নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হিন্দু না ওরা মুসলিম ঐ জিজ্ঞাসে কোনজন, কান্ডারি বলো ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র

পারভেজ আলম

হাসরের ময়দানে ইট কাঠ আর কংক্রিটের দেয়ালে, রক্তের কালিতে, কবিতা কালাম লিখে মরা মানুষএর মিছিলে দাঁড়ায় একবিংশের রাসুল। দুই হাত ভরা ব্যাগে নানান ব্র্যান্ডের আমলনামা।

পারভেজ আলম › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুসলমানের দর্শন ও বিজ্ঞান তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চা (পর্ব-২)

০৮ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৬

মুতাযিলাদের আবির্ভাবঃ

৬৯৯ খ্রিঃ খলিফা ইবনে আবদুল মালেকের নির্দেশে হত্যা করা হয় কাদরিয়া আন্দোলনের প্রথম নেতা মাবাদ আল জুহানিকে। মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির মতবাদ প্রচার করার কারণেই তাকে হত্যা করা হয় । তবে একই বছর কাদরিয়া মতে দুইজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার আবির্ভাব হয়। এই দুইজন হচ্ছেন ওয়াসিল বিন আতা ও আমর বিন ওবায়েদ। কাদরিয়াদের অপর গুরুত্বপূর্ণ নেতা গাইলান আল দিমেস্কিকেও ৭৪৩ সালে হত্যা করা হলে কাদরিয়া আন্দোলন অনেকটাই স্থিমিত হয়ে যায়। তবে অপর কাদরিয়া নেতা হাসান আল বসরির দুই শিষ্য ওয়াসিল বিন আতা এবং আমর বিন ওবায়েদ নিজেদের গুরুর প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে আরো বেশি বুদ্ধিবাদী মতবাদ প্রচার করতে থাকেন। এ দুজনের হাত ধরেই জন্ম নেয় মুতাযিলা আন্দোলন। তরুন কাদরিয়াদের একটা বড় অংশই মুতাযিলা সম্প্রদায়ের সাথে নিজেদের বিলিন করে ফেলে।



আব্বাসিয় খেলাফত ও মুতাযিলাদের উত্থানঃ

রাজনৈতিক বিরোধীতার কারণেই টিকে থাকতে পারেনি কাদরিয়রা। অন্যদিকে মুতাযিলারা লাভ করে রাজনৈতিক সমর্থন। শেষ দিকের উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ ইবনে ওয়ালিদ মুতাযিলাদের মতের প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে উমায়িয়া খেলাফতের পতন ঘটে এবং আব্বাসিয় খেলাফতের শাসনামল শুরু হয়। আব্বাসিয়রা প্রথম থেকেই ছিলো মুতাযিলাদের পৃষ্ঠপোশক। দ্বিতীয় আব্বাসিয় খলিফ আল-মনসুর ছিলেন আমর বিন ওবায়েদের বন্ধু। আমরের মৃত্যুতে খলিফা নিজে শকগাথা রচনা করেন। আল-মনসুরের আমলেই মুতাযিলারা খলিফার দরবারে স্থান করে নেয়। খলিফা মনসুর শিল্পকলা আর বিজ্ঞানচর্চার প্রিষ্ঠপোশক ছিলেন। তিনি সংস্কৃত, ফারসি, গ্রীক ভাষার বই পুস্তক আরবীতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন এবং মুসলিম যুক্তিবাদী ধর্মতাত্ত্বিক, দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীদের গবেষনার ক্ষেত্রে যাবতিয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেন। আব্বাসিয় খলিফাদের সময় খলিফার দরবার বিভিন্ন ধর্ম ও দেশের পন্ডিত ব্যক্তিদের জন্য খুলে দেয়া হয় এবং মুক্ত বিতর্ক উৎসাহি করা হয়। প্রথম দিকে মুসলমান ধর্মতাত্ত্বিকরা শুধুমাত্র বিশ্বাসকে পুঁজি করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বি পন্ডিতদের সাথে তর্কযুদ্ধে অবতির্ণ হলেও সুবিধা করতে পারে নাই। কিন্তু যুক্তিবাদী মুতাযিলারা এক্ষেত্রে ব্যপক সাফল্য অর্জন করে। ফলে সমসাময়িক ধর্মতাত্ত্বিক সংগঠনগুলোর মধ্যে মুতাযিলারা সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠনে পরিণত হয়। আব্বাসিয় খলিফাদের আমলে রক্ষনশীল সম্প্রদায়গুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে ব্যার্থ হয়। আব্বাসিয় খলিফাদের উদারনীতি এবং মুতাযিলাদের বুদ্ধিবাদী ধর্মতাত্ত্বিক পরিবেশেই জন্ম নেয় এমন একটা সময় যে সময়টাকে বলা হয় মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার স্বর্ণযুগ। মুতাজিলাদের বন্ধু বলে পরিইত খলিফা আল-মামুন, আল-মুতাসিন ও আল ওয়াতিকের সময় জ্ঞন বিজ্ঞানের চর্চায় মুসলমান বিজ্ঞানীর বিশেষ উৎকর্ষ সাধন করে। খলিফা মামুনের সময়কালেই তার দরবারের জ্যোতির্বিদরা পৃথিবীর পরিধী পরিমাপ করে। খলিফা মামুনের নিজ তত্ত্বাবধানে মুসলমান বিজ্ঞানীদের তৈরি করা যন্ত্র এস্ট্রোল্যাবের সাহায্যে পৃথিবীর পরিধীর যে পরিমাপ নির্ণয় করা হয়েছিলো তার সাথে আধুনিক পরিমাপের পার্থক্য খুব সামান্যই। তবে এই যুগান্তকারী আবিষ্কার ঐ সময়ের রক্ষনশীল ও মৌলবাদী মুসলমানদের কাছে সমাদৃত হয় নাই। তৎকালিন প্রভাবশালী রক্ষনশীল আলেম তাকিউদ্দিন খলিফা মামুনকে নাস্তিক ঘোষনা করেন। তাকিউদ্দিনের বক্তব্য ছিলো যে পৃথিবী গোলাকার এই ধারণা কোরআন এবং হাদিস বিরোধী। তিনি খলিফা মামুনের ওপর আল্লাহর গজব কামনা করেন।



মুতাযিলা মতবাদঃ

মুতাযিলারা মূলত স্বাধীন চিন্তাবীদ হওয়ায় তাদের নিজেদের চিন্তা ভাবনায়ও অনেক পার্থক্য ছিলো। তারপরও অধিকাংশ মুতাযিলা পন্ডিত মোটামুটিভাবে কিছু বিষয়ে একমত পোষন করতেন। এখানে এইসব মতের সারমর্ম আলোচনা করা হলো।



আল্লাহর একত্ব;

মুতাযিলারা আল্লাহর পরম একত্বে বিশ্বাস করতো। আল্লাহর ওপর কোন রকম নরত্ব ও বহুত্ব আরোপের বিরোধীতা করতো মুতাযিলারা। এমনকি আল্লাহর যেসব গুনের কথা কোরআন হাদিসে বলা হয়েছে সেইসব গুনের আলাদা অস্তিত্বের ধারণাও আল্লাহর অস্তিত্বে বহুত্ব আরোপ করে বলে মনে করতো তারা। মুতাযিলা মত অনুযায়ী আল্লাহর গুন আল্লাহর অস্তিত্ব থেকে পৃথক কিছু না। অর্থাৎ “আল্লাহ জ্ঞানবান” এই কথার অর্থ এই নয় যে আল্লহর জ্ঞান নামক গুন আছে, বরং আল্লাহর এই জ্ঞান এবং আল্লাহ একই।



আল্লাহর ন্যায়পরতা এবং মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিঃ

কাদরিয়াদের মতো মুতাযিলারাও মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার পক্ষে সমর্থন করতো। তাদের মতে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে এবং মানুষের কর্মের স্রষ্টাও মানুষই, আল্লাহ নয়। মানুষের পাপ পূন্যের জন্যও মানুষই দায়ী, আল্লাহ নয়। মুতাযিলারা একই সাথে আল্লাহর চরম ন্যায়পরতায় বিশ্বাস করতো। তারা মনে করতো আল্লাহর পক্ষে কোন অন্যায় সমর্থন করা বা অন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ যদি ন্যায়বান না হন তাহলে পরকালের ন্যায়বিচার প্রহসন ছাড়া অন্য কিছু হতে পারেনা। আল্লাহ কখনোই তার বান্দাদের সাথে অন্যায় করেনা, করতে পারেন না। মুতাযিলারা মানুষের স্বাধীনতার জোর সমর্থক ছিলেন। তাদের মতে মানুষের স্বাধীনতা এবং আল্লাহর ন্যায়পরতা পাশাপাশি বিদ্যমান। এছাড়াও কোন নবী বা পিরের সুপারিশে আল্লাহ তার বিচার পরিবর্তন করবেন এ ধারণার বিরোধীতা করতো মুতাযিলারা।



বিচারবুদ্ধি ও অহির তুলনাঃ

মুতাযিলারা মানুষের বিচারবুদ্ধি এবং অহী কে সম মর্যাদা দিতো। তারা মনে করতো অহি বা প্রত্যাদেশের মাধ্যমে যেমন স্রষ্টা সম্বন্ধে জানা সম্ভব তেমন বিচারবুদ্ধি এবং যুক্তি প্রমানের মাধ্যমেও জানা সম্ভব। তারা মনে করতো, বিচার বুদ্ধির মাধ্যমেই আল্লহর স্বরুপ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। শেষদিকের কাদরিয়া এবং মুতাযিলা মতে আস্থাশীল ধর্মতাত্ত্বিক আল-নুমাইরির মতে, নবিদের মধ্যস্ততা ছাড়াও বিচার বিশ্লেষনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক রহস্য উদঘটন সম্ভব।



কোরআনের সৃষ্টতাঃ

রক্ষনশীল ধর্মতত্ত্বে কোরআনকে অসৃষ্ট বলে মনে করা হয়। কোরআন আল্লাহর বাণী, তবে এই বাণী কোন বিশেষ সময়ে সৃষ্ট না। আল্লাহর মতো তার বাণীও অসৃষ্ট এবং অনন্তকাল ধরে আল্লাহর সাথেই বিরাজমান। মুতাযিলারা এই মতের বিরোধীতা করেন। তাদের মতে কোরআন যদিও আল্লাহর বাণি তবে তা একটি বিশেষ সময়ে সৃষ্টি করা হয়েছে।



দিব্যদর্শনঃ

আল্লাহকে চোখে দেখা যায় বা কেউ দেখেছে বা দেখতে পাএ এধরণের ধারণার বিরোধীতা করতো মুতাযিলারা। তাদের মতে কোরআনে আল্লাহকে দেখার যে কথা বলা হয়েছে তা আসলে চামড়ার চোখে দেখার কথা না বরং অন্তরের চোখে দেখার কথা। আল্লাহর কোন শরীর আছে এই ধারণার বিরোধীতা করতো মুতাযিলারা। মোহাম্মদ কখনো আল্লাহকে চাক্ষুষভাবে দেখেছেন এ ধারনার বিরোদ্ধে ছিলো তাদের অবস্থান।



মুতাযিলাদের বিরোধীতা ও পতনঃ

মুতাযিলাদের পতনের সাথে দুইজন ব্যক্তির নাম জড়িয়ে আছে। একজন হচ্ছেন খলিফা মুতাওয়াক্কিল এবং অপর জন হচ্ছেন বিখ্যাত ধর্মতাত্ত্বিক আল আশারি। রক্ষনশীল মুসলমানরা প্রথম থেকেই মুতাযিলাদের ধর্ম বিরোধী বলে আখ্যায়িত করে। তবে আব্বাসিয় খলিফাদের কারণে মুতাযিলাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় নাই। তবে খলিফা মামুনের শাসনের শেষ দিকে তার প্রতিষ্ঠিত ‘মিনা’ ব্যবস্থা অনেক দুর্বল হয়ে পরে। খলিফা মামুন মূলত খলিফা কেন্দ্রিক রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন। কিন্ত তার শাসনের শেষ ভাগেই ‘ওলামা’ সম্প্রদায় অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে আবির্ভুত হয়। রক্ষনশীল এবং মৌলবাদিরা পুরো আব্বাসিয় খলিফাদের সময়টাকেই অধার্মিক সময় হিসাবে চিহ্নিত করে। কট্রর হাদিস পন্থি সুন্নি মাজহাব ‘হাম্বলি’ মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম হাম্বলি সবসময়ই আব্বাসিয় খলিফাদের খলিফা কেন্দ্রিক শাসনের বিরোধীতা করেন। খলিফা মামুনকে নাস্তিক ঘোষনা করার কথা আগেই বলেছি। তবে মুতাযিলাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রবল লড়াইয়ে নামেন আশারিয়া পন্থার প্রতিষ্ঠাতা আল আশারি (৮৭৪-৯৩৬)। আল আশারি মানুষের স্বাধীন চিন্তার প্রবল বিরোধীতা করেন, কেননা তার মতে মানুষের যদি স্বাধীন ভাবে কাজ করার ক্ষমতা থাকে তাহলে আল্লাহ স্বর্বশক্তিমান হতে পারেন না। আল্লাহ কোন নীতি নৈতিকতার অধিন না, এমনি বক্তব্য ছিলো আল আশারির। তার মতে, আল্লাহ যাকে খুসি বেহেশত দান করবেন আর যাকে খুশি দোযখ। আল্লাহর আদেশ মানাই হচ্ছে নৈতিকতা এবং পূন্য আর না মানাই হচ্ছে পাপ এবং অনৈতিকতা। আল্লাহ নিজে কোন নৈতিকতা মানতে বাধ্য নন। তিনি ইসলামে যুক্তি তর্কের অধিক ব্যবহারেরও বিরোধীতা করেন। কথিত আছে তিনি একবার খলিফার দরবারে উপস্থিত হয়ে নিজের গায়ের জামা টুকরা টুকরা করে ছিড়ে ফেলেছিলেন এবং বলেছিলেন, যুক্তি তর্ককে আমি এইভাবে টুকরা টুকরা করে ছিড়ে ফেললাম, ইসলামে যুক্তি তর্কের কোন স্থান নাই। বিনা প্রশ্নে আত্মসমর্পণ আর বিশ্বাসই হচ্ছে ইসলাম। আল আশারি দাবী করেন তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে মহানবী তাকে মুসলমানদের দায়িত্ব নিতে বলছেন। এরপরই তিনি মুতাযিলাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন। আল আশারির হাতেই মৃত্যু হয় যুক্তিবাদী ইসলামি ধর্মতত্ত্বের। তার প্রায় কয়েক শতাব্দি পর তারই এক ভক্ত ইমাম গাজালির হাতে মৃত্যু ঘটে ইসলামী দর্শন চর্চার।

মুতাযিলাদের আসল দুর্দশা শুরু হয় খলিফা মুতাওয়াক্কিল ক্ষমতায় আরোহন করার পর। মুতাওয়াক্কিল ছিলেন দশম আব্বাসিয় খলিফা। তিনি মুতাযিলাদের ওপর থেকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোশকতা তুলে নেন। সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় মুতাযিলা নিধন। অল্পকিছু দিনের মধ্যে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় মুতাযিলারা, কোন মতে টিকে থাকে দশম শতাব্দি পর্যন্ত। তাদের সব বই পুস্তক গবেষনা পত্র পুড়িয়ে দেয়া হয়। মুতাযিলাদের কোন বই পুস্তকএখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের সম্বন্ধে যতটুকু জানা যায় তা জানা যায় তাদের বিরোধীদের বই পুস্তক থেকে। একই ঘটনা ঘটেছিলো আমাদের এখানকার চার্বাকদের ক্ষেত্রেও।



প্রথম পর্ব



মন্তব্য ৩৭ টি রেটিং +৯/-২

মন্তব্য (৩৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:১৪

দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: সময় যতই গড়াবে ততই গর্জে উঠবে তরবারি। রঞ্জিত হবে স্পেন থেকে নালন্দা।
সাথে আছি। চলুক।

০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:২০

পারভেজ আলম বলেছেন: চলবে তো অবশ্যই। কিন্তু লোকজন কারণ না দেখাইয়া মাইনাস দেয় কেন এইটাই বুঝি না। মাইনাস টা গায়ে লাগেনা, কষ্ট লাগে যে একজনের লেখাটা ভালো লাগে নাই, কিন্তু তার লগে তর্কে নামতে পারলাম না।
আপনাকে ধন্যবাদ। লগে থাইকেন।

২| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:২৯

দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: সবসময় বলে কয়ে মাইনাস দিতে হয় না। আমিও প্রতিদিন অজস্র পোস্টে যাই এবং কোন আলোচনা না করেই মাইনাস দাগিয়ে চলে আসি। কারণ কমেন্ট করলেই ব্লকড হবার চান্স আছে। হা হা হা
তবে ওই লেখাগুলো একটি বিশেষ শ্রেনীর যাদের সাথে আলোচনা করার কোন অর্থ হয় না।

আপনার এই লেখাটা যেদিন শুরু করলেন, আমিও তখন ভাবছিলাম বিষয়টি নিয়ে লেখার কথা। কেবল পড়া-শুনা শুরু করেছিলাম, তখনই আপনার পোস্ট। অনেক কষ্ট বাঁচিয়ে দিয়েছেন :)

আপনার পোস্টে সামনে আলোচনা করবো। আপনি কি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস অন্তর্ভূক্ত করবেন?

ভালো থাকুন। প্রস্তুত থাকুন তুমুল বিতর্কের।

০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৪৫

পারভেজ আলম বলেছেন: ধন্যবাদ। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস অন্তর্ভূক্ত করার ইচ্ছা নাই। আমি আসলে শুধু আরবের মুসলমানদের ইতিহাস রাখতে চাচ্ছি। ভারতীয় উপমাহাদেশের আলোচনা আলাদা একটা বিষয়।

৩| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৩০

আরিফুর রহমান বলেছেন: ইন্টারেস্টিং..

০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৪৬

পারভেজ আলম বলেছেন: হুম।

৪| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৩৪

ডিজিটালভূত বলেছেন: আমি মাইনাসও দিলাম না, প্লাসও নয়। এখানে অনেক কথাই একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট। এগুলো গণনা করে সমালোচনা করার সময় নেই। যেমন আপনি লিখেছেন বা কপি করেছেন :

আল আশারির হাতেই মৃত্যু হয় যুক্তিবাদী ইসলামি ধর্মতত্ত্বের। তার প্রায় কয়েক শতাব্দি পর তারই এক ভক্ত ইমাম গাজালির হাতে মৃত্যু ঘটে ইসলামী দর্শন চর্চার।
এগুলো ইমামদের সম্পের্ক অযথা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া আর কি?
তর্ক করতে চাই না।

০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৪৮

পারভেজ আলম বলেছেন: ইতিহাস বর্ণনার মাঝে মাঝে নিজের কিছু অভিমত দিয়েছি। এটা আমার অভিমত। আল আশারির হাতে যে তাত্ত্বিক ভাবে যুক্তিবাদী ইসলামের মৃত্যু ঘটেছে তার উদাহরণ তো দিলামই। গাজালিরটা পরে আসবে। নেতিবাচক কারো কারো অবস্থান থেকে মনে হতেই পারে। তবে তর্ক বা বিরোধীতা ইতিহাস সাক্ষি রেখে করতে পারলে অবশ্যই করবেন। তর্ক করতে চাইবেন না কেনো?

৫| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৫৩

মুহাম্মদ ফয়সল বলেছেন: ঈমাম গাজ্জালি রা. এর হাতে ইসলামি দশর্ন চর্চার মৃত্যু হয়েছে কথা টা মানতে পারলাম না.....আপনার মন্তব্য বলেই বলছি।

০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:০১

পারভেজ আলম বলেছেন: এ বিষয়ে পরবর্তি একটা পর্বে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।

আর আগের পর্বেও কাদরিয়া এবং তাদের মতবাদের আলোচনা বাদ দিয়ে সবাই অন্য আলোচনায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল। সবাই একটু দয়া করে খেয়াল করেন, এই পর্বটা মুতাজিলাদের নিয়ে। আসেন আমরা মুতাজিলা এবং তাদের মতবাদ নিয়া আলোচনা করি।

৬| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪৪

এস. এম. রায়হান বলেছেন: "ইতিহাস বর্ণনার মাঝে মাঝে নিজের কিছু অভিমত দিয়েছি। এটা আমার অভিমত।" --- নিজের অভিমত দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা অন্যকে হেয় করা অযৌক্তিক নয় কি।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০১

পারভেজ আলম বলেছেন: আজব। বিভ্রান্তি ছড়ালাম কোথায়। ইতিহাস পর্যালোচনা করে অভিমত দিয়েছি, ইতিহাস তো বিকৃতী করি নাই। আপনে ভূল মনে করলে এন্টি বয়ান দেন, তবে অবশ্যই ইতিহাস সঠিক রাইখা।

৭| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:০৯

এস. এম. রায়হান বলেছেন: মুতাযিলা আর চার্বাকদের মধ্যে সুস্পষ্ট একটি পার্থক্য আছে। অনেকেই এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যটাকে এড়িয়ে গিয়ে তাদেরকে এক কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন।

মুতাযিলারা ইসলামে বিশ্বাসী ছিলেন, যদিও কিছু কিছু বিষয় নিয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে বিতর্ক বা দ্বিমত ছিল। অন্যদিকে চার্বাকরা নাস্তিক ছিলেন, হিন্দুইজমে বিশ্বাসী ছিলেন না।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৩

পারভেজ আলম বলেছেন: ইকটু খেয়াল কইরা পড়েন। আমি কি বলছি যে তারা একই মতাদর্শের লোক ছিলো। দুই সম্প্রদায়েরই বই পুস্তক ধ্বংশ করা হইছে, এখন তাদের বিরোধীদের বই পইড়া তাদের কথা জানতে হয়, এই যায়গায় মিলের কথা বলছি। অনেকেই এই দুই সম্প্রদায় রে এক কাতারে দাঁড় করায়? জানতাম না তো।

৮| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:২৬

হুতুম পেঁচার নকশা বলেছেন: সাথে আছি।

অপ্রাসঙ্গিক একটা কথা যোগ করি।

আব্বাসী আমলে জ্ঞানের সধানে মুসলমান সমাজ যে ভাবে নিবেদিত হয়েছিল........... সেখানেই জ্ঞানে সাগর মন্থণে গরল তুলে এনেছিল তা হচ্ছে গ্রীক দর্শণের ভাববাদি (প্লেটোর দৃষ্টি ভঙ্গি) ধারা।

দর্শণ ও বিজ্ঞানের বিকাশ অবিচ্ছিন্ন ভাবে জড়িত। প্রাচীন গ্রীসে যা ঘটেছিল............ ইসলামী বিশ্বে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

যুগের সীমাবদ্ধতায় বস্তু বিজ্ঞানের বিকাশ থমকে গিয়েছ ( যার গতি সমাজের উৎপাদন পদ্ধতি ও উৎপাদন সম্পর্কের সাথে যুক্ত) ।

কিন্তু দর্শণ চর্চা গতি অক্ষুন্ন রয়েছে। ফলে, বিকিশত দর্শণ বস্তু সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাবে ভাব কে অবলম্বণ করেছে।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৬

পারভেজ আলম বলেছেন: হুম। ধন্যবাদ। মুতাযিলা মতেও গ্রীক প্রভাব ছিল। বিষয়টা নিয়া আলোচনা করা হয় নাই। মনে হয় গ্রীক প্রভাবের বিষয়টা নিয়া বিস্তারিত ভাবে একটা পর্ব লেখা দরকার।

৯| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৩৫

হুতুম পেঁচার নকশা বলেছেন: এস. এম. রায়হান@ পূর্বে চার্বক ও পশ্চিমে Epicureanism যে কালে বিকাশ তখন দুই প্রান্তই মানুষের চিন্তা ( ঈশ্বর চিন্তা ) বস্তু কেন্দ্রিক।

মুতাযিলারা ধর্মের দার্শনকি দিক কে বস্তু জগতরে কোষ্টি পাথরে মাপতে চেয়েছেন।

১০| ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৫৩

জাতি জানতে চায় বলেছেন: মুতাযিলাদের বিশ্বাস থেকে ধারনা পাওয়া যায় কিভাবে মুসলিমদের একটা ছোট্ট অংশ বাইরের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের স্বীকার!! যেমন এখনকার ধর্মের নামে জঙ্গী গোষ্ঠীর উৎপত্তি!! কোরআন-হাদীসের তত্ত্বে পুরো বিশ্বাস না এনে নিজেদের মুসলিম হিসেবে দাবি ও প্রচার করাটা ধোকাবাজী ছাড়া কিছুই নয়!

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১১

পারভেজ আলম বলেছেন: যদি মুতাযিলাদের বাইরের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের শিকার বিভ্রান্ত বলে দাবী করেন, তাহলে সব মুসলমান বিজ্ঞানী আর দার্শনিককেই বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের শিকার বলে দাবি করা হবে।

১১| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৪১

মনির হাসান বলেছেন: পড়া শুরু করলাম । বিসমিল্লা ।

দুরন্ত'র মত আপনে আমারো কষ্ট বাচাইছেন । :D

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৪৮

পারভেজ আলম বলেছেন: কষ্ট বাচাইছি, মনে যেন থাকে।

১২| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:২০

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: আপনার লেখা থেকেই বোঝা গেল যে, মুতাযিলাদের অন্ততঃ দুইটি মত ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী ছিল।
১. মুতাযিলারা মানুষের বিচারবুদ্ধি এবং অহী কে সম মর্যাদা দিতো।
২. কোরআন যদিও আল্লাহর বাণি তবে তা একটি বিশেষ সময়ে সৃষ্টি করা হয়েছে।

আর ইমাম গায্‌যালীর(রহ.) ব্যাপারে তোলা অভিযোগটি (ইসলামী দর্শনের বিনাশকারী) বহুল প্রাচারিত হলেও এ ব্যাপারে আমার ভিন্ন মত রয়েছে। যাই হোক, আপনার মতামত এবং বিশ্লেষন সামনে পাবো আশা রাখছি।
চালিয়ে যান। পড়তে ভাল লাগছে।:)

০৯ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:০৫

পারভেজ আলম বলেছেন: ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস না বলে বলা উচিত বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস।
১। বিচারবুদ্ধি আর অহীকে সম মর্যাদা শুধু মুতাযিলারা না বরং বেশিরভাগ মুসলমান দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীই দিতো। বিচারবুদ্ধির ওপর এই গুরুত্ব দেয়ার কারনেই দর্শন ও বিজ্ঞানে তারা ঐ সময় প্রভুত্ত্ব অর্জন করেছিল।
২। কোরআন অসৃষ্ট না সৃষ্ট এই বিষয়ে যে আলোচনা তার কিন্তু আপনি কোন সমাধান পাবেন না। দুই পক্ষেরই ভালো যুক্তি আছে। তবে কোরআন অসৃষ্ট হলে আল্লাহর একত্ত্ব বিঘ্নিত হয় এইটাই ছিলো মুতাযিলাদের আপত্তির কারন।

১৩| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:২৯

মনির হাসান বলেছেন: অসাধারণ (সত্যমিথ্যা যাচাই করার পরিশ্রমে যেতে চাইছিনা এবং আপনার উপর ভরসা আছে) ... আশারির অশরীরি প্রেতাত্মাই তাহলে আমাদের এখনকার মোমেন মুসলমানদের কাধে চেপে আছে ।

অবাক লাগছে এটা ভাবতে মূতাযিলা'রা টিকে গেলে এবং চর্চা চালিয়ে গেলে এখনকান মুসলিম বিশ্ব কোন পর্যায়ে যেয়ে ঠেকত।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:০৮

পারভেজ আলম বলেছেন: আমিও তাই ভাবি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন রেখেছে বিশাল ভূমিকা। আশারিয়ারা না জিতে মুতাযিলারা টিকে গেলে ইউরোপের আর দুনিয়ার দন্ডমুন্ডের কর্তা হওয়া লাগতো না। আরবর দুনিয়া শাসন করতো আরো বহুদিন।

১৪| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৪২

হুতুম পেঁচার নকশা বলেছেন: ইমাম গায্‌যালীর(রহ.) নিয়ে অনেকের এক ধরণের অন্ধ মোহ রয়েছে.............অনেকটা তাঁর সময় কাল অবস্থান না জেনেই . তাঁকে না পড়েই।আমরা ভুলে যাই তিনি মানুষ। অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও তাঁর উক্ত উদ্ধুত করছি।

আমরা এবং আমাদের ধর্মীয় আলেমরা কারবারার ঘটনার জন্য প্রায়শই ইয়াযিদ কে অভিসম্পাৎ করেন। বিন্তু ইমাম গাজ্জালি (রহ) ইয়াযিদ সম্পর্কে বলেন

''The person who entertain the idea that Yazid had given orders to Kill Hussain is a fool. The details of this incidence cannot be fully ascertained as the facts are shrouded by narrow mindedness.”

[Ihyā’a : munjiyyāt : āfāt al-lisān : muhlikāt : al-āfah ath-thāminah: láan]

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:১৭

পারভেজ আলম বলেছেন: ইমাম গায্‌যালীর(রহ.) জ্ঞানি ব্যক্তি ছিলেন সন্দেহ নাই। কিন্তু তিনি যেই সময়ে দার্শনিকদের সমালোচনা করে একেবারে তুলাধুনা করে ফেলেন, তখন তার বিপরিতে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। পরে অবশ্য কয়েকজন দার্শনি গাযযালীর মত খন্ডন করেছেন, কিন্তু গাযযালী ততদিনে ব্যপক জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছেন।

১৫| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৪৮

আমি এবং আঁধার বলেছেন: অসাধারণ। আপাতত শুধু সিরিজটা পড়েই যাই, পড়ে মন্তব্য করবো।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:১৮

পারভেজ আলম বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৬| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৮

জাতি জানতে চায় বলেছেন: বিভিন্ন সময়ের বিজ্ঞানের আবিস্কার বা তত্ত্ব গুলো সমসাময়িক জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত, পরিমার্জিত হয়। এর সাথে যুগ নিরপেক্ষ ইসলামের সরাসরি সম্পর্ক রচনার কারন দেখি না! কোরআন থেকে বিভিন্ন বিষয়ের ধারনা নেয়ার চেষ্টা হতে পারে, এর বেশি কিছু না!

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:২৪

পারভেজ আলম বলেছেন: ইসলামের সাথে মেলানো মূল উদ্দেশ্য না। পোস্টের টাইটেল "মুসলমানদের দর্শন ও বিজ্ঞান তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চা", খেয়াল কইরেন। তবে আমি না চাইলে ইসলাম চইলা আসতে বাধ্য। কোন ধর্মই আসলে যুগ নিরপেক্ষ না। বর্তমানে অর্থডক্স ইসলাম বলতে আমরা যা বুঝি তার পিছে আশারি, গাযযালি, হাম্বলির মতো কয়েকজন আলেমের অবদান রয়েছে। এদের বিরোধীরা জিতলে ইসলাম বলতে আমরা অন্যকিছু পেতাম।

১৭| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৯

নাজনীন১ বলেছেন: মু'তাজিলা এবং আব্বাসীয় খলীফাদের সাথে উমাইয়াদের একটা বড় পার্থক্য হলো আব্বাসীয়রা হলেন শিয়া মতবাদী। তাই সুন্নীদের সাথে একটা বিরাট পার্থক্য থাকবেই। আর মু'তাজিলারা ব্যবহৃত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে। পরে নাকি আব্বাসীরাও মু'তাজিলাদের বিরোধীতা করেছিলেন।


যাই হোক, নীচের লিঙ্কের বইতে আপনার পোস্টের চেয়ে ভিন্নমত দেয়া আছে, যেটা আমাদের বিশ্বাসের সাথে মিলে,

Click This Link

আশা'রী আর মু'তাজিলাদের মূল পার্থক্যটা তুলে দিলাম, বাকীটা আগ্রহী হলে পড়ে দেখবেন।

"the view of the Mu‘tazilah that man is the "creator of his deeds," and consequently a fully free and responsible agent. The Concept of a co-creator with God, according to al-Ash‘ari, amounts to polytheism and involves a radical curtailing of God’s absolute power."


মূল বইটা বাজারে পাবেন মনে হয়।

_________________________________________


আর আপনার আগের পোস্টে "......এদের অনেকেই আল্লাহর শরীর, হাত, পা, মুখ ইত্যাদি আছে বলে বিশ্বাস করতো, এদের মধ্যে হিশাম বিন আল-হাকাম এবং আবদুল্লাহ বিন কাররাম(নৃবিজ্ঞানী) এবং তাদের অনুসারিরা উল্লেখযোগ্য। "

--- এটুকু কথাটূকু উপরের লিঙ্কটাতেও বলা আছে। তবে সালাফী এবং ওয়াহাবীরা মনে হয় না এধরণের কিছু বিশ্বাস করেন। কারণ, সালাফীরা মূলত হাম্বলী মতবাদী মানে রাসূল(সাঃ), উনার সাহাবীবৃন্দ এবং তাবেই-তাবেয়ীনদের ফলো করা। সে হিসেবে তারা আশা'রীদের মতোও হুবহু না, আবার মু'তাজিলাদের মতোও না। এটা অবশ্য আপনিও বলেছেন।

"On the question of the attributes of God and the creation of the Qur’an, the position of al-Ash‘ari was equally at variance with that of his Mu‘tazilite master, on the one hand, and that of the crude anthropomorphists or literalists, on the other. Moved by the desire to retain the Concept of the full-blooded Creator-God of the Qur’an, he opposed the Mu‘tazilite tendency to divest God of His positive attributes, and argued, according to a twelfth-century historiographer and fellow-Ash‘arite, al-Shahrastani, that the essential divine attributes of knowledge, power, and life are eternal and subsist in God’s essence. They cannot, however, be said to be either identical with this essence, as the Mu‘tazilah claimed, or not identical with it. For this would mean that God’s knowledge, power, or life is the same as God, So that one could address one’s petitions to God’s knowledge, power, or life instead of to God Himself, which is absurd. "

এখানে তুলে দিলাম কিছু কথা ঐ একই লিঙ্ক থেকে।

___________________________________________

"আল আশারির হাতেই মৃত্যু হয় যুক্তিবাদী ইসলামি ধর্মতত্ত্বের। তার প্রায় কয়েক শতাব্দি পর তারই এক ভক্ত ইমাম গাজালির হাতে মৃত্যু ঘটে ইসলামী দর্শন চর্চার। "

----- এ কথাগুলো কি আপনার নিজের নাকি কোন বই থেকে লিখেছেন?


০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৩৫

পারভেজ আলম বলেছেন: আপনি তো ভালোই খাটাখাটি করছেন। ধন্যবাদ।

আপনার লিংক দেখলাম। ধন্যবাদ। অনেক তথ্য আছে। কিন্তু আমি যা বলেছি তার বিপরীত কিছু তো দেখলাম না। মুতাযিলা আর আশারিয়াদের যে পার্থক্যের কথা আপনি বলছেন, সেই পার্থক্যের কথা তো আমার পোস্টেও আছে। অক্ষরবাদী আর নরত্ব আরোপকারীদের ব্যাপারে অনেক তথ্য পেয়ে গেছেন নিশ্চয়। সালাফি আর ওয়াহাবিদের মধ্যে এই প্রবনতা নিয়ে বিস্তৃত কিছু তথ্য দেবো। একটু সময় দিয়েন। আপাতত শুধু নিচের লিংকটা পেলাম যেখানে সালাফি নরত্ব আরোপকারীদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
Click This Link

আল আশারি যুক্তি তর্ক ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে ধর্মতত্ত্বের অনুসন্ধানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন, আমার মন্তব্য কি তাহলে ভূল?
গাযযালির প্রসঙ্গে পরে আসছি।

১৮| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫০

নাজনীন১ বলেছেন: শিয়া আর সুন্নীদের খলীফা আর ইমাম নিয়ে পার্থক্যের চাইতেও আরো যেসব ব্যাপারে পার্থক্য সেটা মূলত কোরআন নিয়ে,

Click This Link


The most important of all differences between Sunni and Shia relates to the interpretation of the Qur'an. The Sunni look more to the letter of the Qur'an; the Shia look more to its spirit. In Arabic the distinction is referred to as al-dhaher (the apparent) versus al-baten (the hidden) meaning of the Qur'an. Thus the Shia religious hierarchy plays a determining role in interpreting the Qur'an. This role reinforces their spiritual and temporal influence in Shia society.

এ কারণে আপনার দেখার দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে আমাদের একটা বিরাট পার্থক্য থাকবে, বিতর্ক করে কোন লাভ নেই এখানে, ঐক্যমতে পৌঁছানো যাবে না।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৪০

পারভেজ আলম বলেছেন: হুম। বিতর্ক করে লাভ নাই এমন না। বর্তমান যুগে এসে অনেক বিতর্কই আমরা একেবারে ইসলামের বাইরে থেকে চিন্তা করে বস্তুবাদি কায়দায় সমাধান করতে পারি। ঐক্যমত নিয়ে অবশ্য আমি কিছু বলছিনা, সত্যানুসন্ধানের কথা বলছি।
আরেকটা কথা, আপনার আগের মন্তব্যের প্রতুত্যরে বলছি, মুতাযিলারা শুধু রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এই তথ্যটা একপেশে হয়েছে। খলিফা আল মনসুর এবং খলিফা আল মামুনের মতো ব্যাক্তিরা প্রকৃতপক্ষেই জ্ঞান বিজ্ঞান এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার পক্ষে ছিলেন।

১৯| ০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:০১

নাজনীন১ বলেছেন: @হুতুম পেঁচার নকশা, আলী(রাঃ) ও আয়েশা(রাঃ)-র মধ্যে যুদ্ধ লাগানো এবং ইমাম হোসেন(রাঃ)কে হত্যা করা আসলে একই গ্রুপের চক্রান্ত (তারা আলী(রাঃ) অনুসারীদের মধ্যেই লুকানো ছিল), কিছু মুনাফিক এ কাজ করেছে, মুসলিমদের ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্য। এদের নেতৃত্বে ছিল আবদুল্লাহ্‌ ইবনে সা'বা, বলা হয় যে সে আসলে ছদ্মবেশী ইহুদী ছিল। ইয়াযীদও আসলে তখন ষড়যন্তকারীদের দ্বারা বেষ্টিত ছিল। মদীনার কিছু সিনিয়র সাহাবী ইমাম হোসেনকে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি আসলে বুঝতে পারেননি যে তার অনুসারীদের মধ্যেই ষড়যন্ত্রকারী ছিল। তারাই আবার ইয়াজীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, অনেক প্যাঁচাল।

এটা এ পোস্টবহির্ভূত বিষয়, বাদ দেই।

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৪৩

পারভেজ আলম বলেছেন: এটা আসলে আবেগি আর খন্ডিত ইতিহাস হয়ে গেলো। আলী আর মুয়াবিয়ার আলাদা আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান আপনাকে দেখতে হবে। যাইহোক পোস্ট বহির্ভূত বিষয়। আপাতত বাদ দেই। পরে আলোচনা করার আশা রাখি এই বিষয়ে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.