| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
‘এই বয়সী মাইয়্যা কহন এমন কাপড় পিন্দে নাকি! গতরখাকি মাইয়্যা, শইলে লাজ লজ্জা নাই’… ঘরের সামনের ছোট্ট জাইগাটা ঝাড় দিতে দিতে চিৎকার করতে থাকে আফজালের মা।
কিন্তু পিয়ার বোধহয় এসব কথা কানে ঢুকে না। নির্বিকারভাবে ঠোঁটে লিপস্টিক ডলতে ডলতে গুনগুন করে গান আওড়াতে থাকে সে ‘কিয়ুকি তুম হি হ, আব তুমহি হ; জিন্দেগি আব তুম হি হ’।
ওর গান আফজালের মায়ের মেজাজে যেন ঘি ঢালতে থাকে… হাতের ঝাঁটাটা ছুড়ে দিয়ে আরও জোরে চিৎকার করে ওঠে সে ‘বান্দি পাইসে আমারে, রান্দ বার খাওয়াও… বিয়ার উপযুক্ত মাইয়্যা একটা কামও করেনা। করব ক্যান, ক্যান করব! সৎ মা’র সুখে হিংসা তার। এমন মাইয়া আমি জন্মে দুইটা দেহিনাই… আল্লারে আল্লা! গজব পরব তর উপার… আল্লাহ তালার জগব নাযিল হইব বাপ বিটির উপার’।
গালি দেওয়ার সময় আফজালের বাপকে টেনে আনা তার পুরনো অভ্যাস; এই লোকটার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে অসম্ভব আনন্দ পাই সে… তার এই দরিদ্র, ক্লান্ত, একঘেয়ে জীবনে এইটুকু আনন্দই বা কম কিসে! কিন্তু তার এই গালিগালাজের দৌরাত্ত যতক্ষণ শরীফ মিয়া বাড়ীর বাইরে থাকে ততোক্ষণ; শরিফ মিয়া ওরফে আফজালের বাপ বাড়ীতে ফিরলেই তাকে মুখে কুলুপ আঁটতে হয়। এই লোকটাকে যমের মত ভয় পায় সে… দিন যত বারতে থাকে আর রাত আসতে থাকে কাছে, ভয় তত বারতে থাকে তার। সবচেয়ে ভয় তার গভীর রাতের শরীফ মিয়াকে; যখন সে ষ্টীম রোলারের মত নির্দয় আর নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে! দিনের বেলা আবার সব ভুলে যায় শরীফ মিয়া… সাধারণ মানুষের মত আচরণ তখন। কিন্তু আফজালের মা কিচ্ছু ভুলতে পারেনা… শরীরের প্রতিটা অঙ্গে লুকিয়ে থাকা বাথা তাকে ভুলতে দেইনা! বার বার মনে করিয়ে দেয় আরও একটা রাত আসছে… তার ক্ষীণ পদধ্বনি ওইতো শোনা যাচ্ছে।
তাদের বিয়ের মাত্র তিন বছর হল। বিয়ের নয় মাসের মাথাই আফজাল আসলো...আর ২ মাস বয়সে সে মারাও গেল। হওয়ার সময়ই শিশুটা এত ছোট ছিল যে চোখ ও ফোটেনি ভাল করে... যখন প্রথমবার সে চোখ মেলল ভাল করে্, মায়ের সে কি আনন্দ! তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল সেদিন। আর তার থেকে ঠিক দু’সপ্তাহ পর আসল তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। আফজাল সেদিন চলে গেল... হঠাৎ কিছু বোঝার আগেই সে চলে গেল। একটু বুঝি ঠাণ্ডা লেগেছিল তার... তাতেই সে কিচ্ছু খেতে পারতনা, ভালভাবে শ্বাস নিতে পারতনা। এবং হঠাৎ সেদিন বিকেলে… সে চলে গেল! কিন্তু নামটা রেখে গেল… এখনো সবাই ত তার মাকে আফজালের মা বলেই ডাকে! যে ডাক বার বার ছোট্ট, কালো, মিষ্টি সেই মুখটার কথা মনে পরিয়ে দেয়।
বিয়ের পরে শরীফ মিয়ার আগের ঘরের মেয়ে পরিকেও ও ভালবাসতে চেয়েছিল। সেই পরি ই ত এখন পিয়া হয়েছে। বয়স কতো... এই ষোল সতেরো হবে। কিন্তু প্রথম থেকেই মেয়েটার ভাব গতিক তার বিশেষ ভাল লাগেনা। সব কিছুতেই কেমন গা ছাড়া ভাব। কোনদিকেই কোন খেয়াল নেই... নিজেকেই নিয়েই সে ব্যাস্ত সারাদিন! আফজালের মায়ের খুব রাগ লাগে... হিংসা হয় এই মেয়েকে! বয়সে পরির থেকে সে মাত্র দুই বছরের বড়। তবুও কতো ভিন্ন তাদের জীবন, কতো আলাদা তারা!
মাঝে মাঝে কি যেন হয় আফজালের মায়ের... এই আজকে যা হয়েছে... সব কথা মনে পরে যায়। কখনো হিংসায় গা জ্বলে ওঠে আবার কখনো ভয়ে শিয়রে ওঠে শরীর... কখনো আবার চোখ ভিজে ওঠে... কষ্টে ভাসিয়ে নিয়ে যাই বহুদূরে। কি যে হয়... একদম বঝেনা সে! মাত্র ক্লাস টু পর্যন্ত পরেছে সে... এত কথা বোঝাও বুঝি সাজেনা তাকে!
অতঃপর দাওয়া থেকে উঠে আবার ঝাড় দিতে শুরু করে সে... কতো কাজ বাকি! আজ অযথাই খুব দেরি হয়ে গেল!
২|
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:২৮
তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ... লেখাটি পরার জন্য এবং আমার ব্লগ এ প্রথম মন্তব্যটির জন্য ![]()
সত্যিই খুব ভাল লাগছে!
৩|
১০ ই জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১২:৩৯
ক্ষুদ্র খাদেম বলেছেন: শুরুটা তো ভালো ছিল ...কিন্তু, অল্পতেই শেষ
৪|
১০ ই জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১:১১
তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: আমি নিজেও বুঝেছি এটা। আসলে আর বড় করার সাহস পাইন। নতুন ব্লগার। সময়ই করে কেউ পরবে কিনা বুঝতে পারছিলাম না।
অনেক অনেক ধন্যবাদ। এরপর থেকে নিশ্চয়ই সাহস করব ![]()
৫|
১২ ই জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২১
অপ্রচলিত বলেছেন: অসাধারণ লিখেছেন।
ক্ষুদ্র খাদেম বলেছেন: শুরুটা তো ভালো ছিল ...কিন্তু, অল্পতেই শেষ
:|
সহমত, ভালোই তো লাগছিল পড়তে।
লিখতে থাকুন এমন চমৎকার সব লেখা। মাঝে মাঝে সময় করে এসে পড়ে যাব।
ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা।
ভালো থাকুন নিরন্তর।
৬|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:৫৪
তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: মাঝে মাঝে শুধু আসলেই হবেনা। পরামর্শও দিতে হবে কিন্তু ![]()
অনেক অনেক ভালও থাকুন সবসময়!
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৫:৪২
এয়ী বলেছেন: ভাল লাগলো ।