| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্যরকম হিমু
যা মনে চাই তাই লিখি, লিখি সত্য নিয়ে, লিখি মিথ্যার বিরুদ্ধে।

"আল্ মুসলিমু আখুল মুসলিম" - মুসলমান মুসলমানের ভাই। আমরা দিনে দিনে কথাটিকে "হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই" পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। ফলস্বরুপ আজ এদেশে ধর্মীয় কোন্দল শুরু হয়েছে। দিন যাবে এই কোন্দল বাড়বে বৈ কমবে বলে মনে হয় না।
আমি কোন ধর্মের বিরুদ্ধে যেতে চাই না। তবে পরিস্থিতি দেখে বলতে পারি হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি চলতে পারে কিন্তু ভাই ভাই ভাবাটা অনৈতিক।
কিছুদিন আগে পবিত্র কুরবানী ঈদে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম তার অফিশিয়াল পেজে কুরবানী পশু জবাইয়ের ছবি আপলোড করেছিলেন। পরক্ষনেই কিছু সুশীল নামধারি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কমেন্টবক্সে গালিগালাজ সহ বিভিন্ন কটুবাক্য ব্যায় শুরু করে। চ্যানেল আই এর চেতনা গরম হয়ে যায়। এটা নাকি তাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে খুব আঘাত এনেছে। ফলে মুশফিকুর রহিম ছবিটি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয় এবং সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে পোষ্ট করেন।
..... অথচ লিটন কুমার দাস দুর্গা পুজায় যখন দেবী দুর্গার ছবি আপলোড করে তখন সেই সব সুশীলদের চেতনা গরম হয় না। তখন চ্যানেল আই চেতনার জয়গান করে না। উল্টো সেখানে বড় বড় অনলাইন মিডিয়া "ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার ক্রিকেটার লিটন" শিরোনামে খবর বের করেন। লিটন দাস তার অফিশিয়াল পেজে ১৭ কোটি বাঙালীর ভেতর থেকে ১৭ হাজার মানুষ খুজতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। বাঙালীকে মনুষত্বহীন বলে গালি দেন।
আপনাদের বলছি, হ্যা! আপনাদের বলছি, এত ক্ষোভ কিসের? এটা করার কি খুব দরকার ছিল? মুশফিকুর রহিম কি রাগ, আবেগ, অভিমান নিয়ে জন্ম নেন নাই অথবা জন্মমূক? না কি ধরেই নেব এটা আপনাদের ধর্মীয় শিক্ষা? প্রশ্নগুলো বাতাসের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
লিটন দাসের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আজ আমারও বলতে ইচ্ছে হয় 'আসলেই আমরা মনুষত্বহীন'। তা না হলে মুসলিম দেশের সংবিধান থেকে 'বিসমিল্লাহ' উঠে যায়। সুরঞ্জিত দ্য কালো বিড়াল, সাইকো লতিফ, জুতা শাহজাহান এর মত লোকেরা একের পর এক ইসলাম বিরোধী কথা বলতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী গজে চড়ে আসা দেবী দুর্গার কৃপায় ভাল ফসলের গুনকীর্তন করেন। ওলামালীগ বাপের নামের পেছনে 'রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম' লাগানোর জন্য ব্যাতিব্যাস্ত। আমরা আমজনতা বসে বসে খেল্ দেখি।
ধর্ম নিরপেক্ষতার দোহায় দিয়ে 'যা ইচ্ছে তাই' থেকে 'যাচ্ছেতায়' রুপ নিয়েছে আশপাশ। ওয়াজ-মাহফিল থেকে শুরু করে ঈদ সহ মুসলমানদের যে কোন উৎসবে অনুদানের জন্য মন্ত্রী পর্যায়ে চিঠি পাঠাতে হয়। তাদের অনুগ্রহ হলে যতসামান্য দান করেন। অথচ সনাতনীদের জন্য প্রতি পুজায় সরকারীভাবে অনুদান পাঠানো হয়। গ্রাম্য পর্যায়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে মুলমানদের কোন অনুষ্ঠানে শার্লক হোমসকে কাজে লাগিয়েও নিরাপত্তা কর্মী পাওয়া যাবে না। আমি বলছি না তাদের জন্য এ ব্যবস্থা বন্ধ করা হোক। আমি বলছি, মুসলমানদের অংশটুকু কই?
অনেকেই হয়তো বলবেন যে, ওরা সংখ্যালঘু তাই মেহমানস্বরুপ ওদের জন্য এসকল সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
..... পশ্চিমা বিশ্বে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে স্ত্রীর বন্ধু বেড়াতে আসলে অতিথিপরায়নতা দেখানোর জন্য স্ত্রীকে তার হাতে সমর্পন করতে হয়।
আমরাও হয়তো সেইরুপ অতিথিপরায়নতা দেখাচ্ছি।
আসলে দোষটি কারোর ই নয়। দোষ আমাদের। তা না হলে কি আর আওয়ামী নেতা আসলাম মাথায় টুপি পরে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিতে মন্দিরে ছুটে যান? উৎসবের নাম করে শত শত মুসলমান মন্দিরে গিয়ে গান বাজনায় মত্ত হন?
..... আহ্ হা রে বাঙালী, একটা সত্য বলি। আজ পর্যন্ত কোন পুজায় ইন্ডিয়ান বাংলা মুভির গান ছাড়া অন্যকিছু শুনিনি।
সমাজের সুশীল, ধর্মনিরপেক্ষ, চেতনাধারীদের উক্তি "ধর্ম যার যার, উৎসব সবার"। এরুপ উক্তির পাশে যদি আমি আরও একটি উক্তি জুড়ে দেই আপনার কেমন লাগবে? "ধর্ম যার যার, গোমাংস সবার"।
(২২/১০/২০১৫)
©somewhere in net ltd.