| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সমস্ত নবীর উপর বিশ্বাস
একটি অত্যন্ত সাধারণ ও বদ্ধমূল ভুল ধারনা আছে যে কোরআন অসহিষ্ণুতার ধর্মপ্রচার করে, এবং মোহাম্মদ (সঃ) ইসলাম প্রচার করেছিল এক হাতে তলোয়ার এবং অন্য হাতে কোরআন নিয়ে। এটা সম্পূর্ণই মিথ্যা বর্ণনা। ইসলামের মৌলিক নীতি, দুনিয়ার সমস্ত নবী-রাসুলের উপর বিশ্বাস, এই অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। ইসলামের মহান এবং উদার মানসিকতা দুনিয়ার অন্যান্য ধর্মের প্রচারকারীর (আল্লাহ্র বার্তাবাহক) উপর শুধুমাত্র ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই দেখায় না, বরঞ্চ তার থেকেও বেশি, তাদেরকে (প্রচারকারীদের) বিশ্বাস করে, এবং ঐ সকল ধর্মের প্রতি কোনরকম অসহিষ্ণুতার মনোভাব পোষণ করে না। এটা সকলের প্রতি সমান ভালোবাসা, সমান শ্রদ্ধা, এবং সমান বিশ্বাসের প্রচার করে।
ধর্মে কোন বলপ্রয়োগ নেই
আবার, অসহিষ্ণুতাকে কখনই একটি গ্রন্থের (কোরআন) উপর আরোপিত করা যাবে না যেটা ধর্মের পরিমণ্ডল থেকে বলপ্রয়োগকে সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করে।
“ধর্মে কোন বলপ্রয়োগ নেই” [আল-কোরআন ২:২৫৬],
এটা স্পষ্ট শব্দ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। পবিত্র কোরআনে একাধিকবার বর্ণনা করা হয়েছে যে, ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার, সে তার পছন্দের ক্ষেত্রে স্বাধীন। যদি সে সত্য স্বীকার করে, এটা তার নিজের জন্য ভালো, এবং যদি সে মিথ্যার উপর থাকে, এটা তার নিজের জন্য ক্ষতি। নিম্নে কোরআনের কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলঃ
“আমি তাকে পথ দেখিয়েছি; এরপর হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, নয়তো হবে অকৃতজ্ঞ” [আল-কোরআন ৭৬:৩]
“বল, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত; যার ইচ্ছা, বিশ্বাস করবে, এবং যার ইচ্ছা, প্রত্যাখ্যান করবে” [আল-কোরআন ১৮:২৯]
“এখন তোমাদের কাছে এসেছে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে, সুস্পষ্ট প্রমাণ; যদি কেউ গভীর দৃষ্টিতে অবলোকন করে, এতে তার নিজেরই কল্যাণ হবে; যদি কেউ দৃষ্টি বন্ধ করে রাখে, এতে তার নিজেরই ক্ষতি হবে” [আল-কোরআন ৬:১০৪]
“যদি তোমরা সৎকর্ম করো, সৎকর্ম নিজের জন্যই করবে; যদি তোমরা মন্দ কাজ করো, তাও নিজের বিরুদ্ধে” [আল-কোরআন ১৭:৭]
কেন যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো
মুসলমানদের যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো, কিন্তু উদ্দেশ্য কি ছিল? অবিশ্বাসীদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করতে নয়, যা ছিল সমস্ত বিস্তৃত নীতির বিরুদ্ধে যা এযাবৎ তারা প্রতিপালন করে আসছিল। না, এটা ছিল ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, সমস্ত ধর্মীয় নিপীড়ন বন্ধ করার জন্য, সমস্ত ধর্মের প্রার্থনার ঘরকে রক্ষা করার জন্য, মসজিদ তার মধ্যে একটি। নিম্নে কোরআনের কিছু আয়াত উল্লেখ করা হোলঃ
“আল্লাহ্ যদি মানব জাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, ধ্বংস হয়ে যেতো আশ্রম, গির্জা, ইহুদীদের ধর্মস্থান, এবং মসজিদসমূহ, যেখানে আল্লাহ্র নাম প্রচুর পরিমানে স্মরণ করা হয়” [আল-কোরআন ২২:৪০]
“এবং তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর,যে পর্যন্ত না ফেতনার (বিক্ষোভ অথবা নিপীড়ন) অবসান হয়, এবং ন্যায়বিচার চালু হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই,কিন্তু যারা জালেম (তাদের ব্যাপার আলাদা)।” [আল-কোরআন ২:১৯৩] (পবিত্র কোরআনের ৮ নম্বর সুরার ৩৯ নম্বর আয়াতেও একই কথা বলা আছে।)
কি পরিস্থিতিতে মুসলমানদের যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো? ইসলামিক ইতিহাসের প্রত্যেক ছাত্র জানে যে মোহাম্মদ (সঃ) ও তার সহচারীরা কঠিন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, যখন ইসলাম মক্কাতে প্রসার লাভ করতে শুরু করেছিল; তাদের মধ্যে একশরও বেশি আবিসিনিয়া পালিয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু নিপীড়ন আরও নিষ্ঠুর ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। শেষপর্যন্ত, মুসলমানদের মদিনাতে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো, কিন্তু সেখানেও তারা নিরাপদ ছিল না, ইসলাম এবং মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য শত্রুরা সবসময় তলোয়ার হাতে তৎপর ছিলো। পবিত্র কোরআন এর স্পষ্ট সাক্ষ্য বহন করেঃ
“(যুদ্ধের) অনুমতি দেওয়া হলো তাদেরকে যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারন, তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে; আল্লাহ্ নিশ্চয় তাদেরকে সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম। তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ী হতে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্।” [আল-কোরআন ২২:৩৯,৪০]
পরে, একটা শর্ত দেওয়া হয়েছিলঃ
“এবং যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তোমরাও তাদের সাথে আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ কর এবং সীমা অতিক্রম করো না; নিশ্চয় আল্লাহ্ সীমা লঙ্ঘনকারীদের ভালবাসেন না” [আল-কোরআন ২:১৯০]
কোরআন, যার ফলে, যুদ্ধের অনুমতি দেয় শুধুমাত্র নিপীড়িত সম্প্রদায়কে শক্তিশালী অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, এবং অতঃপর একটা শর্ত দিয়ে দেওয়া হয় যে, নিপীড়ন বন্ধ হবার সাথে সাথে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
“অতঃপর যদি তারা নিবৃত্ত হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, করুণাময়। এবং তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর,যে পর্যন্ত না ফেতনার (বিক্ষোভ অথবা নিপীড়ন) অবসান হয়” [আল-কোরআন ২:১৯২,১৯৩]
যদি শত্রুরা শান্তি প্রস্তাব করে, শান্তি গ্রহণ করতে হবে, যদিও শত্রুদের মুসলমানদের প্রতারণা করার উদ্দেশ্য থাকে।
“যদি তারা (শত্রুরা) সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তুমিও সন্ধি করতে আগ্রহী হও, এবং আল্লাহ্র উপর ভরসা করো, নিঃসন্দেহে তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী। তারা যদি তোমাকে প্রতারিত করার ইচ্ছা করে, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট” [আল-কোরআন ৮:৬১,৬২]
মহানবী (সঃ) তার শত্রুদের সাথে বেশকিছু শান্তিচুক্তি করেছিলেন; এর মধ্যে বিখ্যাত হুদায়বিয়ার সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছিল অন্যতম, যার শর্তাবলী শুধুমাত্র ক্ষতিকারকই ছিল না, মুসলমানদের জন্য অপমানকরও ছিল। এই চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী, “অবিশ্বাসীদের মধ্য থেকে যদি কেউ ইসলামধর্ম গ্রহণ করে মদীনায় যায় তাহলে তাকে ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু কোনো মুসলমান মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দেয়া হবে না”। চুক্তির এই দফা মহানবীর উপর বলপূর্বক যে সমস্ত অভিযোগ করা হয়েছিলো তা মুছে দিলো। এতদিন মুসলমান ও কাফিরদের মধ্যে পুরোপুরি একটা যুদ্ধংদেহী অবস্থা বিরাজ করছিলো। উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক মেলামেশার কোনোই সুযোগ ছিলো না। এই সন্ধি-চু্ক্তি সেই চরম অবস্থার অবসান ঘটিয়ে রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিলো। এরপর মুসলমান ও অমুসলমানরা নির্বাধে মদীনায় আসতে লাগলো। এভাবে তারা এই নতুন ইসলামী সংগঠনের লোকদেরকে অতি নিকট থেকে দেখার ও জানার সুযোগ পেলো। এর পরিণতিতে তারা বিস্ময়কর রকমে প্রভাবিত হতে লাগলো। যে সব লোকের বিরুদ্ধে তাদের মনে ক্রোধ ও বিদ্বেষ পুঞ্জীভূত হয়েছিলো,তাদেরকে তারা নৈতিক চরিত্র, আচার-ব্যবহার ও স্বভাব-প্রকৃতির দিক দিয়ে আপন লোকদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত মানের দেখতে পেলো। তারা আরো প্রত্যক্ষ করলো, আল্লাহর যে সব বান্দাহর বিরুদ্ধে তারা এদ্দিন যুদ্ধংদেহী মনোভাব পোষণ করে আসছে,তাদের মনে কোনে ঘৃণা বা শত্রুতা নেই;বরং তাদের যা কিছুই ঘৃণা, তা শুধু বিশ্বাস ও গলদ আচার-পদ্ধতির বিরুদ্ধে। তারা (মুসলমানরা) যা কিছুই বলে, তার প্রতিটি কথা সহানুভূতি ও মানবিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ। এতো যুদ্ধ-বিগ্রহ সত্ত্বেও তারা বিরুদ্ধবাদীদের সঙ্গে সহানুভূতি সদাচরণের বেলায় কোনো ত্রুটি করে না।
পরন্ত এরূপ মেলামেশার ফলে ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের সন্দেহ ও আপত্তিগুলো সম্পর্কে সরাসরি আলোচনা করাও প্রচুর সুযোগ হলো। এতে করে ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমরা কতোখানি ভ্রান্ত ধারণায় নিমজ্জিত ছিলো,তা তারা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারলো। মোটকথা,এই পরিস্থিতি এমনি এক আবহাওয়ার সৃষ্টি করলো যে,অমুসলিমদের হৃদয় স্বভাবতঃই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে লাগলো। এর ফলে সন্ধির-চুক্তির মাত্র দেড়-দুই বছরের মধ্যে এতো লোক ইসলাম গ্রহণ করলো যে, ইতঃপূর্বে কখনো তা ঘটেনি। এরই মধ্যে কুরাইশদের কতিপয় নামজাদা সর্দার ও যোদ্ধা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হলো এবং অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে মুসলমানদের সঙ্গে হাত মিলালো।
এটা মনে করা ভুল হবে যে উপরোক্ত শর্তগুলো যেকোনো সময় বাতিল করা সম্ভব ছিল। যুদ্ধ শর্ত, “যারা তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে” শেষপর্যন্ত বহাল ছিল। সুতরাং, শুরু হতে শেষ পর্যন্ত, পবিত্র কোরআন যুদ্ধের অনুমোদন দিয়েছে শুধু তাদের বিরুদ্ধে যারা প্রথম মুসলমানদের উপর আক্রমণ করবে; এটা স্পষ্টভাবে শুধু প্রতিরক্ষার জন্য যুদ্ধের অনুমোদন দিয়েছে, যা ছাড়া মুসলমানেরা অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারতো না, এবং পরিস্কার ভাবে আক্রমণাত্মক যুদ্ধকে নিষেধ করেছে।
“তোমরা কি এমন লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না, যারা নিজেদের শপথগুলো ভঙ্গ করেছে, রাসূলকে দেশান্তর করার চক্রান্ত করেছে, এবং তারা তোমাদের বিরুদ্ধে নিজেরাই প্রথমে বিবাদ সৃষ্টি করেছে” [আল-কোরআন ৯:১৩]
অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্পর্ক
এটা কখনো কখনো জাহির করা হয় যে কোরআন অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করতে নিষেধ করেছে। যেখানে পবিত্র কোরআন একজন পুরুষকে অনুমতি দিয়েছে অন্য ধর্মের নারীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে গ্রহণ করতে (আল-কোরআন ৫:৫), সেখানে কিভাবে বলি যে অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হতে পারে না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক সমস্ত সম্পর্কের থেকে সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, এবং যখন এটা স্পষ্টভাবে অনুমোদিত, সেখানে ধারনা করার ন্যুনতম কারন নাই যে অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিষিদ্ধ। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে যে, যারা মুসলমানদের সাথে অন্যায়ভাবে যুদ্ধে নিয়োজিত আছে শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করতে মানা করা হয়েছে, এবং পবিত্র কোরআনে এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা আছেঃ
“দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ্ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ্ তো ন্যায়-পরায়ণদেরকে ভালবাসেন। আল্লাহ্ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিস্কার করেছে, এবং তোমাদেরকে বহিস্কারে সহযোগিতা করেছে। সুতরাং তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে তারা তো অত্যাচারী।” [আল-কোরআন ৬০:৮,৯]
ধর্মত্যাগের জন্য কোন শাস্তি নাই
আরেকটি বহুল প্রচারিত ভুল ধারনা এখানে উল্লেখ করা যায়। এটা সাধারণত চিন্তা করা হয় যে কোরআন ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগকারীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। যে কেউ যে কোরআন পড়ার কষ্ট করবে দেখবে যে এই ধরনের একটি অনুমানের কোন ভিত্তি নাই। কোরআন ঐ সমস্ত লোকদের কথা বার বার বলেছে যারা বিশ্বাস করার পর আবার অবিশ্বাস করেছে, কিন্তু কোথাও তাদেরকে শাস্তি অথবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলেনি। এখানে কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলঃ
“এবং তোমাদের মধ্যকার কেউ যদি স্বধর্ম হতে ফিরে যায় এবং ঐ কাফের অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়, তাহলে তার ইহকাল ও পরকালের সমস্ত কর্মই নিস্ফল হয়ে যায়।” [আল-কোরআন ২:২১৭]
“হে মু’মিনগণ, যদি তোমাদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তি স্বীয় দ্বীন হতে ফিরে যায়, শীঘ্রই আল্লাহ্ এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদেরকে আল্লাহ্ ভালবাসবেন এবং তারাও আল্লাহ্কে ভালবাসবে।” [আল-কোরআন ৫:৫৪]
“কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপনের পর অবিশ্বাসী হয়েছে, এবং তৎপরে অবিশ্বাসে তারা আরও বেড়ে গেছে, তাদের ক্ষমা-প্রার্থনা কখনই পরিগৃহীত হবে না, এবং তারাই পথভ্রষ্ট।” [আল-কোরআন ৩:৯০]
অন্যদিকে, কোরআন ইহুদীদের প্রথমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের এবং পরে পরিত্যাগ করার একটি পরিকল্পনার কথা বলে, এইভাবে একটা ভাবমূর্তি তৈরি করা যে ইসলাম একটি সত্য ধর্ম ছিল না (আল-কোরআন ৩:৭২)। এমন পরিকল্পনা করার সাহস কখনই তাদের মাথায় মদিনাতে বসে কাজ করতো না, যেখানে ক্ষমতায় ছিল মুসলমানেরা, আর যদি কোরআনের নীতি অনুযায়ী, ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতো। ভুল ধারনা তখনি জন্ম নেয় যখন এ সকল লোক ধর্মত্যাগ করার পর শত্রুদের সাথে যোগ দেয়, শত্রুদের মত আচরণ করে, অথবা যখন একজন ধর্মত্যাগী কোন মুসলমানকে হত্যা করে। তখন তাকেও হত্যা করা হয়, তার ধর্ম পরিবর্তন করার জন্য নয়,কিন্তু হত্যা সংগঠনের জন্য।
পরিশেষে, কোরআনের একটি আয়াত দিয়ে শেষ করবো। আমার ধারনা, এটা পড়ার পর আপনাদের ইসলাম ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যাবে। ইসলাম যে একটি শান্তির ধর্ম, এবং মানবতার ধর্ম, এই আয়াতটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণঃ
“যারা বিশ্বাস করে (আল-কোরআনে), এবং যারা ইহুদী (ধর্মগ্রন্থের) অনুসারী, এবং খ্রিস্টান ও সাবেঈন সম্প্রদায়, যারা আল্লাহ্র প্রতি ও কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, এবং ভালো কাজ করে, তাদের জন্যে তাদের প্রভুর নিকট পুরস্কার রয়েছে, তাদের কোনপ্রকার ভয় নেই, এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” [আল-কোরআন ২:৬২]
২|
২৪ শে মে, ২০১৩ রাত ১২:১৩
ইফতেখারুল ইবনে আলম বলেছেন: ধন্যবাদ তোমাকে...
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে মে, ২০১৩ রাত ১২:০৯
মামুনুর রহমান খাঁন বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম।
বেশ ভাল লিখেছ। চালিয়ে যাও