নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বৃষ্টি

আর ঘুম...

ঘুমন্ত তৈমুর

লেখাটা একটা নেশার মত। একবার ডুবে গেলে বাকি পৃথিবী বড্ড রঙহীন মনে হয়।

ঘুমন্ত তৈমুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঘাসফড়িঙের রাত (অণুগল্প ১)

২৭ শে জুন, ২০১৩ রাত ১০:৩৯

গ্রীলের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে অর্ণা। বাইরের বৃষ্টির মত তার চোখের পাতা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নিওন আলো। দ্রুত ছুটে যাওয়া গাড়ির ভীড় না থাকলে রাতের ঢাকা কেমন অচেনা লাগে। সি.এন.জি.-র চাকায় ছিটকে ওঠা পানিতে রাতের গন্ধ। সাব্বির অর্ণার হাত ধরে টান দেয়।



“এদিকে এসো। ভিজে যাচ্ছ তো!”



অর্ণা সাব্বিরের হাত সরিয়ে দিলো এক ঝটকায়। ওর পিঠ ফুলে ফুলে উঠছে। সাব্বির ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে।



“আর তিনটা দিন অর্ণা। ফারুক টাকাটা দিলেই আমি বাড়িওয়ালাকে অ্যাডভান্স করে দিব। কিন্তু এর আগে তোমাকে কিভাবে নিয়ে যাব আমি? কোথায় নিয়ে যাব?”



“যেখানে খুশি নিয়ে যাও সাব্বির! ২ তারিখে আমার গায়ে হলুদ। যদি বের হতে না পারি আমি?”



“মামা এখানে রাখো। অর্ণা, আমি এই মোড়ে নেমে যাই। মামা, ডানের গলি দিয়ে যাও। এই নাও টাকা। ...পাঁচ টাকা দাও। আস্তে চালাইয়ো মামা।”



সাব্বির অর্ণার হাত চেপে ধরে।



“আমি তোমাকে নিতে বড় রাস্তায় থাকব। বড় কোন ব্যাগ নেয়ার দরকার নাই। তোমার জন্য কাপড় কিনে রেখেছি আমি।”



“ফোন দিয়ো না এর মধ্যে আর, মেসেজ দিয়ো। আর প্লিজ মোবাইলে চার্জ দিয়ে রেখ। এত করে বললাম, ব্যাটারিটা বদলাও!” অর্ণার গলা কাঁপছে।



“অর্ণা...”



দুজন তাকিয়ে থাকে দুজনের চোখে। সি.এন.জি.-র ইঞ্জিন চালু হয়। আহ! রাতগুলো কেন এত চুপচাপ হয়? ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলোতে সাব্বির ঝাপসা হয়ে আসে গ্রীলের ফাঁকে।



বৃষ্টি বাড়ছে।



সি.এন.জি. জমা দিয়ে ফেরার পথে ভিজে চুপচুপে হয়ে গেল কাশেম। ঝুপড়ির মুখে দাঁড়িয়ে ফাতেমা দেখতে পায় কাশেমকে। কেমন ক্লান্ত ভঙ্গিতে হেঁটে আসছে মানুষটা। আহারে! না জানি কত ক্লান্ত হয়ে ফিরতেছে! শুকনা একটা গামছা দিয়ে কাশেমের মাথা মুছে দেয় ফাতেমা। কুপির আলোয় তাকে বড় সুন্দর লাগে। ঘরে আজ শুধু ডিম আর বেগুনের তরকারি। কাশেম বড় বড় নলা মুখে তোলে।



“তুমি খাইছ?”



“তুমি খায়া নাও। আমি পরে খাইতেছি।”



কাশেম আর কোন কথা বলে না। অল্প অল্প মাথা ঝাঁকাতে থাকে সে, ঠোঁটের কোণায় একটু যেন হাসি দেখা যায়। ফাতেমা বোঝে তরকারিটা কাশেমের পছন্দ হইছে। মানুষটা বেশি কথা বলে না। কিন্তু সে জানে, কাশেমের অন্তরে তার জন্যে অনেক মায়া।

ঘুমন্ত ফাতেমার মুখের দিকে তাকিয়ে কাশেমের বুকের ভিতরটা কেমন করে ওঠে। সে আস্তে আস্তে উঠে ঘরের কোণার ট্রাঙ্কটার দিকে যায়। ট্রাঙ্কে রাখা ছোট্ট কাঠের বাক্সটা খুলে ভিতরের টাকাগুলো বারবার গোনে কাশেম। শার্টের পকেট থেকে টাকাগুলো বের করে কিছু টাকা খুব সাবধানে বাক্সটায় ঢুকিয়ে রাখে সে। একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস পরে তার। আজকেও ফাতেমার মুখটা কেমন কালো কালো লাগছিল। হয়তো পাশের ঘরের রাজিয়ার চুলায় রান্নার সময় আজকেও রাজিয়া কিছু বলেছে ফাতেমাকে। আর মাত্র কয়েকটা দিন। আর আটশ টাকা জমলেই নাখালপাড়ার ঘরটা নিতে পারে সে। একটা নতুন স্টোভ আনবে ফাতেমার জন্য। গ্রাম থেকে এই ঘিঞ্জি জায়গায় এসে মেয়েটা কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে। নাখালপাড়ার ঘরটার সামনে উঠান আছে একটা। ছোট্ট, তাও তো আছে। কাল আবার হরতাল। তবুও কাশেমকে যেতে হবে। বেড়ার ফাঁক দিয়ে আকাশের দিকে তাকায় কাশেম।



আকাশে আজ কোন তারা নেই। মেঘগুলো কেমন অন্যরকম।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে জুন, ২০১৩ রাত ১:০১

এহসান সাবির বলেছেন: বেশ...

২| ৩০ শে জুন, ২০১৩ রাত ২:৫২

ঘুমন্ত তৈমুর বলেছেন: :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.