নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তাজকিয়া হাফিজ

...........

তাজকিয়া হাফিজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

পুতুল

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:২৫

বাচ্চার নাম খোঁজা নিয়ে ভাল যন্ত্রণায় পরেছে মাহিন আর শাপলা। মাহিন এর ইচ্ছে ছেলের নাম হবে ম দিয়ে, শাপলার ইচ্ছা শ, ওদিকে বাবা চান পারিবারিক পদবী রাখতেই হবে, মাহিনের ছোটো বোনের মতে পদবী ব্যাপারটা এখন ক্ষ্যাত পর্যায়ে চলে গিয়েছে, আবার মা বলছেন দু’অক্ষরের নাম ই ভাল, শাপলার ভাই এর মতে তিন অক্ষর না হলে গাম্ভীর্য বলে কিছু আর থাকেনা! সাত দিন বয়সী ক্ষুদে এই শিশুটি পুরো পরিবারকে যেন নাজেহাল করে দিচ্ছে... যত যায় হোক বাড়ির বড় ছেলের প্রথম সন্তান বলে কথা!



শিশুটি দেখতে কেমন হয়েছে এ ব্যাপারেও সবাই সুচিন্তিত মনোভাব ব্যাক্ত করছে রাতদিন... একরাশ কাপড়ের মধ্যে ছোট্ট পুটলির মত বাচ্চাটির কপালটা নাকি ঠিক বাবার মত, থুতনির দিকটা পেয়েছে দাদীর থেকে আর গায়ের রঙটা ফুফুর সাথেই বেশি মিলছে মনে হয়। মাহিনের মায়ের এসব কথা শুনে শাপলার মাও কিন্তু চুপচাপ বসে নেই... তিনি একবাক্ক্যে জানিয়ে দিয়েছেন... ছেলে দেখতে সম্পূর্ণ তার মায়ের মত। গায়ের রঙ থেকে শুরু করে হাত পায়ের গঠন পর্যন্ত... সব ই শাপলার সাথে হুবুহু মিলে যাচ্ছে। এতোটুকু এই ক্ষুদে প্রাণীটিকে দেখে যে কিভাবে সবাই এতকিছু বুঝতে পারছে আমি কিন্তু কিচ্ছু বুঝিনা। আমার কাছে তো ওকে ইঁদুর ছানা ছাড়া আর কিচ্ছু লাগছেনা... ও বলাই তো হইনি আমি এই নবজাতকের কি হই! আমি ওর ছোটো চাচা; একমাত্র ছোটো চাচা! আমাদের বাড়ীতে এই পুতুলটির আগমন ঘটেছে আজ থেকে ঠিক সাত দিন আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতাটাই! ওই দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। দীর্ঘ আট বছর পরে ভাইয়া ভাবির সন্তানটি আসল। বাবা সেদিন আনন্দে প্রায় কেঁদেই দিয়েছিলেন... আর মা তো টেলিফোন নিয়েই বসে গেলেন সঙ্গে সঙ্গে... “আমার মাহিনের ছেলে হয়েছে... আট বছর পরে হোক আর দশ বছর পরে হোক ছেলে তো ছেলেই। কি বলেন আপা?’ হাহাহা



ছেলে বড় হয়ে কি হবে এটা নিয়েও শুনছি মাঝে মাঝেই গুরুগম্ভীর আলোচনা চলছে। এই আলোচনাই মেয়ে সদস্যদের চেয়ে ছেলে সদস্যদেরই অংশগ্রহণ বেশি দেখা যাচ্ছে। আমার দাদাজানের নাকি শখ ছিল ভাইয়াকে ডাক্তার বানানর; তাই বাবা চাচ্ছেন ছেলে ডাক্তারি পড়ুক, বড় চাচা বললেন ইঞ্জিনিয়ারও খারাপ না, ছোটো ফুফার মতে আবার উকালতি পড়াই ভাল... বাইরে থেকে ডিগ্রী নিয়ে যদি ব্যারিস্টার হতে পারে তাহলে তো কোন কথাই নেই... আবার মালটিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোও ইদানিং খুব ভাল বেতন দিচ্ছে... সম্মান ও কিছু কম না তাদের! কিন্তু বাবার সেই একই কথা! ডাক্তার মানে ডাক্তার... কোনকিছুর সাথে তার তুলনাই চলে না... সুতরাং শিশুটি বড় হয়ে ডাক্তারিই পড়বে। আমার ভাইয়া যেখানে এই আমলে দাদাজানের শখ মেটাতে ব্যর্থ হল সেখানে এই সাত দিনের বাচ্ছা ওই আমলে কিভাবে এই আবদার মেনে নিবে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন।



এবার বলি ছেলের বাবা মায়ের কথা... ভাইয়া ভাবীর প্রেম হঠাৎ করেই খুব বেড়ে গিয়েছে মনে হচ্ছে। যে ভাইয়া আগে রাত দশটার আগে বাসাই ফিরত না... সে ছ’টার মধ্যেই লাজুক হাসি সমেত বাসায় ঢুকছে। আর ভাবী ক্ষণে ক্ষণে লজ্জাই লাল নীল বেগুনী হয়ে গভীর চোখে তাকিয়ে থাকছে স্বামী এবং সন্তানের দিকে! এখন নবদম্পতির মত এদের দু’জনের মাঝে মাঝে দৃষ্টি বিনিময় এবং রক্তিম হয়ে যাওয়া মুখভঙ্গিও দেখার জিনিস বটে আমাদের বাসায়! ছোট্ট এক পুতুলছানার ক্ষমতাও যে অসীম বুঝতে পারছি আজকে!



একটিবার তার কান্নার উদ্রেক হলেই সোৎসাহে আমরা ছুটে যাচ্ছি ভাইয়ার ঘরে... সেটা রাত দুটো হলেও দ্বিতীয়বার চিন্তা করছেনা কেও... আবার ভোর ছ’টা হলেই বা কি এসে যায়! পোনাটির হিসু হাগু পরিষ্কারের বাপ্যারেও উৎসাহের কোন কমতি নেই কারো... এমনকি আমিও চেষ্টা করেছি কয়েকবার... এমন কোন কঠিন কাজ কিন্তু না! আপনারাও চেষ্টা করবেন প্রয়জনে... নতুন কিছু শেখা হবে আবার আনন্দও কম নয়! ঃপি ঃপি



আরও কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইদানিং আমাদের পরিবারে... আমারা সবাই কারণে অকারণে খুব হাসছি... অদ্ভুত অদ্ভুত সব কথা বলে হাসানোর চেষ্টা করছি ওই ক্ষুদে পোনাটিকে... আহা যদি ও একবার হাসত! কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে ওর বদলে এবং বদৌলতে আমরা নিজেরাই হেসে খুন হচ্ছি... সন্তান যে কেবল বাবা মায়ের হয়না বরং একটি পরিবারের হয় এ ব্যাপারে সম্যক ধারণা লাভ করছি ইদানিং... এ কেবল একটু শিশু নয় বরং একটি জ্যান্ত পুতুল যাকে নিয়ে সব বয়সী সবাই খেলতে পারে...





বেঁচে থাকুক পুতুলেরা... বড় হয়ে আরও অনেক পুতুল উপহার দিক পরিবারকে... আর এই পুতুলদের নিয়েই সবাই ভুলে যাক যাবতিয় সব দুখও কষ্ট ... আর হ্যা এটাও মনে রেখেন কিন্তু সবাই- বড়রাও কখনো পুতুল ছিল 





(আমাকে আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ বলেছে... আমার সব লেখা নাকি খুব দুঃখ কেন্দ্রিক। আমার অবশই হাসির কিছু লেখার চেষ্টাও করা উচিৎ। আমি তার মন্তব্যকে চাল্যেঞ্জ হিসেবে নিলাম এবং কিছু লিখতে বসলাম। সত্যি কথা হচ্ছে, হাসির কিছু লেখা আসলেই খুব কঠিন। তার ওপর আবার আমার রসবোধ খুবই কম... আমি দুঃখবিলাসী মানুষ! তবুও ক্ষুদ্র একটা চেষ্টা করলাম। কেও পরামর্শ দিলে সত্যিই খুব উপকৃত হবো... ধন্যবাদ!)



মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৫

অপ্রচলিত বলেছেন: লেখা ভালো লাগলো।

২| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:৪৬

তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ :) আমি এখনো কোথাও কমেন্ট করতে পারিনা আর আমার ব্লগও প্রকাশিত হয়না... আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
মাঝে মাঝে পড়বেন প্লিজ... এবং পরামর্শ দিবেন :)

৩| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৮

ইমরাজ কবির মুন বলেছেন:
লিখায় সাবলীলতা আছে, ভালোই লাগলো।
তবে গল্পের মাঝে ইমোটিকন/সিম্বল অ্যাড না করাই বেটার ||

৪| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:১১

তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: কেমন আছেন ভাইয়া?

ধন্যবাদ পড়ার জন্য এবং সাজেশান এর জন্য। পরেরবার নিশ্চয়ই মনে রাখব :)

৫| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১২:৪৫

ক্ষুদ্র খাদেম বলেছেন: আইন্নে চ্যালেঞ্জ লইছেন কিন্তুক ফারেন নাই আফা, এইডা ইটটু বেশি ই মন ভালা করা লেখা হইয়া গেছে, এইডা তো চ্যালেঞ্জে আছিল না B-)) B-))

লেখা ভালো হয়েছে (যদিও আমি নিজে লেখা সম্পর্কে কিছুই জানি না, তবুও বাঙ্গালি উপদেশ, পরামর্শ আর মতামত না চাইতেই দিতে ভালবাসে, আর আমিও তার ব্যতিক্রম নই)।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.