| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্বাধীন শকুন
আমি কিছুই নই ,আবার অনেক কিছু।আমি বিপ্লবী এবং পরিবর্তনকারী।কাঁধ দুটো বাড়িয়ে বসে আছি সমাজের সকল বোঝা নেবার জন্য।যদিও একই সাথে আমি সমাজ বিবর্জিত ও সামাজিক আদব না মানা এক বেকার সাধারন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ প্রায় ৪৩ বছর হয়ে এলো।এ্রর মধ্যে দেখা হয়েছে অনেক স্বপ্ন-কিছু কিছু সত্যি হয়েছে,কিছু ছুড়ে ফেলা হয়েছে আস্তাকুঁড়ে আর বাকিটা দিয়ে নাকের সামনে মুলা ঝুলিয়ে যুব সমাজকে ভুলিয়ে রাখা হয়েছে।অনেক আশা পরিণত হয়েছে নিরাশায়।অনেক সাফল্য পরিণত হয়েছে ব্যার্থতায়।তবে এতক্ষণ যা বললাম তার সবই আমাদের পূর্বপুরুষের কৃতকর্ম।এখন পুরাতনকে বিশ্রামে রেখে ফসলের মাঠে নেমেছে নতুন কৃষক। আজকের ব্যার্থতার দায়ভার শুধু পুরাতনের উপর চাপিয়েই নিস্তার পাওয়া যাবে না।কেননা সমাজের লাঙ্গল আমাদের কাঁধেও সমান ভাবে ভর করে আছে।আজকের তরুণ সমাজের সাথে গতকালকের তরুণ সমাজের ধর্মের দিক দিয়ে কোন পার্থক্য নেই।তারা দুজনই উন্মত্ত,পাগল,নেশাগ্রস্ত,উচ্ছ্বল,প্রাণবন্ত।কিন্তু আগের তরুণ সমাজের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই তারা মত্ত ছিল সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।পাশের বাড়ির বরকত তখন দিনের পর দিন,রাতের পর রাত কাটিয়ে দিত সরকার ব্যাবস্থার সমালোচনা করে।গত মিছিলে হয়তবা তার বন্ধু পুলিশের লাঠি চার্জে আহত হয়েছে,ক্রোধে উন্মত্ত বরকত রাস্তায় খালি গায়ে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিত সরকার পালিত পুলিশ বাহিনীকে।তারা হত বিহ্বল হয়ে যেত।কেননা সেদিন এই বরকতকে সমর্থন দিতে লাখো বরকত নেমে যেত রাজপথে আর সে কথা কে না জানে??সেদিন বাংলাদেশে বরকতের সংখ্যার চেয়ে পুলিশের বুলেটের সংখ্যা ছিল নেহায়েতই অল্প।এই বরকতেরা করেছে ৫২র ভাষা আন্দোলন,৬৯র গণ অভ্যুত্থান,৭১এর মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন।লাল রক্তের বন্যায় যখন প্লাবিত হত শহরের রাস্তা ঘাট অলি-গলি,তখন গর্বে যেন ঈশ্বরেরও বুক ফুলে উঠত।তার সৃষ্টি আজ বুক চিতিয়ে যাবতীয় পার্থিব তুচ্ছ সুখ সাচ্ছন্দ্য পায়ের নিচে মাড়িয়ে উঠে এসেছে সত্য প্রতিষ্ঠায় নিজেদের অধিকার আদায়ে।সেই বরকতেরা মরেনি।কিভাবে???কেননা আমি আজকে ডেস্কটপের সামনে বসে অশ্রু সজল চোখে টাইপ করে চলেছি সেই অখ্যাত বরকতদের আত্মকথন।মৃত্যু!!!সে অনেক দুরের ব্যাপার।বাংলার মানুষ যদিও ভুলে বসে আছে তাদের কথা।কিন্তু টি এস সি র ঐ লাল পলাশ ফুলের গাছটা কিংবা ঢাকা মেডিকেলের ঐ রক্ত রাঙ্গা রাজপথ হয়তবা কাটা হয়ে গেছে কিংবা বহুবার সেই রক্তের উপর প্রলেপ পড়েছে সিটি কর্পরেশনের উত্তপ্ত গলা পিচের।তবুও নিরবে নিভৃতে তারা সাক্ষ্য দিয়ে চলেছে যে বরকতেরা এসেছিল...বরকতেরা চলে গেছে।তবে অনাগত দিনের বরকতেরা স্থির চেয়ে দেখছে...আজকের বরকতেরা কী করছে...সেই দেখা কখনো শেষ হয় না।আকাশের নক্ষত্রের মত ধ্রুব সে দৃষ্টি...সূর্যের মত উজ্জ্বল সে দৃষ্টি...সে দৃষ্টিকে উপেক্ষা করা সহজ নয়...
(চলবে...)
©somewhere in net ltd.