নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হায় স্বদেশ

ভাই ভালো হতে চাই

তাইয়িব

সাধারন মানুষ।সত্য কথা বলা পছন্দ করি।

তাইয়িব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১০ ভোর ৬:০১

প্রায় সাড়ে ষোল কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ। আয়তনে তুলনামূলক ছোট হলেও জনসংখ্যার ভারে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য; লেনদেন তথা ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ কিন্তু ব্যাপক। সেক্ষেত্রে এদেশীয় উৎপাদিত পণ্যে এদেশবাসীর প্রয়োজন মেটানো ছিলো কাঙ্খিত ও বাঞ্ছিত।

গতকাল নিউজ হয়েছে, ‘বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি ২৯১ কোটি মার্কিন ডলার।’

খবরে বলা হয়, “রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েই চলেছে। গত অর্থবছরে (২০০৯-১০) ভারতের বাজারে বাংলাদেশ পণ্য রফতানি করে ৩০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের। এর বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৩২১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। ফলে গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ২৯১ কোটি ডলার, যা দশ গুণেরও বেশি। আগের অর্থবছরে (২০০৮-০৯) দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৫৮ কোটি ৭ লাখ ডলার। ওই বছর ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২৮৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্যসামগ্রী। ওই বছর ভারতে রফতানি করে বাংলাদেশ ২৭ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এর ফলে এ বছরও ঘাটতি দাঁড়ায় দশ গুণেরও বেশি।”

মূলত রফতানির চেয়ে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা, দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। এসব কারণে প্রতিবেশী এ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ঘাটতি এখন পর্বতসম। শুধু গত দুই অর্থবছরই নয় এর আগের অর্থবছরগুলোতে প্রতিবছরই ঘাটতি ছিল কখনো দশ গুণ, কখনো বিশ গুণ, কখনো ত্রিশ গুণ, কখনো তার চেয়েও বেশি। কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না এ বাণিজ্য বৈষম্য। বরং ক্রমাগত বেড়েই চলেছে এ ঘাটতির পরিমাণ। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ঘাটতির এ চিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া চোরাই পথে প্রতিদিনই বাংলাদেশে ঢুকছে হাজার হাজার টন ভারতীয় পণ্য যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে। অর্থের হিসাবে এসব পণ্যসামগ্রীর মূল্য হাজার হাজার কোটি ডলার। চোরাই পথে আসা এসব পণ্যের আর্থিক হিসাব ধরা হলে ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়বে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, পাশাপাশি দেশ হওয়ায় ভারত থেকে আমদানিতে খরচ কম হওয়ার কারণে পণ্যসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের উপরই অনেকাংশে নির্ভরশীল বাংলাদেশ।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশ মূলত রাসায়নিক পণ্য, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য, গার্মেন্টস পণ্যসামগ্রীসহ আরও কিছু পণ্য রফতানি করে থাকে। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে ভোগ্যপণ্যই বেশি। চাল, ডাল, চিনি, পিয়াজসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দেশীয় চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে ভারতের বাজারের উপর নির্ভর করতে হয়।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই দশকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে কম ছিল ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ছয় গুণ। গত দুই দশকে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যকার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ঘাটতি ছিল একশ গুণেরও বেশি। ওই বছর বাংলাদেশ ভারতের বাজারে পণ্য রফতানি করে মাত্র ২১ লাখ ডলার। কিন্তু এর বিপরীতে ভারত থেকে ২৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। এর ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার যা ছিল একশ গুণেরও বেশি। এর পরের অর্থবছরে (১৯৯২-৯৩) ভারতের বাজারে বাংলাদেশ ৯৯ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করে। এর বিপরীতে ভারত থেকে আমদানি করে ৩৪ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় পঁয়ত্রিশ গুণ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার চেষ্টা করছে। তবে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি না করলে দ্বিপক্ষীয় এ বাণিজ্য ঘাটতি কমানো কখনোই সম্ভব নয়। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সমপ্রসারণে বাংলাদেশি পণ্যের মেলা আয়োজন এবং বিভিন্ন সময়ে ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকও করছে বাংলাদেশ।

ভারতের বাজারে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশ থাকলেও দেশীয় চাহিদা পূরণে ঘাটতি থাকায় সেসব পণ্য ভারতে রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। তবে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে ভারত ৮০ লাখ পিসের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। ৮০ লাখ পিসের পর থেকে শুল্ক দিয়ে ভারতে তৈরি পোশাক রফতানি করতে হয় বাংলাদেশকে। এক্ষেত্রে ভারতে তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রধান বাধা শুল্ক। তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রফতানি পণ্যে শুল্কবাধা দূর করতে পারলে ভারতে রফতানি আরও বাড়ানো সম্ভব এবং এতে বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমে আসবে।

এফবিসিসিআই-এর হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি করে ৩৩৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারের পণ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ দেশটিতে রফতানি করে মাত্র ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য। ওই অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩০১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ ডলার। দুই দেশের মধ্যে এটাই এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি।

এর আগে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৯৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৮৬ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ১৫১ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার ডলার, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৯৬ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৯৬ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, ২০০০-০১ অর্থবছরে ১১১ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৭৭ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল দুই দেশের মধ্যে।

এদিকে আইবিসিসিআই ২০১১ সালের মধ্যে ভারতের বাজারে বছরে ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অভিজ্ঞমহল মনে করেন, ভারত বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে আগ্রহী হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা মোটেই কষ্টসাধ্য হবে না।

কিন্তু দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা তথা ব্যবসায়ীদের কারণে ভারতীয় পণ্যের দাপটে এদেশীয় পণ্য বাজার থেকে উধাও হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ ফল, চাল, ডাল, গম, খাদ্যশস্য, তুলা, কাপড়, শাড়ি, প্লাস্টিক ও রাবার দ্রব্য, ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, কেমিক্যাল, ডাবর, আমলা, ফেয়ার এন্ড লাভলী, হাজমুলা, লেকমে, লেটস, আক্কেল চিপস, কুড়মুড় চিপস, গরু, হলদিয়ামের চানাচুর, মেশিনারিজসহ হাজারো ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। ভারত থেকে অনুমোদিত-অননুমোদিত পথে অপ্রয়োজনীয় এবং নিম্নমানের পণ্য অবাধে দেশে প্রবেশ করায় দেশের অর্থনীতিতে যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

উল্লেখ্য, অনুমোদিত পথে ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হয় তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পণ্য আমদানি হয় অননুমোদিত পথে। অননুমোদিত পথে আমদানিকৃত পণ্যের একটা বড় অংশই মাদক বা নেশার সামগ্রী। ভারতের নিম্নমানের ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আগ্রাসন কমাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ের কথা বলে আসলেও কার্যত কিছুই হয়নি। দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় করে ভারত থেকে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের পণ্য আমদানি রোধ করতে না পারলে দেশীয় বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রাচুর্য কমানো সম্ভব হবে না।

অনুমোদিত এবং অননুমোদিত পথে ভারতীয় পণ্য এদেশে আসে বিধায় দুটো পথকেই বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের শেখার আছে। বাংলাদেশী পণ্যের দাম ও মান ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার বিষয়টিও উপেক্ষণীয় নয়। উচিত মূল্যে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে তা বাজারজাত করা হলে ভারতীয় নিম্নমানের পণ্যে বাজার সয়লাব হবে না। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়সাপেক্ষে নিম্নমানের বা অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি রোধে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত রাখা সর্বাগ্রে দরকার। অননুমোদিত পথে ভারতীয় পণ্য আসা বন্ধ করতে হলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ঈমানদারীর সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রসঙ্গত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ঈমানদারী বাড়াতে হবে। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “সে চোখ কখনো জাহান্নামে যাবে না, যে চোখ সীমান্ত পাহারা দেয়।” বলাবাহুল্য, এসব ইসলামী অনুভূতি কথিত আলিম সমাজ আদৌ জাগরিত করতে পারেনি। পাশাপাশি ভারতের সাথে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহারেও কেউ উব্ধুদ্ধ করতে পারেনি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.