| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্যরকম হিমু
যা মনে চাই তাই লিখি, লিখি সত্য নিয়ে, লিখি মিথ্যার বিরুদ্ধে।

আসছে কুরবানীর ঈদ, আসছে ঈদের আনন্দ। চারিদিকে ঈদের কাপড় চোপড় কেনাকাটা সাথে কুরবানীর পশু কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। তবে দুঃখজনক সত্য যে, আসলে আল্লাহ'র সন্তুষ্টির আশায় এই পশু ক'জন কুরবানী দেবেন?
...... একবার ভেবে দেখুন তো! চারিদিকে কুরবানীর পশুর সাথে সেলফি নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছে। মোবাইল কোম্পানী সহ অন্যান্য কোম্পানীগুলো মজার মজার এডভার্টাইজ তৈরী করছে। সামাজিক মিডিয়াতে কুরবানী নিয়ে ট্রোল করা শুরু হয়েছে। এটাই কি কুরবানীর মুল উদ্দেশ্য? ইবাদত কি মজা করার জিনিস? এটা ধর্মীয় উৎসবকে ফাজলামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না?
...... পশুর হাটে গিয়ে স্মার্ট ছেলের সেলফি, ভাবটা এমন যে... একটা পশু সাথে চারশ বিশটা সেলফি ফ্রি। এই পশু যখন বাড়িতে আনা হয় তখন স্মার্ট মেয়ের সেলফি, ভাবটা এমন যে... আহলাদে কাচা ঘাসগুলো যেন নিজেই চিবিয়ে খায়। বাড়ির কর্তার কথা বলবেন? তিনি তো পাশের বাড়ির আরেকটা পশু দেখে গর্ব নিয়ে বলবেন... আমাদেরটার এত দাম নিয়েছে! এখানে মুলত অধিকাংশেই আভিজাত্যের দাম্ভিকতায় নিজেকে ফোকাসে আনতেই ব্যাস্ত! হয়তো গরীবের ভাগ দেওয়ার আগে নিজের ফ্রিজটা ভর্তি করে নেবেন, ফ্রিজ কোম্পানীগুলোর পন্য প্রচারের ধরনও চোখে পড়ার মত। ফাজলামিটা এতটাই চরমে পৌছে গিয়েছে যে এদেরকে রীতিমত মানষিক রোগী মনে হয়।
..... আসল ব্যাপারটা এখানে নয়। আল্লাহ পাক তার নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে পরীক্ষার জন্য তার প্রিয় জিনিস কুরবানী করতে বলেছিলেন। ইব্রাহীম (আঃ) এর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিলেন তার শিশুপুত্র ইসমাইল (আঃ)। তাই আল্লাহ পাকের নির্দেশে তাকে কুরবানী দিতে যান, কিন্তু সেটা ছিল শুধু আল্লাহ পাকের পরীক্ষা মাত্র, যে পরীক্ষায় ইসমাইল (আঃ) কুরবানী না হলেও আল্লাহ পাকে অসীম কুদরতে ইব্রাহীম (আঃ) উত্তীর্ন হয়েছিলেন। প্রতিদান স্বরুপ তাকে সন্মানিত করতে মহান আল্লাহ তায়ালা এই কুরবানী প্রথার চালু করেন, যা মুসলমানদের এক মহা উৎসব, এই দিন মহা উৎসব বা ঈদের দিন। এই উৎসব গরীব-দুঃখী, আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কুরবানীর পশুর মাংস সবার মাঝে বিলি করা হয়।
কিন্তু আসলে আমাদের মাঝের ভাব ভঙ্গিমা দেখে মনে হয় অধিকাংশ ই নিজের শ্রেষ্টত্ব জাহির করার জন্য কুরবানী দিয়ে থাকে। বেলা শেষে হয়তো দুনিয়ার শ্রেষ্টত্ব জাহির হয় ঠিক ই কিন্তু সওয়াবের খাতায় প্রশ্ন থেকে যায়।
...... আসুন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা আল্লাহর রাজি-খুশি নিয়ে সেলফি, ফাজলামি, ট্রোল থেকে নিজেকে বিরত রাখি। এতে ইহকাল ও পরাকালে আল্লাহ পাক নিজেই আপনাকে সন্মানিত করবেন। নতুবা আপনাকে উভয় স্থানেই লাঞ্ছিত হতে হবে, জাহান্নামের ভয়াবহতা আপনাকে গ্রাস করবে। আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেন, আমি যাকে ইচ্ছে লাঞ্ছিত করতে পারি এবং যাকে ইচ্ছা সন্মানিত করতে পারি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে কুরবানী করার তাওফীক দান করুক, আমীন!
(২৩/০৯/২০১৫)
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৩৬
অন্যরকম হিমু বলেছেন: ধন্যবাদ সহমত প্রকাশের জন্য!
২|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৬
সচেতনহ্যাপী বলেছেন: সত্যি ভাই,কুরবানী এখন আর ইবাদতের পর্যায়ে না থেকে হয়ে উঠেছে সামাজিক প্রতিষ্ঠার সোপান।।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৫২
অন্যরকম হিমু বলেছেন: খুবই দুঃখ জনক!
৩|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৮
কাবিল বলেছেন: সেলফি করলে সমস্যাটা কোথায় বুঝলাম না। এটা তো আনন্দের মধ্যেই পড়ে।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৫৫
অন্যরকম হিমু বলেছেন: এটা আব্লামীর পর্যায়ে পড়ে, এগুলো ধর্মীয় ভাবে কুরবানীর আওতায় নয়!
৪|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:১১
নিঃসঙ্গ নির্জন বলেছেন: একমত। অসাধারণ লিখেছেন ভাইয়া।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৫৭
অন্যরকম হিমু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ!
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৩০
মাঘের নীল আকাশ বলেছেন: সহমত!