| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্যরকম হিমু
যা মনে চাই তাই লিখি, লিখি সত্য নিয়ে, লিখি মিথ্যার বিরুদ্ধে।

আমাদের শুরুটা হয়েছিল বেসম্ভব সুন্দর ভাবে।
সেদিন হালকা বাতাস বইছিল। আমি ঘুড়ির লাটাইটা হাতে নিয়ে লাল কাগজে তৈরী ঘুড়িটার সাথে আকাশের সৌন্দার্য দেখছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, আরো একটু বেশি সৌন্দার্য নিয়ে একটা পরী আমার পাশে দাড়িয়ে ঘুড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি অবাক হলাম, ঘামতেও থাকলাম (ভয়ে)। পরীটা আমাকে অবাক করে তার দৃষ্টিটা ঘুড়ি থেকে আমার দিকে করল। আমি তাকিয়ে থাকলাম। ততক্ষনে ঘুড়ির সুতাটা কেটে গেল। সাথে আমার মনের সুতাও। তবে মনটা ঘুড়ির মত দুর আকাশে যেতে চাইছিল না। শুধু পরীর কাছ দিয়েই ঘোরাফেরা করছিল। আমাকে আবারও অবাক করে দিয়ে বলতে থাকল....
"আমি সারাহ ফারিয়া। এখানে নতুন এসেছি। ওইতো ওই বাসায় উঠছি (পাশের ভবনটা দেখিয়ে)। আম্মু আর আমি আপনাদের বাসায় বেড়াতে আসছি...."
আমাকে কিছু না বলতে দিয়েই সে ছাদ থেকে নেমে গেল। আমি শুধু তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আর বুঝলাম, আমার ভিতর কি যেন একটা হয়ে গেল। তখন হুমায়ুন সাহেবের ডায়লগটা খুব মনে পড়ছিল, "ভালবাসাবাসির জন্যে অনন্তকালের প্রয়োজন নেই, একটি মুহূর্তই যথেষ্ট..."।
আমি প্রতিদিন বিকালে ছাদে আসতাম। ১তলা বাড়ির ছাদ থেকে ওর ২তলার রুমটাই চোখ রাখতে বেশ সুবিধাই হচ্ছিল।
একদিন খুব সকালে তাজা একটা গোলাপ নিয়ে ওদের বাসার নিচে আমার অবস্থান।
ফারিয়া আমার দিকে আসছে দেখে গোলাপটা পিছনে নিয়ে স্ট্যাচু রুপ ধারন করলাম। ও আমাকে অতিক্রম করে কিছু দুর গিয়ে আবার আমার দিকে ফিরে আসল। আমাকে কিছু কথাও বলল। যা শোনার জন্য কখনই আমার পুর্ব প্রস্তুতি ছিল না....
"নাম মাসুম তাই তো? সেদিন তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম। প্রথম দিন থেকেই আমাকে তোমার ভাল লেগেছে। পিছনের গোলাপটা গত রাতে আমাদের বাড়িওয়ালার বাগান থেকে চুরি করে আমার জন্য নিয়ে এসেছ। এখন ভয়ে কিছুই বলতে পারছ না....."
এ সব কিছুই আমার কানের উপর দিয়ে গিয়েছিল। সে হাত থেকে গোলাপটা নিয়ে চলে গিয়েছিল আর যাওয়ার আগে পিছন ফিরে একটা হাসি। সে হাসির অর্থ আমার জানা ছিল না। তবে তা প্রকৃতির সাথে মিলে গিয়েছিল।
শুরু হয়েছিল আমাদের ভালবাসা।
আমি প্রতিদিন তাকে একটা করে গোলাপ দিতাম। ও অনেক খুশি হত। একদিন গোলাপ আনতে ভুল করেছিলাম তাই ও আমার উপর কতই না রাগ করেছিল। সেদিন আমাদের প্রিয় বসার জায়গা লেকের পাড়টা কেমন রুক্ষ রুপ ধারন করেছিল। আমরা প্রতিদিনই এই লেকের পাড়ে বসে সময় কাটাতাম৷ ও আমাকে শাসন করত, রাগ করত আবার ভালবাসত।
একদিন....
দুজনে মিলে বাসায় ফিরছিলাম। দেখলাম ওদের নিচের তলায় নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। পরে জানতে পারলাম, ভাড়াটিয়ার ছেলে ঢাবিতে পড়ে। বেশ স্মার্ট। ভাড়াটিয়া চাকুরীর খাতিরে এখানে এসেছে।
যাই হোক ভালই ছিলাম আমরা, ভাল ছিল আমাদের ভালবাসা।
এরই কিছুদিন পর থেকে ফারিয়ার কিছু পরিবর্তন দেখা গেল৷ ও আগের মত আমাকে ফোন অথবা টেক্সট করেনা, দেখাও করে না। আবার এর মধ্যে ওর নতুন এক মামার উদয় হয়। তিনি প্রতিরাতে দুবাই থেকে ওর ফোনে কল করে ওর আম্মুর সাথে সারা রাত কথা বলতেন৷ আমি ওর নম্বর ব্যাস্ত পেতাম। এভাবেই আমাদের দুরত্ব বাড়ছিল।
একদিন এলাকার এক ছেলে বলল, ফারিয়াকে ঢাবির ঐ ছেলেটার সাথে রিক্সায় করে ঘুরতে দেখেছে। শুনলাম কিন্তু বিশ্বাস করলাম না।
কিছুদিন পর ফারিয়া আমাকে দেখা করতে বলল। লেকের পাড়ে একটা গোলাপ নিয়ে আমি ওর সাথে দেখা করলাম। সেদিন ও আমাকে অনেক কথা বলল। কথাগুলো শুনছিলাম আর মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমার কলিজাটা কচুকাটা কাটতেছিল। আমি কিছুই করতে পারছিলাম না। যাওয়ার সময় আমাকে কি সুন্দর অসুন্দর করে 'বাই' বলেছিল। আমি তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে তার প্রতিশ্রুতিগুলো মনে করছিলাম 'চলো বহুদুর'। গোলাপটা আমার পাশেই পড়েছিল....
আমি এখনও লেকের পাড়টাতে যায়। সঙ্গী একটা গোলাপ। আর আসার সময় গোলাপটা লেকের পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে আসি। গোলাপটি একটু ডোবে একটু ভাসে আর মৃদ্যু স্রোতে এগিয়ে যায়....
(১৪/০৩/২০১৪)
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:০৭
অন্যরকম হিমু বলেছেন: আমি কনফিউজড, আসলে আপনার কি মনে হয়?
২|
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৪
কাজী নজরুলের ছাত্র বলেছেন: আমার তো মনে হয়, যায় হবে না, যাই হওয়ারই কথা।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:০৯
অন্যরকম হিমু বলেছেন: জ্বী, সরি, আসলে ঐটা ই হবে! ধন্যবাদ!
৩|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:০৬
কাজী নজরুলের ছাত্র বলেছেন: ওয়েলকাম 2
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৮
কাজী নজরুলের ছাত্র বলেছেন: আমি এখনও লেকের পাড়টাতে যায়।। এর মানে বুঝলাম না, যায় নাকি যাই হবে