নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দেশপ্রেম হচ্ছে দুবৃত্তদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থলঃ Samuel Johnson

গতানুগতিক

এম আর সুমন

গতানুগতিক

এম আর সুমন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বর্মের রাজনীতি ও আমাদের বর্মসমূহ

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:২৭



মানুষ যখন যুদ্ধে যায় তখন কিন্তু একটা বর্ম পড়তে হয়। বর্ম মানুষের ক্রিটিকাল সময়গুলিতে পাহারা দিয়ে রাখে। যুদ্ধ হচ্ছে এমন একটা প্রেক্ষাপট যেখানে আপনি হয় নিজে মরবেন না হয় মারবেন। এর মাঝামাঝি কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।

রাজনীতি এর ঠিক বিপরীত হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে সভ্যতার এই পর্যায়ে কে রাজা হবে আর কে হবেনা তা কিন্তু যুদ্ধের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। ফলে এখন রাজনীতি অথবা গনতন্ত্র কিন্তু হয় মরব, না হয় মারবো টাইপের কিছু হওয়ার কথা ছিল না। এখন তাত্বিকভাবে গনতান্ত্রিক রাজনীতি হল জনসেবার মাধ্যমে সমর্থন আদায় করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা । এবং এখানে যেহেতু প্রত্যক্ষ যুদ্ধ নেই , ফলে বর্মের আস্তরনে নিজেকে ঢাকারও প্রয়োজন নাই।

কিন্তু খুবই শঙ্কার বিষয় যা তা হল, আমাদের দেশের প্রতিটি দল নানা রকম বর্মের আশ্রয় নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামে। এই মুহূর্তে একেবারেই রাজনীতিতে সক্রিয় যে দুটি দল যুদ্ধের মাঠে আছে জামাত আর আওয়ামী লীগ। দুখজনক হলেও সত্য যে দুটি দলই বর্ম পড়ে যুদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

সমস্যা হল তারা যে বিষয়গুলিকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে তা খুবই গর্হিত একটি কাজ। জামাত তাদের রাজনীতির শুরু থেকেই ধর্মের বর্ম পড়ে থাকে। আর আওয়ামী লীগ তো বড় দল, তাদের দুই ধরনের বর্ম আছে এক, ধর্ম আর দুই. দেশপ্রেম । এই দেশপ্রেম বর্মের অনেক অঙ্গ আছে। যেমন ভাষা, সংস্কৃতি যুদ্ধাপরাধী ইস্যুকে তারা বর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং করছে।



জামাত যে ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি করে সেকথা তো বর্তমান সুশিল মিডিয়ার কল্যানে যে শিশু আজ বাংলাদেশে জন্ম নিল তারও কানে পৌছে গেছে । সুতরাং তাদের বিষয়গুলি আর প্রমান দিলাম না।

আমি ক্ষমতাসীনদের বর্ম নিয়ে আলোচনা করি। Samuel Johnson এর সেই বিখ্যাত উক্তি তো সবার মনেই আছে বোধহয়, Patriotism is the last refuge of a scoundrel..

আসলে মানুষ যখন কোনো গতি না দেখে তখন বিভিন্ন দেশপ্রেম ও এর বর্মের নীচে আশ্রয় নেয়। প্রকৃত দেশপ্রেমিকরা কখোনো দেশপ্রেম নিয়ে রাজনীতি করে না। ভাষা , সংস্কৃতি , দেশপ্রেম এগুলো অন্তরে লালন করতে হয়। এগুলো দেখিয়ে বেড়ানোর জিনিস না। আজ রাজনৈতিক কারনে এক দল পতাকা পোড়ায়, আর এক দল সেটি পিক আপ করে রাজনীতির বক্তব্যে কাজে লাগায়। এগুলি হচ্ছে দেশপ্রেমের দুবৃত্তায়ন। এই বর্মগুলি একটি রাজনৈতিক দলকে কতটা উপকার করতে পারে সেটা নিয়ে দ্বিমত আছে। তবে একটি জাতিকে কিন্তু কিছুদিনের জন্য বিভ্রান্ত করে দেয়ার জন্য এইসব বর্ম যথেষ্ট। আজ দেখুন জামাত তাদের বর্ম ব্যবহার করেছে। লাখ মুসল্লিকে রাস্তায় নামাতে পেরেছে। মাথা গরম , লজ্জা শরমহীন আওয়ামী পুলিশকে দিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করিয়ে এখন আওয়ামী লীগকে ভিলেন বানিয়ে দিয়েছে। আমি নিশ্চিত যে মানিকগঞ্জের আসন আওয়ামী লীগ কোনোদিন্ও পাবে না। মানে হল জামাতের বর্ম কিন্তু কাজ করছে। আর আওয়ামী লীগের দেশপ্রেমের বর্মে তো এখন পুরো মিডিয়াই বুদ হয়ে আছে। তারা ভাল, মন্দ কিছুই দেখছে না। শাহবাগে যারা আন্দোলন করছে তারা সব যে সাধারন মানুষ একথা যেন তাদের প্রমান করতেই হবে। দেশের তাবৎ দেশপ্রেম রক্ষার ভার যে জাতি এই মহান মিডিয়াগুলির উপরে দিয়ে রেখেছে। শাহবাগে রাজনীতি ঢুকে গেল কিনা, সেখানে কারা কারা মদদ দিল, দেশে পাখির মত গুলি করে করে মানুষ মারা হল, এসবের আর কোনো প্রচার নাই। এখন যদি এই অতি উৎসাহী মিডিয়ারগুলির কারনে পুরো আন্দোলন অন্য দিকে মোড় নেয়? ইতিমধ্যেই দেশের সবথেকে বড় দল বিএনপি , অনেকের ধারনা বিএনপির সমর্থন এখন ৮০ শতাংশেরও উপরে। তারাই তো স্পষ্টত শাহবাগের আন্দোলনকে দলীয় বলছে। তাহলে কি হল, দেশপ্রেম যখন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্র হয়ে ওঠে আর নিজেকে রক্ষা করার বর্ম হয়ে ওঠে, তখনওতো একই কথা প্রযোজ্য। আমরা যদি এ যুদ্ধে বর্ম বিরোধী হ্ই , তবে তো সকল প্রকার বর্মই ত্যাগ করা উচিৎ।

আমি আগেও বলেছি জামাত যে ধর্মকে ব্যবহার করছে এত সাহস তারা পায় কোথা থেকে? আমরা কি জাতি হিসেবে অন্ধ? আমার কিন্তু ধারনা তাই। আমরা একটা শ্রেনী জামাতের কোনো দোষ দেখি না। আর একটা শ্রেনী আওয়ামী লীগের কোনো দোষ দেখি না। এই ব্লগেই দেখেছি আওয়ামী লীগের যুদ্ধাপরাধীদের কথা উঠলে অনেকেই ম্যান ম্যান করে। আবার আওয়ামী লীগও যে ধর্মের বর্ম পড়ে তাও কেমন জানি সবাই জানে না , এমন ভাব করে।

এই দলটি এরশাদের সাথে , তার সমর্থন নিয়া দুই বার ক্ষমতায় এসেছে। এরশাদ প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে স্বপ্ন দেখত যে শুক্রবার সে দেশের অমুক মসজিদে নামাজ পড়ছে। আর সেই অনুযায়ী হেলিকপ্টারে করে নামাজ পড়তে যেত। এই লোকও সংবিধানে বিসমিল্লাহর পক্ষেই ছিল। জিয়ার সবকিছুই তো অবিকৃত রেখেছিল। আর বিশ্বব্যাপী শান্তির মহা মডেলদাত্রী নেত্রী কিন্তু প্রত্যেকবার নির্বাচনের প্রচারনা শুরু করেন শাহজালালের মাজার থেকে। তিনি বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার জন্য হজরত শাহজালালের নাম ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তিনি মাথায় হিজাব পড়ে পাবলিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, নির্বাচনের পূর্বে তসবিহ হাতে বক্তৃতা করেছেন, তিনি খেলাফত মজলিশের সাথে চরম সাম্প্রদায়িক চুক্তি করেছেন, তিনি তার রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থীকে গো. আজমের কাছে দোয়া চাইতে পাঠিয়েছেন, আর আগাম নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছিলেন সৌদি আরবে গিয়া। এটা সেই ২০০০ সালের কথা। কিন্তু সেই ঘোষনা অবশ্য তিনি রাখেননি।

অনেকের আবার এতগুলো সাম্প্রদায়িক চরিত্র চোখে পড়ে না। আওয়ামী ওলামা লীগ যদি থাকে তবে কিভাবে বলতে পারি যে ধর্মের বর্ম এই দলটি ব্যবহার করছে না? একই ভাবে জাতীয়তাবাদি ওলামা দলও কিন্তু আছে। জানেন কিনা আওয়ামী লীগের যে কয়েকটি অঙ্গসংগঠন দলিয় প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানাই ব্যবহার করে তাদের মধ্যে আছে আওয়ামী ওলামা লীগও । আর সবথেকে বড় কথা এই শান্তিকন্যা তো এখোনো বিসমিল্লা রেখেছে, আবার ধর্ম নিরপেক্ষতার কথাও বলছে।

এখন কথা হল আপনি যে বিষয়কে রাজনৈতিক বর্ম হিসেবে ব্যবহার করেন সেই বিষয়টির অবশ্যই ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকবে। বর্ম কি? বর্ম হল আপনাকে আঘাত করলে আগে যেটায় লাগবে সেটা। এখন আওয়ামী লীগ হেন আকাম নাই যা এই চার বছরে করেনি। আমি সব উল্লেখ করতে চাই না। এখন তাদের সমালোচনা করলে কি তারা দেশপ্রেম নামক বর্মে তা প্রতিহত করবে? তাদের সমালোচনা করলে কি দেশপ্রেমে আঘাত লাগবে?

জামাতের সমালোচনা করলে কি ধর্মে আঘাত করা হবে? আমরা কি এই বর্ম ত্যাগ করে কেবল নিজেদের কাজের উপরে ভিত্তি করে রাজনীতি করতে পারি না? আমরা কি পারি না পাচ বছরে যে যে কর্ম বা অপকর্ম করেছে তাই জনগনের সামনে তুলে ধরে ভোট চাইতে। নিজ নিজ দলিয় আদর্শ কি এতই ঠুনকো যে সবসময় আমাদের বর্ম পড়ে নিজের ধর্মের আর দেশের ক্ষতি করতে হবে??

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪০

বোকামন বলেছেন: হা ......... সবাই কোন না কোন দোষে দোষী :(

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪৪

এম আর সুমন বলেছেন: এগুলো কি শুধু দোষ?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.