| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্যরকম হিমু
যা মনে চাই তাই লিখি, লিখি সত্য নিয়ে, লিখি মিথ্যার বিরুদ্ধে।

রাজনীতি ভাল লাগতো না। ভার্সিটিতে ভর্তির পর এজন্য অনেক যন্ত্রনা পোহাতে হয়েছে। বন্ধুরা প্রায়ই বিভিন্ন সমাবেশে ডাকতো, না গেলে বড় ভাইদের অত্যাচার। আমাদের এখানকার নেতা মাসুদ ভাই। আমাকে প্রচন্ড ভালবাসেন। বলতে গেলে আমিই উনার ডানহাত বামহাত। আসলে হলে ওঠার পর দেখলাম এখানে থাকতে হলে ছাত্ররাজনীতি না করলে আমাকে কেউ মূল্য দিবে না। তাই একসময় বাধ্য হলাম রাজনীতিতে জড়াতে। বুকে সাহস থাকায় ভাই আমাকে অনেক ভালবাসেন।
দুপুরে ক্যাম্পাসে একঝলক ছোটখাটো যুদ্ধ হয়ে গেল। ওদের দলের একজন মাসুদ ভাইয়ের এলাকা থেকে আসা এক ছেলেকে কি নিয়ে যেন থাপ্পড় মারে। তার থেকে ঘটনার শুরু। ওরা পিস্তল ভর্তি গুলি নিয়ে এসেছিল। আমরাও ওদের ছেড়ে কথা বলিনি। ঘটনায় কেউ নিহত না হলেও ওদের একটাকে পিস্তল গুলিতে খুড়া করে দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ভয়ে সবগুলো পালিয়েছিল। অতঃপর ক্যাম্পাসে শুনশান নিরবতা।
রাত দুইটা বাজে। প্যাকেট খুলে দেখলাম একটাও সিগারেট নেই। এদিকে মাথা ঝিম ঝিম করছে। সব দোষ ওই মাসুমের, ওর জন্য সিগারেট এনে রাখা দায়। সিগারেট আনতে বাইরে বেরিয়ে পড়লাম। প্রকৃতি নিরব রুপে। দুর থেকে দেখা যাচ্ছে মোড়ের সিরাজ মামার দোকানে মিটমিট করে আলো জ্বলছিল। এত রাতে মামার দোকান খোলা থাকার কথা ছিল না। এগিয়ে গিয়ে দেখলাম মামা দোকান বন্ধ করবে এমন এক অবস্থা। মামাকে বললাম, মামা দোকান বন্ধের আগে আমাকে পাঁচটা বেনসন দেন আর পানি গরম থাকলে এক কাপ রঙ চা দিয়েন।
মামা চায়ের কাপ এগিয়ে দিল। একটা সিগারেট ধরিয়ে নিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। গাঁয়ে কাটা দিয়ে উঠল। মামাকে বললাম, মামা এ কেমন চা দিয়েছেন? মামা বলল, কই? ঠিক ই তো দিলাম। আমি পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে টর্চ অন করলাম। কাপের দিকে আলোটা ধরতেই মাথা ঘুরে উঠল। এতো, তাজা রক্ত! এতক্ষনে মামার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওনার গায়ের মেটে রঙের শার্টটা রক্তে ভেজা, বুক থেকে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। আমি আশেপাশে তাকালাম, চারিদিকে কোন মানব চিহ্ন নেই, কি করব বুঝতে পারছিলাম না, গাঁ দরদর করে ঘেমে উঠল। ততক্ষনে সিরাজ মামা আমার গলা চেপে ধরেছে, আমি চারপাশে অন্ধকার দেখছি। একটা আওয়াজ ধ্বনিতো হচ্ছে, "কি? রক্ত খাবি না? তোদের তো ওই রক্তের নেশা! খা!"
পরদিন, আমাকে বন্ধুরা হলের বাইরে অচেতন অবস্থায় খুজে পায়। খবর নিয়ে জানতে পারি একদিন আগেই সিরাজ মামাকে পার্শবর্তী গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আমাদের সেদিনের দুইদলের যুদ্ধের সময় মামা ওনার দোকানেই ছিল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে একটা গুলি গিয়ে ওনার বুকে লাগে...
(২০/০৮/২০১৫)
©somewhere in net ltd.