নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দেশপ্রেম হচ্ছে দুবৃত্তদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থলঃ Samuel Johnson

গতানুগতিক

এম আর সুমন

গতানুগতিক

এম আর সুমন › বিস্তারিত পোস্টঃ

জিয়া সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের জবাব, এর পরে আর কোনো কথা থাকতে পারে না।

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৪০



বীর মুক্তিযোদ্ধা সমশের মবীন চৌধুরীর স্মৃতিগাথা.............

১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চ মাসে আমি মেজর জিয়ার অধঃস্তন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রামস্থ অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলাম। মার্চের ১ তারিখ থেকে ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুডেন্টের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছিল। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ১১ জন সেনা কর্মকর্তার মধ্যে আমরা সাতজন ছিলাম বাঙালি। আর ৩০০ সৈনিকের মধ্যে সকলেই ছিল বাঙালি। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলেন পাঞ্জাবি লেঃ কর্নেল আব্দুর রশীদ জেনজুয়া। আর মেজর জিয়া ছিলেন সহ-অধিনায়ক।

২৪ মার্চ সন্ধ্যার দিকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে খবর আসে যে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার, যিনি ওই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠতম সামরিক অফিসার ছিলেন, তাকে হঠাত্ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ব্রিগেডিয়ার আনসারিকে তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে আমরা অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সবাই বিস্মিত ও আতঙ্কিত হই। এ খবরটা পেয়েই অষ্টম বেঙ্গলের সৈনিকরা উত্তেজিত হয়ে যায়। এদিকে, সেনানিবাস থেকে বিশ বেলুচ রেজিমেন্টের একটি প্রতিনিধি দল অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে দুটো ট্যাঙ্ক বিধ্বংসি কামান (যেগুলো আগেই আমাদের দিয়েছিল প্রশিক্ষণের জন্য) ফেরত নেয়ার আগ্রহ জানায়। আমাদের সৈনিকরা সেগুলো ফেরত দিতে রাজি হচ্ছিল না। এই চরম অস্থিরতার মধ্যে মেজর জিয়া, আমি এবং ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ ব্যাটালিয়ান সদর দফতরে গিয়ে হাজির হই এবং মেজর জিয়া বলেন, ‘এগুলো এ রাতে ফেরত দেয়া যাবে না। পরে দেখা যাবে।’ এরই মধ্যে ষোলশহর, যেখানে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল অবস্থিত ছিল এবং নতুনপাড়ায় অবস্থিত সেনানিবাসের মধ্যে ব্যারিকেড গড়ে উঠেছে। ষোলশহর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার একটি রেল কার ষোলশহর রেল ক্রসিংয়ে নিয়ে ক্রসিংটা বন্ধ করে দেন। ফলে সেনানিবাস চট্টগ্রাম শহর থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

২৫ মার্চ ১৯৭১। চারদিকে চরম অস্থিরতা। পরদিন সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার আনসারির কাছ থেকে টেলিফোন আসে। অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে সেই টেলিফোনটি আমিই রিসিভ করি। আমাদের ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জেনজুয়া তখন অফিসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। আনসারী আমাকে পরিষ্কার ভাষায় বলেন, যে কোনো মূল্যে আজ বিকালের মধ্যে রেল কারটি অবশ্যই সরাতে হবে। এ খবরটা তোমার কমান্ডিং অফিসারকে জানাও।

ব্রিগেডিয়ার আনসারির এই বার্তাকে আমি নিজের হাতে লিখে যখন কমান্ডিং অফিসারকে দেখানোর জন্য রেল ক্রসিংয়ের দিকে যাচ্ছিলাম, পথে মেজর জিয়ার সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি উনাকে এই বার্তার কথা জানাই। উনি চমকে উঠে বললেন, এই রেল কারটি তোমাদের জীবন বাঁচাবে। এটা যাতে সরানো না হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা নিশ্চিত করো। বার্তাটি নিয়ে যখন আমি কর্নেল জিনজুয়ার কাছে দেই, তাত্ক্ষণিক তিনি আমাকে নির্দেশ দেন, ব্যাটালিয়নের সমস্ত শক্তি প্রয়োজনে তিনশত সৈনিককে মোতায়েন করে রেল কারটি যেন সরানো হয়। কমান্ডিং অফিসারের এই নির্দেশের কথা যখন আমি মেজর জিয়াকে জানাই, তখন উনি বলেন, ‘তিনশত সৈনিক ব্যবহার তুমি করতে পার। কিন্তু বিশ্বস্ত কিছু সুবেদারকে দিয়ে তুমি নিশ্চিত করো, রেল কারে সৈনিকরা হাত লাগাবে কিন্তু কোনো শক্তি প্রয়োগ করবে না।’ মেজর জিয়ার সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমাদের সৈনিকরা রেল কারকে ধাক্কা দেয়ার ভান করে। কিন্তু কোনো শক্তি প্রয়োগ না করার কারণে সেই রেল কারটি ওখানেই পড়ে থাকে। এতে আমাদের অধিনায়কের হতাশা এবং রাগ বেড়েই যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কারটির ব্রেক কেটে দিয়ে তা ওখান থেকে সরানো হয় এবং সেনানিবাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়। এই অবস্থাতেও সময় সময় ইপিআরের অ্যাডজুট্যান্ট মেজর রফিক জানাচ্ছিলেন, রাজনৈতিক নেতারা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি—তারা কি করবেন। তারা নাকি তখনও ইয়াহিয়া খান সরকারের সঙ্গে সংলাপের চেষ্টা করছিলেন, একটি রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে।



সেই ২৫ মার্চের কালো রাতে মধ্য রাতের পরপরই পাকিস্তান সামরিক বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে তারা প্রথম আক্রমণ চালায় সেনানিবাসের ভেতরে। যেখানে বেলুচ রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেন্টারে লে. কর্নেল এম আর চৌধুরীসহ প্রশিক্ষণাধীন শত শত বাঙালি সৈনিককে নির্মমভাবে হত্যা করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সেই আক্রমণের খবর মেজর জিয়ার কাছে পৌঁছানো হয়। তাত্ক্ষণিকভাবেই উনি গর্জে উঠেন। বললেন, ‘উই রিভোল্ট’ (আমরা বিদ্রোহ করলাম)। মেজর জিয়ার সেই বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে করা হয়নি। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি এই ঐতিহাসিক এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের তাত্পর্যতম সিদ্ধান্ত নিজেই নেন। বিদ্রোহ ঘোষণা করার পরপরই অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সব বাঙালি অফিসার ও সৈনিকদের একস্থানে জড়ো করা হয় এবং একটি পানির ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে মেজর জিয়াউর রহমান আমাদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন, উনি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বলেন, ‘এখন থেকে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ।’ উপস্থিত অফিসার ও সৈনিকদের সমর্থন চাইলে একবাক্যে আমরা সবাই একাত্মতা প্রকাশ করি। উনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ঘোষণা শুধু নয়, এখন এই স্বাধীনতার জন্য আমাদের সশস্ত্র যুদ্ধ করতে হবে। আমরা সবাই আমাদের প্রস্তুতির কথা ওনাকে জানাই। শুরু হয় বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। পূর্ববাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাধিকার আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যে মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ঘোষণার মাধ্যমে একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পরিণত হয়।

স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মেজর জিয়ার নেতৃত্বে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাতজন বাঙালি অফিসার এবং তিনশ’ সৈনিক আমাদের যেসব অস্ত্র ছিল, গোলাবারুদ ছিল, তা নিয়ে রেললাইন ধরে আমরা কালুরঘাটের দিকে অগ্রসর হই।

এ সময় আরেকটি ঘটনা ঘটে, যেটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। রেললাইন ধরে যখন আমরা হেঁটে যাচ্ছিলাম, মেজর জিয়ার বাসভবনের পাশ দিয়েই আমরা পার হচ্ছিলাম। তখন আমি উনাকে স্মরণ করিয়ে দিই, বাসায় উনার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছেন, তাদের কি হবে। কোনো বিলম্ব না করেই উনি আমাকে বললেন, So are the families of the three hundred man who are coming with me. আল্লাহ দেখবে। Let’s go. সারারাত হেঁটে ভোরের দিকে আমরা কালুরঘাট সেতু অতিক্রম করে নদীর ওপারে পটিয়ায় গিয়ে একটি বনের ভেতরে আমাদের অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করি। এরই মধ্যে ইপিআরের ৬৫ জন সৈনিক ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কাপ্তাই থেকে বিদ্রোহ করে আমাদের সঙ্গে কালুরঘাটে যোগ দেয়। এটাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সামরিক বাহিনী। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার পর বিকালের দিকে মেজর জিয়া সৈনিকদের উদ্দেশে আবার বক্তব্য রাখেন এবং বিদ্যমান ভয়াবহ পরিস্থিতির একটি চিত্র অংকন করেন। তার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সবাইকে দিয়ে শপথ পাঠ করান যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আমরা যুদ্ধ করব এবং প্রয়োজনে আত্মবিসর্জন দেব। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটাই ছিল, সবচেয়ে প্রথম এবং উল্লেখযোগ্য শপথপাঠ।

কালুরঘাট ট্রান্সমিশন সেন্টার, যেটাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হিসেবে নামকরণ করা হয়, মেজর জিয়া ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা সেখান থেকেই দেন। সেই ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘আমি মেজর জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম।’ এই ঘোষণায় তিনি বাংলাদেশ ও বাইরের সব বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য আহ্বান জানান। সর্বশেষে উনি নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে ঘোষণা দেন। এটাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা।

মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং দিকনির্দেশনায় সম্মুখ সমরে লিপ্ত হলাম আমরা পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে। ২৯ মার্চ উনি আমাকে এবং ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ চৌধুরীকে একটি প্লাটুনের দায়িত্বে দিয়ে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা দেন। চকবাজারে আমাদের সেই প্রতিরোধ দুর্গের কারণে পাকিস্তান আর্মি কালুরঘাটের দিকে এগিয়ে যেতে পারছিল না। একটানা চার দিন যুদ্ধে তাদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এপ্রিলের ৭ তারিখে মেজর জিয়ার নির্দেশে মেজর মীর শওকত আলী ও আমি কালুরঘাটের কাছে অবস্থিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানের ওপর হামলা চালাই। সেখানে পাকিস্তান আর্মির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনেকেই নিহত হন এবং সেখানে পাকিস্তান আর্মি পিছপা হতে বাধ্য হয়।

এক পর্যায়ে ১১ এপ্রিল কালুরঘাট সেতু রক্ষায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে ঐতিহাসিক যুদ্ধ হয় সেই যুদ্ধে ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ চৌধুরী এবং আমি গুরুতরভাবে আহত হই। আমাদের সৈনিক ও সহমুক্তিযোদ্ধারা ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ চৌধুরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমি পাকিস্তান আর্মির হাতে বন্দি হই। সেখানে উপস্থিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা আমাকে মারধর করেন এবং পরে তাদের একটি গাড়িতে করে আমাকে চট্টগ্রাম সার্কিট

হাউসে নেয়া হয়। চট্টগ্রামে নেভাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সার পর আমাকে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রাখা হয় এবং তার দুই সপ্তাহ পর ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

বন্দি অবস্থায় চরম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার আমার ওপর চালানো হয়, যদিও গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে আমি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ছিলাম। বন্দি অবস্থায় আমাকে কোনো চিকিত্সা দেয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতাসহ ছয়টি অভিযোগ এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যে ছয়টি অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল, তার সবক’টিতে আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে, এ বিষয়ে সবাই নিশ্চিত ছিল। আল্লাহর রহমতে সেই বিচার প্রক্রিয়া পাকিস্তান সরকার শেষ করতে পারেনি। কারণ ১৬ ডিসেম্বরে তারা যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে। দীর্ঘ আট মাস আট দিন বন্দি থাকার পর ১৯৭১-এর ১৭ ডিসেম্বর মুক্ত বাংলাদেশের মুক্ত আকাশ আমি দেখতে পাই।

যুদ্ধবন্দি থাকা অবস্থায় ন্যূনতম চিকিত্সা থেকে আমি বঞ্চিত ছিলাম। চিকিত্সাহীনতার কারণে আমি শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাই। আজও সেই পঙ্গুত্ব আমি বহন করে বেড়াচ্ছি। তবে এই পঙ্গুত্বই আমার গর্ব।

লেখক : যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ জিয়ার সহযোদ্ধা।

মন্তব্য ৪২ টি রেটিং +১৯/-০

মন্তব্য (৪২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৩

সানজানা আহমেদ সানা বলেছেন: সম্ভবত বাংলাদেশের কোন এক বিশ্ব বেহায়া বলেছিল

" জিয়া ঘঠনাক্রমে মুক্তি যুদ্ধা "

যুদ্ধবন্দি থাকা অবস্থায় ন্যূনতম চিকিত্সা থেকে আমি বঞ্চিত ছিলাম। চিকিত্সাহীনতার কারণে আমি শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাই। আজও সেই পঙ্গুত্ব আমি বহন করে বেড়াচ্ছি। তবে এই পঙ্গুত্বই আমার গর্ব।

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৮

এম আর সুমন বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

২| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৫

কাঠুরে বলেছেন: সংগ্রহে রাখার মতো লিখা। ++++++++

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৯

এম আর সুমন বলেছেন: পোষ্টে আসার জন্য ধন্যবাদ। লেখাটি অনেক আবেগতাড়িত করলো আমাকেও।

৩| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:১৮

নষ্ট শয়তান বলেছেন: ওস্তাদ বাকশালীরা তো মগজ বন্ধক দিয়া রাজনীতি করে অগোরে শুনাইয়া কোন লাভ আছে?

আব্দুল রে কন একটু তামাক সাজাইতে। ঘুম দিয়া উডলাম। খুজতাছি হাম্বা পাই কই। এই চিপায় বইলাম।

ওই আব্দুল আমি এই যে আরে ব্যাটা এই জায়গায়........................

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:২৩

এম আর সুমন বলেছেন: =p~ =p~ =p~ =p~

৪| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:১৯

ইমুব্লগ বলেছেন: ভাল লাগায় প্লাস।

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:২৩

এম আর সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৫| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৯

ডিগবাজি বলেছেন: সত্যপ্রকাশে আপনার ভুমিকা আমি ধন্যবাদ দিয়ে উৎসাহিত করে যাই..........................................।

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৫৮

এম আর সুমন বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ

৬| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০৮

নেক্সাস বলেছেন: আজকে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রে বাংলার এই মহানায়কের জীবনিতে কালীমা লেপনের হীন চেষ্টা চলছে। জোতির্ময় জিয়ার পেছনে ছুটছে কালো মেঘের দল। আধিপত্যাবাদী শক্তি এবং তার দোসর মিডিয়া জিয়া এবং তাকে ঘিরে রচিত ইতিহাস মুছে ফেলার নির্মম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইতিহাস থেকে স্থাপনা যেখানে জিয়া নামটি এসেছে সেখানেই এরা হিংস্র দানবের মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চলছে জিয়াকে ঘিরে গালিগালাজ আর কুৎসীত রটনা। ঠিক যেভাবে আলোর পিছনে অন্ধকার ছায়া লেগে থাকে।

এভাবে শত বাধা অতিক্রম করে সত্যিকারের ইতিহাস এগিয়ে যাবে। জিয়া বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৫৮

এম আর সুমন বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

৭| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৩

নষ্ট শয়তান বলেছেন: ওস্তাদ একটা রে পাইছে এই জায়গায় দিয়া আইলাম। :D :P

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৫৯

এম আর সুমন বলেছেন: আপনার তামুক কই ?

৮| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৫

কালবৈশাখীর ঝড় বলেছেন:
"গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমি পাকিস্তান আর্মির হাতে বন্দি হই। সেখানে উপস্থিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা আমাকে মারধর করেন এবং পরে তাদের একটি গাড়িতে করে আমাকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নেয়া হয়। চট্টগ্রামে নেভাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সার পর আমাকে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রাখা হয় এবং তার দুই সপ্তাহ পর ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়"

অতচ একটি টকশোতে (চ্যানেল আই) বলেছিলেন, -
পাকিস্তানিরা আমার সাথে খুব ভাল ব্যাবহার করেছে!, সুচিকিৎসা দিয়েছিল।

একই রকম ঘটনায় যশোরে ক্যাপ্টেন আনোয়ার আহত অবস্থায় ধৃত হয়েছিলেন। তাকে তাৎক্ষনিক ফায়ারিং স্কোয়ার্ডে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল।

আর সমসের মবিনের বেলায় প্রথমে চট্টগ্রাম CMH, তারপর উন্নত চিকিৎসায় ঢাকা CMH.!!

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:০১

এম আর সুমন বলেছেন: চিকিৎসার জন্যই তাকে সিএমএইচ এ নেয়া হয়েছিলো। তবে প্রপার ট্রিটমেন্ট করা হয় নি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো। তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি আজো পঙ্গু , এই হাম্বাদের চক্করে পড়ে তার কথার বিরোধীতা করার কিছু নাই।
এসব আপনারা কি শুরু করেছেন ভাই ?

৯| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২০

দূর আকাশের নীল তারা বলেছেন: জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এ নিয়ে কোস সন্দেহ নাই। কিন্তু আপনার কথা মত "সর্বশেষে উনি নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে ঘোষণা দেন।" সত্য হলে পরবর্তীকালে জিয়া কিভাবে জেনারেল ওসমানীর অধীনে সেক্টর কমান্ডার হিসাবে ৯মাস যুদ্ধ করলেন?
জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণায় জিয়া নিজেই "On behalf of the great leader, Bangobondhu Sheikh Mujibor Rahman" বলেছেন, এটিকেই কিভাবে ব্যাখ্যা দেবেন?
মুজিব-জিয়াকে স্ব স্ব সম্মান কি দেয়া যায় না?

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:০৪

এম আর সুমন বলেছেন: এই পোষ্টটি আপনি ভাল করে পড়েননি। সেই ঘটনা ছিল ২৬ মার্চের রাতের। আর সাতাশ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সেই ঘোষনা দেন। আর সেটাই বার বার প্রচারিত হতে থাকে।
এখানে সন্দেহ করার তো কিছু নাই?
আচ্ছা ভাই আপনারা কি আসলেই মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন ? নাকি যাকেই দেখেন হাম্বা বিরোধী , তার পেছনেই লেগে যান ?

১০| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:৫০

ফাহীম দেওয়ান বলেছেন: @ দূর আকাশের নীল তারা - ভাই কি বলছেন এইসব ? অইগুলা সব মিছা।

"ড্রামত্বত্ত" ই হইলো সব সত্য ইতিহাস। জিয়াই ঘোষক। অদেরকে অই বিশ্বাস নিয়েই বাঁচতে দেন। জিয়াকে ওরা বেঁচতেও কুন্ঠা বোধ করেনা। ওদের জন্য করুনা করেও লাভ নেই।

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:০৭

এম আর সুমন বলেছেন: @ফাহীম দেওয়ান আসলে জিয়াকে বিএনপি বেচতেছে না। যদি বেচাকেনা হয় সেটা আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে বিক্রি করতেছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিই এমন। বঙ্গবন্ধুর নামে, তার বিচারের নামে, আবার কখোনো যুদ্ধাপরাধীদের নামে তাদের সকল কর্মকান্ডের বৈধতা দেয়ার চেষ্টা হয়।
এগুলো চোখ খোলা রাখা যে কোনো মনুষ্য শ্রেনীই স্বীকার করবে। এখানে একপেশে হওয়ার সুযোগ নেই।
আর জিয়ার ঘোষনা নিয়ে যেহেতু আপনি কোনো কিছুই বলেননি, কোনো তথ্য দেন নি, তাই আমি আর কিছু লিখলাম না।

১১| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:১৮

সবুজ মেঘ বলেছেন: শেকেসে.... +++

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:০৮

এম আর সুমন বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ

১২| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:৫৫

কাকতড়ুয়া007 বলেছেন: +++++++++++++++++++++

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:১৪

এম আর সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ ।

১৩| ২৭ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ৮:১৭

নিলয় তৌহিদুল বলেছেন: Nice post.মুজিব ,জিয়া দুজনেই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নেতা ।আসলে সত্য ঘটনাটা হল বিম্পি জিয়াকে নিয়ে ব্যবসা করে ,আম্লীক মুজিবকে নিয়ে ব্যবসা করে ,জামাত ব্যবসা করে মানুষের ছাগলামী নিয়ে ।কিন্তু এরা সব এক গোয়ালের গরু

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৭

এম আর সুমন বলেছেন: কথাটির এক অংশের সাথে আমি একমত।

১৪| ২৭ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ৮:৩৬

সোহাগ সকাল বলেছেন: হুম।

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৭

এম আর সুমন বলেছেন: হুম..............

১৫| ২৭ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:৪৩

মুহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেছেন: আওয়ামীলীগ সর্বদা জিয়াকে রাজাকার প্রমাণ করতে পারলেই খুশি হয়। অথর্বরা এটা চিন্তা করেনা যে, আল্লাহ না করুক- যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো। তাহলে জিয়ার অবস্থা কী হতো। জিয়া তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চাকুরি করেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন। কতো বড় রিস্ক ছিলো, লীগ কি তা ভাবে না??

মুজিবের ভাষণে জনগণ উজ্জিবীত হয়েছিল সত্য। কিন্তু ২৬ মার্চ দিক নির্দেশনা জিয়াই দিয়েছেন। এটাই মেনে নিত হবে।

লেখককে ধন্যবাদ।

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৮

এম আর সুমন বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ

১৬| ২৭ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:৫২

আহলান বলেছেন: জিয়া থাকলে দেশ আজ সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া হতে পারতো। এটাই ভাদাদের সমস্যা ছিলো ... আর এ কারণেই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো ....

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৮

এম আর সুমন বলেছেন: সহজ কথা এদের মাথায় কখোনো ঢোকে না।

১৭| ২৮ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:১৪

ফাহীম দেওয়ান বলেছেন: @ লেখক - জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার অবদান আমি শ্রদ্ধা ভরেই মনে প্রানে স্মরন করি। তার যেটুকু প্রাপ্য সেটুকু দিতেই হবে। মুক্তি যুদ্ধে তার অবদান কে ছোট করা মানে দেশের স্বাধীনতার প্রতি অসন্মান করা। তাই বলে তাকে এমন এক জায়গায় বসানোর জন্য টেনে আনছেন যা তাকে ছোট করার সামিল। এমনকি তার জীবদ্দশাতেই তিনি কখনো এমন ঘটনা বলেন নি বা কেউ বলেনি যে সে নিজে থেকেই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন। তবে তার মতো একজন সেনা অফিসার যখন বিদ্রোহ করে দেশের জন্য যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে, সেটা এদেশের মুক্তিকামি মানুষ কে উজ্জীবিত করবে এটাই স্বাভাবিক। তা হয়েছে ও। কিন্তু স্বধীনতার ঘোষনা তিনি নিজ থেকে দিয়েছেন এবং তা নিয়ে কিছু ভুই ফোঁড় ইতিহাস বানিয়ে আবারো তার অবদানকে খুঁচিয়ে রক্তাত্ত করার দায় কিন্তু আপনাদের ই নিতে হবে।

হ্যা জিয়া কে নিয়ে বিএনপি আর বংগবন্ধুকে নিয়ে আওয়ামীলিগ এর অনেক অতি উৎসাহি (আমি বলবো সুবিধাবাদী অন্ধ অথবা মাথায় ঘিলু নাই এমন ) সমর্থক নিয়মিত বেঁচাকেনা করে যাচ্ছে, যার ফল আজ আমরা হাতে নাতে পাচ্ছি, হাফ প্যান্ট পড়া পোলাপান যারা রাজনীতির "র" ও বুঝে না এই দুই মহান নেতাকে নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে উনাদের কে নিয়ে নোংড়া কথায়, গালি বাজীতে মেতে উঠে। ওদের দোষ কি, দোষ তো তাদের অগ্রজদের যারা দেশ কে, দেশের বীর নেতাদের কে বেঁচে দল বাজী করে যাচ্ছে।

জিয়ার ঘোষনা নিয়ে তথ্য না দেয়ার কিছু নেই। খুঁজে দেখলে আপনি ও সত্য-মিথ্যা ব্যাবধান করতে পারবেন। এখানে দুইটা লিঙ্ক দিলাম, সত্যতা যাচাই করার দ্বায়িত্ব আপনার রইলো –

Bangladeshi Declaration of Independence

US State Department Secret Telegram on Bangladesh Declaration of Independence

২৮ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:৫০

এম আর সুমন বলেছেন: আমি এইগুলা পড়েছি। আর উপরের মুল পোষ্টটিও রেফারেন্স। এই ভদ্রলোক সেখানে জিয়ার সাথে ছিলেন। সুতরাং ঘাপলা করার কিছু নাই।
আপনি যদি তাজউদ্দিনের ডায়েরী পড়েন তাহলে আর বিষয়টি নিয়ে এভাবে বলার কথা না। আপনি বরং এখানে দেখেন্।
Click This Link
আর একটি কথা , জিয়া নিজে থেকে ঘোষনা না দিলে কেন দিলেন সেটা বলেন। জিয়া পাকিস্তানের একজন বেতনভুক্ত আর্মি অফিসার ছিলেন্। তার তো অন্য কারো হুকুম মানার কথা না। সুতরাং তার সিদ্ধান্ত তার নিজের।
আর জীবদ্দশায় বলেননি বলে কি সত্য চাপিয়ে রাখতে হবে?

১৮| ২৮ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:১৮

দূর আকাশের নীল তারা বলেছেন: @লেখক: হাম্বা লীগ, বিএনপি এবং আপনার মত ইতিহাসকে বিকৃত করার কোন ইচ্ছাই নেই। কিন্তু আপনার মত কেউ বিকৃত ব্যাখ্যা দিলে খুব খারাপ লাগে - ৪৩বছরেও আমরা আমাদের ইতিহাস ঠিক করতে পারলাম না।

আগেও বলেছি, আবারও বলছি, মুজিব-জিয়াকে স্ব স্ব সম্মান দেয়া যায় না?

৩০ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৬

এম আর সুমন বলেছেন: আমি কোনো ইতিহাস বিকৃত করিনি। এখানে শুধু তুলে দিলাম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার লেখা।
এখন যদি যুদ্ধাহত এই মুক্তিযোদ্ধাকে আপনাদের রাজাকার বলতে ইচ্ছে করে , তাহলে বলেন।

১৯| ২৮ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:৩৫

ধ্রুব মহাকাল বলেছেন: স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া
লও লও লও সালাম ।।
+++

২০| ৩০ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৫৭

ফাহীম দেওয়ান বলেছেন: মেজর জিয়াউর রহমান :: স্বাধীনতার ঘোষক অথবা ঘোষণাপত্রের পাঠক?
(পড়ুন, জানুন, শেয়ার করুন)
================


মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের পাঠকৃত ঘোষণা :
‘বাংলাদেশ মুক্তি সেনার প্রাদেশিক কমান্ডার ইন চিফ মেজর জিয়া এতদ্দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।

আমি আরও ঘোষণা করছি, আমরা ইতিমধ্যেই শেখ মুজিবুর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম, বৈধ সরকার গঠন করেছি, যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন গণতান্ত্রিক সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নন-অ্যালাইনমেন্ট নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশ সব জাতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী হবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করবে। বাংলাদেশে বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির জন্য আমি সব সরকারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।

শেখ মুজিবুর রহমানের অধীনে এই সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌম বৈধ সরকার এবং বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক জাতির কাছ থেকে এ সরকারের স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার আছে।’

মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, ৩য় খণ্ড অনুযায়ী মেজর জিয়াউর রহমান এই বক্তৃতা দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ। পরবর্তীতে ৩০ তারিখে পাকিস্তান বিমান কর্তৃক বেতার কেন্দ্র ধ্বংসের আগ পর্যন্ত অনবরতভাবে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করে বা জিয়াউর রহমানের রেকর্ডকৃত কণ্ঠে স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচার করা হয়।

কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমানের পাঠ করা স্বাধীনতার ঘোষণার কথা বলতে গেলে আসেইনি। ভারতীয় পত্রপত্রিকায় তা প্রথম পাওয়া যায় ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ। ভারতীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বক্তৃতা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ৩০ মার্চ সকালে সম্প্রচারিত হয়েছিল। ৩১ মার্চ নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত স্টেটসম্যান পত্রিকার ৯ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন আছে। প্রতিবেদন আছে ৩১ মার্চ মুম্বাই থেকে প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়া ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৩০ মার্চ সকালে মেজর জিয়ার দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ভারতের বাইরে বিশ্বের ইংরেজি ভাষার কোনো পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়নি।

১৯৭১ সালের শেষ দিকে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসমূহ বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যে ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার ভিত্তিতেই সারা বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার মুখে স্বাধীনতার ডাক শুনতে পেয়ে, দেশের মানুষ নতুন উদ্যমে পথ চলার গতি পায়। পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের নামে ও কণ্ঠে প্রচারিত বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা চালানোয় হতোদ্যম হয়েছে খোদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীও। যদিও গণমাধ্যমগুলো নাম ভুল করে জিয়া খান লিখেছিল। উদাহরণস্বরূপ -

১. ২৮ মার্চ নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত দ্য স্টেটসম্যান জানায়: আরেকটি ঘোষণায় ‘বাংলাদেশ মুক্তি সেনার প্রধান মেজর জিয়া’ বলেছেন, বাংলাদেশের পর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী জনগণ এবং পাখতুনিস্তান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে।

২. ২৮ মার্চ মুম্বাই থেকে প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়: বাংলাদেশ মুক্তি সেনার প্রধান মেজর জিয়া খান আজ রাতে স্বাধীন বাংলা রেডিওতে ঘোষণা দেন, দু-তিন দিনের মধ্যেই পাকিস্তানি সামরিক প্রশাসন থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ না করলে পশ্চিম পাঞ্জাবি সৈনিকেরা ‘নিশ্চিহ্ন হবে’।

যেগুলোর কোনটিই সত্য নয়। কিন্তু নিরস্ত্র বাঙালির মনোবল চাঙ্গা রাখতে ব্যবহৃত এসব প্রোপাগান্ডা নিশ্চয়ই সে সময় যথার্থ ছিল

==================================


৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যারপর জিয়া বলেছিলেন:'so what,president is dead? Vice president is there,get your troops ready, Uphold the constitution (source: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর, /কর্নেল শাফায়াত জামিল,(অব) পৃষ্টা-১০৩)'
আবার এই জিয়াই ১৯৭৬ সালের জুলাইয়ে বঙ্গভবনে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনায় বলেছিলেন "Who is a better Awami League than me? I have transmitted the directives of Bangabandhu from Chittagan Radio Station"

source: রাজনীতির তিনকাল/মিজানুর রহমান চৌধূরী, পৃষ্ঠা: ১৭৯

৩০ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০০

এম আর সুমন বলেছেন: আপনার লেখায় সত্যতা নাই। এখানে ৭৫ পরবর্তী ঘটনা নিয়ে এসে বুঝিয়ে দিলেন যে আপনি জিয়া বিদ্বেষী। যে কোনো ভাবেই হোক জিয়াকে ছোট করতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে উপরেই কিছু লিংক দিয়েছি। আমার মনে হয় আপনার সকল বক্তব্যের জবাব সেখানে দেয়া আছে। আর বর্তমানে যে পোষ্টটিতে আপনি কমেন্ট করলেন সেই পোষ্টেও আপনার বক্তব্যের জবাব দেয়া আছে। এই পোষ্টের লেখক তো জিযার সাথেই ছিলেন। এখন বলেন কার বক্তব্যকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিব ?

২১| ৩০ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:১০

ফাহীম দেওয়ান বলেছেন: "আপনার লেখায় সত্যতা নাই।"

শুধু এই একটা কথাই বলে দেয় আপনি কেমন অন্ধ আছেন আর অন্ধই থাকতে চান।

সত্যের মুখোমুখি হবার সাহস রাখেন, কোন দিন ঠকবেন না।

আপনার কি মনে হয়, এই একজন মানুষ "বীর মুক্তিযোদ্ধা সমশের মবীন চৌধুরী" ই সত্য টাকে তুলে ধরতে পেরেছেন। তৎকালীন আর কেঊ কি জীবিত নেই ? যারা সত্য টাকে তুলে ধরছেন তারা সবাই মিথ্যা কাহিনী বলে যাচ্ছেন ? আর বিশ্ব মিডিয়া, বহির্বিশ্বের তাবৎ ব্যাক্তি বর্গ যারা সেই সময় সার্বক্ষনিক চোখ রাখতেন এই দেশের ঘটনাবলীর উপর তারা সবাই কি মিথ্যাই বলে যাচ্ছেন, তারা কি আওয়ামীলিগ করে ? কার বক্ত্যব্যকে আপনি গুরুত্ব দিবেন সেটা অবশ্যই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার, আপনার বিবেক, জ্ঞ্যান যতদুর আপনাকে স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু চোখ আর মন যদি শুধু নিজের চাওয়ার মতো করে ইতিহাস খুজে তবে বিকৃত ইতিহাসও কিন্তু গুরুত্ব পেতে পারে বই কি।

সত্যি সেলুকাস আপনাদের ধ্যান ধারনা আজ মিথ্যার জালে আটকে আছে। আমি জিয়া কে ছোট করার জন্য কিছুই বলিনি। ৭৫ এর পরের যেটুকু বলেছি সেটুকু আদালতে প্রমানিত সত্য। মিথ্যা হলে বিএনপি কেন আদালতে গেল না ???

আমি যার যেই কর্মের জন্য যেটুকু প্রাপ্য সেটুকু সন্মান দিতে কুন্ঠা বোধ করিনা। বংগবন্ধু আমার আদর্শ, কিন্তু জিয়াকে আমি কখনো তার প্রাপ্য সন্মান থেকে বঞ্চিত করিনাই।

আপনার পোষ্টে যেটুকু জেনেছি সেটুকুও নিজের থলেতে রাখলাম, কিন্তু ফিল্টারিংটা হবে বিবেকের কাছে। আমার বিবেককে আমি কারো কাছে বন্ধক দেই নাই ভালো থাকবেন।

৩১ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:২৩

এম আর সুমন বলেছেন: ভাই আদালত কোনোদিন ইতিহাস লিখতে পারে না। আপনার কিছু কিছু কথার সাথে আমি একমত। সুতরাং তর্কে যাবো না। তবে আমি ভাই অন্ধ বিশ্বাসী না। আপনি বরং অন্ধ বিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। উপরের বিভিন্ন কমেন্টে আমি অনেকগুলো লিংক দিয়েছি। যেখানে স্পষ্ট রেফারেন্স ও অন্যান্য তথ্যাদি পাবেন। তাই নতুন করে কিছু লিখলাম না।
আমি আবারো বলছি, আদালত কোনোদিন ইতিহাস লিখতে পারে না। আদালত কোনোদিন ২৫,২৬ বা ২৭ মার্চের সেইসব দিনরাত্রী, বা পরিস্থিতিতে কে কি সাহসিকতা দেখিয়েছে তার প্রমান বা অপ্রমান করতে পারে না। এই অধিকারই আদালতের নাই। আর সেটা সম্ভবও না। সেই ঘটনাগুলি বুঝতে হলে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে হয়। সত্যিকারের যোদ্ধারা সেটা বুঝতে পারেন। কোনো ভারত পালানো দালালও সেটা বুঝতে পারবে না। এগুলো নিয়ে আসলে তর্ক করার কিছু নাই। আপনি কাকে বিশ্বাস করবেন আর কাকে করবেন না সেটা আপনার বিবেচনা।

২২| ১১ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯:৫৫

রুদ্র নীল বলেছেন: "ড্রামত্বত্ত" ই হইলো সব সত্য ইতিহাস।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.