নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তোজি

www.facebook.com/toji.eira

তোজি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আম-কাঁঠালের শৈশব

০৬ ই জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:১৮

কিছুদিন আগে মা ফোনে বলছিল

বাবা, লিচু তো শেষ হয়ে গেল ।

আমি বললাম, শেষ হতে দা ও, সব শেষ হবার আগেই চলে আসব । সেই আসব আসব করতে করতে মায়ের আশাই পুর্ণ হল না ।

লিচু খা ওয়া হয় নি বলে, ২০০ লিচু কিনে এনে এক বসাতে খেয়েছি কিন্তু লিচু খেয়েছিলাম না লুচি খেয়েছিলাম জানি না ।



আজ আবার ছোট বোন, ফোনে বলছে, ভাইয়া আম তো শেষ হয়ে গেল । আজ ও বোনকে আশ্বাস দিলাম, শেষ হবার আগেই আসব । কিন্তু এ মাসে ও বাড়িতে যা ওয়া হবে না ।

আম খাবার স্বাদ জাগল আজ, পাচ কেজি কার্বাইড মারা আম আজ কিনে এনে খেলাম কিন্তু আম খেলাম না জাম খেলাম, বুঝলাম না ।



এই সমযটিতে যারা গ্রামে থাকে তারাই বুঝতে পারে গ্রাম কি জিনিস । ফল-ফলাদির সমাহার চারদিকে ।



বাড়িতে থাকে হাতে একটা ইন্ডিয়ান চাক্কু নিয়ে সারা পাড়ার আম গাছ, লিচু গাছ, ডাব গাছ, কাঠাল গাছ চুষে বেড়াতাম । মতলব মিয়ার আম গাছে আড়াই কেজি ওজনের ঢেল দিয়ে ঢেল দিতাম ।

যদি বলত কে রে?

আমরা বলতাম, চাচা আমরা আপনার আম জামাই !

উল্টা-পালটা কিছু বললে আম ও শেষ গাছ ও শেষ ।

গাছ ভর্তি আম, কাঠাল, লিচু আছে তার পর ও চুরি করে খাবার মজাটাই ছিল আলাদা ।



মকবুল বুড়ার বাপের কাঠাল বাগানের কাঠাল গাছে উঠে কাঠালের বোটা কেটে দিয়ে বোটার গোরায় লবন ঢুকিযে দিয়ে আসতাম । দু-দিন পরে গিয়ে গাছে বসেই কাঠালটি খেয়ে আসতাম ।



কোবাত বূরার ডাব গাছের ডাব সাবার করে, সব ডাব খেয়ে ডাবের খোসাটা এলাকার সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র সন্দিপদের ঘরের দুয়ারে দড়ি দিয়ে লটকিয়ে দিয়ে আসতাম ।



এইতো বছর সাতেক আগে, মকবুল বুড়ার বাপরের কাঠাল বাগান থেকে সাত-আট বস্তা ভর্তি করে কাঠাল এনে মজিদ মামার পাট খেতে রেখেছিলাম । উদ্ধেশ্য ছিল পাড়ার গরিব মানুষ যারা ফল ফলাদি কিনতে পারে না কাঠাল গুলো পাকলে তাদের বাড় বাড়র সরবরাহ করব । টার্গেট ছিল কাঠাল গুলো পাকতে কমপক্সে দু দিন তো লাগবেই, কিন্তু কাঠাল গুলো প্রচন্ড গরমে একদিনেই পেকে গিয়েছিল আর এই সুযোগে শিয়াল আর কুকুরের কাঠাল বন্টন নিয়ে দাঙ্গা বেধে গিয়ে মজিদ মামার পাট ক্ষেত কিছুদিন পরে কাঠাল ক্ষেতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল ।



খুব মিস করি সেই সোনালী শৈশব কে । আর এখন শহরের যান্ত্রিকতার মাঝে হাপিয়ে হাপিয়ে যখন কার্বাইড দেয়া আম খাই তখন মনে হয় যেন বিষ খাচ্ছি । সারাদিন বানরের মত এক গাছ থেকে আরেক গাছে চষে বেড়ানো ছেলেটির কি আর কেনা ফল পেটে হজম হয় !



ছোটবেলা থেকে যে ছেলেটির হাত ভাত

এখন খেতে হয় চামচ ভাত !

পেতের ভিতর এখন গেরো লাগে । শুধু হজম করি, তৃপ্তি পাই না ।



মিসিং মাই ভিলেজ, মিসিং মাই চাইল্ডহুড

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.