নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অতলান্তিক নৈঃশব্দ্যে নিদ্রিত হও !

আমি যে কেনো কাঁদি , জন্মাবধি ! বৃষ্টি-দগ্ধ হয়ে ডুবে থাকি কারো তন্দ্রাহত দৃষ্টির গভীরে ...

শহিদুল ইসলাম

বৃষ্টি - সে এক অচিন উপত্যকার দীর্ঘশ্বাস ! http://www.facebook.com/theshohidul

শহিদুল ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভৌতিক গল্প : ভয়

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:০৭



১.





মধুপুরের বিখ্যাত ডাকাত ইদ্রিস আলি কে খুন করা হয়েছিল সন্ধাবেলা । মাথার পেছনে প্রথমে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে অজ্ঞান করা হয় , তারপর গলায় রশি পেচিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয় মধুপুর মসজিদের পাশের আম গাছটায় । ফজরের নামাজ পড়তে এসে গ্রামের সব চেয়ে বৃদ্ধ লালু শেখ যখন আমগাছ তলায় কিছু একটা দেখে অজ্ঞান হয়ে যায় , খবরটা তখনও কেউ জানেনি । বোবা জামাল শীতে কাপতে কাপতে খেজুর গাছ থেকে রসের হাড়িটা নিয়ে যখন নামছিল , হঠাৎ করেই তার চোখ গেল আমগাছটার দিকে , আধহাত লম্বা জিহ্বা বের করে ইদ্রিস আলি তখন তার দিকেই চেয়ে আছে । বোবা জ়ামালের হাত থেকে রসের হাড়িটা পড়ে গেল , গাছ থেকে এলোপাথাড়ি নামতে গিয়ে দুই পা কেটে গেল , সেখান থেকে দরদর করে রক্ত বেরুতে লাগল । গাছ থেকে নেমেই সে বিকট চিৎকার করতে করতে গ্রামের দিকে ছুটল । যে খবর সারারাতে কেউ জানেনি , পরবর্তী আধ ঘন্টায় গ্রামের সকল মানুষ তা জেনে গেল । বোবা জামাল তাদের মুখে কিছুই বলতে পারে নি, কিন্তু বারবার আমগাছ তলার দিকে আঙ্গুল উচিয়ে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করছিল , লোকজন কিছু একটা আন্দাজ করে আমগাছতলায় এসে থমকে যায় । ইদ্রিস আলীর বের করা জিভে তখন মাছি ভন ভন করছে ,সারা মুখ কালো হয়ে আছে রক্তে , কোটর থেকে চোখটা যেন বের হয়ে আসতে চাচ্ছে । জীবিত ইদ্রিস আলীর সাথে এ মৃত ইদ্রিস আলীর কোনই মিল নেই । এ ভয়ংকর মৃত্যু অনেকেই সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যায় আমগাছতলা থেকে । লাশের নিচে তখনো লালু শেখ পড়ে আছে , বিড়বিড় করে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে ।কেউ তাকে তুলতে যাচ্ছেনা , সবাই তাকিয়ে আছে লাশের দিকে , এ যেন এক মায়া ! কুহক ! । ক্রমে মানুষ ভীড় করতে লাগল এ আমগাছতলায় । যে আমগাছতলা এতকাল ছিল নিরব নির্জন , সকাল দশটার মাঝেই সে আমগাছতলা হয়ে গেল লোকে লোকারণ্য । দশটার কিছু পরে সাবইন্সপেকটর কাওসার আহমেদ গ্রামের চেয়ারম্যান জলিল হোসেনের বাড়িতে এসে হাক ছাড়ল,

--জলিল সাব বাড়িতে আছেন নি?

জলিল হোসেন তখন উঠোনে পিড়িতে বসে নাপিত দিয়ে চুল কাটাচ্ছিলেন । বিরক্ত স্বরে বললেন

--আছি । কেডা?

--আমি কাওসার ।

--ও , সাবইন্সপেকটর সাব । আসেন ভিতরে আসেন ।

কাওসার বাড়ির ভিতরে ঢুকেই চেয়্যারম্যানকে বলল,

--তা , লাশের কি করবেন ,কিছু ঠিক করলেন ?

--না , এহনো ঠিক করি নাই ।আপনে কি কন , কি করা যায় ?

--আমি কই ,লাশ কবর দিয়া ফালান । এইটা নিয়া ঝামেলা করার ইচ্ছা করতাছেনা ।

--ঠিক আছে , ইস্নপেকটর সাব । তাই করতাছি। আপনে কিন্তু চা খাইয়া যাইয়েন ।

সাবইন্সপেকটর কাওসার চা খেয়ে চলে গেলেন ।

লাশটা তখনো গাছে ঝুলছে । কেউ লাশ নামাতে যাচ্ছে না । এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয় । মানুষ সকল অস্বাভাবিকতাকে ভয় পায় । এটা মানুষের এক সহজাত ধর্ম । এখানে কোন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা ঘটেনি , কিন্তু ইদ্রিস আলীর মৃত্যু সব অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে । এখানে সবাই মৌন । কিছু একটা দেখার প্রতীক্ষায় তাকিয়ে আছে সবাই ।

হঠাৎ মসজিদের ইমাম সিরাজ মিয়া কোথা হতে উদয় হয়ে চেচিয়ে উঠল ,

--ওই মিয়ারা লাশ কি গাছেই পচব নাকি ? আসেন , লাশ নামাইতে অইব ।

বলেই সিরাজ মিয়া লুঙ্গি মালকোচা মেরে তরতরিয়ে গাছে উঠে গেল । লাশের নিচে দুইজন চট বিছিয়ে ধরল । সিরাজ মিয়া উপর থেকে রশি কেটে দিতেই ধপ করে লাশটা পড়ল চটে । তীব্র মানুষ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল এলাকাজুড়ে ।

বিকেল হওয়ার আগেই, জানাজা না পড়িয়েই ইদ্রিস আলীকে পুঁতে ফেলা হল গ্রামের দক্ষিণ দিকের পোড়াবাড়ির পাশের জমিতে । অপঘাতে মরা লাশ । কি না কি হয়, এই ভয়ে গ্রামের সকল ছেলেবুড়োকে নিষেধ করা হল আগামী সাতদিন যাতে এদিকে কেউ না আসে ।



পরদিন সকালে লাল্টুদের মুদি দোকানে বসে সিরাজ মিয়া চা খেতে খেতে আচমকা বলে উঠল

--ও লাল্টুর বাপ । কালকে রাইতে তো মনে হয় ইদ্রিসরে দেখলাম ।

--কি কন ইমাম সাব! ইদ্রিসরে ?

--হ, ফজরের নামাজ পড়ানোর জন্য ওজু করতাছিলাম । আন্ধাইর তহনো যায় নাই । হঠাৎ চোখ গেলগা আম গাছটার দিকে । আন্ধাইরে ঠিকমতো কিছু দেহা যায়না । তবুও ছায়ার মতো দেখলাম আমগাছতলায় আন্ধইরে কিছু একটা বইয়া আছে । আমি পাত্তা না দিয়া ওজু করতে লাগলাম । আন্ধাইরে কত কিছুই দেহা যায় । সবকিছুকে পাত্তা দিতে নাই । কিন্তু কিছুক্ষণ পরে হুনলাম ,খুবই অদ্ভুত স্বরে কেডা জানি কানতাছে । আর কান্নার শব্দটা আইতাছিল ওই আমগাছের তল থেইকা । তহন পাইলাম ভয় । তাড়াতাড়ি ওজু শেষ কইরা মারলাম দৌড় ।

এ ঘটনা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে বেশী দেরি হলনা । আমগাছতলাটা সকলের কাছে হয়ে গেল ভীতিকর এক জায়গা ।

এর একমাস পর ফজরের নামাজ পড়তে এসে গ্রামের লোকজন, ইমাম সিরাজ মিয়াকে মসজিদে না পেয়ে খুজতে খুজতে যখন আমগাছতলায় আসল , তখন আমগাছের ডালে সিরাজ মিয়ার ফাসিতে ঝুলানো বিকৃত লাশটা দেখতে পায় ।











করপোরেট জীবনে ছুটি খুব একটা পাওয়া যায় না । এবার তিনদিনের ছুটি পাওয়াতে বন্ধু অরুণের সাথে বেড়াতে চলে এলাম মধুপুরে । মধুপুর গ্রামটি সত্যিই সুন্দর । অরুণ যতটুকু বলেছিল তার চেয়েও বেশী । সে এ গ্রামেই জন্মেছে । পৃথিবীতে কিছু স্বপ্নাবিষ্ট মানুষ জন্মায় যারা কখনো তাদের শিকড়কে অস্বীকার করে না । অরুণ তাদেরই দলে । তার কাছে এ গ্রামের কথা এতো শুনেছি যে , এখানে এসে মনে হচ্ছে মধুপুরকে আমি অরুণের চেয়েও ভাল চিনি ।

ট্রেন থেকে নেমেছি সেই দুপুরবেলা । এখন গরু গাড়িতে করে চলেছি অরুণদের বাড়িতে । বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় গরুর গাড়িতে চড়া খুবই আরামের । কিন্তু গরু গাড়ি যে এতঝাকি খায় , না চড়লে বুঝা যায়না । তীব্র ঝাকিতে আমার মাথাব্যথা শুরু হয়েছে । অরুণ আমার পাশে বসে একনাগাড়ে কথা বলেই যাচ্ছে । শেষে বিরক্ত হয়ে বললাম

--কি রে ? আর কত দূর?

--এইতো দোস্ত , এসে পড়েছি । আর আধঘন্টাখানেক ।

-- আরও আধঘন্টা ! প্রচুর ক্ষুধা লাগছে রে । এখন কি করি ?

-- চিন্তা করিস না ,বাড়িতে ফোন কইরা দিছি । সব রান্না রেডী । খাইয়া খাইয়া পেট বানাইছস বটে একখান ! দোস্ত এখন থেকে একটু কম খাওয়া শুরু কর । ডায়েট করা শুরু কর ।

--এত কথা বলিস না । এখন চুপ কর , মাথা ব্যথা করছে ।

বিকেলের আগেই পৌছে গেলাম অরুণদের বাড়িতে । অরুণের চাচা রহিম উদ্দিন আগেই দাড়িয়ে ছিলেন রাস্তায় এসে । গাড়ি থেকে নেমেই চাচাকে সালাম দিলাম, চাচা হাসি মুখে বললেন,

--এতক্ষণে আইলা তোমরা ।

--আর বইলেন না চাচা , গরুর গাড়িতে চড়ে মাথা ব্যাথা করতাছে ।

--নতুন উঠলে একটু আধটু মাথা ব্যথা করেই । লও লও ভিতরে লও।

অরুণদের বাড়িটা সুন্দর । শুধু সুন্দরই না ,সজানোও বটে । উঠোনের এক কোণায় ফুলের বাগান , ফুল ফুটে আছে সেখানে । আর এতেই এ বাড়ির সৌন্দর্য বেড়ে গেছে বহুগুণে । কিছু অচেনা ফুলের গন্ধে বাড়ি ভরে গেছে । আমি বললাম ,

-- এটা কি ফুলের গন্ধরে?

--কি জানি । চল আগে হাতমুখ ধুয়ে আসি ।

বাড়ির পাশেই বিরাট পুকুর । আমরা পুকুর থেকে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে গেলাম । খাওয়া শেষে অরুণ আমায় ঘুরতে নিয়ে বের হল ।



রাত তখন দশটা । হারিকেনের আলোয় অরুণ আর আমি বিছানা ঝাড়ু দিয়ে ঘুমানোর আয়োজন করছি । অরুণ হঠাৎ বলল

--সকালে আমার আবার ফজরর নামাজ পড়ার অভ্যাস আছে , তুই পড়বি নাকি ?

--আমার যা ঘুম । হাতি দিয়েও টেনে তুলতে পারবি কিনা সন্দেহ । ডাক দিয়ে তুলতে পারলে যাব ,ডাকিস ।

দুজনে শুয়ে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানিনা । ঘুম ভাঙল অরুণের ডাকে ।

--দোস্ত উঠ ,উঠ । সকাল হয়ে গেছে । নয়টা বাজে । উঠ ।

বিছানায় উঠে দেখি সকাল হয়ে গেছে । রোদের আলোয় ঝলমল করছে চারপাশে । অরুণ গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে আছে বিছানার পাশে ,বলল

--আজকেই ঢাকা চলে যাব । উঠ । রেডি হয়ে নে ।

আমি অবাক হয়ে বললাম

--কিরে কি হয়েছে ? এসেছি তিনদিন থাকব বলে । আর তুই আজই চলে যাবি ? কিছু কি হয়েছে?

-- না কিছু হয়নি । এখন রেডি হয়ে নে । দুপুরের ট্রেন ধরতে হবে ।

আমি অবাক হয়ে অরুণের দিকে তাকিয়ে রইলাম । ভাবলাম হয়তো অরুণের সাথে তার চাচা বা চাচীর ঝগড়া হয়েছে । কথা না বাড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে সোজা পুকুর পাড়ে চলে এলাম । হাত মুখ ধুয়ে পুকুর থেকে উঠেই দেখি অরুণের চাচা দাড়িয়ে

--তোমরা না কি আজই চইলা যাইতাছ ?

--অরুণতো তাই বলল । আচ্ছা চাচা কি হয়েছে যে অরুণ চলে যেতে চাচ্ছে ?

--কি জানি । বুঝবার পারলাম না । তুমি মনে কিছু লইও না , ও একটু এমনই । তয় পরে আরেকবার সময় কইরা আইস ।











সেদিন বিকালের ট্রেনেই আমরা ঢাকায় রওনা দিলাম । অরুণ সকাল থেকেই গম্ভীর হয়ে আছে । আমার সাথে তেমন একটা কথা বলছে না । অরুণকে আমি সবসময়ই হাসিখুশি থাকতে দেখেছি । এমন গম্ভীর মুখে তাকে কখনোই দেখিনি । আমি শতবার তাকে জিজ্ঞেস করেছি --কিরে কি হয়েছে ? একবারও সে উত্তর দেয়নি ।

রাত তখন আটটা কি নয়টা । অরুণ আর আমি ট্রেনে সামনাসামনি বসে আছি । ট্রেনের এ কামরাটা অপেক্ষাকৃত নির্জন । ট্রেনের সকল বাতি নিভানো হয়েছে অনেক আগেই । পাশের জানালাটা খোলা । খোলা জনালা দিয়ে হুহু করে বাতাস আসছে । চাঁদের আলো খানিকটা এসে পড়েছে অরুণের মুখে । আর এতেই আমি তাকে আবছাভাবে দেখছি । এ অদ্ভূত পরিবেশে হঠাৎ অরুণ আমার দিকে ফিরে আচমকা বলল

--আচছা,শহিদ, তুই কি আত্নায় বিশ্বাস করিস?

আলো ছায়াময় সেই নির্জন ট্রেনের কামরায় এমন একটা প্রশ্ন শুনে আমি শিউরে উঠলেও বলি

-- না । আমি বিশ্বাস করিনা । হঠাৎ এ প্রশ্ন করলি যে ।

অরুণ কিছুক্ষন চুপ করে কি যেন ভাবল , তারপর বলতে লাগল,

-- তাহলে শোন , তোকে একটা ঘটনা বলি ,অনেকদিন আগে মধুপুরে দুইজন মানুষ মারা যায় । একজনকে মসজিদের পাশের আমগাছটায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় । এর একমাস পরেই আরেকজন সেই একই গাছে আত্নহত্যা করে । গ্রামাঞ্চলে এইসব ঘটনা নিয়ে খুব তোলপাড় হয় । তখন থেকে আমগাছটা সবাই এড়িয়ে চলতে শুরু করে ।পারতপক্ষে কেউ রাতে ভুলেও আমগাছটার তলা দিয়ে যায়না । গতকাল রাতে ফজরের নামাজ পড়তে এই আমগাছটার তলা দিয়েই যাচ্ছিলাম । তখনো অন্ধকার কাটেনি । চাঁদের আলো হয়তো ছিল । কিন্তু আমি যখন যাচ্ছি তখন ঘোর অন্ধকার । এমনিতে আমি বেশ সাহসী । কিন্তু আমগাছটার তলা দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম , তখন খেয়াল করলাম আমি আসলে ভয় পাচ্ছি , সম্পূর্ণ বিনা কারণে ভয় । নির্জন একটা রাস্তা দিয়ে একা গেলে যে কেউ ভয় পেতে পারে । কিন্তু আমার ভয়টা সম্পূর্ণ অন্যরকম । আমার মনে হল ঠিক আমগাছের গোড়ায় কিছু একটা দাড়িয়ে আছে । আমি কিছু দেখিনি , তবুও মনে হল কিছু একটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে । তার অস্তিত্ত্ব নেই , শরীর নেই , কিছু নেই , তবুও মনে হইল কিছু একটা আমার পাশে ঠিকই আছে । ঠিক তখনি ,অন্ধকারে দেখলাম ঠিক মানুষ বলা যায়না , তবুও অনেকটা মানুষের মত অবয়ব ঠিক আমগাছের গোড়ায় দাড়িয়ে আছে । তখন এক জান্তব ভয় আমাকে গ্রাস করল । এমন তীব্র ভয় আমি জীবনে কখনো পাইনি । তখন আমি খেয়াল করলাম আমার পা কাঁপছে । আমি এক চিৎকার দিয়ে মসজিদের বারান্দায় এসে অজ্ঞান হয়ে যাই । তারপর কি হয় জানিনা । জ্ঞান ফিরলে দেখি মসজিদের বারান্দায় শুয়ে আছি । অনেক মানুষ ভীড় করে আছে ।

একনিশ্বাসে কথাগুলো বলে অরুণ হাপাতে লাগল । আমি প্রচন্ড ভয়ে কথা হারিয়ে ফেলেছি । সেদিন ট্রেনে অরুণের সাথে আর কোন কথা হয়নি । অরুণ সারা পথই কি যেন ভাবছিল । রাত তিনটায় যখন ট্রেনটা ঢাকায় আসে তখন ট্রেন থেকে নেমে অরুণ শুধু বলেছিল - যাই । পরে দেখা হবে ।

অরুণ থাকে মগবাজারে , তার বাবা মাকে নিয়ে । আর আমি থাকি মালিবাগে , একা একটা ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া করে । বাসায় ফিরে সেদিন আর ভয়ে ঘুমুতে পারিনি । বই পড়ে , আলো জ্বালিয়ে রাতটা কোনমতে পার করেছিলাম ।

কিছুদিন পর প্রচন্ড কাজের চাপে অরুণের গল্প ভুলেই গেছিলাম । মধুপুরে যাওয়ার এক সপ্তাহ পরে হঠাৎ অরুণ আমাকে ফোন করে উদভ্রান্তের মত বলল

-- দোস্ত তুই আমারে বাঁচা

-- কেন কি হয়েছে ?

--আমি বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছি ।

--কি হয়েছে । খুলে বল ।

--সেদিন গভীর রাতে মধুপুর থেকে ফিরে , ট্রেন স্টেশন থেকেই একটা রিকশা নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম । রিকশাটা চলতে চলতে যখন একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকল , ঠিক তখনি আমার মনে হল কিছু একটা আমার পাশের খালি জায়গায় বসে আছে । অনুভূতিটা এতই তীব্র যে আমি আমার পাশে একঝলক তাকিয়েও দেখলাম । সেখানে কিছুই নেই ।আমি বুঝতে পারলাম এটা আমার মনের ভুল । ঠিক তখনই আমার মনে একটা অদ্ভুত চিন্তা আসল , ভয়ানক কোনকিছু মধুপুর থেকে আমি আমার সাথে করে নিয়ে আসিনি তো ? মন থেকে যতই চিন্তাটা ফেলে দিতে চাইলাম ততই তা ঝাকিয়ে বসল । কিন্তু রিকশা ভাড়া মিটিয়ে যখনই আমাদের বাড়ির গলিটাতে ঢুকলাম তখনই ঐটাকে দেখলাম । সামনেই অন্ধকারে দাড়িয়ে আছে । তার চোখ নেই ,মুখ নই, পা নেই , তবু মনে হল ওটা চেয়ে আছে আমারই দিকে , তার মুখে ক্রুর হাসি ।। আমি দৌড়ে বাড়ির গেটে যেয়ে দারোয়ানকে ডাকতে থাকি । দারোয়ান আমাকে ধরে নিয়ে পৌছে দিয়ে আসে আমাদের ফ্ল্যাটে ।

এতকথা অরুণ একনাগাড়ে বলে হাপাতে লাগল । আমি বললাম

--এ সবই তোর কল্পনা । চিকিৎসা নিলে মনে হয় ঠিক হয়ে যাবে ।

--প্রথমে আমিও তাই ভেবেছিলাম । তিনজন সাইকোলজিস্টের সাথে দেখা করেছি , সব বলেছি, কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেনি । এখন আমি আমার রুমে তাকে দেখি , দেখি কিছু একটা হাটছে আমার অন্ধকার ঘরে । -ঘর অন্ধকার করে ঘুমালে প্রায়ই দেখি মশারির ওপাশে কিছু একটা দাড়িয়ে আছে । তাই এখন বাতি জ্বালিয়ে ঘুমাই ।

--ঠিক আছে তোকে আরো কিছু সাইকিয়াট্রিস্টের ঠিকানা দিই , তুই গিয়ে দেখা করে আয় ।

ঠিকানা নিয়ে অরুণ ফোন রেখে দেয়।

আমার দেয়া ঠিকানাগুলোতে সে গিয়েছিল কিনা জানিনা । কিন্তু মাসখানেক পর অরুণ যখন তার রুমের ফ্যানে ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে তখন খুবই অবাক হই । বহু কাজের মধ্যেও তার জানাজায় যাই । তার বাবা সেদিন আমাকে জড়িয়ে কাঁদলেন অনেকক্ষন । কেন অরুণ আত্নহত্যা করেছে তা কেউ বলতে পারেনি । তবে শেষের দিকে অরুণ নাকি গভীর রাতে- কে কে বলে চেচিয়ে উঠত আর একা একা কথা বলত ।











অরুণের লাশ কবর দিয়ে যখন বাসায় ফিরছি তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে । অরুণ আমার অনেক কালের বন্ধু । সে আর আমি একসাথে কত জায়গায় ঘুরতে গেছি । তার আর আমার বহু স্মৃতি মনে পড়ে কষ্ট হতে লাগল । জানিনা কতক্ষণ উদ্দেশ্যবিহীন হেটেছি , জানিনা কেদেছি কিনা , কত কি ভেবেছি তাও জানিনা । রাত দশটায় বাড়ির গেটে আসতই দারোয়ান বলল

--ভাইজানের কি মন খারাপ ?

--না ।

--তাইলে মুখ অমন শুকনা কে ?

আমি ঊত্তর না দিয়ে গেট দিয়ে ঢুকে পড়লাম । সিড়ি দিয়ে উঠার সময় পাশের বাসার বিড়ালটাও উঠতে লাগল আমার সাথে । আমার ফ্ল্যাট তিনতলায় । ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভিতরে তাকাতেই এক তীব্র ভয় আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল । আমার রুম তখন পুরো অন্ধকারে ডুবে আছে , পাশের বাড়ি থেকে কিছু আলো এসে পড়েছে আমার রুমে । আর এই অস্পষ্ট অদ্ভূত আলোতে আমি স্পষ্ট দেখলাম আমার শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যানটায় ঝুলে আছে অরুণের লাশ ! তীব্র ভয়ে কাপতে কাপতে দৌড়ে নিচে নেমে ,গেটের কাছে এসে হাপাতে লাগলাম । দারোয়ান দৌড়ে এসে বলল -- আরে ভাইজান কি হইছে?

--লাশ!

-- লাশ ? কোথায় ?

--আমার রুমে

দারোয়ান পানি দিয়ে বলল

-- লন পানি খান । আর কি হইছে একটু খুইলা কন ।

--রুমের দরজা খুলে তাকিয়ে দেখি , সামনের রুমে যে ফ্যানটা তাতে রশি পেচিয়ে কেউ একজন ঝুলে আছে ।

--কন কি? চলেন তো আমার সাথে ।

ফ্ল্যাটে এসে দেখি কিছুই নেই । দারোয়ান মৃদু হাসি দিয়ে বলল-- বেহুদাই ভয় পাইছেন ।

দারোয়ান চলে গেলেও আমি ফ্ল্যাটে ঢুকতে সাহস পেলাম না । আধ ঘন্টা পরে যখন ঢুকলাম তখন আগের ঘটনাটা নিজের কাছেই কেমন হাস্যকর লাগছে। রাতে আরেকবার গোসল সেরে কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম ।

গভীর রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল । আমার ঘুম এত সহজে ভাঙ্গে না । তারমানে কিছু একটা হয়েছে । ভালো করে কান পেতে কিছু একটা শুনতে চেষ্টা করলাম তখন হঠাৎ মনে হল কিছু একটা নিশব্দে হাটছে আমার বিছানার চারপাশ দিয়ে । মশারির জন্য ভালো করে কিছুই দেখতে পারছি না তবু মনে হল গাঢ় অন্ধকারে আরো গাঢ় কিছু একটা নড়াচড়া করছে । তীব্র একটা ভয় আমাকে গ্রাস করল । এতো তীব্র ভয় আমি জীবনে পাইনি । ঘরে বাতাস নেই , ফ্যান বন্ধ, তবুও আমি স্পষ্ট দেখলাম , আমার মশারিটা হঠাৎ নড়ে উঠল । হঠাৎ পায়ের দিকে মশারির দিকে আমার চোখ গেল , আর তীব্র আতঙ্ক নিয়ে দেখলাম , সেখানে একজন মানুষের মুখ দেখা যাচ্ছে , অনেকখানি জিভ বের হয়ে আছে , মুখ রক্তে কালো , চোখটা বের হয়ে আসতে চাচ্ছে বাইরের দিকে । জ্ঞান হারানোর পূর্বে টের পেলাম মানুষ পচা তীব্র দুর্গন্ধ আমার রুমজুড়ে ছড়িয়ে গেছে ।









গভীর রাতে এখনো আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় । তাকিয়ে থাকি অন্ধকারে । কিছুই দেখি না । তবু মনে হয় কিছু একটা তাকিয়ে আছে আমার দিকে!!ভয়ানক কিছু একটা হওয়ার প্রতীক্ষায় আমি দিন গুনছি ।

বারান্দায় কিছু একটা হাটছে । ধীর পদশব্দ শোনা যাচ্ছে , আর কিছু ফিস ফিস শব্দ । নাহ! আজ আর লিখতে ইচছে করছে না , জানিনা আর কোনদিন লিখার সুযোগ পাব কিনা ।





* * *

মন্তব্য ৬৬ টি রেটিং +১২/-০

মন্তব্য (৬৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২২

ফাইরুজ বলেছেন: রাতের বেলে ভুত ভয় পাই। +++

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৫

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: হা হা ,

ফাইরুজ আপু , ভয় পাওয়ার কিছু নাই

ভয় দূরে ফেলে গল্প পরতে বস

২| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২২

তেরো বলেছেন: গল্প চিনা চিনা লাগছিলো......ঠিকই চিনেছি দেখা যায়। :D :D

গল্পে ++

এক বসায় শেষ করছিলাম। ভয়ের আছে ভালোই। :)

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২৬

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: আপু , এক বসায় শেষ করতে পেরেছ বলে উৎসর্গিত হইলা :) :)

অনেক ধন্যবাদ আপু :)

৩| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২৫

নষ্ট কবি বলেছেন: এটা আগে কই যেন পড়েছি

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৬

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: কবি ভাই যে !!

এই গল্প কই পরসিলেন মনে করেন তো

গল্প কেমুন লাগল কবি ভাই ?

৪| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২৮

ফাইরুজ বলেছেন: এখন প্লাস দিলাম। কাল দিনের বেলা পড়ব। আমি সত্যি ভুত ভয় পাই।

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৬

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ পাঠ ইচ্ছা পোষণের জন্য

৫| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৩২

সালমাহ্যাপী বলেছেন: গল্পটা পড়ে কেমন ভয় ভয় লাগছে :-& :-&

সুন্দর গল্প +++

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৭

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: ভয় পাওয়া ভালো না :(

৬| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৩৬

নিরঞ্জন বলেছেন: কী লিখলেন ভাই! এটা কি সত্যি ঘটনা, নাকি স্রেফ গল্প?
এই রাতের বেলা আমার কেমন জানি ভয় করছে, যদিও আমি ভীতু নই।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪০

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: নিরঞ্জন ভাই ভয় পাওয়ার কারন আছে ,

এই ঘটনার অধিকাংশই সত্যি ।

আসলেই দুইজন ফাসি দিয়ে মারা যায় ,

তবে ভয় পাইয়েন না :)

৭| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪০

সাকিন উল আলম ইভান বলেছেন: বাপ্রে এ দেখি ভুতের গল্প :O:(

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৭

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: হুম , ভূত !

৮| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪৪

কবি রাজ বলেছেন: good job,man..

+++

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৫০

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: কবিরাজ ভাই , অনেক ধন্যবাদ :)

গল্প পরসেন ??

৯| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৫০

আরিফ আরাফাত রুশো বলেছেন: আমি দুই সিটিং এ শেষ করলাম। মজা কমেনি! ভালো লেগেছে

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৮

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ

ভালো থাকবেন

কৃতজ্ঞতা

১০| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৫২

আমি তানভীর বলেছেন: রাতের বেলায় ক্যান :(

গল্প ভালো হৈসে :)
তবে ভয় লাগতাছে খুব, আমি আবার একা থাকি :(

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৮

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ

পাঠে কৃতজ্ঞতা

১১| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৫৮

ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন বলেছেন: এক বসায় পড়লাম, গল্পে আমেজ ধরে রেখেছেন তবে কোন টুইস্ট নেই, প্রথম প্যারা পড়েই ধারণা করা যায় বাকিটুকু কেমন হতে চলছে। এমন ভূটের গল্প অনেক পড়েছি ছোট বেলায়


আর একটা কথা, একদমই ভয় পেলাম না তবু ভাল লাগল !!


তাই ভাললাগাও দিলাম :)

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৪

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: হ্যা , ভাই গল্পটা সহজ ভাষায় লিখলাম জাতে সবায় বুঝতে পারে :)

কষ্ট করে গল্প লিখলাম আর কেউ বুঝল না এটা কেমন কথা :)

তবে আপনার জন্য কঠিন দিলাম ;)

এপিটাফের শেষ ছত্র

১২| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০০

~মাইনাচ~ বলেছেন: না, এটা মনোযোগ দিয়ে না পড়তে পারলে মজই পাওয়া হবেনা।

কালকে পড়তে হবে।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৫

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: মাইনাচ ভাই কালকে পরেন ,

অনেক ধন্যবাদ ভাই :)

১৩| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৪

আরহাসান বলেছেন: এক বসাতেই পড়লাম, আমার ভয়-ডর একটু কম।
ভাল লাগলো।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৬

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: তাইলে আপনে উৎসর্গিত হইলেন :)

অনেক ধন্যবাদ ভাই :)

১৪| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৬

আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন:
আমি এমনিতেই ভূত কে ডরাই।
তার উপর এমন রাত্তি বেলা :)

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৭

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: দূর্জয় ভাই , ভয় না পাইয়া একটানে পইরা ফেলেন :)

নো ভয় ! নো ভুত ! ;) ;)

১৫| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:১৬

ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন বলেছেন: ধীরে সুস্থ্যে এক বসায় পড়লাম !! আমার দোষ কি?? আমি কেন উৎসর্গীত হলাম না :( আপনাকে মাইনাচ

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৪৪

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: হা হা , চয়ন ভাই আপনার কথা আমার দারুন ভালো লাগল, ;) ;)

অনেকদিন মনে থাকবে আপনাকে ,:P

আপনাকে বিশেষ ভিত্তিতে উৎসর্গিত করলাম :P

১৬| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৩

মৈত্রী বলেছেন: "হুবহু" এই গল্প আগে কোথায় যেনো পড়েছি...

ভাইজান, মাইন্ড কইরেন না! জাফর ইকবালও মাঝে মধ্যে ভৈতিক গল্প লেখে। তার লেখার ফ্লেবার আছে আপনার গল্পটার মধ্যে।

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৫

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: মাইন্ড করব কেন মৈত্রী ভাই

তবে আমার দিক থেকে বলতে পারি গল্প লেখার সময় জাফর ইকবাল এর কথা আমার মনেও ছিল না
আমি তার সায়েস্ন ফিকশন ছাড়া কিছুই পরি নাই

এই গল্প ফেবুতে ও অন্য ব্লগ এ অনেক আগে দিসিলাম , হয়তো সেখানে পরেছেন

অনেক ধন্যবাদ ভাই পরার জন্য , বিখ্যাত লেখকদের ফ্লেভার থাকাও ভাগ্যের ব্যাপার

১৭| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৩২

ভিয়েনাস বলেছেন: ভৌতিক গল্প গুলো প্রায় একি রকম হয় । ভয়ের গল্প পড়তে পারিনা ,ভয় লাগে :(
এটা পড়েও এখন ভয় লাগছে ।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫১

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: ভিয়েনাস ভাই যে ,:)

গল্পটা অনেকদিন আগের লেখা ,

ভয় পাইয়েন না ভাই :O

ভয় পাইলেই ভুত আসবে :P

১৮| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৪৮

রাশেদ হাসান নোবেল বলেছেন: ফেসবুক এ আপনি আগে এইটা লিখছেন অইখানে পড়ছি । B-)

এখন তো আর পড়বার পারলাম না । আমারে উৎসর্গ করেন। আমি এখনও পর্যন্ত শবার আগে পড়ছি । B-))

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫৩

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: নোবেল ভাই তাইলে আগেই পইরা ফেলসে :O !

তাইলে উৎসর্গ আপ্নাকেই করতে হয় :#) :#)

যান আপনাকে উৎসর্গ করলাম ;) ;)

১৯| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১:৩৩

নাফিজ মুনতাসির বলেছেন: ভয় দিয়া দিলেন মিয়া.................

রাতের বেলা এমন গল্প পড়ার মজা আর জ্বালা দুটাই আছে।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫৪

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: মুনতাসির ভাই !

ভুত আপনাকে ধরবে , হি হি :#) :#)

সো সাবধানে থাকবেন :P

বলা যায় না কিছুই ;)

২০| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ২:০৫

একজন বাউন্ডুলে বলেছেন: ++++++

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫৫

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: +++++++ ( একটা বেশি দিলাম ) ;)

২১| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৪৮

রিয়েল ডেমোন বলেছেন: দিনে দিনে তুমি চমৎকার একজন লেখক হয়ে যাচ্ছো।

চমৎকার গল্প :)

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫৬

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: রিয়েল ভাই যে !

গল্প আরো দেড় বছর আগের লেখা :)

সব ই আপনাদের দোয়া

দোয়া রাখবেন ভাই :)

২২| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৮:৫২

সুদীপ্ত কর বলেছেন: কেন জানি তেমন ভয় লাগলো না /:) /:)

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:১০

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: সুদীপ্ত করদা !!

ভয় পাইবেন কেমনে ?? /:) /:)

আপনেত অন্যদিকে তাকাইয়া গল্প পরসেন :P

হা হা ,
সাবধানে থাকবেন , আপনে ভয় পান না এই কথা শুইন্যা তেনারা রাতে আপনার উপর হামলা চালাতে পারে , বলা যায় না :P

২৩| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:০৬

অচিন রুপকথা বলেছেন: ভয়ের চোটে কালকে রাতে এমুখো হই নাই.... :P

দিনের বেলায় তেমন ভয় না লাগলেও রাতের বেলায় শিওর ভয় পাইতাম....ভাগ্যিস পড়ি নাই। /:)

ভালোই লাগলো....একবসায় শেষ করে ফেললাম।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:০৯

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: হা হা আপু কি ভয় পাও নাকি :P :P :P

তাইলে তো তেনারা রাতে তোমার কাছে আসবে , সাবধানে থাইক আপু ;) ;)

বলা তো যায় না , আস্তেও পারে ;P

একবসায় শেষ করলে তো তুমি উৎসর্গিত ;) ;)

২৪| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৩১

রেজওয়ান তানিম বলেছেন: প্রথম আল ব্লগে আগে একবার পরেছিলাম

আগের কমেন্ট তাই থাকল

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:১৮

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: ভাই আপনার কবিতা পাঠ অনেক ভালো লাগছে ,
ভাই আমার জন্য একটা কাজ করতে পারবেন ।
আপনার নিজের গলায় কিছু কবিতা রেকর্ড করে আমাকে দিতে পারবেন ।

অনেক ভালো লাগেছে আপনার কবিতা পাঠ , অনেক দিন এমন ভরাট গলায় কবিতা পাঠ শুনি নাই :)

২৫| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৩৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: একটানে শেষ করলাম। বেশ জমজমাট গল্প।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:১৪

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: হাসান মাহবুব ভাই !!

ভাই গল্পটা সহজ ভাষায় লিখলাম যাতে সবায় বুঝতে পারে :)

কষ্ট করে গল্প লিখলাম আর কেউ বুঝল না এটা কেমন কথা :)

ভাই দোয়া রাখবেন আমার জন্য , :)

আর শাদী মোবারক , ভাবীকে আমার শুভেচ্ছা জানবেন । :)

ভাবী কি আপনার মত গল্প লিখতে পারে কিনা জানাবেন :)

২৬| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:১০

ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন বলেছেন: খুব খুশি হলাম, অন্তত আপনার আমাকে মনে থাকবে অনেকদিন :)


শুভকামনা!!

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:০৯

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: আপনাকেও শুভাকামনা

২৭| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:০৬

সাবরিনা সিরাজী তিতির বলেছেন: এখন পড়লাম । একটু একটু ভয় পাচ্ছি । রাতে কি ভয় বাড়বে নাকি ! হাহাহা । ভালো লাগলো ! তীব্র মানুষ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল এলাকাজুড়ে । এখানে একটু খটকা আছে , ইদ্রিস মারা গেছে আগের দিন সন্ধায় । পরদিন দুপুরের আগেই তাকে গাছ থেকে নামানো হয়েছিলো ।এবং সময়টা শীতকাল । এর মধ্যে কি খুব পচে যাবার কথা ? আমি ঠিক জানি না । তাই আস্ক করলাম । ভালো লাগলো লেখাটা তাই এটুকু যদি ভুল হয়ে থাকে সংশোধন হলে আরও গ্রহণযোগ্য হবে পাঠকের কাছে । গল্পে +++

২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৩৮

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: তিতির আপু , অনেক ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে গল্পটা পরার জন্য :)

তীব্র মানুষ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল এলাকাজুড়ে ।

মানুষের শরীরের পচন শুরু হয় মিত্তুর চার ঘন্টা পর থেকে ,


সে হিসেবে অনেক ঘন্টা পার হয়ে গেছে , আবার তার শরীরে অনেক কাটা ছেঁড়া তাই পচন দ্রুত হয়েছে ,

তাই মানুশ পচা দুরগন্দ বের হবেই :) :)

মনোযোগ দিয়ে পরার জন্য আপুকে ধন্যবাদ :)

২৮| ০৬ ই মে, ২০১২ দুপুর ২:১৬

টুকিঝা বলেছেন: পড়ব না। ভয় হয়! :(

০৬ ই মে, ২০১২ বিকাল ৫:৪৩

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: রাত তিনটায় পইরেন আপু :D

অনেক ধন্যবাদ আপু ।

২৯| ১৪ ই জুন, ২০১২ রাত ১২:১৬

চেয়ারম্যান০০৭ বলেছেন: ভূত আগে ভয় পেতাম।দেশের বাইরে আসার পর কেনো যেনো ভয় পাই না।আবার দেশে গেলে ভয় লাগে :)

ভালো লেগেছে গল্প।আমি তো ভেবেছিলাম আপনি শুধু কবিতাই লিখেন।প্লাস।

১৪ ই জুন, ২০১২ সকাল ১০:০৫

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: আমি তো শুনছি বিদেশে ভূত নিয়া নাকি অনেক রকম গল্প আছে , আমারে একটা বইলেন তো । গল্প লিখমু । ভূতের কোন প্লট ই পাইতাছি না । সব খালি পেত্নীর প্লট ।

একটা গল্প বইলেন বিদেশের প্রেক্ষাপটে ।

৩০| ২৯ শে জুন, ২০১২ রাত ৯:৩২

নিঃসঙ্গ কল্পচারী বলেছেন: একটানে পড়লাম । ভয় লাগে নাই /:)

৩০ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৩৮

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: হে হে , ভয় না লাগলেই ভালো । একটানে পড়ার জন্য ধইন্যা :D

৩১| ৩০ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৪৬

সকাল রয় বলেছেন:
কম ভয়


তবে লেখনি সুন্দর

৩০ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৫০

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সকাল রয় ভাই :)

ভালো থাকুন সবসময় ।

৩২| ২৬ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৬

টেস্টিং সল্ট বলেছেন: একবসায় :(( :(( :(( ভয় পাইছি.।

২৬ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৮

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: ভয় পাইয়েন না , ভয় পাওয়া ভালো না :)

৩৩| ০৯ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:০৪

দা লর্ড বলেছেন: আপনি কি কবি নাকি লেখক নাকি লেখক কবি? সহজ সরল গল্প। ভালোলাগলো। ১২ তম ভালোলাগা।

০৯ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:০৭

শহিদুল ইসলাম বলেছেন: কি জানি !
আমি নিজেই জানি না :(

ভালো থাকবেন সবসময় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.