নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি তমাল। তমাল মানে তমাল বৃক্ষ! আমি বৃক্ষের মতোই সরল, সহজ এবং মোহনিয়। পেশায় একজন পুরঃ কৌশল প্রকৌশলী। কাজ করেছি দেশের স্বনামধন্য কোন এক দপ্তরে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানীতে অবস্থান করছি। আমি ভালবাসি মানুষ,দেশ এবং পরিবেশ। ধন্যবাদ।

মুহাম্মদ তমাল

একুশ শতকের অদৃষ্ট,সুপথের সন্ধানী তবু পথভ্রষ্ট,পূর্নতায় হৃদয় সিক্ত,রজক জয়ন্তী পূর্ন বন্দি অবশেষে মুক্ত।

মুহাম্মদ তমাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশী বিদেশযাত্রা: জালিয়াতি, ধান্দাবাজি আর অপসেশনের করুণ কাহিনী

১৩ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:২৩



আমরা বাংলাদেশীরা আসলে এক আজব চিজ! নিজেদের পায়ে কুড়াল কেমনে মারতে হয়, আর একটা জ্যান্ত অপারচুনিটিরে কেমনে লাথি মেরে ড্রেনে ফেলতে হয়—সেটা আমাদের চেয়ে ভালো এই দুনিয়ায় কেউ জানে না। আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজেদের লজ্জা হওয়া উচিত। আমাদের এই জালিয়াতি আর ধান্দাবাজির লিস্ট এখন এত লম্বা যে পড়তে গেলে নিজেরই ঘেন্না লাগবে।

১. আমাদের দেশিয় কুকর্ম: ঘর থেকেই পচন শুরু

বিদেশের মাটিতে তো পরে, আমরা আকাম শুরু করি নিজ দেশ থেকেই।

· সার্টিফিকেট জালিয়াতি: পড়াশোনার নাম নেই, কিন্তু নীলক্ষেত বা এজেন্টের মাধ্যমে ঘষেমেজে গোল্ডেন জিপিএ বা অনার্সের জাল সার্টিফিকেট বানাতে আমাদের হাত কাঁপে না। তা দিয়েই আমরা উচ্চশিক্ষা নিতে চাই! হাউ কিউট!
· IELTS জালিয়াতি: একটা ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টেও আমরা দুর্নীতি ঢুকিয়ে দিছি। প্রক্সি দেওয়া থেকে শুরু করে কোশ্চেন লিক—কী করি নাই আমরা? ফলাফল? ব্রিটিশ কাউন্সিল পেপার-বেইজড পরীক্ষাটাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হইলো। লজ্জা লাগে না?
· ফেক ব্যাংক স্টেটমেন্ট: ব্যাংকে এক টাকা নাই, কিন্তু এজেন্টের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার জাল স্টেটমেন্ট বানিয়ে এম্বাসিকে বোকা বানানোর চেষ্টা করি আমরা।
· ফেক স্পাউস ও জাল বিয়ে: ইউরোপে ঢোকার জন্য বা ইউকে-ডেনমার্ক আর ফিনল্যান্ডের সেটেল হওয়ার জন্য টাকার বিনিময়ে ভুয়া বউ সেজে বা সাজিয়ে যে নাটক আমরা করি, সেটা কোনো সভ্য জাতি করতে পারে? স্পেশালি সিলেট অঞ্চলে কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে IELTS স্কোর করলে রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে স্পাউস খোঁজা আরম্ভ করে। ফেসবুকে কিছুদিন আগে একটা গ্রুপও চোখে পড়লো, যারা এই কুকর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন! এগো আল্লা, খোদা নীতি নৈতিকতা ধর্ম কর্ম কিছুই নাই।

২. কনসালটেন্সিদের গাল ফুলানো গল্প আর দালালদের ধান্দাবাজি:
এসব জালিয়াতির পেছনে কিন্তু আমরা একা নই। আমাদের এই পথচলায় সবচেয়ে বড় সহযোগী হলো এই দালাল আর কনসালটেন্সিরা। এদের গাল ফুলানো গল্পের সামনে আমরা যেন একদম সোলজার! "ভাই, আপনার জন্য কানাডা ওপেন, শুধু এক লাখ টাকা দেন, বাকি আমি দেখি", "আমেরিকা থেকে আইটি কোম্পানির জব অফার এনে দিয়েছি, ইউএস ভিসা প্যাকেজ মাত্র তিন লাখ টাকা", "অস্ট্রেলিয়ায় সেটেল হতে চান? আমাদের স্পেশাল প্যাকেজ আছে, স্টুডেন্ট ভিসা গ্যারান্টি"—এসব কথা বলে আমরা সহজেই প্রলুব্ধ হই। কনসালটেন্সিরা ফেক ইউনিভার্সিটির অফার লেটার বানায়, ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখায়, আর আমরা বোকা বনে যাই। আর দালালদের কথা না বললেই নয়—এরা তো হরেক রকমের রুট বাতলে দেয়। সমুদ্রপথ, স্থলপথ, উড়ান—কোন পথে কোথায় ঢুকলে কিভাবে এসাইলাম খাওয়া যায়, সেটার পূর্ণাঙ্গ ট্রেনিং দেয়। টাকা নেয়, তারপর মাঝপথে ফেলে রেখে পালায়। অথচ আমরা তখনো স্বপ্ন দেখি! এই দালাল চক্র না থাকলে কি আমরা এত সহজে জালিয়াতির পথে পা বাড়াতে পারতাম? তারাই তো আমাদের হাতে জাল সার্টিফিকেট তুলে দেয়, তারাই শেখায় কিভাবে এম্বাসিতে মিথ্যা বলে বোকা বানাতে হয়। আর ফলাফল? পুরো জাতির মাথা খাচ্ছে এই দালালচক্র আর কনসালটেন্সি মাফিয়া।

৩. বিদেশ আসার এই পাগলামি, এই অপসেশন:
এবার আরেকটা কথা না বললেই নয়—আমাদের বাংলাদেশীদের বিদেশে আসার এই যে পাগলামি, এই যে অপসেশন! মনে করি, বিদেশের মাটিতে পা রাখলেই যেন সব সমস্যার সমাধান। গ্রামের বাড়ির লোকজনও ভাবে, "ও ভাই, লন্ডন চলে গেছে, এখন তো সোনার কাঠি!" কিন্তু বাস্তবতা কি এত সহজ? বিদেশে এসে কি সত্যিই বড়লোক হয়ে যাওয়া যায়? যাওয়া যায়, কিন্তু তার জন্য লাগে যোগ্যতা, পরিশ্রম আর সততা। কিন্তু আমরা অধিকাংশই চাই শর্টকাট। ভাবি, বিদেশ গেলেই টাকা গাছে ধরা। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় জালিয়াতি, শুরু হয় দালালদের কাছে ছুটে যাওয়া। বাসা-গাড়ি-বিলাসিতার স্বপ্ন দেখি, অথচ হাতে কোনো দক্ষতা নেই, কোনো ভাষা জানি না, কোনো ট্রেড শিখি না। শুধু একটা টিকেট কেটে বিদেশে পা রাখলেই সব হয়ে যাবে—এই ভাবনা কি কম বিপজ্জনক? বিদেশে গিয়ে দেখি, সেখানে স্ট্রাগল কম না, বরং বেশি। নিজের দেশের চেয়ে কঠিন সেখানে টিকে থাকা। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দালালের টাকা ডুবেছে, নিজের সম্মান ডুবেছে, আর দেশের নাম ডুবেছে। এই অপসেশন না ছাড়লে কিন্তু আমাদের এই দুর্দশার শেষ হবে না।

কেন আমাদের ভিসা দেয় না?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও অন্যান্য দেশের চিত্র যদি দেখি, আমাদের এই দেশিয় কুকর্মের গন্ধ এখন সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে গেছে। কেউ বলদ না, ধান্দাবাজি করলে সবাই বুঝে। ফলে দেশগুলো এখন আমাদের দেখলে আক্ষরিক অর্থে থুতু দেয়। সবুজ পাসপোর্ট দেখলেই গনহারে ভাবে সবুজ পাসপোর্ট মানেই ধান্দাবাজ।

· ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যেমন: নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার নাম নাই, শুধু ফেক স্পাউস আর কাজ করার ধান্দা। বেশীরভাগ স্টুডেন্টই ড্রপ আউট হয়ে এসাইলাম খোঁজে, অথবা কিছুদিন পরে, ফান্স, পর্তুগাল অথবা স্পেন ভাগে।

· ইতালি, গ্রীস ও স্পেন: ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধভাবে ঢোকায় আমরা রেকর্ড করছি। স্পেশ্যাল ভাবে, মাদারিপুর আর শরীয়তপুরের ভাইব্রাদারেরা। গ্রীসের খামারে ইল্লিগ্যাল কাজ আর ইতালিতে এসাইলামের মিথ্যা গল্প বেচতে আমরা ওস্তাদ। ইতালি গিয়ে আপনি যেদিকে তাকাবেন, সেদিকে শুধু মাদারিপুর আর শরীয়তপুরের ভাইব্রাদারদের দেখতে পাবেন, এবং তার ৯০% ই সমুদ্র পথে আসা।

· ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, লিথুনিয়া, হাঙ্গেরি, লাতভিয়া, বুলগেরিয়া ও এস্তোনিয়ার মতো দেশগুলোতে এক সময় খুব সহজে ভিসা দিত। কিন্তু আমরা এদের দেশটারে 'গেটওয়ে' হিসেবে ব্যবহার করি। ভিসা নিয়ে ওখানে না নেমে আমরা অন্য দেশে পালাই। যার ফলে এরা এখন বাংলাদেশীদের ফাইল দেখলেই রিজেক্ট করে।

স্পেন ও পর্তুগালে: পেপারস হওয়ার সুযোগ থাকার কারণে আমরা সবাই ওখানে গিয়ে ভিড় করি আর পর্তুগিজ সিস্টেমের বারোটা বাজাই দিছি অলরেডি। মাল্টা আর সাইপ্রাসেও আমাদের জালিয়াতির কারণে এখন ভিসা পাওয়া স্বপ্ন।

বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও জার্মানি: এখানে গিয়ে রাজনৈতিক এসাইলামের জন্য যে কী পরিমাণ আজগুবি আর নোংরা মিথ্যা কথা আমরা বলি, তা শুনলে বমি আসবে। অনেক নিজেকে রংধনু সম্প্রদায় (গে), নাস্তিক আরো কত কি যে করে, তা শুনলে আপনি বমি করে দিবেন।

ইংল্যান্ডে স্টুডেন্টদের স্পাউস সহ আসা বন্ধ হয়ে গেছে । আর কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট অঞ্চলের স্টুডেন্টদের ব্যান করে দিছে। আন্ডার এইজ মেয়েদের সাথে কুকর্ম করার করে ধরা খাওয়ার ভিডিও মাঝেমধ্যে সামনে আসে, এটা নিয়ে অন্য দিন লিখবো।

এশিয়া ও অন্যান্য দেশের কথা যদি বলি,
থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া: টুরিস্ট হিসেবে গিয়ে আর ফেরত আসি না। ওখানে গিয়ে হকারি করি বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ি।

দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক হলো,
আফ্রিকার দেশ (সাউথ সুদান, সোমালিয়া, বুরুন্ডি) যুদ্ধপীড়িত হতদরিদ্র দেশগুলোও যখন আমাদের ভিসা দিতে লজ্জা পায়, তখন বুঝবেন আমরা আসলে কোন লেভেলের নিচে নামছি।

এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর কথা বলি,
দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, পেরু, ইকুয়েডর ও বলিভিয়া—এসব দেশে টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে আমরা উধাও হয়ে যাই। সেখানে গিয়ে অনেকে সীমান্ত পথে উত্তর আমেরিকা পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গল পাড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনায় ফেক ডকুমেন্ট বানিয়ে স্পেনে যাওয়ার ধান্দাবাজি—আমাদের ফন্দি-ফিকিরের শেষ নেই। এদের কনস্যুলার অফিসাররা এখন বাংলাদেশীদের নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন। ফলাফল? দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোও এখন বাংলাদেশীদের ভিসা দিতে কড়াকড়ি আরোপ করছে, যা ১০ বছর আগেও ছিল অকল্পনীয়।

আর অস্ট্রেলিয়ার কথা না বললেই নয়,
অস্ট্রেলিয়া আমাদের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ছিল এক সময় স্বপ্নের গন্তব্য। কিন্তু আমরাই সেটাকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করছি। ভুয়া অফার লেটার, ফেক ট্রেনিং প্রোভাইডার, আর 'কোর্স হপিং'—অস্ট্রেলিয়ায় আমরা নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করছি। ভুয়া এজেন্টদের মাধ্যমে 'ক্যাশ ফর ভিসা' স্কিম চালিয়ে আমরা অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশন সিস্টেমের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছি। সিডনি-মেলবোর্নের রাস্তায় রাস্তায় এখন বাংলাদেশী স্টুডেন্টরা পড়াশোনার নামে অবৈধ কাজ করছে, আর আসল টার্গেট থাকে কিভাবে সেটেলড হওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ান সরকার এখন বাংলাদেশীদের স্টুডেন্ট ভিসা অ্যাপ্লিকেশন দেখলেই চোখ কান খাড়া করে রাখে। রেকর্ড সংখ্যক ভিসা রিজেক্ট হচ্ছে, কারণ আমরা নিজেরাই নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছি।

শুধু তাই না, পৃথিবীর সকল দেশের ভিসা রিজেকশনের যদি ডাটা দেখেন, বাংলাদেশীদের ভিসা রিজেকশনের হার উপরের দিকেই।

শেনজেন, ইউকে, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া—কোনো দেশই বাদ যাচ্ছে না। আমরাই নিজেদের হাতে নিজেদের পাসপোর্টের দাম কমিয়ে এনেছি।

এবার অন্তত মানুষ হন!

ভাইরে, অনেক তো হইলো। নিজেদের খাই মেটানোর জন্য দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কপালটা আর খাইয়েন না। যারা সত্যিকার অর্থে ট্যালেন্টেড, যারা সম্মানের সাথে বিদেশে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাদের কপালটা পুড়াচ্ছি আমরাই। গুটিকয়েক মানুষের এই ধান্দাবাজির জন্য পুরো ১৭ কোটি মানুষের সবুজ পাসপোর্টের ইজ্জত এখন নর্দমায়।

সমাধান কী? যদিও এগুলোর সমাধান নাই, আমরা কোনদিনই ভালো হবো না। যা করার তা করবোই ।
তবুও সম্ভব হলে,
· জালিয়াতি বন্ধ করেন: যদি যোগ্যতা থাকে তবেই দেশের বাইরে যাওয়ার চিন্তা করেন। ফেক সার্টিফিকেট আর জাল স্টেটমেন্ট দিয়ে নিজের আর দেশের কবর খুঁড়বেন না।
· বিদেশ যাওয়ার পাগলামি ছাড়ুন: বিদেশে গেলেই যে বড়লোক হওয়া যায়, এই ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসুন। বিদেশও কঠোর পরিশ্রমের জায়গা, স্বর্গরাজ্য না।
· পড়াশোনা করতে গেলে পড়াশোনাই করুন, কাজ করতে গেলে লিগ্যাল পথে যান।
· কনসালটেন্সি আর দালালদের গাল ফুলানো গল্পে কান দেবেন না। যে কনসালটেন্সি ভিসা গ্যারান্টি দেয়, সে আসলে আপনার টাকা খাচ্ছে। কোন কনসালটেন্সিই ভিসা গ্যারান্টি দিতে পারে না, কারণ ভিসা দেয় এম্বাসি, কনসালটেন্সি নয়।
· মনে রাখবেন, বিদেশের মাটিতে আপনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, আপনি বাংলাদেশের রিপ্রেজেন্টেটিভ।

দয়া করে একটু আক্কেল হোক। এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমাদের এই সবুজ পাসপোর্টের দাম এক টুকরো টিস্যু পেপারের চেয়েও কম হবে। তখন বইসেন কপাল চাপড়াতে।
কেউ মনে কষ্ট পেলে দুঃখিত।

ধন্যবাদ।

-মুহাম্মাদ তমাল
ফ্রাঙ্কফুর্ট ,জার্মানী

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.