| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এ.জি.এম সাব্বির : গত ৭ এপ্রিল সকালে রাজধানীর শান্তিনগরে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) শাখার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হাবিবুর রশিদ হাবিব (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় মোটরসাইকেল আরোহী ক্যাডাররা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। বর্তমানে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই নেতার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এই ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি তোলপাড় চলছে লন্ডনের বাঙ্গালী কমিউনিটিতেও। ইউকেবিডিনিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলার পরিকল্পনা হয়েছে লন্ডনেই। ছাত্রদলের আসন্ন মহানগর কমিটির দায়িত্ব বন্টনকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত। জানা গেছে লন্ডন থেকে ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর (দক্ষিন) শাখার যুগ্ম আহবায়ক সংস্কারপন্থী জাকারিয়া। দীর্ঘদিন থেকে লন্ডনে অবস্থায় করায় একেবারেই দল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় তাকে এই পদ থেকে সরানোর জন্য নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করে। জাকারিয়ার ছোট ভাই শাহরিয়ার গুলি করার সময় উপস্থিত ছিলো বলে জানিয়েছে গুলিবিদ্ধ হাবিব।
যেভাবে গুলিবিদ্ধ হলো হাবিব
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে শান্তিনগর ১০৩ নম্বর তাজ ডোমিনো ফরচুনেটো ভবনের বাসা থেকে বের হয়ে ছাত্রদল নেতা হাবিব ইস্টার্ন প্লাস শপিং কমপে¬ক্সের পেছনে ১০১ মিলিনিয়াম মেনর ভবনের সামনের রাস্তায় আসেন। এ সময় সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা পাঁচ অস্ত্রধারী খুব কাছ থেকে হাবিবকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তারা দুটি মোটরসাইকেলে করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সামনের রাস্তা ধরে পালিয়ে যায়। আহত হাবিবের বাসার দারোয়ান আবদুল কুদ্দুস জানান, সন্ত্রাসীরা গুলি করার পর তিনি তার বাসার দিকে ছুটে এসে গেটের কাছে লুটিয়ে পড়েন। গুলি তার মাথায়, বুকে, পেটে ও পায়ে বিদ্ধ হয়। গুলির শব্দ পেয়ে হাবিবের শ্যালক রায়হান বাসা থেকে বের হয়ে আসেন। হামলাকারীরা সেই সময় চাপাতি দিয়ে হাবিবকে জবাই করার চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় হাবিবকে উদ্ধার করে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
যে কারনে গুলিবিদ্ধ হলো হাবিব
অনুসন্ধানে জানা গেছে কমিটিতে স্থান পাওয়া না পাওয়ার বিষয় ও অভ্যন্তরীণ অন্যান্ন কোন্দলের জের ধরে এ গুলির ঘটনা ঘটেছে। হাবিবুর রশিদের প্রতিপক্ষ লন্ডনে অবস্থানরত ছাত্রদলের জাকারিয়া গ্রুপ হাবিবকে গুলি করার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর গুলিবিদ্ধ হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, জাকারিয়ার ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার তাকে গুলি করেছে। জানা গেছে, জাকারিয়ার ছোট ভাই এসএম শাহরিয়ার কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের নেতা। জাকারিয়া লন্ডন চলে যাওয়ার পরেই হাবিবের বিরুদ্ধে জাকারিয়ার নিজ ছোট ভাই শাহরিয়ারকে প্ররোচিত করে। তুখোড় ও জনপ্রিয় ত্যাগী ছাত্রনেতা হাবিব ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটির সভাপতি প্রার্থী। অন্যদিকে, বিএনপি‘র সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত সাদেক হোসেন খোকার আর্শীবাদপুষ্ট আলিমও সভাপতি প্রার্থী।
জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনের সময় হাবিবুর রশিদ হাবিবই ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দেন। হাবিবের অন্যতম সহযোগী খিলগাঁও-রামপুরা থানার নির্বাচিত ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান টিপুকেই ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম প্রস্তাব করে হাবিব। টিপু একটানা ১০ বছর খিলগাঁও-রামপুরা থানার নির্বাচিত ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। একই পদের জন্য লবিংয়ে রয়েছে জাকারিয়াও। আর এই কারণেই মূল টার্গেটে পরিণত হয় হাবিব। হাবিবকে সরাতে পারলেই জাকারিয়া ও আলীম ছাত্রদলে তাদের কাক্সিক্ষত পদ দুটো পেতে সহজ হয়ে উঠতো। তবে, জাকারিয়ার নির্দেশে এই হামলার পর ছাত্রদল নেতা হাবীব বেচে যাওয়ায় আলীম ও জাকারিয়ার যৌথ অংকের হিসাবে একটু ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। কয়েকমাস আগেও সবুজ বাগ থানার ছাত্রদলের সেক্রেটারী শরীফ হত্যাকান্ডের সাথেও জাকারিয়ার সম্পৃক্ত রয়েছে বলেও জানা যায়।
মূল পরিকল্পনা লন্ডনে
গত ফেব্রুয়ারী মাসেই ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম লন্ডনে যান। লন্ডনে তিনি জাকারিয়ার পূর্ব লন্ডনের লেইটনস্টোনের বাসায় ছিলেন বলে সূত্রে জানা গেছে। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসা তথ্যনূযায়ী, লন্ডনের ওই বাসাতে বসেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। তবে সেই পরিকল্পনা ছিলো হাবিবকে খুন করার। কিন্তু হাবিব বেচেঁ যাওয়ায় নতুন যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়েও নানা রকম তৎপরতা লন্ডন থেকে চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে এই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি।
ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইউকেবিডিনিউজকে বলেন, একটি বড় দলের মধ্যে কিছু অভ্যন্তরিন সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এটা নিয়ে এতো বড় পরিকল্পনা করে হত্যার চেষ্টা করাটাকে কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। হাবিব আমাকে বলেছে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা শাহরিয়ারকে সে চিনতে পেরেছে। মহানগর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সবুজবাগের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের জাকারিয়ার নির্দেশেই ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শাহরিয়াররে নেতৃত্বে তাকে গুলি করা হয়েছে। ছাত্রদলের সবুজবাগের ওই নেতা লন্ডন থাকেন। গুলি করার সময় ৬ জন ছিল। ৩ জন সন্ত্রাসীকে হাবিব চিনতে পেরেছে। বাকি দু’জনের নাম আমাকে বলেননি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার না করা হলে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
আলিমকে মারধরের সাজানো নাটক
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমকে মারধর করেছে সংগঠনটির কতিপয় নেতাকর্মী। গত বুধবার এক প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে রাজধানীর শাজাহানপুরে তাকে মারধর করেন তারই দলের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার রাজধানীতে হাবিবুরের ওপর গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে মুক্তাঙ্গনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশ শেষে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা শাজাহানপুরের দিকে রওনা হয়। মির্জা আব্বাসের বাড়ির কাছে পৌঁছতেই মহানগর নেতা হাবিবের সমর্থকরা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিমের শার্টের কলার ধরে চড়-থাপ্পড়, লাথি ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে মির্জা আব্বাস ও শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি গিয়ে আলিমকে রক্ষা করে মির্জা আব্বাসের বাসায় নিয়ে যান। এদিকে নিজের উপর থেকে দায় এড়াতে মারধরের সাজানো নাটক করেছে বলে দাবি হাবিবের সমর্থককারীদের।
পুলিশের বক্তব্য
হাবিবের ওপর এই হামলা নিয়ে নানামুখি গুঞ্জন শুরু হতে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নাম এক সঙ্গে হয়ে আছে ঘটনার সঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনা কি দাড়াতে পারে এই বিষয়ে রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম ইউকেবিডিনিউজকে বলেন, ছাত্রদল নেতাকে যারাই গুলি করেছে নিঃসন্দেহে তারা সন্ত্রাসী। তারা যে দলেরই হোক তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।
বিএনপির বিচার দাবি
হাবিবকে দেখতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী মহিলা দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মির্জা আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আনোয়ারুল হক রয়েলসহ অন্যান্য নেতারা এই হামলার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন। এ সময় বিএনপির ভারপাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবিলম্বে দায়ীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, এটি আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির আরেকটি নজির। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন ছাত্রনেতা গুলিবিদ্ধ হওয়া উদ্বেগজনক। এ ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়, বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর কোন গ্যারান্টি নেই।
কমর উদ্দিনের বক্তব্য :
হাবিবের উপর হামলার ঘটনায় জাকারিয়া সম্পৃক্ততা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি‘র কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সভাপতি আলহাজ্ব কমর উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নাই। তাছাড়া, আমি তো তার ছোট ভাইকে চিনি না, এতে আমি বিনা পরীক্ষা নিরীক্ষায় কি এ্যাকশন নিবো। যদি সত্যিকারে জাকারিয়া এই ধরণের ঘটনা ঘটায় তবে তার ব্যবস্থা নিব, যদি না করে থাকে তাতে এ্যাকশান নেয়ার দরকার নেই। এই বিষয়ে জাকারিয়া আমাকে ফোন করেছিল, কিন্তু সে এ সম্পর্কে কিছু জানে না বলে জানায়।
তিনি আরো বলেন, আমি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে হাবিবের খোঁজ খবর নিয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের তীব্র নিন্দা :
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সরকারের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলি করে হত্যার চেষ্টায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই। আইন শৃংখলার চরম অবনতি হয়েছে। তিনি হাবিব হত্যার চেষ্টায় জড়িত সন্ত্রাসীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
এই বিষয়ে জাকারিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেন নি।
click here
২|
০৯ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৫৯
রােসল আহেমদ বলেছেন: পোস্টে প্রথমলাইনে লেখা ছাত্রলীগের ক্যাডারদের গুলিতে অথচ পুরা পোস্টেই ছাত্রদলের কাহিনি। আপনার কাহিনী কি? হিটাকাঙ্খী নাকি?
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:২৭
জুতার ভেতর মোজা বলেছেন: হা হা হা হা
চরম রাজনৈতিক পুন্দানো পোস্ট
মাইনাস দিতে মন চায়