নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বৃষ্টি

আর ঘুম...

ঘুমন্ত তৈমুর

লেখাটা একটা নেশার মত। একবার ডুবে গেলে বাকি পৃথিবী বড্ড রঙহীন মনে হয়।

ঘুমন্ত তৈমুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

নির্বাসন (অণু গল্পঃ ৪)

০৮ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ২:০৭

এত বড় বাড়িতে একা মেয়েটা। বাইরে আকাশের গায়ে দুপুর পড়ে আসছে। পশ্চিমের ঘরটার মেঝেতে জানালার গ্রীল সরে যাচ্ছে একটু একটু করে। গরমে খুব অস্থির লাগছে। হঠাৎ তার মনে পড়ল দুধ গরম করা হয়নি আজ। গরমে দুধ নষ্ট হতে বেশি সময় লাগবে না। রান্নাঘরের সাথে একচিলতে বারান্দায় কখন যেন একটা টুনটুনি পাখি ঢুকে গেছে। তাকে দেখেই ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল পাখিটা। পায়ে পায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই ঝকঝকে নীল আকাশের গায়ে সাদা মেঘটা চোখে পড়ল তার। মেঘ বদলে যায় প্রতি মুহূর্তে, একটু একটু করে। যাকে ছোঁয়া যায়না, তাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে খুব। গ্রীলের ওপাশে সাদা রঙের হাওয়াই মিঠাই কখন যে একটা পাতা হয়ে গেছে, সে খেয়াল করেনি। একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে ভিতরে আসে মেয়েটা। পশ্চিমের ঘরটা খুব ভাল লাগে তার। মেঝেতে বিন্দু বিন্দু বালি লুকোচুরি খেলে রোদের সাথে।



হঠাৎ মনে পড়ল, যাহ! যে কাজে গিয়েছিল, সেটাই তো হয়নি। আবার রান্না ঘরে ফিরে আসতেই মেয়েটাকে দেখে টুনটুনি পাখিটা আবার পালিয়ে যায়। পায়ে পায়ে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে এসে সে উঁকি দেয় চুপ করে। কিছুক্ষণ পর টুনটুনিটা আবার আসে। কিছু একটা খুঁজছে বোধহয়। সিঙ্কের উপরে বসে ঘাড় বাঁকিয়ে এদিক ওদিক দেখে ছোট্ট পাখিটা। মেয়েটা হেসে ফেলতেই পাখিটা আবার পালিয়ে যায়। আহারে! বাইরে কোথাও পানি পায়নি বোধহয়! এখানে এসেছিল একটু পানির জন্য। ষ্টীলের একটা গামলায় পানি ভরে বারান্দার কোণায় ছায়ায় রাখে সে। অতটুকু একটা পাখি, কতই বা পানি খাবে! তবু কানায় কানায় গামলা ভরে দিলো মেয়েটা। কখনো কখনো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেতে বড্ড ভাললাগে। পানিতে মেয়েটার ছায়া পড়ে। স্বচ্ছ পানি, তবু পুকুরের তল দেখা না যাওয়া ঘোলা জলের জন্য বড্ড পিপাসা হয় তার। এই পানিতে কোন নারকেল গাছের ছায়া পরেনি। চারপাশে তাকিয়ে সে কোথাও খুঁজে পায়না টুনটুনিটাকে। জানে, সে না গেলে পাখিটা আসবেনা। টুনটুনি বন্দী হতে চায়না। দুধ একটু পরে গরম করলেও চলবে।



মেয়েটা এসে দাঁড়ায় ড্রয়িং রুমের বইয়ের শেলফগুলোর সামনে। একেকটা বই একেকরকম। কোনটার মলাট খসখসে, কোনটার মসৃণ আর কোনটার হয়তোবা কাপড় দিয়ে বাঁধানো নরম মলাট। সার বাঁধা মলাট ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় মেয়েটা। বইগুলোর কাছে দাঁড়ালে একটা গন্ধ পাওয়া যায়, কেমন পুরাতন মিষ্টি একটা গন্ধ। টিভির রিমোট টা কোথায় কে জানে! ঘড়িতে চোখ পড়তেই চমকে ওঠে মেয়েটা। ইস! কত দেরী হয়ে গেল! চুলায় দুধ ফুটছে। নামিয়ে নিতে হবে একটু পরেই। কেউ কেউ কেন যে দুধ পছন্দ করেনা, সে কিছুতেই বুঝতে পারেনা।



ছোট আফামনিরে দুধ ঠাণ্ডা কইরা না দিলে সে কিছুতেই খাইবনা। বাতাসে ঠাণ্ডা কইরা পাতিলডা আবার ফ্রিজে রাখন লাগবো।



মেয়েটার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে ওঠে। তার বড় বড় চোখের তারায় দুধের পাতিল অকারণেই ঝাপসা হয়ে যায়।



আল্লাহ্‌ জানে, কখন যে বেল বাজে!



তাড়াহুড়ো করে দুধের পাতিলটা নামিয়ে নিতে চায় সে। ঠিক তখনি বেল বেজে ওঠে দরজায়। গরম দুধ ছলকে পড়ে তার পায়ে, মেঝেতে। দরজার দিকে ছুটে যেতে যেতে মেয়েটা মনে মনে বলে,

আল্লাহ্‌! খালাম্মা দেখার আগেই জানি আমি মেঝেটা মুইছা ফেলতে পারি। আল্লাহ্‌, তুমি আমারে দেইখো।



মেয়েটা এখনো বারোতে পড়েনি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.