| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নামায আল্লাহ্র সাথে যোগাযোগের সবচেয়ে দ্রুত এবং সহজ উপায়। এর মাধ্যমে আমরা সরাসরি আল্লাহ্র সাথে কথা বলার, এবং তাঁর কাছে কিছু চাওয়ার থাকলে তা চাওয়ার সুযোগ পাই। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর উপর নামায ফরয। নামাযের মধ্যে আমরা যা কিছু বলি তার সবই আরবিতে বলি। আমাদের ভাষা বাংলা হবার কারনে বেশির ভাগ মানুষ কিছু না বুঝেই নামায পড়ে। যার ফলে আমরা নামায তো ঠিকই পড়ি কিন্তু আধ্যাত্মিক ভাবে লাভবান কমই হই। এটা অনেকটা পরীক্ষায় কোন কিছু না বুঝেই ইংরেজিতে লিখে দিয়ে আসার মত। আপনি হয়তো ভালো রেজাল্ট ঠিকই করছেন, কিন্তু সেটা আপনার প্রাত্যহিক জীবনে তেমন কোন সুফল বয়ে আনবে না।
ইসলামে অন্ধ বিশ্বাসের কোন স্থান নাই। আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে তাঁর বান্দাদের বার বার আহ্বান করেছেন তাঁর বাণী নিয়ে চিন্তা করতে, বোঝার চেষ্টা করতে, এবং গবেষণা করতে।
“আল্লাহ্র ইচ্ছা ছাড়া, কারো পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়, এবং তিনি তাদের মধ্যে অবিশ্বাস (অথবা দুর্বোধ্যতা) স্থাপন করে দেন যারা উপলব্ধি করতে পারে না” [আল-কুরআন ১০:১০০]
“তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?” [আল-কুরআন ৪৭:২৪]
“তারা আরও বলবে, যদি আমরা শুনতাম অথবা আমাদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করতাম, তবে আমরা জ্বলদগ্নির সহচরী হতাম না” [আল-কুরআন ৬৭:১০]
আল্লাহ চান আমরা যেন নিজেদেরকে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ বার মনে করিয়ে দেই – আল্লাহ সবচেয়ে বড়, তিনি ছাড়া আর কারো কাছে কিছু চাওয়া যাবেনা, সঠিক পথে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত সাহায্য চাইতে হবে, যারা ভুল পথে যায় তাদেরকে অনুসরণ করা যাবেনা, নিজের এবং মানুষের ক্রোধের শিকার হওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিদিন শত সমস্যা, প্রলোভন, কামনা, বাসনা, অন্যায়, মিথ্যার মধ্যে থেকেও আমরা যেন পথ হারিয়ে না ফেলি, সে কারণেই আল্লাহ মানুষকে দিনে কমপক্ষে পাঁচ বার, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে নামায পড়তে বলেছেন, যেন আমরা বার বার নামাযে নিজেদেরকে আল্লাহর নির্দেশগুলো স্মরণ করিয়ে দেই।
নামাযে আমরা যে কথাগুলো বলি তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা। নামাযের কথাগুলো শক্তিশালী অটোসাজেশন। আপনি যতবার বুঝে কথাগুলো বলবেন, আপনি তত বেশি করে অনুধাবন করবেন সেই কথাগুলোর গুরুত্ব কি। যারা মেডিটেশন কোর্স করেছেন, তারা উপলব্ধি করবেন নিজেকে প্রতিদিন কিছু পজেটিভ কথা বার বার বলার মধ্যে কত বড় উপকার আছে। এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেছেনঃ
“পড় অনুপ্রেরণা দ্বারা যা এই কিতাবে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং নিয়মিত নামায প্রতিষ্ঠিত কর। নামায অশ্লীল এবং মন্দ কাজকে দমন করে, এবং নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা জানেন” [আল-কুরআন ২৯:৪৫]
ভাষার সংজ্ঞা হল – “মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।” আমরা যদি মনের ভাবকে প্রকাশ, প্রচার করতে না পারলাম, তাহলে তো সেটা ভাষা হল না। কিছু শব্দ আর ডাক ছাড়া তা আর কিছু না:
“যখন তাদেরকে বলা হল, ‘অনুসরণ কর যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন’, তারা বলে, ‘না! আমাদের বাপ-দাদারা যা অনুসরণ করেছে আমরাও তাই অনুসরণ করব’, কি! যদিও তাদের বাপ-দাদাদের জ্ঞান এবং নির্দেশিকা অকার্যকর ছিল? যারা নীতিগর্ভ রূপক বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদের উদাহরণ হল এক একটি ছাগল পালের চিৎকারের মত, যেটা চিৎকার আর ধ্বনি ছাড়া আর কিছু শুনে নাঃ বধির, মূক (বোবা) এবং অন্ধ, এদের জ্ঞান অকার্যকর” [আল-কুরআন ২:১৭০,১৭১]
সুতরাং, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ নামায পড়ার সময় এর অর্থ মাথায় রাখা, চিন্তা করা প্রতিটি অর্থ কি বোঝায়, এবং উপলব্ধি করা প্রতিটি অর্থের আভ্যন্তরীণ গুরুত্ব। দেখবেন নামায পড়ে আপনি পরিতৃপ্তি পাচ্ছেন, শান্তি পাচ্ছেন, নিজের ভেতরে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। আপনার চিন্তা-ভাবনা, কথা, কাজের মধ্যে আল্লাহর উপস্থিতি আরও বেশি করে উপলব্ধি করছেন। নামায শেষে আল্লাহর সাথে একান্তে কথা বলুন, নিজের মাতৃভাষায়, গভীর আবেগ নিয়ে। তার সাথে এমনভাবে কথা বলুন যেন তিনি আপনার সামনেই আছেন। গৎবাঁধা কোন কথা বলার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক নামাযে নতুন কিছু বলুন আল্লাহকে, নতুন ভাবে বলুন, যেভাবে আপনি আপনার কাছের কোন মানুষের সাথে কথা বলেন। একসময় আপনি নিজেই অনুধাবন করতে পারবেন কেন প্রতিদিন পাঁচবার নামায পড়া উচিৎ। নিচে সালাত/নামাযে আমরা কী পড়ি সে সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলঃ
১) তাকবীরে তাহরীমাঃ আল্লাহু আকবার
অর্থঃ আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ
২) ছানাঃ সুবহানা কাল-লাহ হুম-মা ওয়াবি হামদিকা ওয়াতা-বারা কাছমুকা ওয়াতা’আলা জাদ-দুকা ওয়ালা ইলাহা গাইরুকা।
অর্থঃ সমস্ত মর্যাদা আল্লাহ্ তোমার, এবং সকল প্রশংসা। পবিত্র তোমার নাম এবং তোমার রাজত্ব সবার উপরে। তুমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই।
৩) আ’উযু বিল-লাহঃ আ’উযু বিল-লাহি মিনাশ শাইতা-নির-রাজিম।
অর্থঃ আমি আল্লাহ্র আশ্রয় চাই অভিশপ্ত শয়তান থেকে।
৪) বিসমিল্লাহঃ বিসমিল্লাহ্ হির-রাহমান নির-রাহিম।
অর্থঃ আল্লাহ্র নামে, করুণাময়, পরম দয়ালু।
৫) সূরা ফাতিহা
আলহামদু লিল-লাহি রাব-বিল আ’লামিন
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র, সকল জগতের প্রতিপালক;
আর রাহ্মা নির-রাহিম
অর্থঃ সবচেয়ে করুণাময়, সবচেয়ে দয়ালু;
মালিকি ইয়াওমিদ-দীন
অর্থঃ শেষবিচারের অধিপতি;
ইয়াকা না’বুদু ওয়া ইয়াকা নাসতা’ঈন
অর্থঃ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি, এবং একমাত্র তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি;
ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম
অর্থঃ আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন কর;
সিরাতাল লাযিনা আন’আমতা আ’লাইহিম
অর্থঃ তাদের পথ যাদের তুমি তোমার অনুগ্রহ প্রদান করেছো;
গাই-রিল মাগঘদুবি আ’লাইহিম ওয়ালাদ দয়াল-লিন। (আমীন)
অর্থঃ তাদের যারা ক্রোধের শিকার হয় না এবং যারা বিপথে যায় না। (আমীন)
৬) রুকু এবং সিজদা
সুব-হানা রাব্বি-আল’আযিম
অর্থঃ মহিমান্বিত আমার পালনকর্তা, পরাক্রমশালী।
সামি’আল্লাহ হু লিমান হামিদা
অর্থঃ আল্লাহ্ তার কথা শুনেন যে তাঁর প্রশংসা করে।
রাব-বানা লাকাল হামদ
অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, সকল প্রশংসা একমাত্র তোমার।
সুব-হানা রাব্বি আল আ’লা
অর্থঃ মহিমান্বিত আমার পালনকর্তা, সবার উপরে।
আল্লাহুম্মাগ ফিরলী ওয়ার-হামনি ওয়াহদিনি (দুই সিজদার মধ্যবর্তী দুয়া)
অর্থঃ হে আল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে সঠিক পথ দেখাও।
৭) আত-তাহিই-য়াতু
আত-তাহিই-য়াতু লিল-লাহি ওয়াস সালা-ওয়াতু ওয়াত-তাইয়িবাতু
অর্থঃ আমাদের সমস্ত বন্দনা, প্রার্থনা এবং ভালো কাজ আল্লাহ্র জন্য;
আস-সালামু আ’লাইকা আই-য়ুহান-নাবিই-য়ু ওয়া রাহমা তুল্লাহি ওয়া বারা-কাতুহু
অর্থঃ হে নবী, তোমার উপরে আল্লাহ্র শান্তি, রহমত, এবং মঙ্গল বর্ষিত হোক;
আস-সালামু আ’লাইনা ওয়া’আলা ই’বাদিল-লা হিস-সালি-হিন
অর্থঃ শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের উপর এবং আল্লাহ্র ভক্তিমান বান্দাদের উপর;
আশ হাদু আল-লা ইলাহা ইল-লাল লাহু ওয়া আশ হাদু আন-না মুহাম্মাদান আব-দুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রসূল।
৮) দরুদ
আল্লাহ হুম্মা সাল-লি আ’লা মুহাম্মাদিন ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন
অর্থঃ হে আল্লাহ্ তোমার রহমত প্রেরণ কর মুহাম্মাদ এবং তার বংশধরগণের উপর
কামা সাল-লাইতা আ’লা ঈব্রাহিমা ওয়া আ’লা আলি ঈব্রাহিমা
অর্থঃ যেমন তুমি রহমত প্রেরণ করেছো ঈব্রাহিম এবং তার বংশধরগণের উপর
ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ
অর্থঃ তুমি সবচেয়ে প্রশংসিত, সবচেয়ে মহিমান্বিত।
আল্লাহ হুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিন ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন
অর্থঃ হে আল্লাহ্ তোমার বরকত প্রেরণ কর মুহাম্মাদ এবং তার বংশধরগণের উপর
কামা বারাকতা আ’লা ঈব্রাহিমা ওয়া আ’লা আলি ঈব্রাহিমা
অর্থঃ যেমন তুমি বরকত প্রেরণ করেছো ঈব্রাহিম এবং তার বংশধরগণের উপর
ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ
অর্থঃ তুমি সবচেয়ে প্রশংসিত, সবচেয়ে মহিমান্বিত।
৯) দোয়া মাসুরা
আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরাওঁ
অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি
ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা
অর্থঃ গুনাহ মাফকারী একমাত্র তুমিই
ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা
অর্থঃ অতএব তুমি আপনা হইতে আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা কর
ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্তাল
অর্থঃ এবং আমার প্রতি দয়া কর
গফুরুর রাহীম।
অর্থঃ তুমি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়ালু।
দোয়া মাসুরা না জানা থাকলে
রাব্বানা আ’তায়না ফি দুনিয়া হাসানাতুহ, ওয়া ফিল আখেরাতায় হাসানাতুহ, ওয়া কিনা আ’যাবান নার।
অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে ইহকাল এবং পরকালের মঙ্গল প্রদান কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের নির্যাতন হতে রক্ষা কর।
১০) সালামঃ আস-সালামু আ’লায়কুম ওয়া রাহ-মাতুল লাহ।
অর্থঃ আপনাদের উপর আল্লাহ্র শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।
©somewhere in net ltd.