| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্বপ্নের শঙ্খচিল
আমার মনের মাঝে শঙ্খচিল ডানা মেলে প্রতিদিন,ভুলতে পারিনি সেই অভিমান আবার ফিরে আসা তোমার কাছে !
অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !
পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর পাথর শীতল,
চলবে না লড়াই বাতাসের সাথে, যেখানে প্রকৃতি অবিচল।
বুনো ঘাস আর পাতা ফুলের দল ছড়িয়ে পড়ুক চারিধারে,
মাথার ধুলোটা ধুয়ে যাক রোজ শ্রাবণের বৃষ্টিধারে।
অতীতের এক ভারী বোঝা হয়ে ফলকটি শুধু বাঁধে,
মুক্ত মাটি তো শ্বাস নিতে চায়, নতুন রূপের ছাঁদে।
স্মৃতি যদি খোঁজো, খুঁজে নিও তবে মাটির একটি বীজে,
কচি সবুজ পাতায় কিংবা পাখির চঞ্চুমাঝে।
মিশে গেছি আমি নিখিল প্রকৃতিতে, বন্ধনহীন কায়ার,
রাখার তো কোনো দরকার নেই পাথুরে ফলক ছায়ার।
মুখরিত পৃথিবীতে ক্ষুদ্র এ অস্তিত্ব রবেনা আর,
যমুনার চরণে আজি সঁপিলাম নিজ ভার।
কৃতকর্মর জানা অজানা অহমিকা ধুয়ে যাক, গভীর অতলে,
মিশে যাব চিরতরে উত্তাল পদ্মার ভালোবাসার জলে।
(নোট : কবিতাটি প্রিয় ব্লগার ড: এম এ আলীর কবিতা উপলক্ষ্যে আমার ভাবনা )
তাং : ২৩/০৯/২০২৬ ইং । সিডনী, অষ্ট্রেলিয়া ।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অত্যন্ত গভীরে গিয়ে অনুধাবনের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা !
...................................................................................
মৃত্যু মানুষের গতি থামিয়ে দেয়,
তবুও আমরা কত পরিকল্পনা করি,
বহুদুর যেতে চাই, মৃত্যু আসবে জেনেও
আকাশের বুকে ঠিকানা খুজিঁ ,
অচেনা মহাকালের বুকে আত্নসর্মপণ করি ।
২|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০
রাজীব নুর বলেছেন: অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মৃত্যুকে সবাই ভয় পায়, আমি ও একসময় পেতাম
কিন্ত পৃথিবীর পথে চলমান জীবনে অভিজ্ঞতার সন্চয়ে
মহাকালের গর্ভে হারায়ে যেতে চাই ।
৩|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সুন্দর মম কবিতা অনুভব তারিত আপনার এই কবিতা, নামটি আমার স্মরণে আনার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
আপনার কবিতাটি মূলত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হলেও এর অন্তর্গত সুর মৃত্যুভীতি নয় বরং মুক্তি, আত্মসমর্পণ
এবং প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। কবি যেন মৃত্যুকে জীবনের সমাপ্তি হিসেবে না দেখে, অহংকার,
পরিচয় ও পার্থিব বন্ধন থেকে মুক্তির একটি স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে দেখেছেন।
কবিতার শুরুতেই একটি গভীর প্রত্যাখ্যান, পাথর বা গ্রানাইটে খোদাই এখনই করবনা আপনার শেষ শয্যা,যখন সেদিন
আসবে তখন তা বুঝে নিব আমরা , এখন দোয়া করি দীর্ঘ জিবী করুন আপনাকে বিধাতা ।
যাহোক এবার ফিরি কবিতার কথায় -
নাম খোদাই করে রেখো না আমার, এখানে সমাধিফলক, নাম, পরিচয় সবকিছুর প্রতিই এক ধরনের অনাসক্তি প্রকাশ
পেয়েছে। মানুষ মৃত্যুর পরেও নিজের অস্তিত্বকে ধরে রাখতে চায় নামের মধ্যে, স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে, ইতিহাসের পাতায়।
কিন্তু আপনার আকাঙ্ক্ষা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আপনি স্মৃতির স্থাপত্যে অমর হতে চান না; বিলীন হতে চান সৃষ্টির
বৃহত্তর প্রবাহে। দার্শনিক অর্থে এটি অহং-অতিক্রমের আকাঙ্ক্ষা আমি কে বড় করে রাখার পরিবর্তে মহাবিশ্বের অসীম
আমরা-র মধ্যে নিজেকে সমর্পণ করা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ এই উচ্চারণ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের সামাজিক পরিচয় মূলত নাম, পদবি, উপাধি
ও সময়ের সঙ্গে বাঁধা। কিন্তু মৃত্যুর কাছে এগুলোর কোনোটিই স্থায়ী নয়। জন্মতারিখ ও মৃত্যুর তারিখের মাঝখানে যে
ক্ষুদ্র ব্যবধানটিকে আমরা ‘জীবন’ বলি, কবিতা সেই ক্ষুদ্রতাকে উপলব্ধি করে বৃহত্তর অস্তিত্বের দিকে তাকাতে শেখায়।
প্রকৃতির কাছে প্রত্যাবর্তন পরের স্তবকে কবিতাটি আরও গভীর হয়ে ওঠে,ঝুনো ঘাস আর পাতা ফুলের দল ছড়িয়ে পড়ুক চারিধারে..., এখানে মৃত্যু যেন শোকের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রকৃতির কাছে প্রত্যাবর্তন। মাথার ধুলো রোজ শ্রাবণের
বৃষ্টিধারে ধুয়ে যাবে অতীতের ভার ফলকটিকে বাঁধবে না মুক্ত মাটি নতুন রূপের সন্ধান করবে।
এখানে একটি অসাধারণ দার্শনিক রূপান্তর ঘটেছে মানুষের দেহ থেকে স্মৃতির বস্তু নয়, বরং নতুন জীবনের সম্ভাবনা
তৈরি হবে। অর্থাৎ মৃত্যু শেষ নয়; রূপান্তর। যে দেহ একদিন নিজেকে ‘আমি’ বলে জানত, তা আবার মাটি, জল,
বাতাস, ঘাস, ফুলের বৃহত্তর চক্রে ফিরে যাবে।
এই ভাবনার সঙ্গে বিশ্বের বহু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গভীর সাদৃশ্য আছে। বাইবেলের dust you are
and to dust you shall return মানুষ মাটি থেকে এসেছে এবং মাটিতেই ফিরে যাবে এই বোধের সঙ্গে কবিতার
মুক্ত মাটি’র আকাঙ্ক্ষার একটি অন্তর্গত আত্মীয়তা রয়েছে। ইসলামী ঐতিহ্যেও মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্ট এবং মাটিতে প্রত্যাবর্তনশীল হিসেবে দেখা হয়। আবার ভারতীয় দর্শনের বহু ধারায় দেহকে পঞ্চভূতের সমন্বয় হিসেবে দেখা হয়েছে
মৃত্যু সেই উপাদানগুলোর মহাজাগতিক উৎসে প্রত্যাবর্তন।
তবে কবিতাটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মমতের পুনরুক্তি নয়। বরং এটি ধর্মতত্ত্বের একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড়ায়
মানুষ কি নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করবে, নাকি নিজেকে সৃষ্টির হাতে সমর্পণ করবে?
স্মৃতি পাথরে নয়, জীবনের মধ্যে, তৃতীয় স্তবকে কবিতাটি একটি সুন্দর বিকল্প প্রস্তাব করে
স্মৃতি যদি খোঁজো, খুঁজে নাও তবে মাটির একটি বীজে,কচি সবুজ পাতায় কিংবা পাখির চঞ্চুমুখে।
এখানেই কবিতার দর্শন সবচেয়ে কোমল ও গভীর হয়ে ওঠে। আপনি স্মৃতিকে অস্বীকার করেননি;
আপনি শুধু স্মৃতির ঠিকানা বদলে দিয়েছেন।
স্মৃতি পাথরের ফলকে নয় একটি বীজে।
স্মৃতি নামের অক্ষরে নয় একটি কচি পাতায়।
স্মৃতি মূর্তিতে নয় একটি পাখির জীবন্ত অস্তিত্বে।
অর্থাৎ, সত্যিকারের অমরত্ব স্মৃতিস্তম্ভে নয়, জীবনকে অব্যাহত রাখার মধ্যে। মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার স্পর্শে
কোনো প্রাণ, কোনো বৃক্ষ, কোনো ভালোবাসা, কোনো মানবিক কাজ যদি পৃথিবীতে বেঁচে থাকে, তবে সেই
ধারাবাহিকতাই তার স্মৃতি।
এখানে ধর্মতাত্ত্বিকভাবে অমরত্এর একটি আকর্ষণীয় পুনর্নির্মাণ ঘটে। আপনি ব্যক্তিসত্তার চিরস্থায়িত্ব দাবি করছেন
না; বরং নিজের অস্তিত্বকে সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় বিলিয়ে দিয়ে এক ধরনের অহং-অতিক্রমী অমরত্ব কল্পনা করছেন।
বন্ধনহীন কায়া মুক্তির ধর্মতত্ত্ব, মিশে গেছি আমি নিখিল প্রকৃতিতে, বন্ধনহীন কায়ার...,এই পংক্তিটি কবিতার কেন্দ্রীয়
দার্শনিক চাবিকাঠি। বন্ধনহীন শব্দটির মধ্যে রয়েছে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। জীবন আমাদের অসংখ্য বন্ধনে আবদ্ধ করে নাম,
পরিবার, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, ভয়, এমনকি নিজের শরীরের সঙ্গেও।
মৃত্যুর মুহূর্তে আপনি সেই সমস্ত পরিচয় থেকে মুক্ত হতে চান।এখানে দর্শনের অনাসক্তি ও অহং-অতিক্রমের সঙ্গে একটি
সংলাপ তৈরি হয়; আবার ইসলামী ধর্মতত্ত্বের সৃস্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ-এর সঙ্গেও এর একটি ভাবগত সম্পর্ক
খুঁজে পাওয়া যায়। পার্থক্য অবশ্যই আছে: কবিতায় সৃষ্টিকর্তার নাম সরাসরি উচ্চারিত হয়নি। কিন্তু প্রকৃতির কাছে নিজেকে সমর্পণের যে অনুভূতি, তা সৃষ্টির বৃহত্তর রহস্যের সামনে মানুষের বিনয়কে প্রকাশ করে।
যমুনা ও পদ্মা: নদী এখানে শুধু নদী নয় শেষ স্তবকে নদীর উপস্থিতি কবিতাটিকে আরও মহত্তর মাত্রা দেয়,
যমুনার চরণে আজ সমর্পণ নিজ ভার। নিজ ভার এই দুটি শব্দ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ শুধু শরীর বহন করে না;
সে বহন করে স্মৃতি, অপরাধবোধ, অনুশোচনা, আকাঙ্ক্ষা, ব্যর্থতা, সম্পর্কের ভার, জীবনের অসম্পূর্ণতা। নদীর কাছে
সেই সমস্ত ভার সমর্পণ করা মানে যেন বলা আর কিছু ধরে রাখতে চাই না।
তারপর মিশে যাব চিরতরে উজল পদ্মার ভালোবাসার জলে।নদী এখানে মৃত্যুর প্রতীক হয়েও ধ্বংসের প্রতীক নয়।
নদী বহন করে, গ্রহণ করে, শুদ্ধ করে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়। নদীতে ব্যক্তিসত্তা বিলীন হয়, কিন্তু জল থেমে থাকে না।
এই প্রবাহের মধ্যে একটি গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ইঙ্গিত আছে সৃষ্টির বৃহত্তর প্রবাহ ব্যক্তিমানুষের সীমিত অস্তিত্বকে অতিক্রম
করে।
যদি ধর্মতত্ত্বকে মানুষের সঙ্গে পরম সত্যের সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা হিসেবে ধরা হয়, তবে এই কবিতার পরম সত্য কোনো
কঠোর সংজ্ঞায়িত সত্তা নয়; বরং প্রকৃতি, মাটি, জল, বৃষ্টি, বীজ, পাখি ও নদীর অন্তহীন পরস্পর-সম্পর্কের মধ্যে অনুভূত
এক মহাসত্তা।
আপনার কবিতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য সম্ভবত এখানেই মৃত্যুর পর নিজের জন্য কিছুই দাবি করেন না, কিন্তু পৃথিবীর
জন্য অনেক কিছু রেখে যেতে চান। আপনি চান না পাথরে আপনার নাম লেখা থাকুক; চান কোনো বীজে স্মৃতিটুকু
অঙ্কুরিত হোক। চান না কোনো তারিখ আপনাকে সংজ্ঞায়িত করুক; চান বৃষ্টির জলে নীজ ধুলো ধুয়ে যাক। চান না
কোনো সমাধি নীজকে আটকে রাখুক; চান নদীর স্রোতে নীজ অস্তিত্ব মুক্ত হয়ে যাক।
তাই কবিতাটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কবিতা নয়; এটি অহং থেকে অনন্তের দিকে যাত্রার কবিতা।এখানে মৃত্যু হলো বিলয়,
কিন্তু সেই বিলয় নিঃশেষতা নয় মাটিতে ফিরে যাওয়া, জলে মিশে যাওয়া, সবুজ পাতায় পুনর্জন্ম নেওয়া, পাখির ডানায়
স্মৃতি হয়ে থাকা। আর ধর্মতাত্ত্বিক গভীরতায় এর মর্মবাণী যেন এমন মানুষের সত্যিকারের মহত্ত্ব তার কত বড় স্মৃতিস্তম্ভ
রেখে গেল তাতে নয়; বরং সে কত সহজে নিজেকে সেই মহাসৃষ্টির কাছে সমর্পণ করতে পারল, যার কাছ থেকেই তার
আগমন।
এই অর্থে কবিতাটি মৃত্যুকে ভয় করার পরিবর্তে আমাদের শেখায় জীবনকে এমনভাবে যাপন করো, যাতে মৃত্যুর পরেও
তোমার নাম নয়, তোমার ভালোবাসা পৃথিবীর কোনো না কোনো জীবন্ত রূপে প্রবাহিত থাকে।
শুভেচ্ছা রইল
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কবিতাটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কবিতা নয়; এটি অহং থেকে অনন্তের দিকে যাত্রার কবিতা।
এখানে মৃত্যু হলো বিলয়,কিন্তু সেই বিলয় নিঃশেষতা নয় মাটিতে ফিরে যাওয়া, জলে মিশে যাওয়া,
সবুজ পাতায় পুনর্জন্ম নেওয়া, পাখির ডানায় স্মৃতি হয়ে থাকা।
.........................................................................................................................
কবিতার গভীরে ঢুকে অনেক সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছেন
যা আমাকে অত্যন্ত আনন্দ দিয়েছে ।
কবি ও কবিতার সার্থকতা অনেক উচ্চতায় এনে দেয় ।
৪|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সুন্দর প্রতিমন্তব্য দেখে গেলাম ।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আপনার সদিচ্ছা ও আবার ফিরে দেখা সামুর ঠিকানায়
স্মরনীয় হয়ে থাকবে ।
৫|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৮
আলামিন১০৪ বলেছেন: কবরে দেহকে মাটিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে কেউ থাকেনা। তবে একটা কানেকশন তো অব্শ্য থাকে- কোয়ন্টাম অ্যানটেঙ্গেলমেন্ট এর মতো-
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বিজ্ঞান কি বলে ?
আত্নার উপস্হিতি দেহকে সচল করে,
অন্যথায় দেহ বিলীন হয়ে যায় এই বিশ্ব থেকে
যেকোন একটি উপায়ের মাধ্যমে ।
............................................................................................
তাই উক্ত দেহকে গ্রানাইড পাথর দিয়ে আটকে রাখার প্রচেষ্টা হাস্যকর ।
৬|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৬
ক্লোন রাফা বলেছেন: মাট কখনো অচেনা না! জন্ম নেওয়ার পর থেকে থাকে মাটির সাথে বন্ধন। কারন অন্য কোন ঠিকানা জানা থাকলেও এটাই একমাত্র ঠিকানা। ভিন্নাধর্মালম্বিদের কিছু ভিন্নতা থাকলেও । নদীর স্রোত , বায়ুর তীব্রতা শেষ পর্যন্ত মাটিতেই নিয়ে আসে।
সৃস্টি কর্তা এর চেয়ে বেশি পাওয়ার কাউকেই দেয়নি।
জন্ম মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপলব্ধি থেকে লিখে দিলাম॥
ধন্যবাদ॥
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জন্ম ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ হলো মানুষের জীবনের এমন এক পরম মুহূর্ত,
যেখানে পার্থিব অহংকার, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও মোহ তুচ্ছ হয়ে যায় এবং
জীবনের মূল সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
............................................................................................
জীবন ও মৃত্যুর উপলব্ধির :
নশ্বরতার বাস্তব সত্য: মানুষ জন্ম নেয় এবং মৃত্যুবরণ করে—এটাই পৃথিবীর একমাত্র অবধারিত ও চিরন্তন সত্য।
এই সন্ধিক্ষণে এসে মানুষ বুঝতে পারে যে জাগতিক ধন-সম্পদ বা পদ-পদবি চিরantor নয়।
অহংকার বিসর্জন: মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ তার সব রাগ, অভিমান, অহংকার ও জিঘাংসা ভুলে যেতে শেখে। জীবনের ক্ষুদ্রতা ও তুচ্ছতা তখন পরিষ্কার হয়ে ধরা দেয়।
সম্পর্কের মূল্যায়ন: এই সংকটময় মুহূর্তে মানুষ বুঝতে পারে যে টাকা-পয়সার চেয়ে ভালোবাসার সম্পর্ক,
পরিবারের সান্নিধ্য এবং মানুষের জন্য করা ভালো কাজগুলোই আসল মূল্যবান।
সময়ের গুরুত্ব: বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্ত কতটা মূল্যবান, তা তখন উপলব্ধি করা যায়। তখন মনে হয়,
যদি আরও একটু সময় পাওয়া যেত, তবে জীবনটাকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করা যেত।
৭|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১১
নাহল তরকারি বলেছেন: সুন্দর।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যখন একজন মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছায়, অথবা কোনো প্রিয়জনের বিদায়লগ্নে পাশে থাকে,
...............................................................................................................................................
তখন মনের ভেতরে কিছু চিরন্তন উপলব্ধি আলোড়ন সৃষ্টি করে:
[sb তীব্র একাকীত্ব ও আত্মসমীক্ষা অসহায়ত্বের বোধ: জীবনের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে মানুষ বুঝতে পারে যে সে পৃথিবীতে যেমন একা এসেছিল, চলেও যাচ্ছে ঠিক তেমনি একা।
হিসাব-নিকাশ: মনের অজান্তেই মানুষ তার ফেলে আসা জীবনের পাতাগুলো ওল্টাতে থাকে। জীবনের ভালো-মন্দ, ভুল-ত্রুটিগুলো তখন আয়নার মতো স্পষ্ট হয়ে চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
গভীর অনুশোচনা (Regret)না বলা কথা: "কেন প্রিয় মানুষগুলোকে আরও একটু বেশি ভালোবাসলাম না?" বা "কেন মন খুলে নিজের ভেতরের কথাগুলো জানালাম না?"—এমন এক নীরব হাহাকার মনকে গ্রাস করে।
ক্ষুদ্র দ্বন্দ্বে নষ্ট করা সময়: তুচ্ছ কারণে কারও ওপর অভিমান করে থাকা বা রাগ পুষে রেখে যে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে, তার জন্য তীব্র অনুশোচনা হয়।
জাগতিক মোহমুক্তি ও এক অদ্ভুত প্রশান্তি সবকিছুর অবসান: এতদিনের চেনা ঘরবাড়ি, প্রিয় জিনিসপত্র, সমাজ বা সামাজিক অবস্থান, সবকিছু হঠাৎ করেই খুব দূরের আর অর্থহীন মনে হতে শুরু করে।
আত্ন সমালোচনা ও সমর্পণ: একসময় সব ভয় কেটে গিয়ে মনের গভীরে এক গভীর নীরবতা ও প্রশান্তি নেমে আসে। প্রকৃতির এই অমোঘ নিয়মকে মানুষ একপর্যায়ে শান্তভাবে মেনে নেয়।
ভালোবাসার তীব্র আকুলতা শেষ স্পর্শের টান: এই মুহূর্তে কোনো ধন-সম্পদ নয়, কেবল প্রিয় মানুষের একটুখানি হাতের স্পর্শ, চেনা কণ্ঠস্বর বা এক ফোঁটা চোখের জলই হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তু।
৮|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৭
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
সময়ের দান তুমি নাও যদি চিনে,
জীবনের পাত্র তবে ভরে ওঠে সুধায়;
নইলে কেবলই রয় হাহাকার শেষে,
অসময়ে কড়া নাড়া অতৃপ্ত ক্ষুধায়।
৯|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: মহান রাব্বুল আলামিনও মানুষের এমন সরলতা ও কৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন, আমরা এই ধরায় কতোই অহংকারী, বাহাদুরি, ছলচাতুরী, প্রহসনের ঘোরে করছি দিনাতিপাত! সময়ের আত্মসমর্পণ অসময়ে হয় না পূরণ।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।
..............................................................
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেরই একটি নির্দিষ্ট মূল্য এবং গুরুত্ব রয়েছে।
সময়ের কাজ সময়ে না করে যদি আমরা তা হারিয়ে যেতে দিই,
তবে পরবর্তীতে হাজার চেষ্টা বা আত্মসমর্পণ করেও সেই ক্ষতি আর পুষিয়ে নেওয়া যায় না।
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে "Time and tide wait for none" (সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না)।
আপনার এই বাক্যটি সেই সত্যটিকেই আরও কাব্যিক এবং গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয়।
১০|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৭
খায়রুল আহসান বলেছেন: আজ কয়েকদিন ধরে পরপর কয়েকটা পোস্ট এ ব্লগে এসেছে যেখানে মৃত্যু, অন্ধকার গহ্বরে মাটির বিছানা, সমাধি, সমাধিফলক (এপিটাফ), ইত্যাদি নিয়ে কিছু ভাবনা ও ইচ্ছের কথা ব্যক্ত হয়েছে। কবরস্থানে গেলে অনেক ক্ববরের উপরই এপিটাফ বা সমাধিফলক চোখে পড়ে। সেখানে অনেক আবেগময় কিছু স্মৃৃৃতিকথা বা ভাবনার কথা শোভা পায়। সেগুলোর কিছু লিখে যান মৃৃত ব্যক্তি স্বয়ং, আর কিছু তাদের ভালোবাসার প্রিয়জন। সেসব কথায় হৃদয়ের কোমল অনুভূতি প্রকাশ পায়। আমি সময় পেলে সেগুলো মন দিয়ে পড়ে থাকি। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তও তার এপিটাফ নিজে লিখে গিয়েছিলেন। তবে কোমল কথা ছাড়াও কিছু কিছু এপিটাফে অনেক কঠিন কথাও লিখা থাকে। কঠিন হলেও, সেগুলো নিয়ে ভাবতে এবং একটা উপলব্ধিতে আসতে ভালো লাগে।
যেমন, আমার কাছে আইরিশ কবি Nobel Laureate Sir W B Yeats এর ছোট্ট এপিটাফের এই কথাগুলো নিয়ে ভাবতে খুব ভালো লাগেঃ
"Cast a cold eye,
On life, on Death.
Horseman, pass by!”
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তও তার এপিটাফ
.........................................................................
"দাঁড়াও, পথিক-বর, জন্ম যদি তব বঙ্গে!তিষ্ঠ ক্ষণকাল!
এ সমাধিস্থলে(জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি বিরাম)
মহীর পদে মহানিদ্রাবৃত দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন!
যশোরে সাগরদাঁড়ী কপোতক্ষ-তীরে জন্মভূমি,
জন্মদাতা দত্ত মহামতি রাজনারায়ণ নামে, জননী জাহ্নবী!"
১১|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: "আপনি স্মৃতির স্থাপত্যে অমর হতে চান না; বিলীন হতে চান সৃষ্টির বৃহত্তর প্রবাহে" - কবি সম্পর্কে ডঃ এম এ আলী এর এ চমৎকার কথাটি খুব ভালো লাগল।
"জন্মতারিখ ও মৃত্যুর তারিখের মাঝখানে যে ক্ষুদ্র ব্যবধানটিকে আমরা ‘জীবন’ বলি, কবিতা সেই ক্ষুদ্রতাকে উপলব্ধি করে বৃহত্তর অস্তিত্বের দিকে তাকাতে শেখায়" - এটাও।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
আমরা দিন গুনি, আমরা হিসাব কষি খুব যত্ন করে,
একটা জীবন কতটা মাপে সার্থক হলো এই চরাচরে।
অথচ সময় চলে যায় ফুরিয়ে যাওয়া শেষ বিকেলের মতো,
ফেলে রেখে যায় কিছু অপ্রাপ্তি আর স্মৃতির ক্ষত।
১২|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৩
মেহবুবা বলেছেন: আমারও এমনি করে মনে হয়, আরো অনেকের বোধ এমন।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ধন্যবাদ সহর্মমিতা জানানোর জন্য,
........................................................................
আপনার মনের মাঝে যদি কোন উথাল পাতাল করে
এই কবিতা পড়ে তাহলে ,
চুপি চুপি জানান দিতে পারেন মহাকালের অসীম ব্যপ্তিজুড়ে
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩
জুল ভার্ন বলেছেন: আধ্যাত্মিক উপলব্ধির অসাধারণ সুন্দর কাব্যিক উপস্থাপন!