| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাঙালি মুসলমান সমাজ স্বাধীন চিন্তাকেই সবচেয়ে ভয় করে। তার মনের আদিম সংস্কারগুলো কাটেনি। সে কিছুই গ্রহণ করে না মনের গভীরে। ভাসাভাসাভাবে অনেককিছু জানার ভান করে আসলে তার জানাশোনার পরিধি খুবই সঙ্কুচিত। বাঙালি মুসলমানের মন এখনো একেবারে অপরিণত, সবচেয়ে মজার কথা এ কথাটা ভুলে থাকার জন্যই সে প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে কসুর করে না। যেহেতু আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান এবং প্রসারমান যান্ত্রিক কৃৎকৌশল স্বাভাবিকভাবে বিকাশলাভ করছে এবং তার একাংশ সুফলগুলও ভোগ করছে, ফলে তার অবস্থা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ইঁচড়েপাকা শিশুর মতো। অনেক কিছুরই সে সংবাদ জানে, কিন্তু কোনো কিছুকে চিন্তা দিয়ে, যুক্তি দিয়ে, মনীষা দিয়ে আপনার করতে জানে না। যখনই কোন ব্যবস্থার মধ্যে কোনোরকম অসংগতি দেখা দেয়, গোঁজামিল দিয়েই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় এবং গোঁজামিল দিতে পারাটাকে রীতিমত প্রতিভাবানের কর্ম বলে মনে করে। - আহমদ ছফা (বাঙালি মুসলমানের মন )
আহমদ ছফার বিখ্যাত প্রবন্ধ বাঙালি মুসলমানের মনএর উপরোক্ত বক্তব্যের মূল ভাবের সাথে মোটামুটিভাবে একমত পোষন করলেও একাংশের সাথে চরম সহমত ও অপর একাংশের সাথে চরম দ্বিমত পোষন করি। স্বাধীন চিন্তাকে কেন বাঙালি মুসলমান ভয় পাই, ছফা’র মতে এই সমস্যার মূলে তার আদিম সংস্কার। এই কথার সাথে সজ্ঞানে এবং সফার প্রতি শ্রদ্ধা সহকারে দ্বিমত পোষন করি। কেন করি, তা পরে বয়ান করছি। এর আগে চরম সহমতের জায়গাটায় আসি। নানান ফাক ফোকর আর অসঙ্গতির মধ্যে গোঁজামিল দেয়া বাঙালি মুসলমানের স্বভাব। এই গোঁজামিল দিয়া সে সুখে থাকতে চায়, কিন্তু পারে না। তার এই গোজামিল দিয়া তৈরি করা ছেড়া কাথার জোড়াতালি মননের ওপর জোরজবরদস্তি এবং প্রতারণায় স্বার্থ হাসিল করে নানান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থান্বেশী গোষ্ঠী। কোরআন-হাদিস, সুফি-পয়গম্বর, শরীয়ত-মারফত, ধর্ম-বিজ্ঞান, বিবর্তন-সৃষ্ঠিতত্ত্ব, ইসলাম-আধুনিকতা ইত্যাদি নানা বিষয়ে কোনরকমে গোজামিল দিয়া অসঙ্গতি ঢাকতে পারলেই তার শান্তি। আর এই গোজামিলের ঘুমটা মাথায় দিতে গিয়া প্রায়ই যে বাঙালি মুসলমানের পাছা উদাম হয়ে যায়, সেই খবর সে রাখেনা, এমনকি সেই পাছা প্রায়ই কেউ না কেউ আইসা মাইরা দিয়া গেলেও সেই ব্যাথা টের পাইতে তার দীর্ঘমেয়াদী সময়ের দরকার হয়। সম্প্রতি মানব লিখিত সংবিধান বনাম শরীয়ত বিষয়ক অসংগতির গোজামিলে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানের উদাম পাছা ধুমাইয়া মাইরা চলছে ফজলুল হক আমিনী নামক এক মধ্যযুগীয় হারামজাদা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা এখনো ব্যাথা টের পায় নাই। বরং সামুব্লগের পাতায় পাতায় তাদের গগনবিদারী শিৎকারধ্বনী ব্লগটারে খানিকটা এক্স রেটেড কইরা ফেলছে ইদানিং।
বাঙলাদেশের সংবিধান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে জন্ম নেয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার নিমিত্ত্ব জনগণের প্রতিনিধীদের হাতে লিখিত, রক্ষিত, পরিবর্তিত এবং পরিবর্তন পরিবর্ধন যোগ্য। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, নয়া নয়া সমস্যার মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধীদের হাত দিয়া নয়া নয়া আইন প্রনোয়নের সুবিধা আছে আমাদের সংবিধানে। আমাদের শিক্ষা, আইন ব্যবস্থা, সামরিক বাহিনী কোনকিছুই ইসলাম বা অন্য কোন ধর্মের শরীয়ত মোতাবেক হয় না, জনতার সমর্থনে জনপ্রতিনিধী এবং বিশেষজ্ঞতদের হাতে তৈরি এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনযোগ্য। এই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা যখন গৃহিত হইছে তখন বাঙালি মুসলমানের অন্যতম প্রতিনিধী আওয়ামীলীগ এই ধর্মনিরপেক্ষতার গোঁজামিল সংজ্ঞার মাধ্যমে আদতে এই ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ধারণ করতে পারে নাই। সামরিক শাসক জিয়া এবং এরশাদ ক্রমানুসারে এই সংবিধানে বিসমিল্লাহ, আল্লাহর প্রতি আনুগত্ব এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম উল্লেখ কইরা আদতে আইন এবং সাংবিধানিক ক্ষমতায় কোন বিশেষ পরিবর্তন না আনলেও বাঙালি মুসলমানের ধর্ম ও রাষ্ট্র বিষয়ক সাংঘর্ষিক অস্থিরতায় গোঁজামিল দিয়া কিঞ্চিত শান্তির আনয়ন করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। বিনিময়ে সূদীর্ঘ ১৫ বছর বাঙালি মুসলমানের উদাম পাছা তারা মারিয়াছেন এবং স্বীয় স্বার্থ ও সম্পদের উচিৎ ব্যাবস্থাপনা করিয়াছেন।
‘ইসলাম গেলো’, এই ধ্বনিটা বাঙালি মুসলমানের মনে নিঃসন্দেহে কামাতুরা মোরগের কুক্কুরুক ধ্বণির চেয়েও বেশী কামময় মনে হয়। এই ধ্বণি শোনার সাথে সাথেই বাঙালি মুসলমান পাছা মারা দেয়ার জন্য বেকুল হয়ে ওঠে। আধুনিক দুনিয়ায় পুরাদস্তুর আধুনিক জীবনযাপন, পূজিবাদী জীবনাদর্শ ও স্বার্থপরতা, সুবিধাবাদের পরকাষ্ঠা বাঙালি মুসলমান তার জীবনে সুন্নি ইসলামের লেশ মাত্র ধারণ না করেও ইসলাম গেলো ধ্বনি শুনলেই পাছার কাপর তুলে মাথায় ঘুমটা দেয়। ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বণি তুলে বাঙালি মুসলমানের পাছা মারার এই ইতিহাস অবশ্য খুব বেশীদিন আগে শুরু হয় নাই, হইছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশীক আমলে। আর এইখানেই আহমদ সফার সাথে আমার দ্বিমত। স্বাধীন চিন্তার বিরুদ্ধে বাঙালি মুসলমানের অবস্থানকে আহমদ সফা যেইখানে চিহ্নিত করেছেন তার মনের আদিম সংস্কার হিসাবে সেইখানে সেই সংস্কার যে মূলত এবং প্রধাণত ব্রিটিশ ঔপনিবেশীক আমলে তৈরি হওয়া তিনি হয়তো তা উপলোদ্ধি করতে সক্ষম হন নাই। ব্রিটিশ ঔপনিবেশীক আমলে বাঙালির মনে বাঙালি জাতিসত্ত্বার ধারণা জনপ্রিয় হয় নাই, হইছে সাম্প্রদায়িক হিন্দুস্তান আর পাকিস্তানের ধারণা। ‘ইসলাম গেলো’, ‘ইসলামে ফিরে যাও’, এবং ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ এহেন নানাবিধ ধ্বনির পক্ষে বাঙালি মুসলমানের কামভাবের ফশল পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তি এবং টানা ২৩ বছর পাকিদের হাতে পাছা মারা খাওয়া। একাত্তরে এই জন্মে বাঙালি হইলেও মননে পাকিস্তানী যেই জামাত ইসলামী পাকিস্তানীদের পক্ষে প্রকাশ্যে দালালী করেছে, সেই জামাতও তখন পাকিস্তান রক্ষার্থে ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি তুইলা বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্খা চূর্ণ করতে চাইছিল, কাজ হয় নাই। একাত্তরে বাঙালি গোঁজামিল চায় নাই, অসঙ্গতির সমাপ্তি চাইছে। একাত্তরে তাই বাঙালি স্বাধীনতা পাইছে।
সমস্যা হইলো যে স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালি মুসলমানের গোঁজামিল প্রীয় মনে নতুন কইরা গোঁজামিলের রাস্তা আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির হাতে গইড়া উঠলো এত প্রবল ভাবেই, যে একাত্তরের হায়েনা রাজাকার-আলবদরদের প্রতিনীধী জামাত-শিবির আবারো সেই ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনিতেই গইড়া নিল নিজেদের ভোটব্যাংক। ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি নতুন কইরা পাছা মারা খাওয়ার কামভাব বাঙালি মুসলমানের মনে এমনি জাগাইলো যে এই ধ্বনিতে সুর মিলাইয়া ইসলামের প্যাটেন্ট নিতে বিএনপির মতন ব্যাবসায়ী+সামরিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলও মোরিয়া। পিছাইয়া নাই আওয়ামীলীগও। খোদ শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে মাথায় পট্টি দেন, মরহুম মেয়র হানিফ তো একবার ঘোষনাই দিছিলেন যে ধর্মনিরপেক্ষতা জিনিসটা আওয়ামীলীগের বিষয় না। সম্প্রতি জামাত-শিবির যেহেতু প্রবাল গদামের উপরে আছে, ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনির মালিকানার তাই কিছু নতুন দাবিদার উইঠা আসতাছে। ফজলুল হক আমিনী ভালমতোই জানেন, ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনির মালিকানা মানে বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির মালিকানা, ইসলামের মালিকানা, শরীয়তের মালিকানা, মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রো ডলারের মালিকানা, সাম্রাজ্যবাদের কালা চাদরের নিচে মৌলবাদের নির্মাণের মালিকানা। আমিনি তাই ‘ইসলাম গেল’ ধ্বনি হাকাইতাছেন, কামে পাগল হওয়া মোড়গের মতন কুক্কুরুক ডাক পারতাছেন। তার ডাকে অবাঙালি কতগুলা মোল্লা মৌলবি রাস্তায় কোরআন লইয়া স্টান্টবাজি করতাছে, আর কতগুলা মাদ্রাসা পরুয়া অবুঝ শিশু ফ্রন্টলাইনে শহীদ হইয়া আন্দোলন জোরদারের ঘুটি হইতাছে। ব্লগে ব্লগে আমিনির গেলমানেরা নিজেদের পাছা মারা খাওয়ার সুখ বর্ণনার সাথে সাথে সবাইরে আমিনিমারা খাইবার জন্য নানাভাবে আহবান জানাইতাছে। ব্লগে প্রতিদিন এরা কয়েক ডর্জন পোস্ট প্রসব করে যেইগুলার টাইটেলের অর্থ করলে ‘ইসলাম গেলো, আসেন পাছা মারা খাই’ এই বয়ান খানাই পাওয়া যায়।
শরিয়তী ইসলামের কাছে একসময় দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্পকলায় সমৃদ্ধ আরব দুনিয়ার পতন ঘটছে। ইবনে সিনা, আল ফারাবি, ওমর খৈয়ামের দর্শন ও মতবাদের লাশের উপর দিয়া রচিত হইছিল, হাম্বলি, আশারী, গাজালি, তাইমিয়াগো শরিয়তী ইসলামের ইতিহাস। আর তাইমিয়াবাদীগো আধুনিক সংস্করণ ওয়াহাবিবাদীরা। এই ওয়াহাবিবাদীরা কট্টোর শরিয়তী ইসলামের প্রচার করে, মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা, নৈতিকতা আর আইনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়নে এদের ভরষা নাই। মধ্যযুগীয় মনমানসিকতার এই ওয়াহাবিরাই আবার ভাগ্যক্রমে তেলের খনির মালিক, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের দোস বন্ধু। সাম্রাজ্যবাদ এই মধ্যযুগীয় মৌলবাদরে খাতির করে, আদর সোহাগ দিয়া বড় করে, বেশী বাইরা গেলে থাবরা দিয়া শাসন করার নামে এদের দেশ দখল করে। আওয়ামীলীগ আর বিএনপির ছত্রছায়ায় নিজামী, মুজাহিদ, আমিনীদের বেড়ে ওঠা, এদের সাথে ভাগবাটয়ারা কইরা এরা বাঙালি মুসলমানের পাছা মারে। কিন্তু এই দুইটা দল সাম্রাজ্যবাদ আর মৌলবাদের প্রেম পিরিতীর খবর রাখে না। দুধ কলা দিয়া বড় করা আমিনী যে একদিন তাগো পাছাই মাইরা দিবে সেইটা এখনো তারা বুঝতে পারে নাই।
যাহাই হোউক, বাঙালি মুসলমানের জীবনে সবচেয়ে বড় গোঁজামিলটা খুব সম্ভবত বাঙালি+মুসলমান = বাঙালি মুসলমান কথাটাই। বাঙালি যদি হিন্দু বা মুসলমান না হইয়া শুধু বাঙালি হইতো তাইলে কোন সমস্যা ছিল না। স্বাধীন চিন্তায় বাঙালির তখন সমস্যা হইতো না, পরনির্ভরশীল না হইয়া সে স্বনির্ভর হইতে শিখতো। এই প্রশঙ্গে বন্ধু দুরের পাখির কিছু বাণী অমূল্য মনে হয়,
"বাঙালি মানে হিন্দু পোলা চেইত্যা গিয়া কওয়া, আল্লার কসম তোরে আমি খাইয়ালামু । বাঙালি মানে তারাবির নামাযের পরে আল্লার দরবারে দীর্ঘ প্রার্থণা যাতে বাবা ভোলানাথের পানি পড়ায় কাজ হয় । বাঙালি মানে সারাজীবনে একবারও কেবলার দিকে উষ্ঠা না খাইয়া, গানে কীর্তনে আল্লা রাসুলের গুনগান গাওয়া ।
বাঙালি যখনি মুসলমান হইতে গেছে তখনি ফরায়েজী হইছে, খেলাফতি স্বপ্নদোষী হইছে । আর রাস্তায় শান্ডার তেল বিক্রিকারী যেমন সুর কইরা গায়, স্বপ্নদোষে যারে পায়, বুকের হাড্ডি জাইগায় যায় , তেমনি বাঙাল বুকের হাড্ডি জাইগা গেছে । বাঙালি যখনি মুসলমান হইতে গেছে , রাজাকার হইছে, হিজবুতি হইছে, তালেবানি হইছে । বাঙালি আর থাকতে পারে নাই ।" - দুরের পাখি (বাঙালি মুসলমান : একটি করুণ হাস্যরসের নাম)
দুরের পাখি যাহা বলিয়াছে সত্য বলিয়াছে মনে করিলেও বাঙালি মুসলমানের পক্ষে মুসলমানিত্ব বিসর্জন দিয়া পুরাপুরি বাঙালি হওয়া বোধহয় খুব সহজ কর্ম না। আহমদ সফা এই বিষয়টা জানতেন বলেই হয়তো বাঙালি মুসলমান প্রপোঞ্চটারে বিসর্জন না দিয়া বরং বাঙালি মুসলমানের মনের অন্ধকার সন্ধান করছেন। আমি অবশ্য বাঙালি মুসলমানের মনে অন্ধকারের চেয়ে আলোর সন্ধানই করি বেশী। আর তাই জানি যে বাঙালি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান এমন বহু জাতে বিভক্ত হইয়া জাতিসত্ত্বা ও মানবতা বিসর্জন দিছে খুব বেশীদিন আগে না। বাঙালির হাজার বছরের ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তার স্বকিয় ইতিহাস আছে। জাত ধর্ম নির্বিশেষে মানব ভজনকেই সে প্রধান ইবাদত গণ্য করে। অলঙ্ঘনীয় এবং অপরিবর্তনীয় বেদ বাক্য অথবা শরীয়তেরে বাঙালি ভাল চোখে দেখে না। বাঙালি আধ্যাত্ব, শিল্প, ভক্তি, প্রেম আর মানুষের মাঝে ধর্ম খোঁজে। এই কারণে সুফি সন্যাসীরা বাঙলায় আমন্ত্রিত, বাঙালির শ্রদ্ধার পাত্র, মোল্লা মৌলবিরা না।
কার বা আমি কে বা আমার,
আসল বস্তু ঠিক নাহি তার,
বৈদিক মেঘে ঘোর অন্ধকার,
উদয় হয় না দিনমণি। - মহাত্মা ফকির লালন শাহ
লালনের এই বৈদিক মেঘ, ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের শাস্ত্র আর সুন্নি মুসলমানের শরিয়তের মেঘ। এই অলঙ্ঘনিয় শাস্ত্র আর শরীয়তের অন্ধকারে দিনের আলো আসবেনা বলেই ঘোষনা করেন বাঙালির দার্শনিক লালন।
আমিনী গং এর ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি এবং বাঙালি মুসলমানের মনে তার যেই আবেদন সেই আবেদনে আমি তাই হতাশ না। বাঙালি যদি শুধুমাত্র নিজের আত্মানুসন্ধানে রত হয় তাহলেই আমিনী গংরা বাঙলার মাটি থেকে বিতারিত হবে। একাত্তরে বাঙালি একবার নিজের আত্মানুসন্ধানে নামছিল। বাঙালি মুসলমানের কাছে সেইদিন মুসলমান পরিচয়ের চেয়েও অনেক ওপরে ছিল বাঙালি পরিচয়, আর তাই জামাত ইসলামী’র ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি সেইদিন বাঙালির মনে কোন আবেদন সৃষ্ঠি করতে পারে নাই। মনে প্রাণে অন্তত একটা বাঙালিও যতদিন বাঁইচা থাকবে আমিনি গং ততদিন সফল হতে পারবে না। বাঙালির বিদ্রোহী কবি এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়া এই লেখা শেষ করছি।
.......যে প্রশ্ন করছিলাম, এই যে ভেতরের ন্যাজ, এর উদ্ভব কোথায়? আমার মনে হয় টিকিতে ও দাড়িতে। টিকিপুর ও দাড়িস্তান ই বুঝি এর আদি জন্মভূমি। পশু সাজবার মানুষের একি 'আদিম' দুরন্ত ইচ্ছা!- ন্যাজ গজাল না বলে তারা টিকি দাড়ি জন্মিয়ে যেন সান্তনা পেল।
......হিন্দুত্ব মুসলমানত্ব দুই সওয়া যায়, কিন্তু তাদের টিকিত্ব দাড়িত্ব অসহ্য, কেননা ঐ দুটোই মারামারি বাধায়। টিকিত্ব হিন্দুত্ব নয়, ওটা হয়ত পন্ডিত্ব। তেমনি দাড়িও ইসলামত্ব নয়, ওটা মোল্লাত্ব। এই দুই "ত্ব" মার্কা চুলের গোছা নিয়েই আজ যত চুলাচুলি!............
- কাজী নজরুল ইসলাম (হিন্দু-মুসলমান)
আবারো বলি, অন্তত একটা বাঙালি যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন ঐ দাড়ি টুপিওয়ালাদের দৌড়াত্ব মসজিদ পর্যন্তই হবে, রাজপথ অথবা সয়ম্ভু শাসন ক্ষমতার মসনদ পর্যন্ত হবে না।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:২৬
পারভেজ আলম বলেছেন: ভাসাভাসাভাবে অনেককিছু জানার ভান করে আসলে তার জানাশোনার পরিধি খুবই সঙ্কুচিত। বাঙালি মুসলমানের মন এখনো একেবারে অপরিণত, সবচেয়ে মজার কথা এ কথাটা ভুলে থাকার জন্যই সে প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে কসুর করে না।
২|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:২৪
হিমু ব্রাউন বলেছেন: মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই, এর বেশী আমরা হইতে দেবো না।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৬
পারভেজ আলম বলেছেন: অন্তত একজন বাঙালি জীবিত থাকতেও না।
৩|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:২৬
কথক পলাশ বলেছেন: প্রথমেই ধন্যবাদ পারভেজ ভাই, এরকম চরম একটা পোস্ট দেবার জন্য। ধার্মিক এবং ধর্ম ব্যবসায়ী, এই দুধরণের মানুষেরই ধর্ম চিন্তা বেশি। ধার্মিকের চিন্তা হচ্ছে ধর্মের বানী নিজের ভেতর ধারন করা, বিনা শর্তে তা প্রচার করা। আর ধর্ম ব্যবসায়ীর চিন্তা হচ্ছে ধর্মের কোন দোহাই দিয়ে ব্যবসাটা টিকিয়ে রাখা যায়!
ধার্মিকের ইসলাম কখনো ডুবে যায় না।
ধর্ম ব্যবসায়ীর ইসলাম কখনো ভেসে উঠতে পারেনা (ডুবার কোন চান্সই নাই; ডুবেই তো আছে! নতুন করে ডুববে কি?); কারণ ধর্ম ব্যবসায়ী নিজেই তো ওই ইসলামের পিঠে সওয়ার।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫০
পারভেজ আলম বলেছেন: এখন পর্যন্ত দুইজন ব্যক্তি এই পোস্টটাকে আস্তিক বনাম নাস্তিক কাতারে ফেলে মন্তব্য করেছেন। কমপ্লেক্সটা দেখেন, শরীয়ত বিরোধী পোস্ট মানেই নাস্তিকতাবাদী পোস্ট। বলি, এই দেশে আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে কোটি কোটি বাঙালির অবস্থান শরীয়তের বিপক্ষে।
৪|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩১
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: এতগুলি ধর্ম-বিষয়ক সত্য এখন সকলের সইলে হয়।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৩
পারভেজ আলম বলেছেন: সইতে তো কষ্ট হবেই। ছফা দিয়া শুরু করলাম তো কেন কষ্ট হবে সেইটা বুইঝা কষ্ট পাওয়ার জন্যে।
৫|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৪
সজীব আকিব বলেছেন:
দুর্দান্ত।
বাঙালি আধ্যাত্ব, শিল্প, ভক্তি, প্রেম আর মানুষের মাঝে ধর্ম খোঁজে। এই কারণে সুফি সন্যাসীরা বাঙলায় আমন্ত্রিত, বাঙালির শ্রদ্ধার পাত্র, মোল্লা মৌলবিরা না।
>> যারা বাউলদের চুল-বাল-গোফ কেটে নিয়েছিল বাউলরা ভাল মুসলিম না হওয়ার অজুহাতে তারাও বাঙ্গালী বঠে এবং জামাত বা আমিনীর কর্মী নয়।(মনের দুঃখে কইলাম। আপত্তি করি নি)
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৮
পারভেজ আলম বলেছেন: ভাই, আওয়ামীলীগ যে বাঙালিত্ব অথবা সেকুলারিজমের প্রতিনিধী না এইটা অনেক আগেই পরিস্কার। দুই মুইখা নীতিতে এরা বিএনপির চেয়েও অনেক খারাপ। এরা একদিকে প্রগতিশীলদের সাথে এবং আরেকদিকে মোল্লাগো সাথে খাতির রাখতে চায়। এই কৌশলই একদিন তাগো মরন ডাইকা আনবে।
৬|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৭
ধূসরমেঘ বলেছেন: সজীব আকিব বলেছেন:
দুর্দান্ত।
মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই, এর বেশী আমরা হইতে দেবো না।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৯
পারভেজ আলম বলেছেন: একটা বাঙালি জীবিত থাকতেও না।
৭|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৭
রাজসোহান বলেছেন: জগতে ধর্ম না থাকলে তেমন কিছু হৈব না কিন্তু ধর্ম কখনো উইঠা যাওনের জিনিস না, আফসোসটা এইখানেই বেশি. এত নিয়ম মাইনা ক্যাম্নে চলে!
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৪
পারভেজ আলম বলেছেন: নিয়মগুলা সমকালিন এবং যৌক্তিক হলে মানতে কষ্ট লাগে না।
৮|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৪
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: দাঁড়িপাল্লা@
তাই তো, আমি ১২: ১০ এ এসেছি। আমার অনেক সময় লেগেছে পড়ে শেষ করতে। এতেই প্রমাণিত হয় যে নাস্তিকেরা বেকুব।
৯|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৬
চ্যালেন্জার বলেছেন: সব এ্যথেস্ট হাজির এক লগে
আসলেই রতনে রতন চিনে
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৮
পারভেজ আলম বলেছেন: পোস্ট প্রসঙ্গে কি আপনার বলার কিছু আছে? না কি ওপরে আহমদ ছফার উক্তিটারে আবার আপনের পড়ার জন্যে কপি পেস্ট করে দিমু? তা তে কি লাভ হবে?
১০|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৭
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: আধুনিক দুনিয়ায় পুরাদস্তুর আধুনিক জীবনযাপন, পূজিবাদী জীবনাদর্শ ও স্বার্থপরতা, সুবিধাবাদের পরকাষ্ঠা বাঙালি মুসলমান তার জীবনে সুন্নি ইসলামের লেশ মাত্র ধারণ না করেও ইসলাম গেলো ধ্বনি শুনলেই পাছার কাপর তুলে মাথায় ঘুমটা দেয়।
সত্যি পারভেজ ভাই অতি অসাধারণ একটা লেখা উপহার দিলেন। শুধুমাত্র আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য লগিন হলাম।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০০
পারভেজ আলম বলেছেন: অনেক দিন পরে দেখলাম আপনেরে, আছেন কেমন? আপনে পোস্টের ফোকাস যায়গাটা ধরতে পারছেন ভাই। আপনারে ধন্যবাদ।
১১|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৯
তানভীর চৌধুরী পিয়েল বলেছেন: আগুন পোস্ট পারভেজ ভাই!! শোকেসে রাখলাম।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০১
পারভেজ আলম বলেছেন: ধন্যবাদ পিয়েল।
১২|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫০
রাহীম বলেছেন: যৌক্তিক হলে চিন্তা করবেন : Click This Link
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০২
পারভেজ আলম বলেছেন: চিন্তা করবো। আপনের পোস্টে কমেন্টও করবো। তার আগে ভাই আমারে বুঝাইতে হবে, আমার পোস্টের সাথে সৃষ্ঠিকর্তার অস্তিত্বের সম্পর্ক কি?
১৩|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫০
আহমেদ আরিফ বলেছেন: @দাড়িঁপাল্লা ভাই,নাস্তিক-আস্তিক মোল্লা-কাঠমোল্লা,ছাগু-ভাদা বিষয়ক ক্যাচাল অর্ধেক পড়লে আর পড়ার আগ্রহ পায়না।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৩
পারভেজ আলম বলেছেন: বাঙালি মুসলমান সমাজ স্বাধীন চিন্তাকেই সবচেয়ে ভয় করে। তার মনের আদিম সংস্কারগুলো কাটেনি। সে কিছুই গ্রহণ করে না মনের গভীরে।
১৪|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৩
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: চ্যালেঞ্জার@
মসজিদে গিয়া একবারো জানতে চেয়েছেন কেন "সব মোমিন কেন হাজির একসাথে?" নাকি সেখানে রতনে রতন চেনে বললে দোষ হয়?
১৫|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৪
রাজসোহান বলেছেন: ম্যালা ম্যালা দিন আগে কে কুন নিয়ম বানায়া গেসে ঐডাই মানতে হৈব ক্যান। আমরা ক্যান নিয়ম বানাইতে পারুম না
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৪
পারভেজ আলম বলেছেন: কেন, আমরা বানাইতো। আমাগো সংবিধান আমরাই বানাইছি। সমস্যা যা আছে আমরাই পরিবর্তন করুম। যুগের প্রয়োজনে করুম।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৫
পারভেজ আলম বলেছেন: সমস্যা হইল বাঙালি মুসলমান না পারে মধ্যযুগীয় নিয়ম কানুন মানতে, না পারে আধুনিক সংবিধানের উপরে পুরাপুরি শ্রদ্ধা দেখাইতে। গোঁজামিল আসে ঐখানেই।
১৬|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৯
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: ব্লগে ব্লগে আমিনির গেলমানেরা নিজেদের পাছা মারা খাওয়ার সুখ বর্ণনার সাথে সাথে সবাইরে আমিনিমারা খাইবার জন্য নানাভাবে আহবান জানাইতাছে। ব্লগে প্রতিদিন এরা কয়েক ডর্জন পোস্ট প্রসব করে যেইগুলার টাইটেলের অর্থ করলে ‘ইসলাম গেলো, আসেন পাছা মারা খাই’ এই বয়ান খানাই পাওয়া যায়।
হাসতে হাসতে পেট শ্যাষ.........
১৭|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০০
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: সোহান@
রাস্তায় সাইকেল চালানোর থেকে একটা স্যাটেলাইট চালানোর নিয়ম কিন্তু মানুষেই বানিয়েছে। এগুলোর কোনোটাই কোনো ধর্মের মধ্যেই নাই। আজকাল দুনিয়ার বেশির ভাগ দেশ যে নিয়মে চলে তাও মানুষেরই বানানো। আর আশমানি কানুনের দেশ থেকে আম্রিকায় লোকে পাড়ি দেয়। আম্রিকার কয়টা মুসলমান পবিত্র আরবে এসে বাস করতে চায় বলতে পারেন?
১৮|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৩
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: ব্লগে এখন তেমন ঢোকা হয়না। ভালো লেখা তেমন পাই না। ছাগু ুন্দানিতেও এখন তেমন ইন্টারেস্ট পাইনা। তাই মাঝেসাঝে ডুকি, ভালো লাগলে কমেন্ট করি। এই আর কি।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৭
পারভেজ আলম বলেছেন: তা ঠিক। ব্লগের ফ্রন্টপেইজ দেখলে খুব একটা ইন্টারেস্ট পাইনা ঘুরাঘুরি করার।
১৯|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৭
ছোটমির্জা বলেছেন:
মুসলমান বাংগালীর মহান প্রেমিক পারভেজ ভাই, আপনি আপনার লেখা দিয়ে বার বারই মুসলমানদেরকে পরোক্ষভাবে সচেতন করেন। কৌশলটা খুব কাজের। কেউ আপনার উপর চেতে যায়-আপ্নাকে বোঝার অক্ষমতায়।
তা বাদে মুসলমানদের ঠেলা মেরে জাগনোর কাজ খুব কম মানুষেই করেছে।
এত্ চমৎকার করে গুছিয়ে লিখেছেন দেখে ভাল লাগল।
বেসিক্যালি -বাংগালী মুসলিমরা না ঘরকা না ঘাটকা টাইপের।
এরা যেমন চরম কৌশলী না, চরম রক্ষনাত্মক ও না;
আগ্রাসী না, সহিষ্নু ও না।
আধুনিক না আবার প্রাগৈতিহাসিক ও না।
কোথায় যেন এদের উন্নতি আঁটকে আছে।
আমার মনে হয়- এরা মানুষকে অনেক সুযোগ দিছে- তাদেরকে ডিফাইন করার জন্য-নিজেরা নিজেদের ডিফাইন করে নাই। আর কূটিল লোকেরা সেই সুযোগই নিয়েছে।
দু-একজন নামকাওয়াস্তে মুসলিম যারা কিনা আবার রাজনৈতিক নেতা তাদের অবস্হাও তথৈবচ। তাদেরকেই কৌশলীরা ডিফাইন করে আমাদেরকে সংগায়িত করেছে, এঁটে দিয়েছে তকমা। মুশকিল হল যারা এই সংগা দিয়েছে তারা বেশ সুসংহত ও একসেপটেট। কিন্তু যারা ডিফাইন করেছে তাদেরকে অপোচ করার জন্যও মুসলিমদের মাঝে কেও বিশেষ নাই। কিন্ত যারা (মুসলিম) এটার ওপোচ করেছে তারা হয় মৌলবাদী বা ঐ নামকাওয়াস্তে মুসলিম নেতা। যাদের পিচে তেমন কেও নাই।
এটাই করুন বাস্তবতা।
নৈলে ৮৭ ভাগ মুসলিমের দেশে এত ফ্যাঁকড়া লেগে থাকত না।
তয় ছফা সাহেব ও আপনি ভাল রকমের ভাষার ব্যবহার জানেন।
ভাষার অলংকারিত্বে ৪৯ ভাগ বাস্তব আরও বাস্তব হয়ে ওঠে বা বাস্তব হয়ে ওঠাকে ত্বরানিত করে।
সস্তা মিডিয়ার / অতি উচ্চমার্গের সাহিত্যে শয়ান না করে, এমনকি কৌশলী সংবাদের তোয়াক্কা না করে গ্রাম বাংলা ঘুরে আসুন। সাধারন মানুষ ও ভাল মানুষ বেশী পাবেন। পরিসংখ্যানে যতি বিশ্বাস করেন তো মার্গীয় ব্যাখ্যা ভুলে যাবেন।
আর যদি নিজের আমিত্ব ও অবস্হান তৈরীতে ব্রত হন তাইলে আমিনী অ্যাংকেলের ডাইরেক্ট গুয়া মারা আপনাদের স্লো গুয়া মারার চেয়ে ১গিগাবাইট স্পিড পিছনে।
আমি আমার দেখা মতে আগে এদেরকে দেখেছি মানুষ তারপর আচারনিষ্ট মুসলিম।
আমি ছফা টাইপের কেওনা তাই আমার দেখা আপনার ব্রত সাধনে ব্রাত্য হতেই পারে।
জেনারালাইজ করা খুব সহজ। সঠিক সত্যটা বাংগালী মুসলিমেরা পায়নি।এটাই।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৩০
পারভেজ আলম বলেছেন: আমি আসলে আপনার মন্তব্যটা পুরাপুরি বুঝতে পারি নাই। আশ পাশ দিয়া গেলো, ঠিক ঠাক ঠাহর পাইলাম না।
৮৭ ভাগ মুসলিমের দেশে কয়ভাগ মুসলিম শরিয়তী ইসলামের সমর্থক??
২০|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৯
আহমেদ আরিফ বলেছেন: @দাড়িঁপাল্লা ভাই,আমি যা বোঝাতে চেয়েছি তা বোঝাতে পারিনি এই ব্যর্থতা মেনে নিলাম।
তবে একটা ব্যাপারে আমার অবস্থান এমন..বাংলাদেশের হুজুরদের ৯০ভাগই এখনো কবর যেয়ারত,ওয়াজ মাহফিলের যোগ্যতা অর্জন ছাড়া আর সামনের দিকে যেতে পারেনি আর বাংলাদেশের ৯৫ভাগ নাস্তিকরা নাস্তিকতা মানেই ইসলামকে আক্রমন এতটুকু ছাড়া আর সামনে এগোতে পারেনি।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৩৩
পারভেজ আলম বলেছেন: ধরা যাক, আপনের কথা সত্য। কিন্তু এই পোস্টে এই মন্তব্যের কারণ কি?
এমনিতে আপনের মন্তব্যটা আমার ভালো লাগছে। কারণ, উপরে আহমদ ছফার বাঙালি মুসলমান বিষয়ে যেই উদ্ধৃতি তুইলা দিছি আপনে তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ।
২১|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:২৭
ওঙ্কার বলেছেন: এক বসায় পড়ে ফেললাম। চমৎকার লেখা।
অনেকগুলি লাইন কালেকশনে যাবার মতো।
1. সম্প্রতি মানব লিখিত সংবিধান বনাম শরীয়ত বিষয়ক অসংগতির গোজামিলে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানের উদাম পাছা ধুমাইয়া মাইরা চলছে ফজলুল হক আমিনী নামক এক মধ্যযুগীয় হারামজাদা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা এখনো ব্যাথা টের পায় নাই। বরং সামুব্লগের পাতায় পাতায় তাদের গগনবিদারী শিৎকারধ্বনী ব্লগটারে খানিকটা এক্স রেটেড কইরা ফেলছে ইদানিং।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:০২
পারভেজ আলম বলেছেন: ধন্যবাদ।
২২|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৩৭
ছোটমির্জা বলেছেন:
ও। স্যাড।
৮৭ ভাগ মুসলিমের দেশে কয়ভাগ মুসলিম শরিয়তী ইসলামের সমর্থক??
১০ ভাগ ও না।
কিন্ত এটাত আমিও বলেছি।
বস্তা দেখি আপনিও মুড়ি দেন ভাই।
বাইপাস করলে আমার আর কি করার আছে!!
আমি ব্রাত্যই থেকে গেলাম।
আপ্নে মুসলিমদেরকে ধুমাইয়া সংগাইয়া যান।
গুরুদের রেফারেন্স ব্যবহার করেন, কাটিং - পোস্টিং ব্যবহার করেন।
আমি আর আজ আণ্সার দেব না।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:০৬
পারভেজ আলম বলেছেন: চ্যাতেন কেন? আমি তো কইলামই আপনের মন্তব্যটা বুঝি নাই। কতটুকু সহমত কইলেন বা কতটুকু দ্বিমত থাকলেন, আর খোঁচা দিলেন কোন কোন দিক দিয়া, সেইটা আরো পরিস্কার করলে ভালো হইতো।
২৩|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৩৮
ধূসরমেঘ বলেছেন: চ্যালেন্জার বলেছেন: সব এ্যথেস্ট হাজির এক লগে
আসলেই রতনে রতন চিনে
------
আর তুমার মতো শূয়োরে চেনে কচু।
২৪|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৪৯
আহমেদ আরিফ বলেছেন: কারণ,আপনি আহমেদ ছফার যে উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করেছেন সেটা আপনি আর ধরে রাখতে পারেননি ।মেজাজ গরম করে এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করেছেন যাতে আপনার পোস্ট শেষ করার আগ্রহ পায়নি।অশ্লীল শব্দগুলো পরিহার করলে আমার প্রথম কমেন্টটি পেতেননা।
এই যে ধর্মের অপব্যবহার সে জন্য কারা দায়ী?যদি বলেন শুধু বাঙালী মুসলমানরাই দায়ী তাহলে বলব যতটা না হুজুররা দায়ী তার চাইতে বেশী দায়ী প্রগতি/কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার ঝান্ডা উড়ানোরা।
আরো বিস্তারিত বলার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম আপনি আমাকে নির্দিস্ট একটি গোত্রে সীমাবদ্ধ করে ফেলায়।
ভাল থাকুন।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:১০
পারভেজ আলম বলেছেন: অশ্লীল শব্দ কই???? আর অশ্লীলতার কারনে যদি পড়তে মন না চায় তাইলে তো ভাই মন্তব্য না করাই ভালো। একটু খেয়াল কইরা দেখেন যে আপনে যেই মন্তব্যটা করছেন সেইটা এই পোস্টের সাথে যায় কিনা?
এবং, এখন পর্যন্ত আপনে পোস্টের মূল বক্তব্য না পইড়াই আলোচনা করতাছেন। ধর্মের অপব্যাবহার বা কোন ধরণের ব্যাবহারের জন্যই এইখানে কাউরে দায়ি করা হইতাছেনা। বাঙালি মুসলমান যে এখনো নিজের আত্মানুসন্ধানে বিভ্রান্তিতে ডুইবা রইল আর তার সুযোগ যে নিল কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সেইটাই আলোচনার বিষয়। রাগ ক্ষোভ যাবতিয় সব আমার, আপনার সবার উপরেই যায়, আর ঘৃণা শুধু বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি। এইখানে আস্তিক/নাস্তিক বিতর্ক টানার কোন কারণ দেখি না।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩১
পারভেজ আলম বলেছেন: প্রগতি/কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার ঝান্ডা উড়ানোরা যে একেবারেই দায়ি না তা আমিও বলি নাই। এই গোষ্ঠির মধ্যেও কয়েকটা বিভেদ আছে, এদের বড় অংশেরই পশ্চিমা আনুগত্য প্রবল। আপনি নিজে এদের মধ্যে পরেন না মোল্লাদের মধ্যে পরেন, চিন্তা করে বলেন তো? অন্য কিছু হলে সেইটা কি?
প্রগতি/কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার ঝান্ডা উড়ানোরা ঠিক কি কি ভাবে দায়ি, আসেন আলোচনা করি। আপনে শুরু করেন। দরকার আছে।
২৫|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৫৬
প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: অনেক পরিনত এবং শক্তিশালী লেখাটি অফলাইনে পড়লাম কয়েকবার ++ ,মন্তব্য করার জন্য লগ-ইন করলাম।
আহমেদ ছফা,নজরুল,লালন তো বটেই আপনিও খুব সঠিক ভাবেই বাঙ্গালীর অন্যতম বড় সমস্যাটিই তুলে ধরেছেন।তুলনামুলক নতুন মুসলমান পরিচয়টা বা ধর্মের পরিচয়টা আমাদের দেশের অনেক বিশৃংখলার অন্যতম বড় উৎস।
তবে একটু যোগ করতে চাই,
১৯ শতক থেকেই কিন্তু প্রতিটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিও একটি প্রধান চালক।এই বিষয়টি বোধহয় কিছুটা নজরের বাইরে চলে গেছে সবার।
বাঙ্গালী নিজের ধর্ম পরিচয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পায় কিন্তু বংগভঙ্গের সময় এরপর ৪৭ এ- এবং প্রথম দুটি ইভেন্টই 'বাঙ্গাল সমাজে' উৎপত্তি হয় নাই।বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিবর্তনের বাতাসেই আমাদের ঐ অবস্থা হয়েছিল। যার জন্য কোনমতেই এককভাবে এই দেশীয় মুসলমানদের দোষ দেয়া যায় না। তবে তাদের উপর অভিযোগ প্রত্যাহারও করা যায় না।বরং বলবো হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সমান দায়ী।
৭১ এর পর বাঙ্গালরা আবার ধর্মে আসক্ত হলো আন্তর্জাতিক রাজনীতির কাছে ধরনা দিতে বাধ্য হয়ে কারন আরব 'তৈল মুদ্রা' আমাদের দরকার বলেই তৎকালীন সরকার মনে করেছিল যা ভুল হয়েছে বলা যায় না।মধ্যপ্রাচ্যের কর্মরত নুন্যতম ৫০ লক্ষ শ্রমিক প্রেরন এবং দান (সুদ সহ লোন নয়) পাওয়া তখন প্রয়োজন ছিল।
৮০'র দশক থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি এমনই বদলে গেল যে সেখানে বাংলাদেশ চাইলেই ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় গড়তে পারে নাই কারন আমাদের পরিচয় আমরা তৈরী করার অবস্থাও নেই এবং আমরা নিজেদের যেই পরিচয়েই পরিচিত করি না কেন সবাই আমাদের "মুসলিম দেশ" বলেই জানে এবং জানবে।এর একমাত্র কারন আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা মুসলিম এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মতবাদ।যে কারনে তুর্কি এখনো একটি মুসলিম দেশ সেকারনেই আমরাও মুসলিম দেশ।এবং আভ্যন্তরীন রাজনীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত এবং সমাজ প্রভাবিত রাজনীতি দ্বারা।
সুতরাং আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে বর্তমান যুগে একটি জাতি রাষ্ট্রের সমাজকে ব্যাখ্যা করলে সেটা পুর্নাঙ্গতা পায় না।
এছাড়াও আরেকটি ব্যাপার আপনি বোধহয় খেয়াল করেন নাই যে, বাঙ্গালী সমাজে মুসলমান পরিচয়টা ধর্মের পরিচয়ে বিভাজন রেখা টানা শুরু করে নাই বরং হিন্দু ধর্মের নামটাই আগে আসবে। এবং বাঙ্গালী সমাজে মুসলমান ধর্ম পরিচয় যেরকম ঝামেলা সৃষ্টি করেছে বাঙ্গাল সমাজে কিন্তু সেটা হয় নাই। সেজন্য এই লেখায় সেই দোষীকে চিন্হিত করা হয়েছে তা অর্ধেক চিত্র দেয়।
সবচেয়ে প্রানিধানযোগ্য বিষয় যে, পেছনে পরে থাকা পদ্মার পুব পাড়ের সমাজে (যাদের নিয়ে এই লেখাটি) কিন্তু ধর্ম পরিচয়টা কখনই এই সমাজের ভেতর থেকে উৎপত্তি হয় নাই বরং এটা হয় পদ্মার পশ্চিম পাড় থেকে নয়তো ভারতেরও পশ্চিমের পাপীস্তান থেকে এসেছে।
তাই আমরা বলতেই পারি যে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানই আমাদের সমাজের বিভিন্ন রূপরেখা টেনেছে যার জন্য আমরা দায়ী নই।
তবে আমি আপনার এই লেখার সাথে এভাবে একমত যে, বাঙ্গালরা যখনই বিজাতীয় কোন আদর্শ বা মতবাদ ধারন করেছে সেটাই আধখেচড়া রূপ দিয়ে সমাজের জন্য খুবই অসাস্থ্যকর পরিনিতি ডেকে এনেছে।সেটা ইসলাম বলেন,মুক্তবাজার অর্থনীতি বলেন অথবা হালের আধুনিক সমাজই বলেন নয়তো ইসলামফোবিয়াই বলেন!
এটা আমাদের মুসলমান পরিচয়ের করনে নয় বরং এরও গভীরে। তাই মোল্লার দৌড় থেমে যাবে,সে মসজিদ পর্যন্তও পৌছুতে পারবে না কিন্তু মোল্লা ছাড়া অন্য যেই চরিত্রগুলো আছে তাদেরকেও খেয়াল করুন, বলা যায় না কে কখন কি করে বসে।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২৫
পারভেজ আলম বলেছেন: প্রথমত, আপনের মন্তব্যটা অসাধারণ হইছে। এই জাতীয় মন্তব্য এই পোস্টের আলোচনারে সামনে আগায়া নিয়া যাবে সন্দেহ নাই। আপনে পোস্ট কলোনিয়ালিস্ট অবস্থান থেইকা মন্তব্যটা করছেন কি না জানিনা, তবে সেই সূর বেশ স্পষ্ট। সেইক্ষেত্রে আপনারে স্বাগতম, ব্লগে আমরা অল্প কয়েকজন পোস্ট কলোনিয়ালিস্ট আছি, সংখ্যাটা বারলে ভালো লাগে।
ধর্মীয় ভেদ এবং সাম্প্রদায়িকতার শুরুটা যে মুসলমান করে নাই সেইটা আমিও জানি। বাঙালি মুসলমান আরো বৃহৎ প্রেক্ষাপটের এবং বড় রাজনৈতিক কৌশলের শিকার মাত্র। তবে ঘটনা হচ্ছে যে এই পোস্টটাতো মুসলমানদের সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করার পোস্ট না, বরং বাঙালি মুসলমানের সংবিধান ও শরীয়ত নিয়া ভোগা সংকির্ণ আদর্শহীণ অবস্থান আর এই অবস্থানের সুযোগ নিয়া অন্যরে শোষন করার সুযোগ কইরা দেয়ার ট্রাজেডি নিয়া। মূল আলোচ্য বিষয়ই বাঙালি মুসলমান এবং এই জাতের জীবনে আমিনী কীটদের প্রভাব নিয়া। এই জাত যত দ্রুত বাঙালি জাতি হয়ে ওঠে ততই মঙ্গল।
সম্প্রতি একজন অগ্রজের সাথে বাঙাল শব্দের ব্যবহার নিয়া বেশ তর্ক হইয়া গেলো। বাঙাল শব্দের ব্যবহারটা ব্লগে আমি এবং পদ্মাচরের লাঠিয়াল প্রচুর পরিমানে করি। এই শব্দের অত্যাধিক ব্যাবহার নিয়া বোধহয় আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। বাঙাল বনাম বাঙালি কমপ্লেক্স তৈরি না হওয়াই ভালো, বাঙাল শব্দটাকে আমি বাঙাল বয়ান জাতীয় দার্শনিক অবস্থানে আবদ্ধ রাখতেই সাচ্ছন্দ করি, আলাদা কোন জাতিসত্ত্বা হিসাবে না। আমার মনে হয় আপনিও এইক্ষেত্রে একমত হবেন।
২৬|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:০০
মো: সালাউদ্দিন ফয়সাল বলেছেন: ৮৭ ভাগ মুসলমানের দেশে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম উল্লেখ করায় সমস্যা কি???
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২৮
পারভেজ আলম বলেছেন: ৮৭ ভাগ মুসলমানের দেশটারে পুরাপুরি শরীয়তি পদ্ধতিতে "বাঙলা হবে আফগান" বানাইলে সমস্যা কি???
২৭|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:০৫
আহমেদ আরিফ বলেছেন: প্রজন্ম ৮৬ এই পোস্টে আর কোন কমেন্ট করার ইচ্ছা ছিলনা ।কিন্তু আপনার কমেন্টটি পড়ে বাধ্য হলাম আর একটি কমেন্ট করতে ।
তবে আমি আপনার এই লেখার সাথে এভাবে একমত যে, বাঙ্গালরা যখনই বিজাতীয় কোন আদর্শ বা মতবাদ ধারন করেছে সেটাই আধখেচড়া রূপ দিয়ে সমাজের জন্য খুবই অসাস্থ্যকর পরিনিতি ডেকে এনেছে।সেটা ইসলাম বলেন,মুক্তবাজার অর্থনীতি বলেন অথবা হালের আধুনিক সমাজই বলেন নয়তো ইসলামফোবিয়াই বলেন!
এটা আমাদের মুসলমান পরিচয়ের করনে নয় বরং এরও গভীরে। তাই মোল্লার দৌড় থেমে যাবে,সে মসজিদ পর্যন্তও পৌছুতে পারবে না কিন্তু মোল্লা ছাড়া অন্য যেই চরিত্রগুলো আছে তাদেরকেও খেয়াল করুন, বলা যায় না কে কখন কি করে বসে।
চরমভাবে সহমত।শুধু একটু যোগ করব সেটা হচ্ছে যে আধুনিক সমাজ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার জয়গান যারা গাচ্ছে তারা যুগ যুগ ধরে কুসংস্কারছন্ন মুসলমানদের কুসংস্কার থেকে মুক্ত করতে কিছুই করেনি ।দোষ দিয়ে দিয়ে আরো কুসংস্কারছন্ন করে ফেলেছে শুধু।
২৮|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:০৯
তাশমিয়া বলেছেন: দাঁড়িটুপিওয়ালাদের দৌড় মসজিদ পর্যন্ত হলেও সাধারণ মানুষ জ্ঞানবিমুখ এবং বুদ্ধির চর্চায় অনাগ্রহী।তাই শরীয়তি ইসলাম দ্বারা এরা সহজেই প্রভাবিত হয়।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩২
পারভেজ আলম বলেছেন: প্রভাবিত হয়না, প্রতারিত হয়। নিজের অবস্থান নিয়া সে নিজেই সচেতন না।
২৯|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৩:৫৩
প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: @ দাঁড়িপাল্লা, জ্বী আপনি যেভাবে বললেন সেভাবেও দেখা যায়।এটা একটা অংশ পুরো ছবিটার।
আমাদের আশে পাশে'র ধার্মিকদের দেখে এটাই ধারনা হয় যে আধ্যাত্মিক ধর্মকে আমরা পার্থিব করে ফেলেছি।মানুষ আত্মশুদ্ধির জন্য বা জীবনদর্শন হিসেবে যতটুকু না ধর্ম পালন করে তার চেয়ে বেশী সুবিধা আদায় বা আতংকমুক্ত হবার জন্যই বেশী পালন করে।
তবে এটা ধর্মের শিক্ষা না এটা শিক্ষার্থী'র ব্যার্থতা,আমাদের ব্যার্থতা।
আর রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে আমাদের জন্য পছন্দ ছিল খুব নিদৃষ্ট।৮৭% মুসলমানের দরিদ্র দেশ আমরা চাইলেও অন্য পরিচয় নিতে পারতাম না কারন আন্তর্জাতিক রাজনীতির সুত্রই হলো, "হয় তুমি আমার দলে নইলে আমার শত্রু"। তাছাড়া সুবিধাগুলো নেয়াও দরকারী ছিল।
তবে আমি আপনার মত করে বলি নাই কারন, ধর্মকে যেই উপায়ে ব্যাবহার করা হচ্ছে সেটা সত্য তবে সঠিক না।অনেকটা মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি করার মত, এই ব্যাবহারের জন্য এই জিনিসটা আবিষ্কার হয় নাই কিন্তু এই ব্যাবহার হচ্ছে।
৩০|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৪:৪৭
কঠিনলজিক বলেছেন: মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত সিমাবদ্ধ থাকতে পারে না, কেউ এটা কে সিমাবদ্ধ করতে পারবে না, রাখতে পারবে না ।
দেখুন ৪০ বছর পরের তুর্কী/তিউনিশিয়া বা মিসর এবং আজকের লিবিয়া । হয়তো আর ৫ বা ১০ বছর পরে বাংলাদেশ !!
তবে একটা কিন্ত এবং পুর্ব শর্ত আছে ।
কিন্তু টা হলো মোল্লার লক্ষ যদি মসজিদ ছাড়া অন্য কিছু হয় তা হলে সারাদিন ঘুরে ফেরে সন্ধায় আবার ঐ মসজিদেই আইসা আটকায়া থাকবো ।
পুর্ব শর্ত টা হইলো যদি মূল লক্ষ কে বাস্তব অক্ষরেই মসজিদ (পিউর ধর্ম ) বানায় তা হলে জনগন এ ঠেইলা ক্ষমতা দিবে যেমন তিউনিশ বা তুর্কি তে হইছে ।
মোল্লার গোঁজামিল আহমদ ছফার ভাষায়
"যখনই কোন ব্যবস্থার মধ্যে কোনোরকম অসংগতি দেখা দেয়, গোঁজামিল দিয়েই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় এবং গোঁজামিল দিতে পারাটাকে রীতিমত প্রতিভাবানের কর্ম বলে মনে করে। - আহমদ ছফা (বাঙালি মুসলমানের মন ) " ।
যতক্ষন মোল্লা লক্ষ্যে মসজিদ আর সংসদ কে এককরে ফেলবে তখন হবে গোঁজামিল যতক্ষন গোঁজামিল এ ব্যাস্ত থাকবে মসজিদের দরজাতেই আটকে থাকবে ।
মোল্লা প্রসংগের বাইরে যদি ধর্মের ব্যাবহার নিয়ে কথা বলি তা হলে প্রশ্ন কি হওয়া উচিত ??
এই ধর্ম কে বল বানিয়ে খেলার মাঠে আনছে কে ?
নাকি এই ধর্মে কে বল বানিয়ে খেলার মাঠে আনার পরে "ক" বা "খ" খেলা শুরু করলো কে ?
আমার বিশ্বাস ধর্মের বল মাঠে নামানোর পরে আমীনি যদি "অন্যের চেয়ে ভাল খেলতে পারবো " এই আত্ববিশ্বাস নিয়ে বরং নিজে না খেলে অপেক্ষকৃত দুর্বলের জন্য মাঠ ছেড়ে দেয় তা হলে ছেড়ে দেওয়া টাই বড় ভুল হবে ।
আপনি হয়তো জানেন না, ফতোয়া বা শরীয়া আঈনের চর্চা (প্রয়োগ নয় ) শান্তি পুর্ণ ভাবে সমাধান এবং পালন সম্ভব, এটা নিয়ে কোন প্রকার এর বিরোধ হওয়াটাই আসলে অবাক করার মত বিষয় ।
এখানে দেখুন এমেরিকা /কানাডা বা ইউকের মত দেশে ফতোয়ার অধিকারের জন্য কোন আন্দোলন ও করতে হয় না আবার ফতোয়া নিষিদ্ধ করার জন্য হাইকোর্টের রায় ও লাগে না ।
নিচে এমেরিকার এক ফতোয়া সেন্টার এর ঠিকানা দিলাম । সাড়্চ করলে কম পক্ষে ২০ টি শুধু এমেরিকাতেই পাবেন।
Sunni Path - Lightgiving Lamp, Inc.
916 Rivendell Way
Edison, NJ 08817 USA -
Fax: +1 309 296 2180
Click This Link
Click This Link
আবার যদি মুসলিম এবং রাজতন্ত্রের দেশ বলেন তা হলে উদাহরন দিব ইউনাইটেড এ্যরাব এমিরেটস ।
যে পরিমাণ "মদ" শুধু দুবাই তে প্রতি ঘন্টায় বিক্রী হয় সারা বাংলাদেশে বছর জুড়ে তার সমপরিমাণ মদ বিক্রী হয় কিনা সন্দেহ ।
আর পৃথীবির কিছু সেরা নাইট ক্লাব এই দুবাই তেই অবস্হিত ।
কই সেখানে তো ফতোয়া নিয়ে কোন অস্হিরতা র উদ্রেক হয় নাই!!!
আর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফতোয়া ঝুকি হলে সবচেয়ে বেশি ঝুকি তো রাজতন্ত্রে হবার কথা !!!
এখানে দেখুন দুবাই এর ফতোয়া প্রতিস্ঠান
http://www.iacad.gov.ae/EN/Pages/Default.aspx
এমেরিকা তে কানডায় ব্রিটেনে বা দুবাই তে ফতোয়া নিয়ে গন্ডগোল হয় না আমাদের বাংলাদেশে কেন রক্ত ঝরে কেন ভাংচুর হয় এটা নিয়ে আমি একটা পোস্ট দিছিলাম নিচের লিন্ক এ দেখুন ।
Click This Link
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১৮
পারভেজ আলম বলেছেন: আপনে কি কইতে চাইতাছেন যে তুর্কি, তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া এই দেশগুলায় এতদিন শয়তানী সেকুলার শাসন ছিল, আর এখন সেইখানে মুসলিম বিপ্লব হইয়া ব্যাপক বড় পরিবর্তন সাধিত হইছে বা হইতাছে? যদি তাই মনে করেন, তাইলে কমু বাস্তবতা বুঝতে আপনে ব্যর্থ হইছেন।
তুর্কির প্রশঙ্গ পুরাপুরি ভিন্ন। তুর্কি কখনো ঔপনিবেশীক শাসনে ছিল না, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠি জাতিগুলার মধ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আধুনিকায়ন তারা করছে সবার আগে। গত দশকের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে লিডিং পার্টিগুলা জনসমর্থন হারাইছে, মাঝখানে উইঠা আসছে অপেক্ষাকৃত রক্ষনশীল ইসলামপন্থী দল। ঐখানে কোন ইসলামী বিপ্লব হয় নাই। তুর্কি জাতির নিজ জাতিসত্ত্বা নিয়া গরমিল নাই, এরা নিজেগোরে মুসলমান বলার আগে তুর্কিশ বলে। এদের ধর্ম পরিচয় এরা জরুরি মনে করলেও শরীয়তরে পুছেনা। এরা কোলে গার্লফ্রেন্ড বসাইয়া আর হাতে বিয়ারএর ক্যান নিয়া গর্ব কইরা কয় 'আমি মুসলিম', আর মসজিদে নারী পুরুষ একলগে নামাজ পরে, হাটুর উপরে স্কার্ট পইড়া দাড়ি ছারা ইমামের পিছে নামাজ পড়া শেষে এরা ককটেইল পার্টি করতে যায়। তুর্কিতে ইসলামী বিপ্লব হইছে, এই স্বপ্নে বিভোর থাকলে লাভ নাই, বাস্তবতা ভিন্ন।
তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া এই দেশপগুলার ক্রাইসিস ভিন্ন। এই দেশগুলার মতো কিছু বাংলাদেশে হবে, এই ধরণে উক্তি করা মানে হইল বিশ্ব রাজনীতি সম্বন্ধে কোন পরিস্কার ধারণা না থাকা। বরং বাংলাদেশে এখন যেই অবস্থা এই অবস্থায় পৌছাইতে এই দেশগুলার অনেক সময় লাগবে। ৮০র দশকের শেষে বাংলাদেশে যেমন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হইছে এই দেশগুলাতে এখন তেমন হইতাছে। এই দেশগুলার ভাগ্য এবং দুর্ভাগ্য দুইটাই এদের জ্বালানি সম্পদ। পশ্চিমা সভ্যতা এখন পর্যন্ত এর চূরান্ত ভোগবাদী জীবনব্যাবস্থা কায়েম রাখছে প্রাক্তন উপনিবেশগুলার উপরে নিজেদের নিয়ন্ত্রন নয়া উপনিবেশ ব্যবস্থার মধ্য দিয়া। আরব দেশগুলা অর্থনীতিতে আগায়া থাকলেও তাগো উপরে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশের চেয়ে বেশী। গাদ্দাফিগোরেও পশ্চিম তোষন কইরা ক্ষমতায় আইতে হইছে, আবার এখন যারা আসবে তারাও পশ্চিম তোষন কইরাই আসবে, নামে তারা অমুক তমুক ইসলামী দল হইলেও ভিন্ন কিছু হবে না। আর এইসব দেশে র্যাডিকাল ইসলামের বীজ বোপনও হইছে পশ্চিমের হাতেই, এরা যদি বেশী বাইরা যায় তাইলে তো পশ্চিমা দেশগুলার পোয়াবারো, ডাইরেক্ট দখল কইরা ফেলতে তখন সুবিধা হয়। আফগানিস্তান এবং ইরাক প্রশ্নে ফ্রান্সরে কতটুকু এক্টিভ দেখছেন? আর এখন লিবিয়া প্রশ্নে কতটুকু দেখতাছেন? ফ্রান্সএর সাথে লিবিয়ার সম্পর্কটা কোন জায়গায়? একটু ইতিহাস ঘাটেন, পাইয়া যাইবেন।
বাংলাদেশ উপনিবেশ তথা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে অনেক আগায়া আছে আরবের এই রাষ্ট্রগুলার চেয়ে। বাংলাদেশের পর্যায়ে আসতে এদের অনেক সময় লাগবে। বাংলাদেশের যাবতীয় উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বড় গলার কাটা এখন এই মোল্লারা, এরা উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনরে সাম্প্রদায়িক এবং মধ্যযুগীয় বর্বরতা দিয়া কলুসিতই শুধু করেনা বরং পশ্চিমের হাতে জঙ্গীবাদ দমন নামক একটা অস্ত্ররে তুইলা দেয়। এরা পশ্চিমের সৃষ্ঠি, পশ্চিমই এদের লালন করে, আবার পশ্চিমই এদের দমন করে। আমাদের বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পথে এরা বিজাতীয় কিছু ঝামেলা উদ্রেককারী ছাড়া ভিন্ন কিছু না।
হাসাইলেন, আম্রিকা অথবা কানাডায় ফতোয়া আইনের দৌড় কতদুর? উদাহরণ সহকারে বলবেন কি?
আধুনিক দুনিয়ায় ইসলাম ধর্ম আর পূঁজিবাদ কিভাবে হাত ধরাধরি কইরা চরম আদর্শহীণ আর অনৈতিক সমাজ ব্যবস্থা গইড়া তুলতে পারে দুবাই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আপনের কাছে কি এইটাই আধুনিক আদর্শ ইসলামিক রাষ্ট্র নাকি?
৩১|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:১২
সাগ৪২০ বলেছেন: ধর্মীয় মৌলবাদ উচ্ছেদের পথ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম
৩২|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:০০
যান্ত্রিক বলেছেন: লেখক বলেছেন, "আমাদের শিক্ষা, আইন ব্যবস্থা, সামরিক বাহিনী কোনকিছুই ইসলাম বা অন্য কোন ধর্মের শরীয়ত মোতাবেক হয় না, "
-- কথা সত্য। সঠিক শরীয়ত মোতাবেক হলে সমাজে এতো অশান্তি থাকতোনা।
"শরিয়তী ইসলামের কাছে একসময় দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্পকলায় সমৃদ্ধ আরব দুনিয়ার পতন ঘটছে। ইবনে সিনা, আল ফারাবি, ওমর খৈয়ামের দর্শন ও মতবাদের লাশের উপর দিয়া রচিত হইছিল, হাম্বলি, আশারী, গাজালি, তাইমিয়াগো শরিয়তী ইসলামের ইতিহাস।"
--'শরিয়তী ইসলাম' বলতে আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন? আর আপনি ইবনে সিনা, আল ফারাবি, ওমর খৈয়াম, হাম্বলি, আশারী, গাজালি, তাইমিয়া-দের সম্পর্কে কতটুকু জানেন ?
"বাঙালি যখনি মুসলমান হইতে গেছে তখনি ফরায়েজী হইছে, খেলাফতি স্বপ্নদোষী হইছে ।-- (দুরের পাখি (বাঙালি মুসলমান : একটি করুণ হাস্যরসের নাম) ) "
--ফরায়েজী, খেলাফতি আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে 'দুরের পাখি' এবং আপনার বিন্দুমাত্র ধারণা আছে কিনা আমি জানিনা।
"অন্তত একটা বাঙালি যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন ঐ দাড়ি টুপিওয়ালাদের দৌড়াত্ব মসজিদ পর্যন্তই হবে"
-- দাড়ি-টুপি আপনার কি ক্ষতি করল? এগুলোর তো কোন প্রাণ নেই।
"এই দেশে আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে কোটি কোটি বাঙালির অবস্থান শরীয়তের বিপক্ষে"
--আমার অবস্থান সঠিক ইসলামি শরীয়তের পক্ষে। এটা আমাদের ব্যর্থতা যে আমরা তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারিনা। এর জন্য তো আপনি শরীয়ত বা ইসলামকে দোষারোপ করতে পারেননা।
--আপনার কাছে আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর আশা করছি।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩৭
পারভেজ আলম বলেছেন: -- সঠিক শরীয়ত মোতাবেক দুনিয়ায় কবে কোন রাষ্ট্রে পরম শান্তীর রাজত্ব কায়েম হইছিল বলবেন কি? আর আরেকটা কথা, একটা আইন ব্যবস্থা যদি সর্বকালের জন্য সর্বোত্তম হয়, তাইলে মানুষ সেইটা থেইকা দূরে সইরা যায় কিভাবে অথবা নতুন আইনের হাজির হয় কেন?
-- শরিয়তী ইসলাম বলতে আমি আর কি বুঝামু, যা বোঝায় তাই বুঝি। সুন্নি শরীয়ত তথা কোরআন এবং ছিহাহ সিত্তার কঠোর অনুশাসনের ইসলামই তো শরিয়তী ইসলাম। এই জিনিস মোটামুটি ৮ শতকের দিকে আরব ভুখন্ডে জন্ম নিছিল এবং ১১ শতকে পূর্ণাঙ্গতা পাইছে।
এদের সম্বন্ধে আমার জ্ঞান খুব বেশী না। এই ধরেন গিয়া এদের নিয়া একটা বই লিখছিলাম, আর ব্লগে কিছু পোস্ট দিছিলাম, সেই হিসাবে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করতে হইছে অতটুকুই। আপনে মনে হয় এদের সম্বন্ধে অনেক কিছু জানেন? আমি ভুলটা কই বলছি একটু ধরায়া দিয়া অধমরে জ্ঞানবান করেন না দয়া কইরা।
-- আপনে জানেন না, সেইটাইতো আমার বা দুরের পাখির কতটুকু ধারণা আছে আপনে জানেন না। তাইলে জানার চেষ্টা করেন।
-- দাড়ি টুপি আমার ক্ষতি করবে কিভাবে? আমি তো দাড়ি টুপিওয়ালাদের কথা বলছি। এরা কি ক্ষতি করছে তাতো আমার পোস্টেই আছে। কোন জায়গাটা আপনের ভুল বা মিথ্যা মনে হইছে বলেন না।
--আপনের অবস্থান সঠিক ইসলামি শরীয়তের পক্ষে হইতেই পারে, কোন সমস্যা নাই। এই যুগে এইটা প্রয়োগ করতে পারবেন না এইটাই স্বাভাবিক। মধ্যযুগের আইন এই আমলে চলবেনা। জ়োর কইরা চাপাইতে গেলে আমাগো লগে মারামারি কইরা চাপাইতে হবে।
সবগুলা তো প্রশ্ন ছিল না, তাও উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। এইবার আপনের কাছে গঠনমূলক এবং পরিস্কার আলোচনা আশা করছি।
৩৩|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:১৭
ধ্রুব তারা বলেছেন: @যান্ত্রিক: খুব সহয একটা লজিকের কথা বলছি-
ধরেণ আমি বা আপনি খুব ভাল একজন শিক্ষক, কিন্তু আমরা যাদের পড়াই তারা কখনোই পরীক্ষায় পাশ করে না। তবে কি বুঝবো যে আমরা ভাল, আমাদের সহস্র বছরের তাবৎ শিক্ষার্থী অপরিপক্ক?
প্রশ্নটার কারণ হচ্ছে শরিয়তী আইন সে পর্যায়েই চলে গ্যাছে। কোন মুসলমান-ই বিগত কয়েক শ' বছরে শতভাগ সঠিকভাবে শরিয়ত পালিত হয়ে কোন দেশ প্রভূত উন্নয়ন সা্ধন করেছেন তার কোন উদাহরণ দিতে পারে না। তাহলে শরিয়তের অবস্থান তো সেই শিক্ষকের মতো যে ভাল হলেও ছাত্র পাশ করাতে পারঙ্গম নয়
৩৪|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৪২
সাজ্জাদ হোসাইন সাজিদ বলেছেন: পারভেজ ভাই, চমৎকার লেখছেন। খুবই ভালো লাগছে লেখাটা...
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৮
পারভেজ আলম বলেছেন: ধন্যবাদ সাজিদ। তুমি যে ব্লগে আছ জানতাম না তো। এইখানে তোমারে দেইখা ভালো লাগলো।
৩৫|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩০
আলমগীর হুসেন বলেছেন: চমৎকার লেখাটা। তবে "ইসলাম গেলো" ধ্বনিটি বাংগালী মুসল্মানের পেটেন্টেড না।; এটা সব মুসলিমদের। অখণ্ড ভারতে হিন্দু পৌত্তলিক শাসনের অধীনে "ইসলাম যাবে" বা মুসলিমের বসবাস ইসলামে গ্রহনযোগ্য না -- এ অজুহাতে সারা ভারতের মুসল্মানরা পাকিস্তানের দাবি তুলে মুসলিমদের জন্য। বাংগালী মুসল্মানও তাতে যোগ দেয়।
আর ধ্বনিটির উৎপত্তি ইংরেজ আমলে দাবিটি ঠিক নয়। যখনই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তখনি বাংগালিসহ ভারতের মুসলিমরা এ ধ্বনি তুলেছে। যেমন আমির তিমুর দিল্লিকে লণ্ড-ভণ্ড করে চলে গেলে (১৪৯৯) হিন্দু বিদ্রোহীরা ক্ষমতা হস্তগত করার অবস্থায় পৌঁছে। তখন ভারতীয় সুফিপীর-ওলামারা "ইসলাম গেলো" ধ্বনি তুলে বহির্বিশ্বের মুসলিমদের কাছ থেকে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান এবং তাতে সারা দিয়ে চলে আসেন বাবর। একইভাবে, মারাঠা হিন্দুরা যখন ভারতকে করায়ত্ব করার পর্যায়ে, তখন সুফিপীর শাহ উয়ালীউল্লাহ ইসলামকে বাঁচানোর আবেদন জানান বহির্বিশ্বের মুসলিমদের কাছে এবং আফগানিস্তান থেকে চলে আসেন আহমদ শাহ আব্দালী তিন-তিন বার এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের তিনি মারাঠাদেরকে ধ্বংস করে চলে যান (১৭৬১)। আর বাংগালী মুসলমানের "ইসলাম গেলো" ধ্বনি আমরা শুনি তারও আগে। ১৪১৪ সালে এক হিন্দু বিদ্রোহী ক্ষমতা দখল করে মুসলিম শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করে। বাংলার সুফিপীর-উলেমারা "ইসলাম গেলো" ধ্বনি তুলে বাইরে থেকে সাহায্যের আবেদন জানান। সে আবেদনে সাড়া দিয়ে চলে আসেন ইব্রাহিম সারকি এবং সে হিন্দু রাজাকে পরাজিত করেন। তখন বাংলার প্রখ্যাত সুফি সাধক (তৎকালীন) কুতবি আলম সে হিন্দু রাজার ১২ বছর-বয়সী ছেলেকে মুসলমান বানিয়ে ক্ষমতায় বসান। এবং সে বাচ্চা সুলতানকে সুফি-সাধক ইসলামের এমন দীক্ষা দেন যে, তিনি হিন্দুদেরকে কেবল কোরান কিংবা মৃত্যুর উপায় দেন। তার আমলে বাংলায় ইসলামে ধর্মান্তরের জোয়ার বয়ে যায়। বাকিদেরকে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে জান বাচাতে হয়।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৩
পারভেজ আলম বলেছেন: 'ইসলাম গেলো' ধ্বনি বাঙালি মুসলমানে প্যাটেন্ট তা কিন্তু বলি নাই। বলছি যে বাঙালি মুসলমান এই ধ্বনিতে বিভ্রান্ত হয়। এই ধ্বনির প্যাটেন্ট থাকে সাধারণত কিছু প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর হাতে।
ইসলাম গেলো ধ্বনির এই প্রাচীনত্ব নিয়া আমার জানা নাই। ভারত বর্ষে মারাঠা বিরোধী ইসলামী জোট যে আফগানিস্তান থেইকা সাহাজ্য প্রার্থনা করছিল সেইটা জানতাম, বাবর যে এই প্রেক্ষিতে আসছেন ভারতে তাও জানতাম না। যতদুর জানতাম ইব্রাহীম লোদীর আহবানে বাবর ভারতে আসছিলেন। আর ১৪১৪ সালে বাঙলাদেশের সুফিদের ইসলাম গেলো ধ্বনি তোলার কাহিনীটাও জানতাম না। তথ্যগুলার জন্য ধন্যবাদ। বিশেষ করে, রেফারেন্স দিলে কৃতজ্ঞ হইতাম।
তবে আমার উল্লেখিত ইসলাম গেলোর সাথে আপনের উল্লেখিত ইসলাম গেলোর যে একটা বড় পার্থক্য আছে সেইটা বোধকরি খেয়াল করবেন। মুসলিম সুলতান অথবা সুফি, মওলানারা নিজেদের সার্ভাইবালএর জন্য বিদেশী শক্তির সাহায্য চাওয়া আর ইসলাম গেলো ধ্বনি তুইলা জনগণের সমর্থন চাওয়া কিন্তু ভিন্ন জিনিস। মধ্যযুগে বাঙলার জনগণের মনে 'ইসলাম গেল' ধ্বনির কোন প্রভাব ছিল বলে আমার জানা নাই, জনগণের উদ্দেশ্যে এমন ধ্বনি কেউ তুলছিলেন কি? মধ্যযুগীয় বাঙলায় রাজনীতি আর জনগণ দুইমেরুর বিষয় আশয় ছিল বলেই জানি।
৩৬|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩১
যান্ত্রিক বলেছেন: @ ধ্রুব তারা, আপনি বলেছেন, কোন মুসলমান-ই বিগত কয়েক শ' বছরে শতভাগ সঠিকভাবে শরিয়ত পালিত হয়ে কোন দেশ প্রভূত উন্নয়ন সা্ধন করেছেন তার কোন উদাহরণ দিতে পারে না।
-- বিগত কয়েকশ' বছরে কোন দেশ-ই শতভাগ সঠিকভাবে শরীয়ত পালন করতে পারেনি। যদি পারত তবে কখনোই আজকে পৃথিবীর এই অবস্থা হতো না। যারা পেরেছিলেন তাদের কথা কি আপনারা কখনো উল্লেখ করেছেন? তাদের অনুসরণ করার কি কখনো চেষ্টা করেছেন?
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৫
পারভেজ আলম বলেছেন: উন্নতির মাপকাঠি কি? কঠোর ইসলামী শরীয়ত পালন করে কোন রাষ্ট্র কবে প্রভুত উন্নতি সাধন করেছিল?
৩৭|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩৫
যান্ত্রিক বলেছেন: @ আলমগীর হুসেন , আপনি বললেন, আমির তিমুর দিল্লিকে লণ্ড-ভণ্ড করে চলে গেলে (১৪৯৯) হিন্দু বিদ্রোহীরা ক্ষমতা হস্তগত করার অবস্থায় পৌঁছে। তখন ভারতীয় সুফিপীর-ওলামারা "ইসলাম গেলো" ধ্বনি তুলে বহির্বিশ্বের মুসলিমদের কাছ থেকে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান এবং তাতে সারা দিয়ে চলে আসেন বাবর। একইভাবে, মারাঠা হিন্দুরা যখন ভারতকে করায়ত্ব করার পর্যায়ে, তখন সুফিপীর শাহ উয়ালীউল্লাহ ইসলামকে বাঁচানোর আবেদন জানান বহির্বিশ্বের মুসলিমদের কাছে এবং আফগানিস্তান থেকে চলে আসেন আহমদ শাহ আব্দালী তিন-তিন বার এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের তিনি মারাঠাদেরকে ধ্বংস করে চলে যান (১৭৬১)। আর বাংগালী মুসলমানের "ইসলাম গেলো" ধ্বনি আমরা শুনি তারও আগে। ১৪১৪ সালে এক হিন্দু বিদ্রোহী ক্ষমতা দখল করে মুসলিম শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করে। বাংলার সুফিপীর-উলেমারা "ইসলাম গেলো" ধ্বনি তুলে বাইরে থেকে সাহায্যের আবেদন জানান। সে আবেদনে সাড়া দিয়ে চলে আসেন ইব্রাহিম সারকি এবং সে হিন্দু রাজাকে পরাজিত করেন। তখন বাংলার প্রখ্যাত সুফি সাধক (তৎকালীন) কুতবি আলম সে হিন্দু রাজার ১২ বছর-বয়সী ছেলেকে মুসলমান বানিয়ে ক্ষমতায় বসান। এবং সে বাচ্চা সুলতানকে সুফি-সাধক ইসলামের এমন দীক্ষা দেন যে, তিনি হিন্দুদেরকে কেবল কোরান কিংবা মৃত্যুর উপায় দেন। তার আমলে বাংলায় ইসলামে ধর্মান্তরের জোয়ার বয়ে যায়। বাকিদেরকে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে জান বাচাতে হয়।
--আপনার এই তথ্যের রেফারেন্স জানতে চাই।
৩৮|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:১৪
ছোটমির্জা বলেছেন:
লেখক বলেছেন: চ্যাতেন কেন? আমি তো কইলামই আপনের মন্তব্যটা বুঝি নাই। কতটুকু সহমত কইলেন বা কতটুকু দ্বিমত থাকলেন, আর খোঁচা দিলেন কোন কোন দিক দিয়া, সেইটা আরো পরিস্কার করলে ভালো হইতো।
লাইনে আইছেন।
জানামতে ব্লগের অগ্গেয়বাদীরা সো কল্ড মুসলিমদের চেয়ে ১০ গুন রেম ও ৫ গুন স্পিডী প্রসেসর উইজ করে। ৫ম প্রজাতির রোবটের মত বা ৪র্থ জেনারেশন মোবাইল ফোনের মত। আমি খুব কড়া কথা বলি নাই- এতেই এই অবস্হা (আসিফ বা ওন্য অগ্গেয়বাদী হৈলে কৈত-আপনার বুদ্ধিলেভেল হাঁটুর নিচে- আমি কিছু কৈলাম না, এই না কওয়াই বাংলার মুসলমানদের সাধারন বৈশিষ্ট, এরা সুযোগ পাইলেই কাওকে আঘাত করে না, তথাকথিত অগ্গেয়বাদীরা, কমপক্ষে ব্লগেরগুলি করে এবং বেশী রকমেরই করে- এতে মুসলিমদের উপকার হয় বৈকি)। আমি হয়ত বোঝাতে পারিনি। অথবা আপনাকে যেমন দেখেছি, তাতে আপনার বোঝা উচিত আমি কি বোঝাতে চেয়েছি।
এই আপনারই মেলা কাজ আছে, বুদ্ধবৃত্তিক রিসার্চ করার আছে, নতুন কোন ঘরানা করার কাজ আছে, নিজের পার্সোনাল কাজ ও আছে- তা না করে আপনি বাংলার মুসলিম সমাজকে নিয়ে লেগে আছেন যা কিনা আপনি ধারন করেন না। ধারন কর্তে হবে এটা ম্যান্ডাটরি না- তবে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে বা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও কেও কেও সংস্কারের দিকে এগিয়ে আসে। আপনে হয়ত তাই। আসেন ভাই বাংলার গোঁজামিল দেয়া মুসলিমদের বুকে আসেন। এদের জীবনে আঁলো জ্বালিয়ে দিন।
তয় আমার মনে হয় বৃ্ত্তের বাইরে থেকে দায়বদ্ধতাহীন খোঁচাখঁচি করার চেয়ে অগ্গেয়বাদীদের নিজেদেরি কিছু করা উচিত। এক্সিস্টিং কোন কিছুর সমালোচনা করা খুব সহজ।
সেই সহজ পন্হাকে নিয়ে পড়ে থাকলে আপ্নার লেভেলটা কিন্তু হাঁটুর উপরে উঠবেনা পারভেজ ভাই।
ভেবে দেখতে পারেন।
(পোস্ট রিলেটেড কমেন্ট হয়নাই হয়ত)
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৩৪
পারভেজ আলম বলেছেন: বাঙলার মুসলিম সমাজরে আমি ধারণ করি না আপনেরে কে কইল? অবশ্যই ধারণ করি। আমার জন্ম বাঙালি মুসলিম পরিবারে, বাঙালি মুসলমানিত্বের দুর্বলতা, গরলতা, গরমিল এবং সেইসাথে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনা এইসবই আমি ধারণ করে বড় হইছি। এই যে বাঙালি মুসলমানের চেয়ে বরং নিজেরে বাঙালি হিসাবে দাবি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি বেশী সেই শক্তিও কিন্তু বাঙালি মুসলমানিত্ব থেইকাই একটু একটু কইরা সঞ্চয় করা। ভারতের বাঙালি হিন্দু কিন্তু এখনো বাঙালি মুসলমানের মতন বাঙালি হইতে পারল না।
বৃত্তের বাইরে থাইকা দায়বদ্ধতাহীণ খোঁচাখুঁচি করি এই অভিযোগটাও মানতে পারলাম না। বাঙালি হিন্দু কিংবা বাঙালি মুসলমান অথবা অন্য কোন সম্প্রদায়ের বাঙালির রাজনৈতিক স্বার্থ একি বৃত্তের ভেতরে, যদি না আপনার রাজনৈতিক আনুগত্ব বাঙলার বাইরে কোথাও হয়। আমি এই বৃত্তের ভেতরেই আছি, সমালোচনা এবং লড়াই বৃত্তের ভেতরে থাইকাই করি। আমারে আপনে বন্ধু হিসাবে নিবেন না কি শত্রু, এই স্বিদ্ধান্ত আপনার।
ইশ্বর বিষয়ে আমার অজ্ঞেয়বাদী অবস্থান এই পোস্টের সাথে সম্পর্কৃত না।
৩৯|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৪১
যান্ত্রিক বলেছেন: উন্নতির মাপকাঠি কি? কঠোর ইসলামী শরীয়ত পালন করে কোন রাষ্ট্র কবে প্রভুত উন্নতি সাধন করেছিল?
একটা আইন ব্যবস্থা যদি সর্বকালের জন্য সর্বোত্তম হয়, তাইলে মানুষ সেইটা থেইকা দূরে সইরা যায় কিভাবে অথবা নতুন আইনের হাজির হয় কেন?
শরিয়তী ইসলাম বলতে আমি আর কি বুঝামু, যা বোঝায় তাই বুঝি। সুন্নি শরীয়ত তথা কোরআন এবং ছিহাহ সিত্তার কঠোর অনুশাসনের ইসলামই তো শরিয়তী ইসলাম। এই জিনিস মোটামুটি ৮ শতকের দিকে আরব ভুখন্ডে জন্ম নিছিল এবং ১১ শতকে পূর্ণাঙ্গতা পাইছে।
আপনের অবস্থান সঠিক ইসলামি শরীয়তের পক্ষে হইতেই পারে, কোন সমস্যা নাই। এই যুগে এইটা প্রয়োগ করতে পারবেন না এইটাই স্বাভাবিক। মধ্যযুগের আইন এই আমলে চলবেনা।
--আমার কাছে একটি রাষ্ট্রের উন্নতির মাপকাঠি হলো সঠিক ন্যায়-বিচার। যে জাতি যত ভালভাবে ন্যায়-বিচার সম্পন্ন করতে পারবে সেই জাতি তত উন্নত। এখন আপনি যদি উদাহরণ দেন এখনকার কিছু অল্পশিক্ষিত এবং রাজনীতি করার জন্য ইসলামকে ব্যবহার করা আলেমদের তবে বলব আপনি শুধুই ইসলামের নামে দুর্নাম দেয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাগণ যেভাবে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তার কোন তুলনা কি দিতে পারবেন কখনো? পরবর্তীকালে কিছু মুসলিম নামধারী কুলাঙ্গার নিজেদের ইচ্ছামতো শাসন করেছে আর নাম দিয়েছে শরীয়তের। কিন্তু এজন্য ত আপনি শরীয়তকে দোষারোপ করতে পারেননা।
--আপনি বারবার ইসলামী শরীয়তকে কঠোর বলছেন। কিন্তু আমি মনে করি ইসলামী শরীয়তই সবচেয়ে সঠিকভাবে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল।
--দুখেঃর বিষয়, আমরা সঠিকভাবে কোরআনের অনুশাসন মেনে চলতে পারছিনা। এটা আমাদেরই ব্যর্থতা।
-- আর এই যুগে এটা প্রয়োগ করা যে অত্যাধিক কঠিন, তাতে কোন সন্দেহ নেই।
৪০|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:২১
আলমগীর হুসেন বলেছেন: @পারভেজ, বাংলার ওলামা সুফিদের ইসলাম বাচাতে (১৪১৪) বাইরে থেকে সাহায্যের আবেদনের তথ্য পাওয়া যাবেঃ James Wise, "The Journal of the Asiatic Society of Bengal" (1984), cited by KS Lal, "Indians Muslims: Who are They?" p57; also see SS Sharma, "Caliphs and Sultans", 243-44. The Cambridge History of India also refers to that tide of conversion.
We find a similar "save Islam" call from the Ulema and Sufi saints of Gujarat during Sultan Firoz Tughlaq (r.1351-88), when the tolerant Muslim governor there started treating non-Muslims with tolerance in their practice of religion (Mohammad K Ferishtah, "History of the Rise of Mohammedan Power in India", p. 1). And Sultan Firoz Tughlaq, after consultation with the Sufi masters of his court, appointed Muzaffar Khan as the ruler of Gujarat, who removed the tolerant governor Farhat-ul-Mulk and destroyed every idol-temple he came across.
And the "save Islam" cry today or in those days has to be considered in the context of time, but they represent the same thing. Today some Islamic leader would raise the call (keeping their self-interest in mind) and some people will come to the street, while others would give support by maintaining silence. The same in those days: a weak Sultan or Sufi-Ulemas would raise the call for their own interest. It's difficult to gauge how general Muslims reacted. The majority of them certainly maintained silence; very few, I would think, opposed those calls. We have to reflect on it in the context of the level of participation of the general masses in politics in those days and today.
(Sorry, to save time, had to write this comment in English)
৪১|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৪৬
যান্ত্রিক বলেছেন: জনাব আলবার্ট_আইনস্টাইন , আমার কাছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা উন্নতির আদর্শ নয়, মাপকাঠি। আর এটা কেবল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে। প্রতিটি মানুষ ও সমাজের জন্য মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন।
আর আপনি মদ-জুয়া-সুদের মত বিষয়কে কি করে নিরীহ বলছেন তা আমার বোধগম্য হলোনা।
দাসপ্রথার কথা বলছেন? ইসলামই সর্বপ্রথম দাসপ্রথা বন্ধের ব্যপারে উৎসাহিত করেছে। একটু দেরি কেন হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ ইতিহাস পড়লেই জানতে পারবেন।
যুদ্ধে পরাজিত গোত্রের বেসামরিক নারী-শিশুদের দাস হিসেবে বন্দি করার আদেশ ইসলাম কখনোই দেয়নি। বরং ইসলাম বলেছে নারী ও শিশুদের যেন বিন্দুমাত্র ক্ষতি না হয় এবং ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। দয়া করে ইতিহাস ভালভাবে জেনে এই ধরণের কথা বলবেন। সর্বকালের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন, ইসলামই মানুষকে সবচেয়ে উন্নত চরিত্র গঠন ও সর্বোত্তম ন্যায়বিচার করতে শিখিয়েছে।
আপনি আরো বললেন, "আমিনী বাংলাদেশে কোন ভার্সনের শরিয়ত প্রতীষ্ঠা করতে চায় একটু খোঁজ নিয়ে তারপর তাকে সমর্থন কইরেন। নাহলে একদিন দেখা যাবে, আমিনীর শরিয়ত প্রতীষ্ঠিত"
-- দুঃখিত, আপনি যদি ভেবে থাকেন আমি আমিনীর সমর্থক তবে ভুল করছেন, আর আমিনীর শরীয়ত বলতে কিছু নেই, যদি কেউ বলে আছে, তাকে আমি প্রত্যাখান করি।
"শতভাগ সঠিকভাবে শরীয়ত পালন করতে পারেনি, কারণ এই যুগে মধ্যযুগীয় আচরণ শতভাগ পালন করা সম্ভব না। এই যুগে আপনি চুরির অপরাধে কারো হাত কাটতে পারবেন না। ব্যাভিচারীকে মৃত্যুদন্ড দিতে পারবেন না, যুদ্ধে পরাজিত জাতির নারী-শিশুদের দাস বানাতে পারবেন না, অপহৃত নারীদের যৌনদাসীতে পরিনত করতে পারবেন না। কারণ মানুষের মানবতার স্ট্যান্ডার্ড অনেক এগিয়ে গেছে, মধ্যযুগীয় নেই আর। ধর্মত্যাগীদের হত্যা করা, অমুসলিমদের ওপর জিজিয়া কর ধার্য করা এসকলও সম্ভব নয় আধুনিক মানব সমাজে।"
--আপনার কি মনে হয়? চুরির অপরাধে কারো হাত কাটলে চুরি কমবে নাকি বাড়বে? ব্যাভিচারীকে মৃত্যুদন্ড দিলে ব্যাভিচারীর সংখ্যা বাড়বে নাকি কমবে? আর অমুসলিমদের উপর জিজিয়া কর ধার্য করার বিশেষ প্রেক্ষাপট আছে। আপনি শোষক ইংরেজদের বানানো মুসলিমবিদ্বেষী কাহিনী না পড়ে সঠিক ইতিহাস জানার চেষ্টা করুন।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:০৭
পারভেজ আলম বলেছেন: আপনার প্রথম মন্তব্যের জবাবে আমি কিছু উত্তর দিয়েছিলাম এবং আলোচনার আহবান জানিয়েছিলাম। আপনি অবশ্য টু দা পয়েন্ট আলোচনা চালাচ্ছেন না। আমার দ্বিতীয় মন্তব্যের জবাবে যা বলেছেন তার খুব সুন্দর জবাব আইনস্টাইন দিয়েছে, আমি আর দেয়ার প্রয়োজন মনে করি নাই।
যাই হোউক, আপনার এই মন্তব্য থেকে বুঝলাম যে ইসলামী শরীয়ত সম্বন্ধে আপনার তেমন কোন ধারণা নাই। নিজে যা ভালো মনে করেন সেইটাই আপনি ইসলাম মনে করেন। আপনি বলেছেন -
যুদ্ধে পরাজিত গোত্রের বেসামরিক নারী-শিশুদের দাস হিসেবে বন্দি করার আদেশ ইসলাম কখনোই দেয়নি। বরং ইসলাম বলেছে নারী ও শিশুদের যেন বিন্দুমাত্র ক্ষতি না হয় এবং ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান।
যুদ্ধে পরাজিতদের নারীদের দাস হিসাবে বন্দি করার আদেশ কোরআন এবং হাদিসে সুস্পষ্টভাবে দেয়া আছে। আমার একটা পুরনো পোস্ট ছিল "নৈতিকতার ভিত্তী এবং উৎস"। সেইখানে ইসলামী শরীয়ত যে এখনকার দিনে উপযুক্ত না এই নিয়া ব্লগার এক্সএর সাথে ব্যাপক বিতর্ক হইছি। ইসলামী শরীয়ত টাকায় কেনা দাসী এবং যুদ্ধ বন্দী দাসীদের সাথে সেক্স করাকে যায়েজ মনে করে, অনৈতিক মনে করে না। এক্স তর্ক করেছিল যে যুদ্ধবন্দীদের সাথে নিয়ম থাকলেও টাকায় কেনা দাসীর সাথে সেক্স করার অনুমতি ইসলাম দেয় নাই। তখন কোরআন হাদিস সহকারে রেফারেন্স দিয়েছিলাম। আপনাকে ঐ পোস্টের ৭০ নম্বর মন্তব্যের জবাব থেকে কিছু অংশ কপি পেস্ট দিচ্ছি।
সুরা আল-মুমিনুন মক্কায় অবতির্ণ হইছিল, হিজরতের আগে। এই সময় পর্যন্ত মোহাম্মদ কোন যুদ্ধে জড়ান নাই। সুতরাং যুদ্ধবন্দী দাসি বিষয়ে কোন আলোচনা থাকার কথাও না। কিন্তু দাসি জিনিসটা কিন্তু আরব কালচারে সেই সময়ও ছিল, দাস ব্যাবসা ছিল জানেন তো। এই দাসিদের সাথে যৌনতা নিয়া কোরআনে আল-মুমিনুন সুরায় প্রথম কোন বক্তব্য পাওয়া যায় সুরার ৫ এবং ৬ নম্বর আয়াতে। সেখানে বলা হইছে -
5 [Most certainly true believers] . . . guard their private parts scrupulously, 6 except with regard to their wives and those who are legally in their possession, for in that case they shall not be blameworthy.
অর্থাৎ, একজন মুমিন ব্যাক্তি শুধুমাত্র নিজের স্ত্রী এবং লিগালী অধিকারভুক্ত (দাসী বা উপস্ত্রী) ছাড়া আর কারো কাছে নিজের শরীর প্রদর্শন করতে পারবেন না। এই লিগালী অধিকারভুক্ত বলতে দাসী বা উপস্ত্রীদের কথাই যে বলা হইছে সেইটা যেমন এই আয়াত পরলে বোঝা যায়, তেমনি ইসলামী তফসিরকারীরাও দীর্ঘদিন যাবৎ তাই বইলা আসছেন। এর বিকল্প বোঝার কোন অবকাশ নাই। অর্থাৎ, যুদ্ধবন্দীদের শুধুমাত্র উপস্ত্রী বানানোর নিয়ম আছে এই দাবি সর্বৈব মিথ্যা। টাকা দিয়া দাসি সেই আমলে কেনা যাইতো, শুধুমাত্র যুদ্ধে পাওয়া যাইতো না। এইবার আসি ইসলামে যুদ্ধবন্দী নারীদের বিষয়ে কি বলা আছে। যুদ্ধবন্দী নারীদেরক উপস্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করার ব্যাপারে ইসলামে যে নিয়ম আছে তাতে কি ঐ নারীর ব্যাক্তিগত ইচ্ছার কোন দাম ছিল? ছিল না। এমনকি সেই নারীর আগে কোন বিবাহ হয়ে থাকলেও বন্দী হওয়ার পর তার সেই বিবাহকে ভ্যালিড ধরা হতো না। সুরা নিসাতেই এই বিষয়ে বলা আছে যে
And forbidden to you are wedded wives of other people except those who have fallen in your hands (as prisoners of war) (4:24)
অর্থাৎ অন্য পুরুষের স্ত্রীদের সাথে যৌনতা নিষিদ্ধ হলেও যুদ্ধে পরাজিতদের স্ত্রীদের সাথে যৌনতা কোন সমস্যা না।
যেখানে সেই ৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ভারতীয় আইনবেত্তা কৌটিল্য তার নীতি শাস্ত্র এবং তৎকালিন মগধ সাম্রাজ্যের সংবিধানে আইন দিয়ে গেছেন যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা যাবে না সেইখানে যুদ্ধবন্দী নারীর ব্যাক্তিগত ইচ্ছার কোন দামই দেয় নাই ইসলামী নৈতিকতা। উলটো একজন যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে সেক্স করাকে খুব স্বাভাবিক ভাবে নেয় ইসলামী শরিয়ত। আপনাকে এই বিষয়ে এবার একটা হাদিসের উদাহরণ দেই। বুখারী শরীফের হাদিস।
Narrated Buraida: The Prophet sent 'Ali to Khalid to bring the Khumus (of the booty) and I hated Ali, and 'Ali had taken a bath (after a sexual act with a slave-girl from the Khumus). I said to Khalid, "Don't you see this (i.e. Ali)?" When we reached the Prophet I mentioned that to him. He said, "O Buraida! Do you hate Ali?" I said, "Yes." He said, "Do you hate him, for he deserves more than that from the Khumlus." Volume 5, Book 59, Number 637
আমি সচরাচর এইসব নোঙড়া বিষয় এড়িয়ে যেতে পছন্দ করি। যেইসব মুসলিম ১৪০০ বছর আগের আইনে ফিরে যেতে চান না, এবং যুগোপযোগী নৈতিকতার সমর্থন করেন, তাদের সামনে কখনো আমি এইসব শরীয়াহ ভিত্তিক আইন নিয়ে টানা হ্যাচরা করি না। কিন্তু আপনি যেহেতু ১৪০০ বছর পুরনো সব নৈতিক ধ্যান ধারণা এখনো প্রয়োগের পক্ষপাতি, সুতরাং টানা হ্যাচরা করতে বাধ্য হলাম। এইবার আপনে আমারে পরিস্কার ভাষায় উত্তর দেন, আপনে কি যুদ্ধবন্দীদের সাথে বর্তমান যুগে উপরোক্ত হাদিসের মতো সেক্স করাকে সমর্থন করেন না করেন না? যদি না করেন, তাইলে আপনেও মানতে বাধ্য হলেন যে নৈতিকতা পালটায়, যুগে যুগে যুগের প্রয়োজনেই পালটায়। আর যদি সমর্থন করেন, তাহলে আমি আপনার নিশ্চিত শত্রু, আপনিও আমার। এইসব বর্বর প্রথার বিচার বিবেচনাহীন সমর্থকদের সাথে আলোচনার কোন অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।
জবাবটা দিয়েছিলাম এক্স এর সাতেহ তর্কের প্রেক্ষিতে। আপনি যখন বলবেন যে ইসলাম এই সমর্থন করে এবং এই সমর্থন করে না তখন রেফারেন্স দেয়া ভালো। আপনি যদি শরিয়তী মুসলমান না হন, এবং কোরআন হাদিসের কট্টর অনুসরণের পক্ষে না হন, তাইলে আপনের ইসলামের সাথে আমার কোন সমস্যা নাই। ওপরে উল্লেখিত আয়াতের মতো কোরআন হাদিসে এমন অনেক আইন আছে যা আমাদের যুগে এবং বাঙালি সমাজে বর্বরতা ছাড়া অন্যকিছু মনে হবে না।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:১২
পারভেজ আলম বলেছেন: চুরির অপরাধে হাত কাটলে চুরি কমবে কি না জানিনা, তবে প্রতিবন্দী ভিক্ষুকের সংখ্যা যে অনেক বারবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। প্রকৃত ন্যায় বিচারের সমাজে কর্মসংস্থান এমন পর্যায়ে পৌছবে যে কেউ চুরি করবেনা, যদি না কেউ মানসিক রোগী হয়, আর মানসিক রোগীর হাত কাটাটা নিশ্চয় বর্বরতা ছাড়া অন্যকিছু গণ করবেন না। সামান্য চুরির জন্য হাত কাটার চেয়ে জেল জরিমানাই কি অপেক্ষাকৃত নৈতিক না?
ব্যাভিচারীর যেই সংজ্ঞা ইসলাম দেয়, আমাদের সময়ে তা গ্রহণযোগ্য না। ইসলামী শরীয়ত অনুসারে পুরুষ ৪টা পর্যন্ত বিয়ে করতে পারে, যত খুশী দাসী রাখতে পারে, এসব ব্যাভিচার গণ্য হয় না। অন্যদিকে দুইজন অবিবাহিত নারী পুরুষ যৌন মিলনে লিপ্ত হলে তাদের পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিধান আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়?
জিজিয়া করের প্রেক্ষাপট কি আপনিই বলুন। সঠিক ইতিহাসটাই আমাদের দিন।
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৩০
পারভেজ আলম বলেছেন: যেই পোস্ট থেকে কপি করলাম, সেই পোস্টের লিংক Click This Link এইখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হইছিল, সময় পাইলে পইড়েন।
৪২|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০১
নাজনীন১ বলেছেন: "এই কারণে সুফি সন্যাসীরা বাঙলায় আমন্ত্রিত, বাঙালির শ্রদ্ধার পাত্র, মোল্লা মৌলবিরা না।
কার বা আমি কে বা আমার,
আসল বস্তু ঠিক নাহি তার,
বৈদিক মেঘে ঘোর অন্ধকার,
উদয় হয় না দিনমণি। - মহাত্মা ফকির লালন শাহ
লালনের এই বৈদিক মেঘ, ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের শাস্ত্র আর সুন্নি মুসলমানের শরিয়তের মেঘ। এই অলঙ্ঘনিয় শাস্ত্র আর শরীয়তের অন্ধকারে দিনের আলো আসবেনা বলেই ঘোষনা করেন বাঙালির দার্শনিক লালন। "
--- ইসলামের যারা সূফী দরবেশ, আর বাউল সম্প্রদায় -- দুটো আলাদা ব্যাপার। এদেরকে এক করে দেখার অবকাশ নেই। ইসলামের সূফীরা কোর ইসলাম মেনে চলেছেন। বাউল সম্প্রদায় সেরকম কিছু নয়।
৪৩|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৪৪
নাজনীন১ বলেছেন: "এই কারণে সুফি সন্যাসীরা বাঙলায় আমন্ত্রিত, বাঙালির শ্রদ্ধার পাত্র, মোল্লা মৌলবিরা না।
কার বা আমি কে বা আমার,
আসল বস্তু ঠিক নাহি তার,
বৈদিক মেঘে ঘোর অন্ধকার,
উদয় হয় না দিনমণি। - মহাত্মা ফকির লালন শাহ
লালনের এই বৈদিক মেঘ, ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের শাস্ত্র আর সুন্নি মুসলমানের শরিয়তের মেঘ। এই অলঙ্ঘনিয় শাস্ত্র আর শরীয়তের অন্ধকারে দিনের আলো আসবেনা বলেই ঘোষনা করেন বাঙালির দার্শনিক লালন।"
ইসলামে সূফী দরবেশ যারা তারা কোর ইসলামই ফলো করেছেন। লালন দার্শনিক হতে পারেন, সাধকও হতে পারেন, কিন্তু ইসলামের যে সূফীজম তার থেকে আলাদা অবশ্যই। শাহ্জালাল, শাহ্পরাণ, বায়েজীদ বোস্তামী, খাজা মইনুদ্দীন চিশতী --- উনাদের সাথে লালনকে এক কাতারে দেখার অবকাশ নাই। যদিও অনেক সূফী দরবেশদের ভক্তরা আজ আর মূল ট্র্যাকে নাই, অনেক বাহুল্য কিছু করে যা রীতিমত ইসলামে 'শিরক' হিসেবে পরিগণিত।
আপনার এই পোস্ট পড়ে আমার একটা প্রশ্ন মাথায় এসেছে, হয়তো আপনি জানতে পারেন, এই বাংলায় তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধর্মের প্রভাব ছিল, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম। সেসব ধর্মের অনেক আচারই বাঙালী সংস্কৃতির সাথে মিশেছে। এখন মৌলিক বাঙালীত্ব বলতে কি বোঝায়? কোন কোন আচার বা সংস্কৃতিকে আমরা মৌলিক বাঙালী/ বাঙ্গাল সংস্কৃতি বলবো? এর কি কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা বৈশিষ্ট্য আছে, যা কোন ধর্ম থেকেই আসেনি, একেবারেই এ অঞ্চলের ধর্মনিরপেক্ষ আচার?
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৩
পারভেজ আলম বলেছেন: কোর ইসলাম ফলো করার কারনেই কি সুন্নি মুসলমানরা মনসুর আল হাল্লাজরে আগুনে পুড়ায়া মারছে? বায়জিদ বোস্তামি যে ঘোষনা দিছিলেন 'সকল মহীমা আমার ওপর', সেই ঘোষনা কি সুন্নি মুসলমানরা সমর্থন করছিল? সুফিরা যেই জীবন বিবাগী সাধন পদ্ধতি অনুসরণ করে তা কি সুন্নি ইসলাম সমর্থন করে? আমি কিন্তু একবারও বলি নাই যে লালন সুফি ছিলেন, তবে মোল্লাদের চেয়ে এই দেশীয় সাধারণ মানুষ অথবা দার্শনিকদের কাছে সুফিরা বরাবরি যে অনেক বেশী আপন ছিলেন তা কিন্তু এখনকার দিনেও বেশ স্পষ্ট। লালন সুফি ছিলেন না, তবে সুফিবাদের প্রভাব বাউল মতে আছে, যেমন আছে সুফিবাদে কিছু বৈদিক মতের প্রভাব।
আপনার এই পোস্ট পড়ে আমার একটা প্রশ্ন মাথায় এসেছে, হয়তো আপনি জানতে পারেন, এই বাংলায় তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধর্মের প্রভাব ছিল, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম। সেসব ধর্মের অনেক আচারই বাঙালী সংস্কৃতির সাথে মিশেছে। এখন মৌলিক বাঙালীত্ব বলতে কি বোঝায়?
প্রশ্নটা খুবি ইন্টারেস্টিং। এর উত্তর আপনি বা আমি কম বেশী জানি। আপনার প্রশ্নেই উত্তরটা আছে খানিকটা। বাঙালি যে কোন ধর্মকেই আপন করে নিতে পারে, তবে সেটা নিজের মতো করে। এই কারণে বৌদ্ধ ধর্ম বাংলাদেশে পালটে যায়, পালটে যায় ব্রাক্ষ্মন্যবাদী হিন্দু ধর্ম, পালটে গেছে ইসলাম। এইসব নানান ধর্মের ফাক ফোকরে বাঙালির কিছু মৌলিক চিন্তা ভাবনা হাজার বছর ধরে এখনো টিকে আছে। আমাদের লোক গাথা এবং সঙ্গীতে এইসব মৌলিক চিন্তার অনেক ছাপ পাওয়া যায়। লালন এবং বাউল সম্প্রদায় এইসব মৌলিক চিন্তা ভাবনার সমকালীন প্রতিনীধী। এই নিয়া বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে অনেক কথা বলতে হবে। তবে বাঙালির আদি ধর্মচিন্তায় আল্লাহ, ব্রক্ষ্মা এই জাতীয় কোন পরম সত্ত্বার ধারণা নাই, আছে প্রকৃতি ও পুরুষের ধারণা। এই প্রকৃতি আর পুরুষ বাঙলায় যত ধর্ম এসেছে সব ধর্মেই নানান নামে টিকে গেছে, ইসলামে টিকেছে জীবাত্মা আর পরমাত্মা নামে, মধ্যযুগীয় সাহিত্যে ইউসুফ জুলেখার রূপকে।
৪৪|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:১৩
বিপ্লব কান্তি বলেছেন: হা হা , বড়ই সমস্যা , বাংলাদেশে সংস্কৃতি !!
বাংলাদেশে সংস্কৃতি তাদের পূর্বতন বৌদ্ধ ও হিন্দু নির্ভর , লালন ও হিন্দু নির্ভর । তার আরাধ্য ছিলেন হিন্দু অবতার নিমাই/গৌরাঙ্গ
তার আরাধ্যকে নিয়ে একটি গান ও আছে ।
তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে
ও তোরা যাসনে ঐ পাগলের কাছে
এসব বিষয়ে বড়ই সমস্যা পড়ে সবাই বাংলাদেশে সংস্কৃতি পালন করতে যেয়ে । পরিবর্তন করার ও চেষ্টা করে অনেকে এসব থেকে বাহির হওয়ার , নিজস্ব কিছু করার তেমন কোন ফল হয়নি , আদি পঞ্জিকাকে বদল করা হয়েছে এসব চিন্তা থেকেই ।
কিন্তু তার পূর্বতন যে সেই বৌদ্ধ ও হিন্দু নির্ভর , কীর্তন শুনলে হৃদয়ে দোলা দেয়, ঢোলের বাদ্যি মনে আনে সুখ , বাঁশি কান্না-হাসি করাতে পারে !!!! সে বাদ্যি ছাড়া আরব গান মানবে কিভাবে !!!!
এইসব !!!! অনেক জামেলা অনেকেরই , পরিষ্কার কথা হলো ব্যাকগ্রাউন্ডে বৌদ্ধ ও হিন্দু নির্ভর বাংলাদেশে সংস্কৃতি, সেটা নিয়েই মনের মধ্যে দোলাচল
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪০
পারভেজ আলম বলেছেন: লালন ও হিন্দু নির্ভর । তার আরাধ্য ছিলেন হিন্দু অবতার নিমাই/গৌরাঙ্গ
এই আপনাদের নিয়া হচ্ছে সমস্যা। কেউ লালনরে মুসলমান আর কেউ বা হিন্দু বানাইতে অভ্যস্ত। ব্লগে মুসলমান মৌলবাদীর সংখ্যা অনেক হইলেও হিন্দু মৌলবাদে আপনে আসলেই বেশ আলোকজ্জ্বল। হিন্দু ধর্ম শব্দটা ভারতবর্ষে কবে থেইকা প্রচলিত হইছে জানেন? দুর্গা আর কালীপূজা বাংলাদেশে ইসলামের আগমনের আগে কি নামের ধর্মের অনুসারীরা করতো জানেন? শীবের অনুসারীরা ইসলামের আগমনের আগে কোন ধর্মের অনুসারী বলে প্রচলিত ছিল জানেন? বাঙালি মুসলমান যেমন ইসলাম, সুফিবাদ আর আধুনিকতার গোঁজামিলে ঘুরে ফেরে, বাঙালি হিন্দু তারচেয়েও অনেক আগে থেইকা গোঁজামিল দেয়া শুরু করছে, সেই মুসলমানদের আগমন কাল থেইকা। বলি, সাংখ্য, শৈব আর তান্ত্রিকতার সাথে বৈদিক ব্রাক্ষ্মন্যবাদের এত মৌলিক বিভেদ থাকা সত্ত্বেও হিন্দু ধর্ম নামের গোঁজামিলের ভেতরে সবগুলারে এক কইরা মনে মনে সুখে থাকাটা বোকার স্বর্গে বসবাস করা ছাড়া ভিন্ন কিছুনা।
৪৫|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৩০
যান্ত্রিক বলেছেন: এই লিঙ্কটি দেখতে পারেন। আশা করি আপনার প্রশ্নের কিছু হলেও উত্তর পাবেন।
Click This Link
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪১
পারভেজ আলম বলেছেন: জ্বি না, আমার প্রশ্নের উত্তর পাই নাই। আপনে যে কিছুক্ষন আগে না জাইনাই একটা দাবি করছেন সেইটা এখন স্বিকার করেন।
৪৬|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৩৬
প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: ধন্যবাদ, আমি অবশ্য এখনো নিজে কোন মতবাদের সাথে শতভাগ একাত্মবোধ করতে পারি নাই। কারন এখনো দেখছি এবং শিখছি তবে পোস্ট কলোনিয়ালিজমের প্রতি আমার ভক্তি অনেক এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মতবাদ অত্যন্ত কার্যকারী।এই বিষয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে পারলে আমারও অনেক ভাল লাগবে।
আমি আসলে রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে ধর্মের চেয়ে রাজনীতির প্রভাবটাই সবচেয়ে বেশী দেখি।আর বাংলাদেশের মানুষও ধর্মকে ব্যাক্তিগত আদর্শ হিসেবেই দেখে। আমিনীদের প্রাধান্য দেই না এবং মনে করি আমিনীরা হচ্ছে ধর্মজীবি। আর বর্তমানে আমিনী গোষ্ঠি যেই সমস্যাগুলো তৈরী করছে সেটাকে মনে করি সরকারের ব্যার্থতা।মোটামুটি বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য করার পরই এই ধারনা পেয়েছি।
আমাদের জনগণ আমিনীর কথা কে মুল্য দেয় না তবে ধর্মীয় ইস্যুতে সরকারের ভুলগুলো বা দুর্বলতাকে বেশ গুরুত্ব সহকারে নেয়। বিশ্বে এখন ইসলামিক 'কাস্টমস' বিরোধী একটা জোয়ার বইছে এর মাঝে আমাদের সরকার যখন প্রচলিত ইসলামিক পারিবারিক আইন সংশোধন করতে যায় এবং জনমনে তা নিয়ে সন্দেহ দুর করতে ব্যার্থ হয় তখনই আমিনীরা সুযোগ পায় নইলে তারা মিলাদ পড়ানো আর জমির দালালীতেই ব্যাস্ত। তাই মনে করি না দেশ "ইসলামাইজেশন" এর পথে।তবে আপনার সাথে একমত যে,বর্তমানে পরিচয় সংকটে ভুগছে দেশ এবং এই জাত যত দ্রুত নিজ পরিচয় ফিরে পায় ততই মঙ্গল।
আর বাঙ্গাল এর ব্যাপারে একমত হতে পারলাম না বলে দুঃখিত।
বাংলাদেশের মানুষ ও সমাজ বিশ্লেষনের ক্ষেত্রে বাঙ্গাল জাতিসত্বা গঠন আমাদেরকে সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত করবে বলে আমি মনে করি।পশ্চিম বাংলা মিলিয়ে যেই বাঙ্গালী জাতিসত্বা'র ইতিহাস সেটি আমাদের জন্য সাম্প্রদায়িক মনে হয়।তাছাড়া প্রচলিত বাঙ্গালী জাতিগঠনে পুর্ব বাংলার অবদান খুবই কম।বর্তমান বাংলাদেশের জনগোষ্ঠির জন্য বাঙ্গালী জাতীয় বৈশিষ্টগুলো সাংঘর্ষিক।মুল সমস্যাটা মুলত পদ্মার পূব পাড়েই।বাংলা ভাষার খুব কম দার্শনিকই পুর্ব বাংলার সমাজকে চিন্হিত করতে পেরেছে এবং আহমেদ ছফার মত যারা করেছে তারাও সংখ্যায় খুবই কম।যেহেতু বর্তমান বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব পূর্ব বাংলার অংশটারই বেশী তাই এক্ষেত্রে আরো কাজের প্রয়োজন মনে করি।
আমার এই ক্ষেত্রে পড়াশুনা যথেষ্ট না বলে মনে করি তবে আমার মনে হয় আপনারা যদি সাংঘর্ষিক দিকগুলো চিন্হিত করতে চান তবে বেশ সহজেই তা করতে পারবেন।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৬
পারভেজ আলম বলেছেন: আলোচনা অবশ্যই হবে। সামনে বেশকিছু কাজে নামছি আমরা। ফেইসবুকে আমাদের একটা গ্রুপ আছে "বাঙাল মেল" নামে। যুক্ত হবেন আশা করি।
বাঙাল শব্দের সাথে জাতিসত্বা জুরে দেয়ার পক্ষে আপনার অবস্থানটা আপনার মন্তব্যের মধ্য দিয়া আমি পরিস্কার হইছি বইলা মনে হয় না। বাঙালি শব্দটার উৎপত্তি মুসলিম সুলতানী আমলে। ব্রিটিশ আমলে পশ্চিম বঙ্গের লোকজন ঔপনিবেশীক এলিটিজম থেইকা আমাদের বাঙাল ডাকলে সেই বাঙাল শব্দ আমাদের জাতিসত্ত্বার পরিচয় হয় না। তবে বাঙাল শব্দের মাঝে যেই ঔপনিবেশীক প্রভাব মুক্ত নন এলিট সাব অল্টার্ন মননের খোঁজ পাওয়া যায় তাতে বাঙালির বি-উপনিবেশায়নের ডিসকোর্স সমূহকে 'বাঙাল বয়ান' নাম দেয়া যায় বটে। আমি বাঙাল শব্দটা এর আগে এইভাবেই ব্যাবহার করেছি। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রধানতম পোস্ট কলোনিয়ালিস্ট তাত্ত্বিক ফয়েজ আলম আমাদের বাঙাল শব্দের ব্যাবহার নিয়া উদ্যেগ প্রকাশ করেছেন। বাঙাল জাতিসত্ত্বা শব্দের ব্যাবহারে আমি নিজেও খানিকটা অস্বস্তি বোধ করছি। এই বিষয়গুলা নিয়া আমরা পরবর্তিতে বিস্তারিত আলোচনা করবো আশা রাখি।
৪৭|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৪৮
প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: বাঙ্গাল পরিচয় গড়ে তুলার প্রয়োজনীয়তার স্বপক্ষে একটি উদাহরন হিসেবে ৫২ নং কমেন্টটি দেখতে পারেন।
৮৭% মুসলমানের দেশে হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি অসাম্প্রদায়িক এবং কার্যকর হতে পারে না।এবং পশ্চিম বাংলা ডমিনেটেড পরিচয় বর্তমান বাংলাদেশের জনগনকে বিশ্লেষন করতে সামর্থ্য নয় সেই সাথে সাংঘর্ষিক সেটা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করবেন।
তবে আমি কিন্তু এখানে বাঙ্গালী পরিচয়কে অস্বীকার করছি না বরং এর অসাড়তা উপলব্ধি করার জন্য বলছি।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০০
পারভেজ আলম বলেছেন: ৫২ নম্বর কমেন্টে বাঙালির সংস্কৃতির সঠিক পরিচয় নাই। বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের আত্মানুসন্ধান করলে আপনে এই সাংঘর্ষিক বিষয়গুলা অপেক্ষাকৃত ভিন্ন চোখে দেখবেন বলে মনে করি।
৪৮|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫১
হায় ঈশ্বর! বলেছেন: চরমভাবে সহমত।শুধু একটু যোগ করব সেটা হচ্ছে যে আধুনিক সমাজ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার জয়গান যারা গাচ্ছে তারা যুগ যুগ ধরে কুসংস্কারছন্ন মুসলমানদের কুসংস্কার থেকে মুক্ত করতে কিছুই করেনি ।দোষ দিয়ে দিয়ে আরো কুসংস্কারছন্ন করে ফেলেছে শুধু।
এই লাইন পইরা আমি হাসতেই আছি
৪৯|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১০
যান্ত্রিক বলেছেন: @ আলবার্ট_আইনস্টাইন, আমি বলিনি যে ইসলামে দাসপ্রথা নেই, আমি বলেছি ইসলাম দাসপ্রথা বন্ধের ব্যপারে উৎসাহিত করেছে। এবং ইসলামই সর্বপ্রথম দাসপ্রথা উচ্ছেদে সক্ষম হয়েছে।
আপনি বললেন, আর যুদ্ধে নারীদের বন্দী করে দাসী বানানোকে কী বলবেন? তারা তো আর যুদ্ধ করতো না ঐ যুগে! আর দাসীদের সাথে সঙ্গম করাও যে ইসলাম হালাল করে দিল, তার কী হবে?
--আপনাকে ওই সময়ের প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে। তখন চারিদিকে এতো অনাচার আর নৈরাজ্য ছিল যে যুদ্ধে নারীবন্দি পেলেই সব মানুষ তাকে কেবল যৌনদাসী ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারতোনা, তাই পরবর্তীতে যখন এই নারীদের ফেরত দেয়া হতো তারা তাদের নিজেদের সমাজে আর ঠাঁই পেতোনা। তাদের অবস্থান হতো পতিতালয়ে। নবিজী (সাঃ) নারীদের এই দুর্দশার কথা জানতেন। তাই তিনি স্বামী থাকা সত্তেও স্বামীহারা এইসব নারীদের নিজ সমাজে জায়গা দিয়েছিলেন। আর তাদের সাথে সঙ্গমের ব্যপারে তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ইসলাম নারী-সঙ্গমের বিষয়টিকে কখনোই এতো সহজ করে দেয়নি যে আপনি যখন ইচ্ছা, যার সাথে ইচ্ছা এইধরণের সম্পর্ক করবেন। বরং ইসলামই প্রথম এই জঘন্য অপরাধের লাগাম টেনে ধরেছিল।
সুরা আন-নিসা-র (৪:২৪) যে আয়াতের কথা বলেছিলেন পারভেজ সাহেব, কিন্তু তার ব্যাখ্যা মুফতি শফি উসমানি কতৃক তাফসীরকৃত মা'আরিফুল কুরআন-এ যা আছে তা হলো,
If a disbelieving woman embraces Islam in DGr al-Islam and her husband is a disbeliever, then, the local legal authority should induce the husband to think about accepting Islam. If he refuses to become a Muslim, the Muslim judge should bring about a separation between the two. This separation will be taken as the divorce after which, the woman completes her period of 'iddah and becomes free to marry any Muslim of her choice
--আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন। আপনিই বলুন এখন ওই নারীর জন্য পতিতার জীবন নাকি সম্মানজনকভাবে আরেকজন পুরুষকে বিয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করে নেয়া শ্রেয়?
-- আমি এই বিষয়ে পন্ডিত নই। আপনি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য কোন বিচক্ষন আলেমের শরণাপন্ন হতে পারেন। আর আমরা অতি ক্ষুদ্র মানুষমাত্র। আমাদের প্রত্যেকেরই সীমাবদ্ধতা আছে। মহান স্রষ্টার কিছু কথা যদি আমরা না বুঝি তা আমাদেরই সীমাবদ্ধতা। তাতে স্রষ্টার কোন লাভ-ক্ষতি নেই। যাই হোক, আল্লাহ আমাকে, আপনাকে ও পৃথিবীর সকল মানুষকে হেদায়াত নসীব করুন।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৪৯
পারভেজ আলম বলেছেন: এইখানে বুঝাবুঝির কি হইল? কোন মহিলার পতিতার জীবন অথবা দাসের জীবন না দিতে চাইলে তারে যুদ্ধবন্দী না বানাইলেই তো হয়। একটা খারাপ কাজরে কিভাবে যে আপনেরা নানান যুক্তি দিয়া জায়েজ করার চেষ্টা করেন দেখলেও হাসি পায়।
ইসলামে নারী সংগমের বিষয়টা সহজ না কে কইল। উপরে যে এতগুলা হাদিসের রেফারেন্স দেয়া হইল সেইগুলা কি দেখেন না? বুরাইদা বর্ণিত বুখারির যেই হাদিসটা আমি দিলাম সেইটা পড়েন আবার।
যুগের পরিস্থিতি বুঝতে বলতাছেন, ঠিকাছে। তাইলে এই যুগে শরীয়া আইন বাস্তবায়নের লাইগা চিল্লাচিল্লি করার দরকার কি? আধুনিক যুগের আধুনিক আইন মাইনা চলেন। আর এই বিষয়ে যদি আপনে পন্ডিতই না হন, তাইলে তর্ক করার দরকার কি?
আপনের সাথে এতক্ষন তর্কে যেই বিষয়টা পরিস্কার হইছে তা হইল যে আপনে ইসলামী শরীয়ত সম্বন্ধে বলতে গেলে কিছুই জানেন না। কোরআন হাদিস কিছুই ঠিক মতো পড়েন নাই, না পইড়াই এইটা সেরা জীবন ব্যবস্থা বিশ্বাস কইরা বইসা আছেন।
৫০|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৭
হায় ঈশ্বর! বলেছেন: তবে গোজামিল সব জাতিই কমবেশি দেয় । বাঙালির ব্যর্থতা মনে হয় এইখানে যে গোজামিল গুলোকে জায়েজ করার মতো শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ জাতি ১৯৭১ সে হইতে হইতেও শেষ পর্যন্ত পারেনাই।
শেখহাসিনার মাথায় কালো পট্টি বাধা নিয়া কথা হইছে । আমার মনে হয় যেখন তিনি বুঝিলেন বাঙালিকে ধর্মের আফিম খাওয়াতে না পারলে ক্ষমতায় যাওয়া মুশকিল তখন সেটা ছাড়া হয়তো উপায় ছিলো না ।
তবে এইটা সত্য এইদেশে মৌলবাদীদের ক্ষমতায় আশা মুশকিল শুধু তাই না পুরা পৃথিবীতেই এখন ধর্মীয় মৌলবাদ আগের মতো আসবেনা , এর জন্যে বাঙালি কে ঠিক কত % ক্রেডিট দেয়া যায় তা বুজ্তেসিনা ।
৫১|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৫৭
মাহদী হাসান বলেছেন: "আবারো বলি, অন্তত একটা বাঙালি যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন ঐ দাড়ি টুপিওয়ালাদের দৌড়াত্ব মসজিদ পর্যন্তই হবে, রাজপথ অথবা সয়ম্ভু শাসন ক্ষমতার মসনদ পর্যন্ত হবে না।
ইনশাআল্লাহ আপনার এই উক্তিকে আমরা মিথ্যা প্রমান করব।
সময় পরিবর্তন হচ্ছে। বাংলাদেশই হবে আপনাদের সব প্রশ্নের জবাব।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১৬
পারভেজ আলম বলেছেন: বাঙালির লাশের উপর দিয়া মুসলমান রাজত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা একাত্তরেও হইছে, পারে নাই। আবারো চেষ্টা কইরা দেখেন না। কইলাম না, একটা বাঙালি জীবিত থাকতেও পারবেন না। যদি সব বাঙালিরে মাইরা ফেলতে পারেন তাইলে ভিন্ন কথা।
৫২|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০১
বিপ্লব কান্তি বলেছেন: ।
তান্ত্রিকরা তখন ও ছিলো, এখন ও অল্প আছে , ভারতের কামরুপ বলে আসামে একটি জায়গা আছে । কাপালিক-রা তখন পথভ্রষ্ট হয়ে মানুষের মাথা কেটে ফেলতো এখন ও ৮-১০ বছরে এমন একটা ঘটনা শোনা যায় ।
ওদের সাধনার সাথে আমার কথা মিলবে , নানা মত থাকতে পারে, কিন্তু রক্তপাত আমি তার বিরোধী, রক্তপাত না করলে আমি তার সাধনার বিরোধী নই, অতএব অল্প কথার বুঝে নিন আমার মতে কোনটা প্রধ্যান্য আছে । এ রকম আগে ও ছিলো এখন ও আছে , সমাজে অনেক বিভেদ আছে, থাকুক , সেটা অশান্তি সৃষ্টি না করলেই হলো । এরকম আগে ও ছিলো , কখনো অশান্তি ও সৃষ্টি হয়েছে আবার কখনো শান্তি মতোই সরলরেখায় চলেছে । আমি হিন্দু ছেলে , সমাজের এসব পরিবর্তন আমার ফিলিংসে বেশ স্পস্ট, আপনি বাহির থেকে তার ধুয়োটা ও টের পাবেন না ।
!!!!!!! সুফিবাদ নাকি কি বলেছেন , পড়িনি , তবে মনে রাখেন , নিমাইয়ের বৈষ্ণব আর এসব আরবীয় সুফিবাদের পার্থক্য হলো আবহাওয়ায়, আরো পার্থক্য আছে সেটি আপনি অনুভব করতে পারবেন না , কারন আপনার চিন্তা অন্য রকম
একটি মরুভূমি থেকে আর আরেকটি সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা ।
তবে আপনি যে এইসব বড় বড় লেখা লিখেন , এগুলো কি পড়েই লিখেন নাকি সমাজ থেকে অনুভব করেন , করলে কিভাবে করেন ? এসব প্রশ্ন বড়ই আমার কাছে ।
ধরুন আমার কথা , নিজস্ব চিন্তা চেতনা আছে , সেটা কারো বই পড়ে নয় , যা নিয়ে চিন্তা সেটা দেখে , অনুভব করে ,
আমার জন্ম কঠোর নিয়মের মধ্যে চলা এক হিন্দু বাড়িতে , ১০০ বছর আগে নিয়মগুলো সেখানে ছিলো বহাল, তার দায়িত্বে ও ছিলেন একজন শতবরষী । আবার এখন চরম আধুনিক জীবনযাপন করি , দুটোতে পার্থক্য বুঝি , তখনকারটা ও দেখেছি এখনকারটা ও দেখি বন্ধু বান্ধবদের মাঝে , নিজের আচরনে ।
পুরাতন হিন্দু বাড়ি গুলোর নিয়ম কেমন ছিলো , সেটা কি ভালো ছিলো নাকি খারাপ ছিলো , আমার এই জীবনে দেখে নিয়েছি , তাই সেটা নিয়ে কিছু লেখা লিখলে আমিই লিখতে পারি । আমাদের বংশের একেবারে জুনিয়র সদস্যটা যে এইসব নিয়ম দেখেনি, সেতো উপযুক্ত নয় এসব বলার । তার কোনই ধারনা নেই ,
ধরুন ঘাটুয়া গান বা ঘেটু গান , তা জানার জন্য আমি একজন বছর ৬০ বয়সের ঘাটুয়া (তখনকার দিনে ছিলেন ) কাছ থেকে জেনেছি , কিভাবে এইগুলো হতো ।
আর হিন্দু বৈষ্ণব সমাজ , সেটা তো রক্তেই আছে , সেটা ও বেশ সহজ আমার কাছে ।
এই যে ছোট ছোট অনুভব বা জানার কথা বললাম , সমাজকে এভাবেই শিখতে হয় , আমার বিশ্বাস , কারো বই পড়ে পড়ে যদি আমার মতো কোন হিন্দু ছেলেকে প্রশ্ন করে বসেন ? তান্ত্রিকতা নিয়ে আর বৈষ্ণববাদ নিয়ে আর কঠোর ব্রাহ্মণ্যনীতি নিয়ে তা হলে উত্তরটা এরকম হতে পারে । প্রত্যেকটি মার্গ আমি অনুভব করেছি যে !!!
"কালি/দূর্গা (মা রূপের) সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংশদেব শিষ্যকে বলেছিলেন ------ আমি দেখেছি ঈশ্বরকে (মা রূপের ) , কথা বলেছি , তুই যদি দেখতে চাস তাহলে তোকে ও দেখাতে পারি"
হা হা ....
যাই হোক , আমি কলমবাজ নই, বাস্তবে কথা ও বলি কম , তো আপনারা যারা লিখা লিখি করে নামধাম বা দুপয়সে রোজগারের চেষ্টা করেন , তাদেরকে বলবো , কোন কিছু নিয়ে লেখাটা বড়ই কঠিন , অন্য কারো কিছু পড়ে পড়ে ,
লিখতে হলে সেটা অনুভবে অনতে হয় , অনুভবে আনা ও কঠিন, যতটুক আছে নিজের ভিতরে বা অনুভবে তাই নিয়েই লিখুন , এর বাইরে কিছু বললে সময় নষ্ট ভুল মেসেজ দেয়া হবে ।
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৩৯
পারভেজ আলম বলেছেন: যেই স্বরে কথা বলছেন, এই স্বরের সাথে আমি পরিচিত। এই স্বর বাঙালি হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে তর্কে ব্যর্থ মুরুব্বির স্বর, মুরুব্বিয়ানা টেকানোর স্বার্থেই। দুই পাতা বই পড়ে, পুথিগত জ্ঞান নিয়া কথা বলিস না, আমি জীবন থাইকা অভিজ্ঞতা নিছি; আগেও শুনেছি।
শুধু পারিপার্শ থেকে অনুভবের মধ্য দিয়া যদি সত্য জানা যাইতো, তাইলে মানব সভ্যতায় লেখার রীতি, বইপত্র, ইতিহাস রচনা ইত্যাদির সৃষ্ঠিই হই না, মানব সভ্যতাও আদীম যুগেই পইরা থাকতো। সক্রেটিস আড়াই হাজার বছর আগে যা নিয়া চিন্তা করছেন, যেই তত্ত্ব দিছেন, এখনকার দার্শনিকেরও নতুন কইরা তাই আবার চিন্তা কইরা অর্জন করতে হইতো। অথবা এরিস্টটলের গতিবিদ্যা নিউটন পর্যন্ত আগাইতো না, জ্ঞানের পরস্পরা যুগে যুগে অব্যাহত থাকে মৌখিক অথবা লিখিত যেই রূপেই হোক না কেন। আপনারা যারা অজ্ঞতার অন্ধকার টিকায়া রাখতে চান তারা পুথিগত বিদ্যা বইলা সমালোচনা করতে পারেন সত্যরে, তাতে সত্য কিন্তু মিথ্যা হবেনা।
আর কেউ বই পড়ে জানলেই তার বাস্তব অভিজ্ঞতা অথবা নিজস্ব চিন্তা ভাবনা অনুভব কম হবে, শ্রেফ নিজের চিন্তা ভাবনা আক্রান্ত হইলেই এইরকম জাজমেন্টাল হইয়া গেলে তো সমস্যা।
৫৩|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৩৩
যান্ত্রিক বলেছেন: আরো দুটি লিঙ্ক দিচ্ছি,
Click This Link
Click This Link
৫৪|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৫০
মাহদী হাসান বলেছেন: """লেখক বলেছেন: বাঙালির লাশের উপর দিয়া মুসলমান রাজত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা একাত্তরেও হইছে, পারে নাই।"""
হে হে মজা পিলাম। মাত্র ৪০ বছর আগের ইতিহাস পাল্টাইয়া দিলেন। আবার ১৪০০ বছর আগের ইতিহাস লইয়া কথাকন। শুনেন মাথা খারাপ কইরেনন না।
আর ভাই আমিওতো বঙ্গালী নাকি। লাশের দরকার নাই আমাদের, আপনাদের সাথে নিয়াই ইনশাআল্লাহ আল্লাহর হুকুম কায়েম করবো।
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:২৮
পারভেজ আলম বলেছেন: হিজবুতিগো লইয়া এই এক সমস্যা। নিজেরা জানেনা কিছু, খালি বড় বড় কথা কয়। ৪০ আর ১৪০০ বছর আগের ইতিহাস লইয়া ভুল কি কইছি দেখান না। আপনেরা অবশ্য ইতিহাস চর্চা করেন না, ইসলামী মিথ আর ইউটোপিয়া, এইসব ইতিহাস বা রাষ্ট্র দর্শন না।
৫৫|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৭
কালীদাস বলেছেন: শুভ নববর্ষ, পারভেজ![]()
৫৬|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:০৪
সিংহ বলেছেন: "যতদুর জানতাম ইব্রাহীম লোদীর আহবানে বাবর ভারতে আসছিলেন।"
এটা মনে হয় ভুল বললেন। তার সাথেই তো বাবর
১ ম পানিপথের লড়াই করেছিলেন।
৫৭|
২১ শে এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৫:০২
মধ্যরাতের অশ্বারোহী বলেছেন: লেখা ভাল লাগল। কিছুটা অফ টপিক হইলেও বলি, সঠিক ইসলাম একটা মধ্যযুগীয় ধর্ম যেইটারে মানবিক বলার কোন অবকাশ নাই। ঐ সময়ের সাপেক্ষে অথবা গ্রেকো-রোমান যুগের সাপেক্ষে উন্নত বলা গেলেও আজ ২০১১ তে কি এই ধর্মের নিয়ম পরিবর্তন ব্যতিত পালন করা সম্ভব? পূর্ব-পাকিস্তান অথবা পরবর্তী বাংলাদেশে কখনই ইসলামের আইন বাস্তবায়িত হয় নাই, আমিনী গং-এর হাজার চেষ্টাতেও এইটা করা সম্ভব হবে না আশা রাখি। একমাত্র আফগান মডেলে কিছু করতে পারলে হয়ত হইত। আমি যেটা বুঝি, ৭১ এর পরে বাঙালির রুইখা দাঁড়ানোর অভ্যাস লোপ পাইছে, হয়ত অপসৃয়মান সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবোধ বাঙালিরে 'জম্বি' বানায়া দিতেছে। নাইলে আমিনীর মত ভুঁইফোঁড় হুজুরের ডাকে হরতাল কল্পনাও করা যায় না। দেশের ইয়ং জেনারেশনের অর্ধেক হইছে হিন্দী সংস্কৃতির ধারক, আরেক অর্ধেক আত্ন-পরিচয় খুঁজতাছে ১৪০০ বছর আগের কালচারে। ভয় হয়, এই ফাঁকে দেশরে তালেবানীকরণে কেউ আগায়া আসে কি না। আওয়ামী লীগরে একসময় সেকুলার ধরা হইত, তারাও সেই বৈশিষ্ট্য হারায়া ফেলছে। বাউলদের ঘটনাটাই দেখেন। আশার কথা হইল, খাইটা খাওয়া সাধারণ দেশবাসী সঠিক ইসলাম মানে না, মানে উদারপন্হী ইসলাম। তারা জাগ্রত থাকলেই এদেশের সেকুলার সত্তা রক্ষা পাইব।
৫৮|
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১০:৪৩
সত্যান্বেষী বলেছেন: +
৫৯|
০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:২৪
প্রযুক্তি বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ আবারো বলি, অন্তত একটা বাঙালি যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন ঐ দাড়ি টুপিওয়ালাদের দৌড়াত্ব মসজিদ পর্যন্তই হবে, রাজপথ অথবা সয়ম্ভু শাসন ক্ষমতার মসনদ পর্যন্ত হবে না।
ভাই, আমি দরবেশ বা মোল্লা দলের না। আমার দাড়ি থাকলে বা টুপি পড়লে কি মসজিদ পর্যন্ত সীমানা হবে নাকি? আল্লাহর রহমত থাকলে একদিন দাড়ি টুপি পড়ে সৎ ইচ্ছা নিয়েই মানুষের সামনে গিয়ে দাড়াব।
০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:৩০
পারভেজ আলম বলেছেন: দাড়ি তো আমারো আছে। এইখানে দাড়ি টুপিওয়ালা বলতে কি বুঝাইতাছি আশা করি না বুঝার কথা না।
৬০|
০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:৪৪
অযান্ত্রিক হৃদয় বলেছেন: এতো বড় লেখা পড়তে পড়তে চোখ ব্যাথা করছে, তাই কমেন্টগুলো পড়লাম না। দুঃখিত।
আমি যা বুঝলাম আপনি আস্তিক, কিন্তু অলরেডি অনেকে আপনাকে নাস্তিক ট্যাগ করে পোষ্টের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে বসে গেছে।
আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পয়েন্ট আউট করেছেন, আপনাদের দেখেই আমি ব্লগ লেখা শিখছি...
যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ধন্যবাদ।
৬১|
১০ ই মে, ২০১১ রাত ২:৫১
প্রযুক্তি বলেছেন: @লেখকঃ ভাই,বুঝিনি তাতো বলিনি। কিন্তু আজকাল রাজাকার গ্রুপের সাথে সাধারণ ধার্মিক মুসলমানদের মিলিয়ে ফেলার প্রয়াস দেখা যায়। তাহলেতো মানুষ টুপি পড়ে নামায পড়তে যেতে পারবেনা পাছে সবাই রাজাকার বলে বসবে।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:১৪
আহমেদ আরিফ বলেছেন: কাঠ মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত নাস্তিকের দৌড় ইসলাম পর্যন্ত ।