নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি তমাল। তমাল মানে তমাল বৃক্ষ! আমি বৃক্ষের মতোই সরল, সহজ এবং মোহনিয়। পেশায় একজন পুরঃ কৌশল প্রকৌশলী। কাজ করেছি দেশের স্বনামধন্য কোন এক দপ্তরে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানীতে অবস্থান করছি। আমি ভালবাসি মানুষ,দেশ এবং পরিবেশ। ধন্যবাদ।

মুহাম্মদ তমাল

একুশ শতকের অদৃষ্ট,সুপথের সন্ধানী তবু পথভ্রষ্ট,পূর্নতায় হৃদয় সিক্ত,রজক জয়ন্তী পূর্ন বন্দি অবশেষে মুক্ত।

মুহাম্মদ তমাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক নির্বাসন

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৩৮


এ বছর শীত যেন কেবল ঋতুর নাম নয়, এক দীর্ঘ অস্তিত্বের উপসংহার। ঠান্ডা শুধু চামড়ার উপরে লাগে না, ভিতরের বিশ্বাসেও জমে বসে। বাইরে বের হলেই হাত জমে আসে, অথচ ভেতরের অস্থিরতা জমে না, বরং আরও তীক্ষ্ণ হয়।

চারদিকে রুক্ষতা-পাতাহীন ডালপালা, ফ্যাকাশে আকাশ, অন্ধকার, মানুষের ক্লান্ত মুখ। প্রকৃতি যেন নিজের প্রাণ গুটিয়ে নিয়ে আমাদের সামনে এক অনাড়ম্বর সত্য মেলে ধরে: উষ্ণতা চিরস্থায়ী নয়।

তবুও আমি আমরা ছুটি, জীবন-জীবিকার অনিবার্য প্রয়োজনে। কারণ মানুষ থামতে পারে না। থামা মানে ভেতরের শূন্যতার সাথে সরাসরি মুখোমুখি হওয়া।

সময় এক নীরব স্বৈরাচারী। সে স্বপ্নকে খুব দ্রুত ইতিহাস বানিয়ে ফেলে। কদিন আগের আকাঙ্ক্ষা আজ ঘটে যাওয়া প্রতিষ্ঠিত গল্প, আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকি তার মাঝখানে-দর্শকও নই, সম্পূর্ণ নায়কও নই; কেবল অংশগ্রহণকারী।

এই চলার ভেতর হঠাৎ দেশের মাটি, মানুষের গন্ধ, শৈশবের উঠোন, পরিচিত কণ্ঠস্বর-সব একসাথে ফিরে আসে।
স্মৃতি একমাত্র জায়গা, যেখানে নির্বাসন নেই।

কত মানুষের সাথে পথচলা, কত প্রিয় মুখের উষ্ণতা, তারপর ধীরে ধীরে একা হয়ে যাওয়ার অভ্যাস। একা থাকা যে কেবল শারীরিক নয়, তা এক ধরনের দার্শনিক পরিণতি। একটু একটু করে এতদূর চলে এসেছি। অথচ ভিতরে এক অদ্ভুত টান রয়ে গেছে-মাটি, পানি, আকাশের। মনে হয় সব ছেড়ে ওয়ান ওয়ে টিকিট কেটে ফিরে যাই সেই ঠিকানায়,
যেখানে পরিচয়ের জন্য প্রমাণপত্র লাগে না।

কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেই তিরস্কার করি। আবেগ কি বাস্তবতার ভাষা বোঝে? চোখের কোণে জমা জল মুছে ফেলি। বড় হতে গিয়ে মানুষ প্রথমেই নিজের কোমলতাকে নির্বাসনে পাঠায়।

ভাবি, মানুষের জীবন এমন কেন!
কেন এত শেকল, এত পরিচয়, এত দায়!
রাষ্ট্র, সমাজ, প্রেম, লোভ, দ্রোহ, ঘৃণা-এসব কি বাইরের আরোপ, নাকি আমাদেরই ভিতরের নির্মাণ?

আমরা তো জন্মেছিলাম স্বাধীন স্বত্বা হয়ে। অথচ নিষেধের ভেতরেই নিরাপত্তা খুঁজি। আমরা উড়তে চাই,
কিন্তু উড়ানের আগে হিসেব করি বাতাসের গতি।
সাইবেরিয়ার পাখি হতে পারি না, কারণ আমাদের ডানায় স্মৃতি বাঁধা। কচুরিপানার মতো ভাসতে পারি না, কারণ অনিশ্চয়তাকে আমরা স্বাধীনতা নয়, বিপদ ভাবি।

কিসব চিন্তা করি। অস্তিত্ব, মুক্তি, প্রত্যাবর্তন।

ঠিক তখনই দেখি, ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে।

জীবনও বোধহয় এমনই। আমরা অর্থের গভীরে ডুবে থাকি, আর সময় আমাদের অগোচরে প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা করে দেয়।
তবু হয়তো এই মিস করাই আমাদের নিয়তি।
কারণ মানুষ কখনো সম্পূর্ণ পৌঁছাতে চায় না,
সে চায় পৌঁছানোর ধারণাটুকু ধরে রাখতে।
আর হায় হুতাশ করতে করতে অন্তিম গন্তব্যে চলে যায়।
টা টা, বাই বই, চুস...

-মোহাম্মাদ তমাল
ফ্রাঙ্কফুর্ট, জার্মানী, ১৯শে ফেব্রুয়ারি'২৬

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.