নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যাহা আসে মাথায়

সাকিব৪৫

সাকিব৪৫ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ শাস্তি নয়, আর্থিক সুবিধা পেলেন ব্যাংক কর্মকর্তা

২৮ শে জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৪:২৫

এইচএসবিসি ঢাকা মেইন অফিসের সাবেক ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান। মৃত গ্রাহকের প্রায় ৮২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। ব্যাংককে না জানিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন ৯ মাস। এসব অপরাধে ওই কর্মকর্তা কোনো শাস্তি তো পানইনি, উল্টো নানা আর্থিক সুবিধা দিয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্তে এইচএসবিসির অনিয়মের এ তথ্য উঠে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, অনিয়মের জন্য মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে চার মাসের বেতনসহ ৪৮ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা দেয়া হয়েছে। হাতিয়ে নেয়া ওই অর্থ মনিরুজ্জামান ব্যবহার করেছেন নিজের পার্কটেক করপোরেশন ও শহীদুল্লাহ সিকিউরিটিজের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে।

জানা গেছে, এইচএসবিসি ঢাকা মেইন শাখায় হাবিবুল বাশারের সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা ছিল ৮০ লাখ। তার মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে মেয়ে হাবিবা ড্রুমন্ডের নামে এ অর্থ টাইম ডিপোজিট (নং ০০১-২৯৯৬৬৮-১০১) করা হয়। একই সঙ্গে তিনি একটি সঞ্চয়ী/চলতি হিসাব খোলার নির্দেশনা দেন, যার নং ০০১-২৯৯৬৬৮-০০১। হাবিবা ড্রুমন্ড পরে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার নামে কোনো হিসাব ও অর্থ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনেও বেরিয়ে আসে, শাখায় হাবিবা ড্রুমন্ডের নামে কোনো হিসাব নেই। তবে তার পিতা হাবিবুল বাশারের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব ছিল (নং ০০১-১৯৩২২৬-০০১), বর্তমানে যা বন্ধ। এ হিসাবে ২০০৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৭৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিল। একই বছরের ৫ অক্টোবর শাখা ব্যবস্থাপকের নির্দেশে হিসাবটি বন্ধ করে একটি চলতি হিসাব খুলে ওই টাকা স্থানান্তর করা হয়। একই দিনে ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে একটি তিন মাস মেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়। অথচ এ হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও ফিক্সড ডিপোজিট করার ক্ষেত্রে গ্রাহকের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।

শাখা ব্যবস্থাপকের সুপারিশে হিসাবটি লিয়েনে রেখে হাবিবুল বাশারের নামে ৭০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত ঋণ মঞ্জুর করা হয়। এর মধ্যে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যায় পার্কটেক করপোরেশনের হিসাবে, যার অন্যতম কর্ণধার শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মেহেরুন্নেসা শম্পা। অর্থাৎ মনিরুজ্জামান এক্ষেত্রে পরোক্ষ সুবিধাভোগী। এছাড়া আরো ৪০ লাখ টাকা শহীদুল্লাহ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের গ্রাহক মুনিরুজ্জামানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এক্ষেত্রে তিনি এর সরাসরি সুবিধাভোগী।

মনিরুজ্জামান অনুমোদনহীন ছুটিতে থাকায় গত বছরের ৪ জুন তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আর্থিক সুবিধা হিসেবে চার মাসের জন্য তাকে ৪৮ লাখ টাকা বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি প্রদান করা হয়। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পরও তাকে ৪৮ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা দেয়ায় এ অনিয়মের দায়-দায়িত্ব ব্যাংকের ওপর বর্তায় বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.