীবিকার উৎস- পদত্যাগ করলে পুরো পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে, তারপরও তাঁর সেটা করা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে ওঁরা হলেন দেশের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীর মানুষ- যাদের কাছে ক্ষমতা হারানো মানে হল সর্বগ্রাসী লুটের পথে বাধার সৃষ্টি। আসলে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে 'ধরা' খাওয়ার পর থেকে তিনি দেশে-বিদেশে (মূলত, ঢাকা-দিল্লী) বিরামহীন দৌড়ঝাঁপ করেও যখন কোন ফল পেলেন না, তখন বুড়ো বয়সের ধকল আর নিজের ভিতর চেপে রাখতে পারলেন না। সেই ব্যর্থচেষ্টার ক্ষোভটিই ঝরে পড়েছে তার জবানীতে।



সবচেয়ে হাস্যকর যে অভিযোগটি তিনি করেছেন, তা হল- বিশ্বব্যাংক এদেশে গুপ্তচর নিয়োগ করেছে। এবং এই গুপ্তচররা বিশ্বব্যাংকের কাছে 'ভিতরের' সব খবর পাচার করেছে। গোপালভাঁড়ের মত এই ভুল কথাটি দিয়ে অবশ্য দুটি বিষয় পরিস্কার হয়। প্রথমত, অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা হওয়ার ন্যুনতম যোগ্যতা উনি রাখেন না। কারণ, বিশ্বব্যাংক কোন শক্ররাষ্ট্র নয়- এটি একটি ব্যাংক। স্পাই বা গুপ্তচর শব্দটি শত্রু বা প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য- বিশ্বব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনভাবেই যায় না। তাছাড়া, দেশের সাধারণ একটি ব্যাংক থেকে যদি মাত্র ৫০ লাখ টাকা ঋণ চাওয়া হয়- তাহলে সেই ব্যাংকও নিজস্ব পদ্ধতিতে ঋণপ্রার্থীর আয়ের উৎস, সামর্থ্য, অতীত কর্মকান্ড ইত্যাদি যাচাই করে। আর যেখানে ১২০ কোটি ডলার ঋণের ব্যাপার- সেখানে আরও নিখুঁত পর্যবেক্ষণ বা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে- এতে ড. মসিউর অবাক হওয়ার ভান করে আসলে সাধারণের চোখে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে প্রতীয়মান হয়।



দ্বিতীয়ত, তিনি গুপ্তচরদের পরিচয় প্রকাশ করার দাবী করেছেন। কারণ, কথিত গুপ্তচরেরা নাকি রাষ্ট্রের 'গোপন' খবর পাচার করেছে। একটি দেশে একটি ব্যয়বহুল সেতু তৈরি হচ্ছে এবং সেই সেতুতে দুর্নীতির খবর সংগ্রহকারীরা ঠিক কি কারণে 'অপরাধী' তা অবশ্য দেশের মানুষ আগে না বুঝলেও এখন ভালই বোঝে। বাংলাদেশই মনে হয় এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে দুর্নীতি ধরিয়ে দেয়ার অপরাধে বিচার হতে পারে- এমনকি সরকারের বিশেষ বাহিনী ঐসব 'গুপ্তচর'দের পাকড়াও করে গুমও করে দিতে পারে। এই কথাটির মধ্য দিয়ে অবশ্য ড. মসিউর রহমান দুর্নীতির 'বস্তুগত' বিষয়টি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন।



এসব কথায় আমরা এখন আর তেমন অবাক হই না। কারণ, রাত শেষে ভোর হলেই আবার নতুন কোন ব্রেকিং জোক থুক্কু! ব্রেকিং নিউজ আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। আমরা দিনটা শুরু করি কাষ্ঠের হাসি দিয়ে! :-/

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:০৩

বড় ঠাকুড় বলেছেন:
-

আসল চোর কইলাম বুবু!!

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৬

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: হে হে হে... 'মৃত্যুক্ষৃধা' মনে হয় একেই বলে!

২| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:১৪

সাজিদনজরুল বলেছেন: একটা জিনিস খেয়াল কইরা...........
ক্ষমতায় যে যায় তার চেহারা কেমুন জানি কাইল্লা্ চোরার লাহান মনে হয়...

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৭

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ক্ষমতায় গেলে শরীর মাখনের মত হয়ে যায় সবার। গায়ে একটা কৌটা ধরলে দেখবেন তেল চুয়ে চুয়ে পড়ছে। ধন্যবাদ।

৩| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:২১

ভিশন-২০৫০ বলেছেন: বড় ঠাকুড় বলেছেন: আসল চোর কইলাম বুবু!!

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৮:২৯

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: হুমম..

৪| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:২১

আকাশী কন্যা বলেছেন: সবচেয়ে বড় পাওয়া আমরা এখন রসিক জাতিতে পরিনত হচ্ছি। :)

৫| ১৮ ই নভেম্বর, ২০১২ সকাল ১০:৪৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

কোরবানীর মাসে ৭/৮ টা উপদেষ্টাকে আল্লাহর ওয়াসতে কোরবানী দিয়ে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.