| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমরা শোকাহত
আজ দেশ রাষ্ট্রপতিকে হারালো।
নতুন প্রজন্ম এই প্রথম তাদের রাষ্ট্রপতির মৃত্যু দেখলো।
বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার পরে এদেশে কোনো চলমান রাষ্ট্রপতির মৃত্যু হয় নি।
তাই বাংলাদেশের অভিভাবকের এই মৃত্যু আমাদের শোকে মুহ্যমান করেছে।
তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
তার জীবনে তিনি এদেশের প্রতিটি সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। সামুর পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে তার জীবনী তুলে দেয়া হল।
জিল্লুর রহমানের ছেলেবেলা ছিল বেদনাবিধুর। জম্মের সাত মাসের মাথায় মা বাচ্চু বিবি মারা যান। আর নয় বছর বয়সে হারান বাবা স্বনামধন্য আইনজীবী অবিভক্ত ময়মনসিংহ লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা বোর্ডের সদস্য মেহের আলীকে। জিল্লুর রহমান দাদা হাজি মোজ্বাফর মুন্সী ও নানা-নানির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন।
রাজপথের সঙ্গী স্ত্রী আইভি রহমান, এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে জিল্লুর রহমান যখন সুখের জীবন পার করছিলেন তখন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আবার বড় আঘাত আসে তাঁর জীবনে। শেখ হাসিনার জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান মারা যান। স্ত্রীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন জিল্লুর রহমান।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর এলাকার ভৈরবপুর মোল্লাবাড়ির কৃতীপুরুষ জিল্লুর রহমান। ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ তিনি জন্নগ্রহণ করেন। নানার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈইটতলা।
জিল্লুর রহমান ১৯৫২ সালে ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সে সভা থেকে একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ১৯৫৩ সালে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তিনিসহ আটজনের এমএ ডিগ্রি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার তা আবার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ওই বছরই তিনি পাকিস্তান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রধান এবং কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬০ সালে জিল্লুর রহমান ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬২-র ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা এবং ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন জিল্লুর রহমান। ১৯৭০ সালে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেন। ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন।
স্বাধীনতার পর তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে চার বছর কারাগারে থাকেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের উপনেতা করা হয়।
জিল্লুর রহমানের শিক্ষা: জিল্লুর রহমান ১৯৪৫ সালে ভৈরব কেবি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৪৬ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে (বর্তমান ঢাকা কলেজ) ভর্তি হন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৫৪ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৫৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।
মো. জিল্লুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তিনি ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান হন। ১৯৫৬ সালে কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাড়াও ষাটের দশকে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক, ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেন। একই বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বাকশালের প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি। ওই বছর জাতির জনক হত্যাকাণ্ডের পর চার বছর কারাবন্দি ছিলেন। আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের পর ১৯৮৪ সালে তিনি আবারও দলের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের কাউন্সিলেও পরপর দু'বার দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সালের কাউন্সিলে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
জিল্লুর রহমান ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ছিলেন তিনি। পাশাপাশি সংসদ উপনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ওই বছর ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে জিল্লুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে বিচক্ষণতার সঙ্গে দল পরিচালনা ও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন।
পারিবারিক জীবনে জিল্লুর রহমান এক ছেলে এবং দুই মেয়ের জনক। জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বেগম আইভী রহমান ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে তিন দিন পর মৃত্যুবরণ করেন।
(জীবন বৃত্তান্ত সংগৃহীত)
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৬
এম আর সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ।আমরা শোকাহত।
আল্লাহ ওনাকে বেহেশত নসীব করুন।
২|
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৩
যোগী বলেছেন: মহামান্য রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে আমরা শোকাহত !!!
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৭
এম আর সুমন বলেছেন: আমরা শোকাহত
৩|
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৪
বোকামন বলেছেন:
বাংলাদেশের অভিভাবকের এই মৃত্যু আমাদের শোকে মুহ্যমান করেছে।
তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
(পোস্টে কৃতজ্ঞতা)
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৫
এম আর সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ।
৪|
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৬
দন্ডিত বলেছেন: আপনি খুব ভাল লোক।
মন থেকেই বললাম কথাটা।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১১
এম হুসাইন বলেছেন: আমারা শোকাহত, স্থব্দ।
এ ক্ষতি অপূরণীয়। উনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি মহান আল্লাহ্ পাকের কাছে।
পোস্টে ভাললাগা।