নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পারিব না এ কথাটি বলিব না আর.....

চলো সবাই সামনে এগিয়ে যাই....

তানজিল রিমন

আপ ভালো তো জগৎ ভালো...

তানজিল রিমন › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী, আগেই তো ভালো ছিলাম... B:-/

১৭ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১২:২৩



ঈদের সময় বাড়ি ফিরতে কে না চায়? শহুরে জীবনের ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে তখন সবাই ছুটে নাড়ির টানে গাঁয়ের বাড়ি। ঈদে অবশ্য আলাদাভাবে ছুটি দিতে বা নিতে হয় না, এই সময়টায় সবকিছুই ছুটি হয়ে যায়। দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষের শহর ঢাকা হয়ে যায় ফাঁকা। আর ঢাকা থেকে গাঁয়ের পথে ফিরতে প্রতি ঈদের অতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। এর বেশিরভাগই হয় ভাঙা-চোরা সড়কের কারণে। এতে সড়কে দীর্ঘ সময় যানজট বেধে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই থাকতে হয়।



বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষজন এবার বাড়ি ফিরতে গিয়ে যে পরিমাণ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, তা আর বিগত কোনো ঈদে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যতজন মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা বলেছেন- বাড়ি ফিরতে গিয়ে এবারের মতো আর দুর্ভোগ তাদের জীবনে পোহাতে হয়নি। অবশ্য এই দুর্ভোগ শুধু ঈদেই নয়, গত দুই বছর থেকেই ময়মনসিংহবাসীকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর এই দুর্ভোগের কারণে রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উত্তীর্ণের কাজ। কচ্ছপগতিতে এই সড়ক চার লেনে উত্তীর্ণের কাজ চলছে। তাতে পুরো সড়কের একাংশে মাটি ছাড়া কিছু নেই। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। কাদা-মাটি-পানিতে ভালোই ধানক্ষেতে পরিণত হয় এই মহাসড়ক।



ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ মাত্র ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব। অথচ এইটুক সড়ক পাড়ি দিয়ে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পৌঁছতে এখন লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। অথচ তা লাগার কথা ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এটা তো সাধারণ সময়ের দুর্ভোগ। ঈদে কী হয়েছে, তা একবার দেখা যাক।



এবার ঈদে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পৌঁছতে সর্বনিম্ন সময় লেগেছে ১০ ঘণ্টা! আর সর্বোচ্চ যে কতক্ষণ লেগেছে তা আমার জানা নেই। তবে ঈদের আগের দিন রওনা দিয়ে পরের দিন মানে ঈদের দিন পৌঁছেছেন অনেকে। আমার অনেক পরিচিত জনদের বেলায় এমনটা ঘটেছে। আমি নিজেই অবশ্য ১২ ঘণ্টায় বাড়ি পৌঁছেছি। আমার ছোট্ট জীবনের ইতিহাসে ইহাই রেকর্ড!



ঈদের আগের দিন আমি বাসায় রওনা দেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল থেকে মহাখালী পৌঁছতে আমার সময় লাগে আধঘণ্টার মতো। ভোর চারটায় আমি মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের শামীম/এনা কাউন্টারের সামনে। এর আগ মুহুর্তে এখান থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। টিকিটের জন্য বেশ লম্বা লাইন। তখনও রাতের আঁধার পুরোপুরি কাটেনি। কিন্তু টার্মিনাল জুড়ে মানুষ ছাড়া যেন আর কিছু নেই। আস্তে আস্তে দিনের আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়ে উঠে। মানুষের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে। আমি টিকিটের আশায় দাঁড়িয়ে আছি। আমার মতো হাজার মানুষ চাতক পাখির মতো টিকিটের জন্য ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। নড়াচড়া নেই! কিন্তু কোনো বাস আর আসে না। উল্লেখ্য, ঢাকা-ময়মনসিংহের ভালো বাস সার্ভিস শামীম কিংবা এনা পরিবহনের বাসের টিকিট অগ্রিম দেওয়া হয় না। সময় বাড়তে থাকে। কেউ কেউ দাঁড়ানো থেকে বসে পড়ে। কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকা যায়। কিন্তু কোনো বাসের দেখা মিলে না। সবাই বলাবলি করছে- রাস্তায় যানজটের কারণে কোনো বাস আসতে পারছে না।



বেলা যখন ১১ টা বাজে, তখন আমার মেজাজ আর ঠিক নেই। এখন পর্যন্ত একটা বাসও আসেনি। পায়ে ব্যথায় আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। মনে মনে ঠিক করে ফেলি- এবার ঢাকায়ই ঈদ করব। বাড়ি যাব না। বাড়িতে ফোন দিয়ে আম্মাকেও এই কথা বলে দেই। পরিচিত শফিক ভাইকে বিদায় জানিয়ে ব্যাগ নিয়ে আমি হলের উদ্দেশ্যে টার্মিনাল ছাড়ি। সড়ক পার হয়ে অন্যপাশে যেতেই এলাকার একটি এসি বাসের দেখা মিলে! আবার দৌড়ে এসে বাসে উঠে পড়ি আমি। বাসের সুপারভাইজার জানান- আগের দিন রাত ১২টায় শেরপুর থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন সোয়া ১১টায়। সড়কে প্রচুর যানজট। গাড়ি নড়তে চায় না। যাই হোক অতপর এই বাস বেলা সাড়ে ১২টায় শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সড়কে প্রচুর যানজট থাকায় এই বাস নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ প্রবেশ করে। এর মধ্যে এই আমাদের বাস কোনো যানজট পায়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহের চার গুণ দূরত্ব দিয়ে এসে শম্ভুগঞ্জ বাজারের আগে যাত্রাবিরতি। ঘড়িতে সময় সাড়ে আটটা। এসময় আমি পরিচিতজন শফিক ভাইকে ফোন দিলাম, যিনি শামীমের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি জানালেন- আমি চলে আসার ১৫ মিনিট পরেই দুইটা বাস এসেছে। সাড়ে ১১টায় বাস ছেড়েছে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ত্রিশালের আগে বাস প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছে। এক ইঞ্চিও সামনে যায় নাই। আমি শুনে তো অবাক। তারও ১ ঘণ্টা পরে রওনা দিয়ে ময়মনসিংহ পার হয়ে চলে এসেছি আমরা। অথচ এই সড়কে তারা ময়মনসিংহ থেকে আর ৫০ কিলোমিটার দূরে বাসে আটকা পড়ে আছে। ময়মনসিংহে কতক্ষণে পৌঁছাবে ঠিক জানা নেই কারো। অবশেষে তারা রাত ১০ টায় ময়মনসিংহে পৌঁছেছিল। সকাল সাড়ে ১১টায় রওনা দিয়ে রাত ১০ টায়! পৃথিবীর আর কোনো দেশে ১২০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে মনে হয় না এত সময় লাগে। এ শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।



দীর্ঘদিন থেকেই এই সড়কের অবস্থা নাজুক ছিল। তারপরও ৩/৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ-ঢাকা যাতায়াত করা গেছে। কিন্তু ২০১১ সালে সড়কটির অবস্থা এতই খারাপ হয় যে, এই সড়কের বাস মালিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। এরপর ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে সড়কটি চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। কিন্তু এই কাজে তেমন কোনো গতি কখনই দেখা যায়নি। আর এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী।



মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের; আপনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটির দিকে একবার হলেও তাকান। পিতৃমাতৃহীন সড়কটির চারলেনে উন্নীত করণের কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিন। এই ঈদে যে পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তার পরিমাণটা সামনের ঈদে যেন কমে যায়, তার জন্য ব্যবস্থা নিন। ঈদুল আজহার অবশ্য বেশি দেরি নাই। আমার তো মনে হয়, আসন্ন ঈদে দুর্ভোগ আরো বাড়বে। মনে হয় আমার বাড়ি যাওয়া হবে না। এত দুর্ভোগ পেরিয়ে বাড়ি যাওয়া সম্ভব না। ঢাকায় বসে বসে আমি কেবল জপতে থাকব- মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী, এই চারলেনের চেয়ে আগেই ভালো ছিলাম। অন্তত ময়মনসিংহে পৌঁছতে ১২ ঘণ্টা লাগে নাই। ঈদের সময়ও ৪/৫ ঘণ্টায় পৌঁছতে পেরেছি।



মূল লেখা : Click This Link

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ৯:৩২

ভিটামিন সি বলেছেন: ভাই আপনার ছবিটা দেখেই বোঝতে পেরেছিলাম যে এটা আমাদের রাস্তার ছবি। আর একটা কথা চিন্তা করুন: রাস্তার পাশ দিয়ে আপনার ছোট ভাই স্কুল ড্রেস পরে স্কুলের পথে রওনা দিয়েছে। রাস্তা যদি বৃষ্টি ভেজা হয় তাহলে গাড়ির চাকার ঘুর্ণনের চোটে যে পরিমান পানি বৃত্তীয় গতিতে এসে ওই ছাত্রটির গায়ে পড়ে তাতে তার কি অবস্থা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.