| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রিয় মৌ
কেমন আছ? তোমার নামটা লিখতে যেয়ে হাতটা কেঁপে উঠলো জানো! কতদিন তোমায় লিখিনা! মৌ আমার মৌ… সত্যি করে বলতো তুমি কেমন আছ? যেদিন প্রথম তোমায় দেখেছিলাম এই প্রশ্নটাই করেছিলাম মনে পড়ে? তোমার সেকি লজ্জা… একটু লজ্জাতেই তুমি লাল হয়ে যেতে তখন। আমি দু’টি ঘণ্টা তোমার মুখ পানে তাকিয়ে ছিলাম… একটিবারও তুমি তাকালেনা! তুমি তো আমাই চিনতে মৌ… কতো রাত আমরা লুকিয়ে ফোন এ কথা বলেছি… কতো শত চিঠি আদান প্রদান হয়েছে আমাদের মাঝে। তখন তো তুমি খুব সাবলীল… সহজ ছিলে। আসলে লেখার মানুষ এক জন, কথা বলার মানুষ এক জন আর রক্ত মাংসের মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন তাইনা মৌ? আমাদের থেকে ভাল বোধহয় আর কেউ জানেনা এটা! মনে পড়ে মৌ যেদিন আমি প্রথম ফোন করেছিলাম তোমাকে? খুব সাহস করে কাজটা করেছিলাম। তোমাদের টি এন টির নাম্বারটা নিয়েছিলাম তোমারই এক বান্ধবীর কাছ থেকে… তোমার গলায় প্রথম হ্যালোটা শুনে মনে হয়েছিল বোধহয় কোন শিশুর সাথে কথা বলছি… মৌ আমার মৌ। তুমি খুব ছেলেমানুষ ছিলে জানো!
আস্তে আস্তে সবকিছু কেমন পালটে যায় না মৌ? একসময় ঠিক উল্টোটা হয়ে গেল। আমি হলাম শিশু আর তুমি অভিভাবক… মেয়েরা খুব দ্রুত বদলায় মৌ। তোমায় আমি সবচেয়ে কাছ থেকে বদলাতে দেখেছি।
আমার বাবা মায়ের সাথে থাকাটা তোমার কখনো পছন্দ ছিলনা জানি… এও জানি তোমার সপ্ন ছিল ছোট্ট একটা চিলেকোঠার। দুটি মানুষের ছোট্ট একটা সংসার এর! আমিই বা কি করতাম মৌ… বাড়ীর বড়ো ছেলে যার অসংখ্য দায়িত্ব! তুমি কি সেদিনই প্রথম ভেঙেছিলে যেদিন আটজনের ভরা সংসারে তোমাই তুলেছিলাম? মৌ আমার মৌ… কিচ্ছু তো বুঝতে দাওনি সেদিন। সেই অম্লান হাসি… মিষ্টি মুখ! সব্বাইকে আপন করে নিয়েছিলে খুব সহজে। আমি ভেবেছিলাম তুমি তোমার স্বপ্নের কথা ভুলে গেছো… বুঝিনি সেখানেই ভাঙনের শুরু!
বিয়ের আগে তুমি কখনো রান্না করনি জানতাম… তবুও ধীরে ধীরে সংসার এর দায়িত্ব কাধে নিয়েছিলে নির্দ্বিধায়। মৌ সবাই তোমার প্রশংসা করত খুব। গর্বে আমার বুক ভরে যেত… বুঝিনি সেখানেও তোমার ভাঙ্গনের সুর ছিল। গান শোনা, আবিতৃ করা, রাত জেগে গল্পের বই পড়ে চোখ ভাসানো সব ছেড়ে দিয়েছিলে তুমি। আমি ভাবতাম সংসারী মেয়ে… মন প্রাণ ঢেলে সংসার করছে। মৌ আমার মৌ… বুঝিনি তুমি ভাঙছিলে একটু একটু করে…
তুমি ভাল ছবি আঁকতে মৌ… গুন গুন করে গায়তেও পারতে বেশ। এগুলো ঠিক কবে থেকে বন্ধ হতে শুরু হয়েছিল মনে নেই। মনে নেই ঠিক কবে থেকে তুমি রক্ত মাংসের মানুষ থেকে কাঠ পাথরের মানুষ হতে শুরু করেছিলে… তোমার এত অভিমান… কিছু বুঝতেও দাওনি কখনো! মৌ আমার মৌ… ভালবাসাও কি শুকিয়ে গিয়েছিল ততদিনে? নাকি তুমি গলা টিপে মেরে ফেলেছিলে তাকে? একই ছাদের নিচে, একই বিছানাই দিনের পর দিন থেকেও কিচ্ছু বুঝিনি আমি… আজ বুঝি এসব আমারই অপারগতা!
আমার খুব ছোটো ব্যাবসা তখন। অথচ সংসার ভরা মানুষ। কারো লেখাপড়া, কারো ওষুধ কারো বা হাত খরচ… এসবের মাঝে তোমার প্রয়োজনটা ভুলে গিয়েছিলাম নিজের অজান্তে। তোমার খুব বেড়াতে যাওয়ার শখ ছিল। তোমায় আমি প্রতিজ্ঞ্যা করেছিলাম বিয়ের পরে প্রতিবছর বেড়াতে নিয়ে যাব। মৌ আমার মৌ… আমি ভুলে গিয়েছিলাম… তুমিওতো মনে করিয়ে দাওনি কখনো! আমি কি তোমার পর ছিলাম মৌ? আমি তো অন্তর্যামী নই মৌ… আমি তো সব বুঝতে পারিনা! এত অভিমান তোমার! মুখ বুজে সব মেনে নিয়েছিলে… কিন্তু তারপরও তুমি ভাঙছিলে, তুমি ভেঙ্গেছিলে!
একটা সময়ে আমি খুব ব্যাস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সারাদিন ছোটাছুটি, ব্যাবসা, বাবা-মা, ছোটো ছোটো ভাইবোন কত চিন্তা মাথাই! সবাইকে দাড় করাতে হবে, নড়বরে সংসারকে শক্ত পোক্ত করতে হবে। মনে মনে ভাবতাম… মৌ আছে আমার সাথে। সব বিপদে আপদে তুমি শক্ত করে আমার হাত ধরতে… তোমার গয়না পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছিলে অভাবের সময়ে… কিন্তু বুঝিনি মনটা তুলে নিয়েছিলে সব কিছু থেকে। মৌ আমার মৌ… তাই বোধহয় এমন আনমনা দেখাতো তোমাকে, কেমন নীরস নির্জীব হয়ে গিয়েছিলে! এত কাছে থেকেও কিচ্ছু বুঝিনি আমি!
বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলে তুমি… খুব আদরে মানুষ হয়েছিলে। ভালও বাসতে খুব তাদের।বিয়ের আগে সবসময় বলতে… বাবার জন্য এটা করব, মায়ের জন্য এটা করব। আমাদের তখন অভাবের সংসার। নিজেদেরই আশ্রয় সঙ্কট… গেস্ট রুম তো স্বপ্ন! তোমার বাবা মাকে একটা দিনও রাখতে পারিনি… তোমার সব শখ অপূর্ণই থেকে গেছে… মৌ আমার মৌ… তখন কিচ্ছু বুঝিনি আমি। তোমার নিষ্প্রাণ হাসি দেখে তোমার দুঃখকে চিনতে পারিনি। আমার চোখের সামনে তুমি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছ। মৌ আমি কিচ্ছু বুঝিনি!
বিয়ের পরে বইমেলাই যাওনি একবারও, নাটকপাড়াই যাওয়ার কথাও বলোনি কখনো। আরও কতকি তুমি ভালবাসতে… রাত জেগে তারা দেখা, বৃষ্টিতে জানালার গ্রিল ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করা, অলস সন্ধ্যা তে চায়ের কাপ সমেত তুমুল আড্ডা, মাঝে মাঝে বন্ধু বান্ধব নিয়ে দূরে পিকনিক… বিয়ের আগে কতো প্ল্যান করতে! এসবের কথা ভুলে গিয়েছিলে তুমি? নাকি আমি তোমায় ভুলতে বাধ্য করেছিলাম মৌ? মৌ আমার মৌ… এত ত্যাগ তুমি কেন করেছিলে বলতো? আমাকে খুশি করতে নাকি নিজেকে দুঃখ দিতে? তোমায় বুঝিনি কখনো… তোমায় বুঝিনি কখনো!
আজ তুমি কোথায় আছ মৌ? কেমন আছ? খুব জানতে ইচ্ছে করে… আমার জন্য অনেক করেছো… তোমার জন্য কখনো কিচ্ছু করতে দাওনি। তুমি থাকতে আমি তোমায় বুঝিনি। তোমায় হারিয়ে চিনেছি তোমাকে! মৌ আমার মৌ… চিনেছি তোমাকে… বেলা শেষে!
২|
২২ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:৪৩
তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: ami to max tym phn diye login thaki... kivabe jeno delete hoye giyeche
etto kosto kore 27 jon porechilo ![]()
abr post kore diyechi :p ki r kortam!
৩|
২২ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১১:২৫
ক্ষুদ্র খাদেম বলেছেন: এত্ত স্যাডিস্ট টাইপ কিল্লাই???
বালা কতা লিহুইন যে আফা
চিডি বালা পাইয়াম
৪|
২২ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১১:৩৩
তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: ভাল একটা লিখেছি তো ভাইজান। ওইটা পড়েন না কিল্লাই!!!
৫|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১১:৫১
ইমরাজ কবির মুন বলেছেন:
ভালৈ।
মৌ নামটার ব্যবহার একটু বেশিই হয়ে গেসে মনে হচ্ছে ||
৬|
১৪ ই মার্চ, ২০১৪ সকাল ৯:২৭
তাজকিয়া হাফিজ বলেছেন: oh dhonnobad Moon bhaia... porer bar nischoi kheal rakhbo ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:৩৮
ইখতামিন বলেছেন:
আপনার আগের পোস্টটা কি মুছে ফেলেছেন?