নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালো লাগে লেখালিখি করতে। ভালো লাগে সিনেমা দেখতে। এসব নিয়েই কিছু করে বাঁচতে চাই। পড়ছি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মোঃ তাওহীদুর রহমান স্বরূপ

কল্পনা করতে ভালোবাসি। কিন্তু কল্পনার জগতটা খুব অদ্ভূত। হাত বাড়ালেই নেই, ধরতে গেলেই উধাও।

মোঃ তাওহীদুর রহমান স্বরূপ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার আমি

০২ রা মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৮

সবসময় সহজ সরল একটা জীবন যাপন করতে ইচ্ছা করে আমার। যাপন “করি” না বলে “ইচ্ছা করে” বললাম কারণ চাইলেই পারা যায়না সহজভাবে থাকতে। কি যে! হয়তো যায় ঠিকই, আমিই পারিনা। কল্পনা করতে খুব ভালো লাগে। একভাবে বলতে গেলে আমি বেশিরভাগ সময় আমার কল্পনার জগতেই বাস করি। যার কল্পনা, সেই রাজ্যের রাজাও সে। ব্যাপারটা অনেক মজার। যা ইচ্ছে তাই করা যায়। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বই পড়ে অনেক সময়েই ভেবেছি কোনো এক রাতে সত্যি সত্যি পাঞ্জাবী গায়ে চাপিয়ে খালি পায়ে রাস্তায় নেমে পড়ব। হাঁটব। নিজ মনে। সাথে থাকবে না কোনো মুঠোফোন, কোনো ইয়ারফোন। দুঃখের বিষয় এই ইচ্ছা এখনো পূরণ হয়নি। মাঝে মাঝে মনে হয় চাইলেই তো পূরণ করা যায়। কি আর হবে এমন! কি যে! হয়তো একদিন এতো আগে পিছে না ভেবে নেমে পড়ব রাস্তায়। এই রাস্তাইয় খালি পায়ে হাঁটার ব্যাপারটা চিন্তা করলে কেমন যেন সিগারেটের ব্যাপারটা মাথায় আসে। হাঁটতে হাঁটতে সিগারেট টানলে কি সুখ লাগবে খুব বেশি? এই সিগারেট বস্তুটা কখনো খাওয়া হয়নি জীবনে। আচ্ছা সিগারেট লাগবে না। আমি বরং দু’টাকা দিয়ে একটা নলা চকলেট কিনে নিব।


মাঝে মাঝে টাকা পয়সা নিয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা করি। প্রায়শই আমার চিন্তাভাবনা হয় এই ধরণের যে, কেউ আমাকে একবারে অনেক টাকা দিয়ে দিয়েছে। কি কারণে দিয়েছে জানিনা। কিন্তু দিয়েছে। আর অনেক টাকা মানে প্রায় কয়েক কোটি টাকার মত। আমি আমার যত চাওয়া আছে সব পূরণ করে নিচ্ছি। ছবি তোলার প্রতি আমার একটু ঝোঁক আছে। সেই শখ থেকে চিন্তা করি যে একটা ভালো ক্যামেরা কিনে ফেলব। অনেক অনেক গ্যাজেট কিনব। দামি গাড়ি কিনব। আমার একটা। আব্বু আম্মুর জন্য একটা। শ্বশুরের জন্য একটা। বেশিরভাগ দিনই এমন হয় যে আমি গোসল করতে নিলে এসব ভাবি। ভাবতে ভাবতে গোসল শেষ হয়ে যায়। নয়তো রাতের বেলা শুয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি। এই ভাবনার শেষ হয়না কখনো। চাইলে আরো একটু দূর চিন্তা করা যায়। কিন্তু ইচ্ছা করেনা। এক রকম ভয় কাজ করে। মনে হয় শেষটা জেনে ফেললে আর কখনো এসব চিন্তা করতে ভালো লাগবেনা। এজন্যই মনে হয় আল্লাহ্‌ তা’আলা এরকম একটা ব্যবস্থা করেছেন যে, আমাদের মৃত্যু কখন হবে আমরা তা জানিনা। জানলে মনে হয় সব কিছু এরকম হত না। অন্যরকম হত। আচ্ছা, কিরকম হত?



আবার অনেক সময় মনে হয় এতো টাকা দিয়ে কি হবে। তারচেয়ে একটা ২ রুমের একটা ছোটখাট বাসা ভাড়া করে বউকে নিয়ে থাকব। একটা বেড রুম। একটা ড্রইং রুম। সময় করে বউকে নিয়ে হয়তো বাহির থেকে ফুচকা খেয়ে আসব। জোছনা রাতে রাস্তাইয় হাত ধরে হাঁটব। শীতের সকালে শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটব। মাঝে মাঝে বাড়ি ফেরার পথে টং এর দোকানে চা খাব। যে সংসারে মান অভিমান একটা গোলাপেই ভেঙ্গে যাবে। মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে আব্বা-আম্মা (আমি ঠিক করেছি আল্লাহ্‌ ভাগ্যে বিয়ে লিখে রাখলে শ্বশুর শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলে ডাকব) বা আমার বাবা-মা আসলে উনাদের বেড রুমে থাকতে দিব। আর আমি বউকে নিয়ে থাকব ড্রইং এ। ড্রইং রুমটা আবার বেশ ছোট। সোফার টেবিলটা এক পাশে সরিয়ে কোনো ভাবে একটু জায়াগা বের করে ওখানেই ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হবে। হয়তো মাঝরাতে জানালা দিয়ে জোছনা আলো এসে পড়বে ওর মুখে। ওর মায়াবী মুখটা দেখে আমি মুচকি মুচকি হাসব। হয়তো মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিব। হয়তো কোনো এক শীতের স্তব্ধ গভীর রাতে ওকে পেছন থেকে আগলে ধরব। হয়তো পিঠে একটা হামি খাব। ও সুরসুরি পেয়ে আমার দিকে হবে আর হাত দিয়ে আমাকে দূরে সরাবে। আমি কাছে আসতে নিলে আমার মুখ চেপে ধরবে আর মুচকি হেসে ফিসফিসিয়ে বলবে, “উনারা শুনতে পাবেন তো। চুপ। একদম চুপ”।



ভবিষ্যতে আমার ভাগ্যে কি লেখা আছে জানিনা। তবে খুব খুশি হতাম আমি যদি প্রফেশনালি লেখালিখি, ফিল্মমেকিং – এসব, আর শখ হিসেবে বই পড়ে, ঘোরাঘুরি করে, ছবি তুলে, ছবি আঁকিয়ে এই জীবনটা কাটাতে পারতাম। ভালোই তো হত। হয়তো বেস্ট হত। তবে প্রতিযোগিতার এই যুগে হয়তো সংসার চালানোর জন্য, একটু ভালো জীবন যাপনের জন্য শেষমেশ ঐ টাকার পিছেই দৌড়াতে হবে। তবে তাই যদি করতে হয়, চাই অনেক বেশি টাকা অর্জন করতে। যেন আল্লাহ্‌ ছেলে মেয়ে দিলে তাদের একটা ভালো ব্যবস্থা করে দিয়ে যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন এই শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে কোথাও ফার্ম হাউজ টাইপ কিছু একটা বানিয়ে দুই বুড়ো-বুড়ি গিয়ে আরামে থাকতে পারি। তখন লেখালিখি, পড়ার এতো শক্তি থাকবে কি না জানিনা। কিন্তু কল্পনা করাটা ঠিক চালিয়ে যাব। ঐ জগতটা কেউ দখল করতে আসবে না, পারবেও না।


[এই লেখাটা আমার ফেসবুক প্রোফাইল ইনফোতে আমার সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছিলাম। আমি এমনই...]

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.