| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফাহিম হোসেন চৌধুরী
আমি একটা পচা ছেলে ।তবে মাঝে মাঝে কিছু ভাল কাজ করে ফেলি।মাঝে মাঝে কিছু অসাধারন কিছু করে ফেলি যদিও আমি সাধারন মানুশ।আমি আমার সাইকেল কে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি।আর কি বলব !কিসু তো পাইতেসি না।ইয়াহু!!!ইউরেকা! পাইসি..এই পৃথিবী বিশাল একটা গোল আলু এবং তার উপর আমি ছোট একটা গোল আলু । :D
অন্য দিনগুলোর মত আজো সূর্য
মামা পূর্ব দিকেই উঠেছিল,
পশ্চিমেই অস্ত গিয়েছিলো।
সন্ধ্যার পর চারদিকে শুচি-স্নিগ্ধ
পরিবেশ,সাথে মৃদুমন্দ শীতল বাতাস।
সারাদিন সূর্য মামার তপ্ত
আশীর্বাদের পর এটুকু অন্তত মানুষ
আশা করছিলো।
দুর্দান্ত বেগে সাইকেল
নিয়ে ছুটছে একটি ছেলে।পরনে চেক
শার্ট,টাকনুর উপর ভাঁজ
করা ট্রাউজার,পায়ে চামড়ার
জুতো আর মাথায় হেলমেট।তার
দুর্দান্ত বেগের রহস্যটা রাস্তার
পাশের মানুষগুলো বুঝে না।
তারা মনে করে ছেলেটা শো-অফ
করছে। আসলে সে অবোধ মনের
ভাবনা থেকে প্রানের টানে ছুটছে,
একটু উষ্ণতার জন্য।
মানসিকভাবে পরযদস্ত ছেলেটার
কাছের মানুষ বলতে এই সাইকেলটাই
আছে।কাছের মানুষ বললাম এজন্য
যে ছেলেটা বেশীরভাগ সময়ই এটার
সাথে কাটায়,
হাসিঠাট্টা করে,মনের
কথা গুলো বলে!!!
ছেলেটার নামই তো বলা হয়নি ,তার
নাম অমিয়। যার অর্থ হচ্ছে অমৃত
বা সুধা।বাস্তবে সে এমনি, সবার
কাছে অমৃতের মত।সবার মুখেই
হাসি ফোটায়, হোক সে তার শত্রু।
৮ কি.মি. সাইকেল
চালিয়ে ত্রিয়ামার পাড়ায়
পৌঁছল অমিয়।প্রধান সড়কের
পূর্বে।ব্রিজের কাজের
কারনে ব্রিজ বন্ধ
করে দেয়া হয়েছে।সবাই পাশের
স্টিল ব্রিজটা ব্যবহার করছে।
পাড়ার রাস্তাটা অসম্ভব খারাপ।
অমিয় এই ধরনের রাস্তা পছন্দ
করে না একেবারেই।মনে মনে এক
হাজার একশ গালি দিল রাস্তাটাকে।
মসজিদটা থেকে পূর্বে গিয়ে দক্ষিণের
রাস্তাটা দিয়ে একটু
সামনে গেলেই ত্রিয়ামার বাসা।
এটাকে বাসা না বলে দালান বলাই
শ্রেয়, টিনশেড দোতলা দালান।
দালানটার
সামনে গিয়ে বারান্দার
দিকে ফ্যালফ্যাল
করে তাকিয়ে রইল অমিয়।মনে হয়
ত্রিয়ামাকেই খুজছে।
ত্রিয়ামা অমিয় এর ফেসবুক বন্ধু।
এস.এস.সি পরীক্ষার পরে যখন কোনও
কাজ নাই তখন সবাই ফেসবুক পড়ে।
ত্রিয়ামার সাথে তখন থেকেই
কথা বলা।খুবি ঘনিষ্ঠ বন্ধু
হয়ে যায় দুজন।সব কথা শেয়ার করে।
অমিয় একসময় ত্রিয়ামার
প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু এই
খামখেয়ালি প্রেম
থেকে দূরে থাকার জন্য
ত্রিয়ামার সাথে কথা বলা বন্ধ
করে দেয় অমিয়।
এইদিকে ত্রিয়ামা ভেবে পায়
না তার বন্ধুটার কি হল? অমিয় এর
বন্ধুর কাছ
থেকে ঘটনা জেনে ত্রিয়ামা অমিয়
এর কাছে উপদেশমূলক কিছু
কথা পাঠাল।অমিয় নির্মম, নিষ্ঠুর,
পাষণ্ড বাস্তবতা মেনে নিলো।
অমিয় হুমায়ুন আহমেদ স্যার এর
সমীকরণ মনে করে,
সুখ + দুঃখ =০; মানে কেউ সুখ
পেলে অন্যকে দুঃখ পেতেই হবে...
ত্রিয়ামা মনে করে এখন
ফেসবুকে লগ আউট এর সাথেই
ইন্টারনেট এর স্পীডে সম্পর্কও শেষ
হয়ে যায়।তাই সে ও ঝামেলায়
পড়তে চায় না।এখন তো আবার
3জি নেটওয়ার্ক!!!
কিছু লোক আগিয়ে আসছে অমিয় এর
দিকে।মনে হচ্ছে তারা এই পাড়ার
ছেলে ।সাইকেলের হেডলাইটের
আলোতে চেহারা গুলো স্পষ্ট
হয়ে এল। বোঝা গেল তারা পাড়ার
নেতা।তাদের একজন জিজ্ঞাসা করল
অমিয়কে,”কি ভাইজান!!!
এইহানে খাড়াই আসেন ক্যান?”
অমিয় বুঝল আজ তার মার খেতে হবে।
তবু সাহস করে বলল,”কিছু
খামখেয়ালি প্রেম,কিছু
মিথ্যা স্বপ্ন সাথে রুপকথার
ভাষা,কিছু মিথ্যা সংগ্রাম এই
অবোধ শরীরে...তাই
দাঁড়িয়ে আছি”।
ছেলেটা চেঁচিয়ে উঠল এবং অনেক
খারাপ খারাপ গালি দিল।সেটা শেষ
না হতেই তাদের একজন ডজন থাপ্পড়
দিল অমিয় এর গালে।
তারা হুমকি দিল
সামনে কখনো তাদের পাড়ায়
দেখলে মেরে ফেলবে।অমিয়
গুটি পায়ে সাইকেল
ঘুরিয়ে চলে গেল ফোলা লাল গাল
নিয়ে।মাথাটা তার ঝিমঝিম করছে।
আবার শুরু হল দুর্দান্ত
বেগে সাইকেল চালানো।
অজান্তে তার চোখ দিয়ে অশ্রু
গঙ্গা বইছে।যার অর্থ সে নিজেও
জানে না।হয়ত জানবেও না কোনও
দিন।এভাবে একদিন হয়ত অশ্রু শেষ
হয়ে যাবে,আবেগ শেষ হয়ে যাবে।
অমিয় থাকবে তবে যন্ত্রপাতির মত।
হয়ত বেঁচে থাকবে,কিন্তু প্রান
থাকবে না,থাকবে না জীবনের
উল্লাস।সে থাকবে অসম্পূর্ণ রঙহীন
টিনশেড দোতলা দালানের মত...
©somewhere in net ltd.