নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তুমি কেমন করে গান করো হে গুনী, আমি অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি ।।

ঠাকুরমাহমুদ

sometimes blue sometimes white sometimes black even red, even golden ! yes dear - its me - i am sky ! color your life, than your life will be colorful

ঠাকুরমাহমুদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



যে কেউ যে কোনো ধরনের পোশাক পরে যে কোনো সমাজে যেতে পারেন, সাধারণত কেউ বাধা দেয় না। তবে সর্বসাধারণের ক্ষেত্রে “দৃষ্টিকটু” বলে একটি বিষয় উল্লেখ্যযোগ্য। যা সময় স্থান কাল পাত্র ভেদে - পরিবেশ পরিস্থিতি ও সমাজ হিসেবে যে কোনো দেশে, উক্ত দেশের সমাজই নিয়ম নীতি তৈরি করে দেয়।

দৃষ্টিকটু পোষাক:
১। আমাদের দেশে সাধারণত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন সকালে সুপারশপগুলোতে দেখা যায় কিছু চল্লিশোর্ধ্ব - পঞ্চাশোর্ধ পুরুষ পুরাতন অপরিষ্কার হাফপেন্ট ও টিশার্ট পরে চলে এসেছে শপিং করতে। হাতে পায়ে কাঁচাপাকা বড় বড় পশম এমনকি টিশার্টের বোতাম খোলা বুকেও কাঁচাপাকা বড় বড় পশম। শরীরে সিগারেট ও লিকারের গন্ধ - পাশে দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় মনে হয় কোনো মানুষ না, হয়তো কোনো নোংরা জলহস্তী হেটে যাচ্ছে।

২। মৃত্যুবাড়িতে দেখা যায় কোনো না কোনো নারী খুব সম্ভব তার মূল্যবান পোশাক ও সকল অলংকার পরে চলে এসেছেন। বাড়িতে লাশ। গ্লসি মেকআপ তিনি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মরা বাড়িতে নিজেদের উচ্চবিলাসী জীবন যাপনের গল্প করছেন। গত মাসে মোলডিপ (মালদ্বীপ) ভ্রমণে কোন রিজোর্টে ছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি।


দৃষ্টিকটু আচরণ:
১। মোটামোটি ভালো রেস্টুরেন্ট যেমন: বিরিয়ানী হাউজ ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। সবাই খাওয়া দাওয়া করছেন - কাউকে না কাউকে দেখা যাবে সকলের সামনে হা করে কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাচ্ছেন। হাত মুখ ধোয়ার বেসিনে গিয়ে ভৌতিক শব্দে গড়গড়া কুলি করছেন।

২। কোনো অনুষ্ঠানে, বাসে ট্রেনে এমনকি ফ্লাইটে বসে কাউকে না কাউকে দেখা যাবে ভয়ঙ্কর মুখের দৃশ্য তৈরি করে নাক কান পরিস্কার করছেন। ছোট বাচ্চারা এই দৃশ্য দেখে তাৎক্ষণিক কান্না শুরু করে দেয়।

৩। বাসে ট্রেনে ফ্লাইটে হাসপাতালে এমনকি মৃত্যুবাড়িতে উচ্চস্বরে কথা বলা। বাংলার সাথে কিছু ইংলিশ বলা - খুব সম্ভব, এই গুলো এখন আর দৃষ্টিকটু আচরণ না! দেশে রাতের ট্রেনে কি পরিমাণ চিৎকার চেচামেচি আর গান বাদ্য হয়! - তা একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ অনুভব করা সম্ভব না।

হাফপেন্ট সমাচার: হাফপেন্ট পরে কে কোথায় দৌড়াবেন তাতে আমাদের দেশে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। সড়ক-মহাসড়ক, চন্দ্রিমা, রমনা, হকার মার্কেট, গুলিস্তান যাত্রাবাড়ি শনির আখড়া - যে কোনো পথে দৌড়াতে সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে যখন কেউ নিজের পরিচয় দিবেন “সে একজন স্পোর্টসম্যান”। তখন জানতে হবে তিনি কি তালিকাভূক্ত স্পোর্টসম্যান? কারণ, স্পোর্টসম্যানদের জন্য স্টেডিয়ামে যাবতীয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা আছে - লকার, বাথরুম, শাওয়ার, ড্রেসিং রুম ইত্যাদি ইত্যাদি। এতোসব সুযোগ সুবিধা থাকার পর একজন স্পোর্টসম্যানকে কেনো স্পোর্টস ড্রেস পরে ট্রেনে মেট্রোতে চড়তে হবে? তারপরও সমস্যা হলে মেট্রোতে অফিসগামী যাত্রীদের কাছে জানতে চাওয়া উচিত ছিলো “ঘর্মাক্ত একজনের কারণে” তাদের কোনো সমস্যা হবে কিনা? নাকি মেট্রো ট্রেনে যাত্রীরা পক্ষে বিপক্ষে মারপিট লেগে যাবে! একজন স্পোর্টসম্যানকে হাফপেন্টের অজুহাতে ভিডিও করে হুলুস্থুল করার প্রয়োজন নেই। স্পোর্টসম্যান যেইভাবে চিৎকার চেচামেচি করেছেন তাতে তার নিজের ইমেজ নষ্ট হওয়ার কথা। এবং ক্রীড়া অধিদপ্তরের উচিত উক্ত স্পোর্টসম্যানের ডোপ টেস্ট ও মেডিক্যাল টেস্ট করা। আর দুইজন পুলিশের আচরণ ছিলো খুবই অদক্ষ আচরণ। তাদের উচিত ছিলো একজন সার্কেল অফিসারের সাথে ওয়াকিটকিতে যোগাযোগ করা। তাতে করে নেগেটিভ/পজেটিভ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যেতো।

ড্রেসকোড: যে কোনো স্থানে পোশাকের কিছু নিয়ম নীতি থাকে, আর তা জানতে হলে উক্ত বিষয়ে ট্রেইনিং ও কোর্স করতে হয়। ব্লগে এই বিষয়ে কথা বলার মতো তেমন কিছু নেই, সকলেই এই বিষয়ে কমবেশি জানেন। দুইজন পুলিশের উচিত ছিলো স্পোর্টসম্যানকে অন্ততপক্ষে বাংলাদেশের সহজ পোশাক একটি লুঙ্গি পরিয়ে মেট্রোতে উঠিয়ে দেওয়া। ৯০% মুসলিমের দেশে শুধুমাত্র নারী কেনো আব্রু করবেন। পুরুষদেরও আব্রু করা ও আব্রু মেনে চলা উচিত।

মক্কাহ চুক্তি: আমাদের দেশের প্রায় সকলে মক্কাহ চুক্তি সম্পর্কে বুঝুক আর না বুঝুক! মক্কাহ চুক্তিতে প্রচুর আগ্রহ এবং সম্ভব হলে আরব সাগর লোহিত সাগর সাতার দিয়ে দুর্গম পাহাড় আর মরুভূমি পায়ে হেটে মক্কাহ যেতে আগ্রহী। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শুধুমাত্র মক্কাহ না, সমগ্র সৌদি আরবে প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ হাফপেন্ট পরে ট্রেনে বাসে এয়ারে ভ্রমণ করতে পারবেন না। সম্ভব না। সম্ভব না বলতে, সম্ভব না। কি কি হবে একবার যদি রাজীব নুর জানতেন, তাহলে রাজীব নুর বোরকা পরে সৌদি আরব যাওয়ার চিন্তা করবেন।

পরিশিষ্ট: নতুন বাংলাদেশ নতুন স্বাধীন দেশ। মানুষ হাফপেন্ট পরে শুধুমাত্র যাতায়াত না, সম্ভব হলে অফিস আদালতও করতে পারেন। আগামীকাল হয়তো দেখা যাবে কোনো বিয়ে বাড়িতে বর কনে হাফপেন্ট পরে চলে এসেছেন। বর কনের মাতা পিতাও হাফপেন্ট পরে চলে এসেছেন - নতুন ট্রেন্ড। অথবা ইউনিভার্সিটির কোনো শিক্ষক শিক্ষিকা ক্লাসে হাফপেন্ট পরে চলে এসেছেন অথবা ধর্ম প্রচারক। যার যা চয়েজ।







মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: নতুন বাংলাদেশ নতুন স্বাধীন দেশ। মানুষ হাফপেন্ট পরে শুধুমাত্র যাতায়াত না,
সম্ভব হলে অফিস আদালতও করতে পারেন।

.........................................................................................................
যা ইউরোপে আরও ৩০ বৎসর পূর্বে হাফপ্যান্ট পড়ার চল আছে এবং মেয়েরা
স্কার্ট পড়ে অনায়াসে স্কুল, বাজার ঘাট করছে তা আমাদের এখন নূতন করে
বিতর্ক করতে হচ্ছে ।
অর্থাৎ আমরা সর্বদা চলমান বিশ্ব থেকে ৩০/৪০ বৎসর পিছনে হাঁটছি ।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



বাংলাদেশের উপকুল অঞ্চলে সাগর পাড়ে এক ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন - সাগর পাড় একটি ডাবের দাম ২০০ টাকা কেনো হবে? রাজধানী ঢাকায় তো মাত্র ১৫০ টাকা! আমার উত্তর দেওয়া উচিত ছিলো “আপনি ঢাকা গিয়ে ডাব খেয়ে আবার সাগর পাড়ে চলে আসুন। অথবা সাগর পাড়ে আসার সময় ঢাকা হতে দুই হালি ডাব নিয়ে আসবেন”। - আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি। হাসি মুখে তাকিয়ে রইলাম, যেই হাসির অর্থ হা অথবা না দুইটিই হয়।

আপনার মন্তব্য উত্তর - আপনি বাংলাদেশে আছেন। ৯০% মুসলিমের দেশে। আপনি সমাজ পরিবর্তন করতে চাইলে সমাজ পরিবর্তন করুন। আপনিও হাফপেন্ট পড়ুন। দেশে যেই পরিমাণ ধুলোবালি ময়লা তাতে আপনার পা কিছুদিনের মধ্য আলকাতরা মাখা নৌকার কাঠের মতো হওয়ার কথা। - আপনার পোশা্ক আপনার চয়েজ।

২| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



কী আর করা ! কানালোচন না শুনে ধর্মের কাহিনী । দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ
তারা নিজেরা বুঝবেনা তাদের নীজ আচরণ । এদের তরে কথা বলা এখন শুধুই বিজন
বনে বিচরণ ।
তাই তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন

কী আর করা—
কানা লোচন ধর্মের কথা শোনে না,
চোখের সামনে সত্য দাঁড়ালেও
সত্যকে সে চেনা না।

পোশাকে যদি বাহার থাকে,
আচরণে কেন নেই লজ্জা?
মানুষ হওয়ার আসল পরিচয়
শুধু কি বাহ্যিক সাজ সজ্জা?

নিজের দেহটি না ডেকে
অন্যের দেহে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি
নিজের ঘরে আঁধার রেখে
স্বল্প পোশাকে খোঁজে সৃষ্টি!

মুখে কত নীতি-কথা ঝরে
কাজে তারই উল্টো ছবি
শব্দগুলো বড় জোরালো
বিবেক কেন থাকে নীরবই?

যে পথে সবাই যে ছুটে চলে,
সেই মত পথ চলি সকলেই বলে
জনতার স্রোতে মিশে গেলেই
মুছে কী যাবেনা তা ভুলের ক্ষত?

কথা বলে কী লাভ তবে,
যদি না জাগে তাদের অন্তর
উপদেশ আজ মরুভূমিতে
হারিয়ে যায় নিরন্তর।

তবু আমরা আপনার মতই কথা বলব
যতদিন কণ্ঠে থাকে প্রাণ,
একটি বীজ বিবেকের যদি
জাগায় কোনো মন।

বিজন বনে বিচরণ নয়
চাই আলোর পথের সন্ধান
দৃষ্টিকটু পোশাক আর আচরন
শুদ্ধ করে হোক সমাজের সংস্কার।

সমাজ বদলাবে একদিন নিশ্চয়,
যদি বদলায় দৃষ্টি কটু আচরণ
একটি জাগ্রত বিবেকই পারে
আলোকিত করতে ধরা।

তাই কর্ম হোক মানবতায়
পোশাকে থাক শালীনতা
আচরণে ফুটুক মানুষের
সত্যিকারের মহত্ত্বতা।

কেউ যেন আর না বলে তখন
কীভাবে হবে উত্তরণ?
মানুষ জাগলে পথই খুলবে,
শেষ হবে পথে ঘাটে
এমনতর দৃষ্টিকটু পোশাক
আর দৃষ্টিকটু আচরণ ।

শুভেচ্ছা রইল

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



ভাই সাহেব,
শালীন অর্থ কি? শালীন নামক এই শব্দের অভিধানে কি আর প্রয়োজন আছে?

আপনার জন্যও অনেক অনেক শুভ কামনা।

৩| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৭

অপ্‌সরা বলেছেন: হাফপ্যান্ট শর্টস পরে শপিং বা রেস্টুরেন্ট! এক্কেবারেই জংলী স্বভাব লাগে আমার!!

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



শুক্রবার সুপারশপগুলোতে আমার খুব বিরক্ত লাগে। এইসব বুড়াবাম লোকজন যেই পোশাক পরে মনে হয় এরা সারা রাত মাদক সিগারেট আর তাস খেলা নিয়ে পরে ছিলো। অসুস্থ মনের অসুস্থ মানুষ হলে যা হয়।

৪| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বর্তমানে আমাদের দেশের মেয়েরা যেখানে,
হাতা কাটা, পেট কাটা, পিঠ কাটা, বগল কাটা জামা পড়ে
সব স্হানে ঘুরতে পারে, সেখানে পুরুষ মানুষ হাফপ্যান্ট পড়বে
এতে সমস্যা কোথায় ?

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



সমস্যা নেই। যার যা চয়েজ। আমি তাই বলতে চেয়েছি, যার যা চয়েজ। সমস্যা নেই।


আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.