| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও কিশোরগঞ্জ জেলার মুক্তিযোদ্ধ কালিন অষ্টগ্রাম থানার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও নির্যাতিত জননেতা কাজী আব্দুল বারী সরকারি ভাবে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকু পাননি। বাংলা একাডেমী সহ বিভিন্ন প্রকাশনায় তার মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি ও হাওর অঞ্চলের জনমানুষে স্মৃতিপটে এ নেতার অবদ্ান শ্রদ্ধার সাথে ভেসে থাকলে ও অজানা কারণে সরকারী ভাবে তাকে মুক্তি যোদ্ধা হিসেবে ঘোষনা না করায় জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
মুল লেখা হাতেকড়ি.কম-এ
এরহুম জননেতা কাজী আব্দুলবারী ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ৬৯ এর গণ অভ্যূথান ৭০ এ প্রাদেশিক পরিষদে ন্যাপ মনোনীত প্রার্থী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব এবং ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার তারর্বাতা পেয়ে বিরাট কর্মীবাহিনী গঠন সংগ্রাম কমিটি গঠন করে নিজে সভাপতির দায়ীত্ব গ্রহন করেন। পরে ইপিআর থেকে আগত হাফিজ উদ্দিনের মাধ্যমে কর্মীদের স্থানীয় ভাবে মুক্তিযোদ্ধার প্রশিক্ষন পরবতীতে ভারতের মেঘালয়ে বারেঙ্গাপাড়া ক্যাম্প থেকে ইয়থ ক্যাম্পের মাধ্যমে গ্র“ফ ভিত্তিক কর্মীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন এবং নিজে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক ও শরনার্থী শিবিরের দায়ীত্ব পালন করেও জীবীতাবস্থায় তিনি ও তার পরিবার সরকারী ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও সম্মান পাননি।
নির্যাতিত জননেতা মরহুম কাজী আব্দুল বারী ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় প্রথম গ্রেফতার হন। পরে আনন্দ মোহন কলেজের ছাত্রাবস্থায় পাকিস্থান ছাত্র লীগে যোগদান এবং ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা কালে ময়মনসিংহ সাকিট হাউজে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবার গ্রোফতার হন । মুক্তিপেয়ে পাকিস্থানের মার্শাল সরকার প্রধান ফিল্ড মার্শাল আইযূব বিরোধী আন্দোলনে আবার গ্রেফতার ও জেল ও বেত্রদন্ডে দন্ডিত হয়ে আজীবনের জন্য বধিব হয়ে পড়েন । ১৯৬৬ সনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি ন্যাশন্যাল আওয়ামী পাটি (ওয়ালী খান) ন্যাপ এ যোগ দিয়ে ময়মনসিংহ জেলা ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবং বৃহৎ ময়মনসিংহের হাওর অঞ্চলে ন্যাপ ও কমিউনিষ্ট নেতাদের নিয়ে কৃষক আন্দোলন ও সংগঠনের কাজের মধ্যে বিরাট কর্মী বাহিনী গড়ে তোলেন। এ কর্মী বাহিনী থেকে শতাধিক কর্মী নিয়ে ভারতে গিয়ে মুক্তি যোদ্ধার প্রশিক্ষন ও নিজ দায়ীত্ব পালন করেন। ভারতে যাওয়া ও রনাঙ্গনের সাথী পূর্বঅষ্টগ্রাম ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান জানান স্থানীয় প্রশিক্ষন থেকে মেঘালয় বারেঙ্গাপাড়া ইয়থ ক্যাম্প এবং তোরা ও ঢালু ক্যাম্পে আমাদের সব ব্যাবস্থা করে দেন। অন্য এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পিনু মিয়া বলেন আমাদের ব্যাবস্থা করে তিনি মুজিব নগর সরকারের দুজন মন্ত্রীর সাথে ও দেখা করেন।
এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্টগ্রাম উপজেলা কমান্ডার ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চু প্রতিনিধিকে জানান তিনি অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা উদাসীনতার কারণে তিনি সরকারী কোন ফরম পূরণ না করায় এমন হয়েছে। সাবেক কমান্ডার কাজী আপ্তাব মিয়া বলেন এটা আসলে দুঃখ জনক ঘটনা ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় পর্যন্ত তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ পূর্নবাসন ও গনতন্ত্রী পাটি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর স্বপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোস্তাক আহমদের আমলে আবার গ্রেফতার হন। আমৃত্যু তিনি আপোষহীন নেতা হিসেবে কাজ করে ১৯৮৩ সনের ২১ ডিসেম্বর মৃত্যু বরন করেন।
এব্যাপারে গনতন্ত্রী পার্টি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বার লাইব্রেরীর সাবেক সভাপতি এডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন বলেন কাগজ পত্র জমা আছে হয়ত হয়ে যেতে পারে।
জননেতা কাজী আব্দুল বারীর সহ ধমীনী কিশোরগঞ্জ জেলা গনতন্ত্রী পাটির সহ সভাপতি এ ব্যাপারে ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে বলেন এ ব্যাপারে অনেক নেতাকে বলেছি। আর কাউকে কিছু বলতে চাই না ।
এম সি বি মন্তোষ
অষ্টগ্রাম কিশোরগঞ্জ।
তারিখ- ২১/১২/২০১২ ইং
©somewhere in net ltd.