নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বৃষ্টি

আর ঘুম...

ঘুমন্ত তৈমুর

লেখাটা একটা নেশার মত। একবার ডুবে গেলে বাকি পৃথিবী বড্ড রঙহীন মনে হয়।

ঘুমন্ত তৈমুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভুলে যাওয়া কবিতারা

১০ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১২:১১

কোন কোন দুপুরে কবিতা ফিরে ফিরে আসে।



তখন রাজশাহীতে এসেছি বেশিদিন হয়নি। এত বন্ধু হয়নি তখনো। শেষ শীতের অনেকগুলো বিকেল আমি লক্ষ্মীপুর মোড়ে চুপচাপ বসে কাটিয়েছি। কবিতা লেখার নেশা ছিল খুব। কারণও ছিল। কিন্তু, হাজার মাইল দূরের এই শহরটায় কবিতা পড়ানোর মতো মানুষ ছিল না। ঘরে কম্পিউটার ছিল না। তাই, এলোমেলো চুলে হাত চালাতে চালাতে পকেটে একটা কাগজ ভরে প্রায়ই বেড়িয়ে পড়তাম। লক্ষ্য ছিল লক্ষ্মীপুর মোড়ের একটা সাইবার ক্যাফে। বাইরে যখন সন্ধ্যা নেমে আসতো, আমি তখন সাইবার ক্যাফের বদ্ধ ঘরে বসে doridro.com এ কবিতা পোস্ট করতাম। আজ অনেক দিন পর একটা কবিতা আবার দেখতে খুব ইচ্ছে হল। doridro.com আঁতিপাঁতি করে খুজেও কবিতাটা পেলাম না। মনে পড়ল, ছয় বছর আগের কোন এক রাতে এক রূপবতী কিশোরীর জন্য এই কবিতাটা লিখেছিলাম। পরীক্ষা চলছিল তখন। তাতে আমার কবিতা লেখা আটকায়নি। আর, এক জীবনে লেখা এতগুলো কবিতার মধ্যে শুধু এই কবিতাটাই আমার মুখস্ত ছিল বহুদিন। কবিতাটা আমি তাকে চোখ বন্ধ করে শোনাতে চেয়েছিলাম। স্মৃতি তার নিজের মতো করে অনেক কিছু সাজিয়ে নেয়, মুছে দেয় অনেক কিছু। আজ যতটুকু মনে করতে পারি, জানি সেটা সবটুকু নয়। তবুও, এটা সেই কবিতা, যেটা লিখে কখনো মুখস্ত করেছিলাম।



কখনো কখনো মনে হয়, অনেক দূরে চলে যাই।

কখনো কখনো মনে হয়, তোমার কাছে ছুটে যাই।

মনে হয় বলি,

যাবে তুমি আমার সাথে?

যাবে তুমি দূরে কোথাও?

কোন এক একলা দ্বীপে, নারকেল পাতার ছায়ার তলে,

যেথায় থামবে আমাদের কল্প কথার নাও?

যাবে তুমি, যাবে তো?



কল্পনা করি তোমায় নিয়ে যাব দূর দারুচিনি দ্বীপে,

অলস ভঙ্গিতে বসে থাকবো নারকেল বনের ছায়ায়।

হয়তোবা উড়ে যাবে গাঙচিল শুভ্র ডানা মেলে দূর সমুদ্রতটে,

আমি দেখবনা তখন সে ছুটে চলা গাঙচিল।

আমি দেখবো শুধু মুগ্ধ চোখে

বারেবার তোমার পা ছুঁয়ে যাওয়া অথৈ সমুদ্রের জল;

যে জলে খেলা করে সূর্যের শেষ কিরণ, লক্ষ ঝিনুকের দল।



অথবা কোন এক বর্ষার রাতে,

যখন মন খারাপ হয় অকারণে,

যখন প্রিয় বৃষ্টি জল হয়ে জমে চোখের কোণে।

হয়তোবা ভিজবো সেই ঝুম বৃষ্টিতে।

তখন ভিজবে তুমি, আমার সাথে?

বড্ড জানতে ইচ্ছে করে,

তখন আসবে তুমি, আসবে তো?



অপরিণত বয়সের কাঁচা কবিতা। কিন্তু, যে আবেগ নিয়ে কবিতাটা লিখেছিলাম, সেটা কাঁচা ছিল না একটুও। নির্ঘুম কোন কোন দুপুরে আবার গাঢ় স্বরে কবিতা বলতে ইচ্ছে করে, যে কবিতাটা লিখে মাত্র মুখস্ত করেছি। যে কবিতা বলার আগে চোখ বন্ধ করে নিতে হয়। কিন্তু এখন আমি জানি, কবিতা লেখা যায় না। কবিতা আসে নিজের মতো করে, পা টিপে। স্মৃতির মতো কবিতাও বড্ড প্রতারণা করে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.